Author: Jvadmin

  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০তম গ্রেডে ২ পদে ১৫ কর্মী নিয়োগে প্রকাশ করেছে এ বিজ্ঞপ্তি। আবেদন চলবে ১৮ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

    আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

    প্রতিষ্ঠানের নাম: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

    পদের নাম: গার্ড (পুরুষ)

    পদসংখ্যা: ১০টি

    বেতন স্কেল: ৮,২৫০-২০,০১০ টাকা (গ্রেড-২০)

    আবেদনের যোগ্যতা

    • ন্যূনতম ৮ম শ্রেণি পাস হতে হবে
    • এসএসসি অথবা এইচএসসি পাসসহ আনসারের ট্রেনিংপ্রাপ্ত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে

    প্রার্থীর বয়স: ১৮-৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে

    পদের নাম: গার্ড (মহিলা)

    পদসংখ্যা: ৫টি

    বেতনস্কেল: ৮,২৫০-২০,০১০ টাকা (গ্রেড-২০)

    আবেদনের যোগ্যতা

    • ন্যূনতম ৮ম শ্রেণি পাস হতে হবে
    • এসএসসি অথবা এইচএসসি পাসসহ আনসারের ট্রেনিংপ্রাপ্ত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে

    প্রার্থীর বয়স: ১৮-৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে

    চাকরির ধরন: পূর্ণকালীন

    আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসির বড় পরিবর্তন

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসির বড় পরিবর্তন

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে এবং এতে একগুচ্ছ বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    সাংবিধানিক এই সংস্থাটি জাতীয় নির্বাচনের আদলে স্থানীয় নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, ইভিএম বর্জন এবং দলীয় প্রতীকের বদলে সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে ভোট আয়োজনের পথে এগোচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার পরিকল্পনা থাকলেও বর্ষা মৌসুমের কারণে ইসি নভেম্বর থেকে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করতে চায়।

    নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য সংস্কারের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো দলীয় প্রতীকের বিলুপ্তি। এর ফলে প্রার্থীরা কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানার বা প্রতীক ছাড়াই স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এর ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য আগে বিদ্যমান ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের বিধানটিও তুলে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রচারণায় পরিবেশ সুরক্ষায় পোস্টার নিষিদ্ধের পাশাপাশি নির্বাচনকে সহজ ও স্বচ্ছ করতে ইভিএমের বদলে কাগজের ব্যালট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনলাইনের পরিবর্তে আগের মতো সরাসরি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পদ্ধতি বহাল রাখা এবং ফেরারি আসামিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করার বিষয়েও ইসি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    প্রার্থীদের যোগ্যতার পাশাপাশি নির্বাচনি ব্যয় ও জামানতের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ এবং নির্বাচনি ব্যয়ের সীমা বাড়ানো হতে পারে, যা অযাচিত প্রার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। পাশাপাশি সংসদ সদস্যরা যেন স্থানীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন, সে বিষয়েও কঠোর বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের বসা এবং প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। তবে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা এই নির্বাচনে থাকছে না।

    নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইসি একটি কৌশলী অবস্থান গ্রহণ করেছে। জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আপাতত সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। ইসি মনে করছে, যেহেতু নির্বাচন ধাপে ধাপে বা অঞ্চলভিত্তিক হবে, তাই পুলিশ, আনসার ও বিজিবি দিয়েই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে কোনো এলাকায় সহিংসতা বা বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেখানে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী ডাকার সুযোগ রাখা হবে। জুন মাসের মধ্যেই এই নতুন নির্বাচনি বিধিমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কমিশন।

    নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় সরকারকে পুনরায় নির্দলীয় করার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক সংঘাত কমাতে এবং যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত হতে সহায়তা করবে। ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন নেওয়ার নিয়মটি গোপন ব্যালটের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় সেটি তুলে দেওয়াকেও তারা যৌক্তিক মনে করছেন। তবে সংঘাতমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ও কমিশনের কঠোর অবস্থান অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে, এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় এক নতুন ধারার সূচনা হবে।

     

  • উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা কোরবানি ঈদে কতটুকু গরুর মাংস খাবেন

    উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা কোরবানি ঈদে কতটুকু গরুর মাংস খাবেন

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    কোরবানি ঈদ মানেই গরুর মাংসের নানা সুস্বাদু রান্না, পারিবারিক দাওয়াত আর অনেক খাবারের আয়োজন। তবে যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাদের জন্য এই সময় খাবার নিয়ে একটু বেশি সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ অতিরিক্ত গরুর মাংস, বিশেষ করে বেশি চর্বিযুক্ত ও বেশি লবণযুক্ত খাবার রক্তচাপ বাড়াতে পারে।

    তবে ভালো খবর হলো, উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও গরুর মাংস একেবারে বাদ দিতে হয় না। শুধু পরিমাণ, অংশ এবং রান্নার ধরন ঠিক রাখলেই নিরাপদভাবে মাংস খাওয়া সম্ভব।

    কতটুকু গরুর মাংস খাওয়া নিরাপদ?

    গবেষণা ও স্বাস্থ্য নির্দেশনা অনুযায়ী, লাল মাংস সীমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য সপ্তাহে প্রায় ৩৫০ গ্রাম পর্যন্ত লাল মাংস গ্রহণকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ধরা হয়।

    এর মানে হলো, এক বেলায় প্রায় ৮০ থেকে ১০০ গ্রাম রান্না করা গরুর মাংস খাওয়া যেতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য ঈদের সময় এই সীমার মধ্যেই থাকা সবচেয়ে নিরাপদ।

    ঈদে নিরাপদভাবে খাওয়ার কিছু সহজ উপায় হলো-

    • এক বেলায় অল্প পরিমাণ মাংস খাওয়া
    • প্রতিটি বেলায় গরুর মাংস না খাওয়া
    • সবজি ও সালাদ বেশি খাওয়া
    • পর্যাপ্ত পানি পান করা

    ধীরে ধীরে খাওয়া এবং অতিরিক্ত না খাওয়া

    ভালো অংশগুলো কী কী?

    উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য কম চর্বিযুক্ত মাংস সবচেয়ে ভালো। যেমন স্যারলয়েন, টেন্ডারলয়েন, ফ্ল্যাঙ্ক স্টেক এবং রানের মাংস তুলনামূলকভাবে ভালো অপশন। এসব অংশে চর্বি কম থাকে, তাই হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর চাপও কম পড়ে।

    যেসব অংশ কম খাওয়াই ভালো

    কিছু অংশ এড়িয়ে চলা বা কম খাওয়া উচিত। যেমন অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত রিবস, প্রসেসড মাংস, অতিরিক্ত তেলে ভাজা মাংস এবং খুব বেশি তেল-মসলাযুক্ত তরকারি। এসব খাবারে ফ্যাট এবং সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে, যা রক্তচাপ বাড়াতে পারে।

    রান্নার আগে মাংসের দৃশ্যমান চর্বি ফেলে দিলে তা আরও স্বাস্থ্যকর হয়।

    রান্নার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ

    গরুর মাংস কীভাবে রান্না করা হচ্ছে সেটি স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। স্বাস্থ্যকর রান্নার পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে গ্রিল করা, সেদ্ধ করা, বেক করা এবং কম তেলে রান্না করা।

    অন্যদিকে কিছু উপাদান কম ব্যবহার করা উচিত। যেমন অতিরিক্ত লবণ, ঘি ও মাখন, বেশি তেল এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত মসলা। এগুলো রক্তচাপ বাড়াতে পারে, তাই এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

    স্বাদ বাড়ানোর জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ উপাদান হলো রসুন, আদা, লেবু, গোলমরিচ এবং ধনেপাতা বা অন্যান্য হার্বস। এগুলো খাবারে স্বাদ যোগ করে কিন্তু অতিরিক্ত সোডিয়াম যোগ করে না।

    অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপ বাড়ানোর একটি বড় কারণ। তাই খাবারে লবণের পরিমাণ যতটা সম্ভব কম রাখা উচিত।

    উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ঈদের খাবারের প্লেট কেমন হওয়া উচিত?

    একটি স্বাস্থ্যকর ঈদের খাবারের প্লেট হওয়া উচিত ভারসাম্যপূর্ণ। সেখানে অল্প পরিমাণ গরুর মাংসের পাশাপাশি প্রচুর সবজি রাখা উচিত। সাথে সালাদ, অল্প ভাত, টক দই এবং ফলমূল থাকলে খাবার আরও স্বাস্থ্যকর হয়।

    এই ধরনের খাবার শরীরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে না এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

    অতিরিক্ত কিছু সতর্কতা

    ঈদের সময় শুধু খাবারই নয়, কিছু জীবনযাপন অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত ঘুম, পানি পান এবং কোমল পানীয় কম খাওয়া জরুরি। যাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেই, তাদের অবশ্যই আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

    কোরবানি ঈদ আনন্দের উৎসব। উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও সঠিক পরিমাণে এবং সঠিকভাবে গরুর মাংস খেলে এই আনন্দে অংশ নেওয়া সম্ভব। মূল বিষয় হলো পরিমিতি, সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।

    সঠিক অংশ বেছে নেওয়া, কম চর্বি ও কম লবণ ব্যবহার করা এবং ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খেলে ঈদ উপভোগ করা যায়, আবার স্বাস্থ্যেরও যত্ন নেওয়া সম্ভব।

    সূত্র: আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিকাল নিউট্রিশন, ভেরি ওয়েল হেল্থ, হার্ট ফাউন্ডেশন

  • ঈদের দিন গাজায় নগদ সহায়তা পৌঁছে দিল ‘হ্যান্ডস ফর হিউম্যানিটি’

    ঈদের দিন গাজায় নগদ সহায়তা পৌঁছে দিল ‘হ্যান্ডস ফর হিউম্যানিটি’

     

    নাফীজ আহমেদ ,ইবি

    পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দ যখন বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ঘরে ঘরে, ঠিক তখনই যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় হাজারো পরিবার দিন পার করছে ক্ষুধা, আতঙ্ক ও মানবেতর কষ্টের মধ্যে। এমন বাস্তবতায় ঈদের দিনে গাজার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী মানবিক সংগঠন ‘হ্যান্ডস ফর হিউম্যানিটি’।

    সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদুল আযহার দিন গাজার কয়েকজন অসহায় মানুষের হাতে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে পাঁচজনের প্রত্যেককে ৫০ শেকেল করে সহায়তা প্রদান করা হয়।

    সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্য সচিব রায়হান কবির বলেন, “গাজার মানুষের বর্তমান পরিস্থিতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ঈদের দিনে অন্তত কিছু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি আমরা। এটি ছোট একটি উদ্যোগ হলেও মানবতার জায়গা থেকে আমাদের দায়িত্ববোধের প্রকাশ।”

    তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে বড় পরিসরে ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির। তবে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে কাঙ্ক্ষিত পরিসরে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

    হ্যান্ডস ফর হিউম্যানিটির আহ্বায়ক আমির ফয়সাল বলেন, “আমাদের কাছে গাজায় কাজ করার মতো যোগাযোগ ও সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বড় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে আমরা আরও অনেক অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারবো।”

    তিনি ফিলিস্তিনের মজলুম মানুষের জন্য সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

    এদিকে, এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে যারা অর্থ, শ্রম ও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ‘হ্যান্ডস ফর হিউম্যানিটি’।

  • মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে

    মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে

    স্পোর্টস ডেস্ক 

    সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।

    বৃহস্পতিবার (২৮ মে) নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মালদ্বীপকে ৪-২ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

    এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পাশাপাশি টানা তৃতীয়বার শিরোপা জেতার (হ্যাটট্রিক মিশন) অভিযানে শুভ সূচনা করল বাংলাদেশ।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। শক্তিশালী আক্রমণভাগের তোপে ম্যাচের প্রথমার্ধেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সাবিনা-প্রীতিরা। চমৎকার পাসিং ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে মালদ্বীপের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কিছুটা রক্ষণাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে মালদ্বীপ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় এবং স্কোরলাইন ২-২ সমতায় নিয়ে আসে। তবে সমতায় ফেরার আনন্দ বেশি দীর্ঘ হতে দেয়নি বাংলাদেশ। কৌশলের পরিবর্তনের পর মাঠের নিয়ন্ত্রণ আবারও নিজেদের হাতে নেয় মেয়েরা। সুরভী আক্তার প্রীতির দুর্দান্ত ফিনিশিং এবং উমেলার আকর্ষণীয় স্ট্রাইকে আরও দুটি গোল করে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের ব্যবধানে মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পাওয়ার সুবাদে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। গত দুই আসরের (২০২২ এবং ২০২৪) চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের লক্ষ্য এবার টানা তৃতীয় শিরোপা ঘরে তোলা। আজকের এই জয় দলের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

  • নেইমারের নতুন চোট, খেলবেন না উদ্বোধনী ম্যাচ!

    নেইমারের নতুন চোট, খেলবেন না উদ্বোধনী ম্যাচ!

    স্পোর্টস ডেস্ক 

    ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্য বড় দুঃসংবাদ। নতুন করে চোটে পড়েছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। মেডিকেল পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে, অন্তত ২ থেকে ৩ সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে।

    এই চোটের কারণে বিশ্বকাপের আগে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন না নেইমার। শুধু তাই নয়, মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচেও তার অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

    দলের সবচেয়ে বড় ভরসাকে ছাড়া বিশ্বকাপ শুরু করতে হতে পারে ব্রাজিলকে, যা সমর্থকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সূত্র: ফ্যাব্রিজিও রোমানো

  • কালের বিবর্তনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়: সীমাবদ্ধতার ক্যাম্পাস থেকে আধুনিক স্বপ্নের পথে

    কালের বিবর্তনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়: সীমাবদ্ধতার ক্যাম্পাস থেকে আধুনিক স্বপ্নের পথে

    কুবি প্রতিনিধি

    একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প শুধু ইট-পাথরের ভবন কিংবা শ্রেণিকক্ষের গল্প নয়, সেটি সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া একটি ইতিহাসও। সেখানে থাকে সংগ্রাম, সীমাবদ্ধতা, অর্জন এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন। হাঁটি হাঁটি পা করে ২০ বছর পেরিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এখন পা রাখছে ২১ বছরে। ছোট পরিসরের এক নবীন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধীরে ধীরে একটি বিস্তৃত ও আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার গল্প যেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো পথচলা।

    তবে কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার হাতেখড়ি হুট করে দু-এক বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জানা যায়, ১৯৬০-এর দশকেই কুমিল্লায় দেশের তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ছিল। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও এগিয়েছিল অনেক দূর। কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবে রূপ পায়নি। ১৯৬৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয় ঠিকই, তবে সেটা কুমিল্লার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামে, যা বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত।

    বহুদিনের আন্দোলন ও দাবির পর অবশেষে ২০০৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে স্থাপিত হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর। একই বছরের ৮ই মে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হ। এরপরে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০৭ সালের ২৮ মে সাতটি বিভাগ, ১৫ জন শিক্ষক এবং প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় পুরোদমে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম।

    শুরুর কুবি ছিল সীমিত পরিসরের। প্রায় ৫০ একরের ছোট একটি ক্যাম্পাসেই পরিচালিত হতো শিক্ষার্থীদের ক্লাস, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। সময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও জায়গার সীমাবদ্ধতা দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বড়ো চ্যালেঞ্জ হয়ে ছিল। ক্লাসরুম সংকট, আবাসন সংকট এবং পরিবহন সমস্যা মাথায় নিয়েই প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পেরিয়ে ২১তম বছরে পা রাখছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

    তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে দৃশ্যপট। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৬টি অনুষদের অধীনে ১৯টি বিভাগ। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ১১টি নীল বাস এবং বিআরটিসির ১০টি বাসসহ মোট ২০টি বাস চলাচল করছে। এছাড়া শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রয়েছে আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে রয়েছে দুটি অ্যাম্বুলেন্স।

    আবাসন ব্যবস্থাতেও এসেছে পরিবর্তন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচটি আবাসিক হল রয়েছে। ছাত্রদের জন্য শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল, বিজয়-২৪ হল এবং কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল; ছাত্রীদের জন্য রয়েছে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল এবং সুনীতি শান্তি হল। পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্য রয়েছে ডরমেটরি সুবিধা।

    অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে কুবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি কথা বলা রোবট ‘সিনা’, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক রোবট ‘নিকো’ এবং ‘ব্লুবেরি’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি চর্চার সক্ষমতার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

    শুধু শিক্ষাব্যবস্থা নয়, সাংগঠনিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সময়ের সঙ্গে সমৃদ্ধ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ক্যাম্পাসে গড়ে উঠেছে থিয়েটার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ডান্স ক্লাব, ফিল্ম সোসাইটি, বৃত্ত কুবি, অনুপ্রাস কণ্ঠচর্চা কেন্দ্র, সংগীত বিষয়ক ‘প্ল্যাটফর্ম’, সায়েন্স ক্লাব, প্রকৃতিবিষয়ক সংগঠন ‘অভয়ারণ্য’, স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা সংগঠন ‘বন্ধু’, কুবি ছায়া জাতিসংঘ, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি, ডিবেটিং সোসাইটি। এদের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সংবাদকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে রয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি, সাংবাদিক সমিতি, প্রেস ক্লাবের মতো পেশাদার সাংবাদিক সংগঠন। এসব সংগঠন শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং তাদের ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব এবং সৃজনশীলতা বিকাশের ক্ষেত্রেও রাখছে ব্যাপক ভূমিকা।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকগুলোর একটি ছিল সমাবর্তন আয়োজন। প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৪ বছর পর ২০২০ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আয়োজিত এই সমাবর্তনে প্রায় ২ হাজার ৮৮৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে দিনটি ছিল শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য এক আবেগঘন মুহূর্ত।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে পরিবর্তিত হয়েছে প্রশাসনিক নেতৃত্বও। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৯ জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অধ্যাপক ড. গোলাম মাওলা। বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকারী উপাচার্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম।

    তবে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড়ো আলোচনার বিষয় অতীত নয়, বরং ভবিষ্যৎ। পুরোনো সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারিত নতুন ক্যাম্পাস।

    ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ ও অধিকতর উন্নয়নের জন্য প্রায় ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার মেগা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন ৫০ একর থেকে বেড়ে প্রায় ২৪৪ দশমিক ১৯ একরে উন্নীত হচ্ছে।

    নির্মাণাধীন নতুন ক্যাম্পাসে থাকছে চারটি ১০ তলাবিশিষ্ট অ্যাকাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, চারটি ১০ তলাবিশিষ্ট আবাসিক হল, শিক্ষক আবাসন, ডরমেটরি, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক কমপ্লেক্স, মেডিক্যাল ও ডে-কেয়ার সেন্টার, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, জিমনেসিয়াম, কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং আধুনিক গবেষণাগারসহ প্রয়োজনীয় প্রায় সকল সুযোগ-সুবিধা। আগামী ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সেনাবাহিনী কর্তৃক নতুন ক্যাম্পাস হস্তান্তরের কথা রয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে উপাচার্য ড. এম. এম. শরীফুল করিম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ের চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বিশ্ববিদ্যালয় আজ একটি সম্ভাবনাময় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমার নীতি হলো ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, সুযোগ-সুবিধা এবং তাদের সার্বিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল শক্তি এবং তাদের জন্য একটি ইতিবাচক, মানসম্পন্ন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন, গবেষণাবান্ধব ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে নতুন ক্যাম্পাস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত করবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনে দেশের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।’

    একসময় যে বিশ্ববিদ্যালয়টি সীমিত জায়গার মধ্যে নিজেদের জায়গা খুঁজছিল, আজ সেই বিশ্ববিদ্যালয়ই নতুন পরিচয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই যাত্রা শুধু অবকাঠামোর সম্প্রসারণের গল্প নয়; এটি সীমাবদ্ধতা থেকে সম্ভাবনায় পৌঁছানোরও গল্প। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কুবি শুধু আয়তনে বড়ো হয়নি, বড়ো হয়েছে স্বপ্নেও।

  • ক্যাম্পাস ছাড়লেও ফুরায়নি টান: সাবেকদের চোখে স্বপ্নের কুবি

    ক্যাম্পাস ছাড়লেও ফুরায়নি টান: সাবেকদের চোখে স্বপ্নের কুবি

    সানজানা তালুকদার, কুবি

    বিশ্ববিদ্যালয় জীবন আসলে কয়েকটি বছর নয়; এটি এক জীবনের সমান অনুভূতির নাম। সময়ের সঙ্গে ক্লাসরুম বদলে যায়, ব্যস্ততা বেড়ে যায়, জীবনের পথও ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। কিন্তু কিছু জায়গা মানুষকে কখনো ছেড়ে যায় না। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ও অনেকের কাছে ঠিক তেমনই–এক টুকরো অনুভূতি, যেখানে এখনো রয়ে গেছে প্রথম দিনের ভয়, প্রথম বন্ধুত্ব, বিকেলের আড্ডা, সাংস্কৃতিক আয়োজন আর স্বপ্নে ভরা অসংখ্য দিন।

    ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার পরও হঠাৎ কোনো ছবি, কোনো স্মৃতি কিংবা পরিচিত কোনো নাম শুনলে মনটা ফিরে যেতে চায় সেই লালমাটির পথে। দূরে থাকলেও প্রিয় ক্যাম্পাসের প্রতিটি অর্জন যেমন আনন্দ দেয়, তেমনি এর ভবিষ্যৎ নিয়ে জন্ম দেয় নতুন স্বপ্ন। কারণ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সাবেকদের ফেলে আসা একটি অধ্যায় নয়, এটি তাদের হৃদয়ের এমন একটি জায়গা, যার সঙ্গে সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে কমে না, বরং আরও গভীর হয়।

    সময় বদলেছে, বদলেছে ক্যাম্পাসও। নতুন শিক্ষার্থীদের পদচারণা, প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক চর্চা, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এগিয়ে চলার নানা উদ্যোগ তৈরি করছে নতুন সম্ভাবনা। তবে সাবেক শিক্ষার্থীদের চোখে কুবির জন্য প্রত্যাশাও কম নয়। তারা দেখতে চান এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়, যা শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নেই নয়; গবেষণা, শিক্ষার মান, সৃজনশীলতা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশেও হয়ে উঠবে দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ।

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী তুলে ধরেছেন তাদের নিজেদের প্রিয় ক্যাম্পাস নিয়ে অনুভূতি ও ক্যাম্পাসের প্রতি তাদের প্রত্যাশার গল্প।

    পড়াশোনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়েরই ইংরেজি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত তারিন বিনতে এনাম বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গর্বিত অ্যালামনাই ও বর্তমান শিক্ষক হিসেবে আমি আগামীর কুবিকে আধুনিক, গবেষণামুখী এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণাধর্মী কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, উচ্চশিক্ষা সহায়তা এবং নিয়মিত ‘চাকরির মেলা’ আয়োজন সময়ের দাবি।
    তিনি আরো বলেন, ‘ওবিই কারিকুলামের সঙ্গে বাস্তব দক্ষতার সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা এমন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে চাই, যারা দক্ষ পেশাজীবীর পাশাপাশি সত্যিকারের বিশ্বনাগরিক হয়ে উঠবে।’

    বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক এবং বিভাগটির সাবেক শিক্ষার্থী মো. সাফায়েত হোসাইন বলেন, ‘শুরু থেকেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমার আলাদা ভালোবাসা ও আন্তরিকতা কাজ করেছে। ছাত্রজীবন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করেছি, আর আজ শিক্ষক হিসেবে সেই পথচলার অংশ হতে পেরে ভালো লাগে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাংলাদেশের ‘এ’ ক্যাটাগরির একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয় আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

    মধুপোক বই প্রকাশনীতে কর্মরত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মারজিয়া আহমেদ রিয়া বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আমার কাছে শুধু একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটা আমার হাজারো স্মৃতি, আড্ডা, বন্ধুত্ব আর আমার আজকের এই আত্মপরিচয়ের আঁতুড়ঘর। ক্যাম্পাসে থাকাকালীন সময় থেকেই স্বপ্ন দেখতাম, কুবি একদিন আরও সমৃদ্ধ, গবেষণামুখী ও শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে।

    আমি চাই বর্তমান শিক্ষার্থীরা নিরাপদ, মুক্তচিন্তা ও সৃজনশীল পরিবেশে নিজেদের বিকশিত করার সুযোগ পাক। পাশাপাশি শিক্ষার মান, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক চর্চাও আরও সমৃদ্ধ হোক।”

    বর্তমানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আবুল কালাম বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আমার কাছে জীবনের সবচেয়ে আবেগময় একটি অধ্যায়। ক্যাম্পাস থেকে দূরে থাকলেও কুবির স্মৃতিগুলো এখনো একইভাবে হৃদয়ে রয়ে গেছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান কুবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্য, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা সত্যিই ভালো লাগে। আমরা চাই, কুবি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নেই নয়; গবেষণা, শিক্ষার মান, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও মানবিক মূল্যবোধের জায়গাতেও দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠুক।’

    ক্যাম্পাসে প্রতিদিন নতুন শিক্ষার্থীরা আসে, নতুন গল্প তৈরি হয়, নতুন স্বপ্ন জন্ম নেয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা কখনো পুরোনো হয় না। সাবেকদের চোখে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় তাই শুধু স্মৃতির জায়গা নয়; এটি ভবিষ্যতেরও একটি স্বপ্ন যে স্বপ্ন একদিন আরও বড়ো, আরও সমৃদ্ধ এবং আরও গর্বের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প বলবে।

  • ঈদের আগের দিন সুখবর পেলেন টাইগাররা

    ঈদের আগের দিন সুখবর পেলেন টাইগাররা

    স্পোর্টস ডেস্ক 

    সদ্য শেষ হওয়া টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে আইসিসি পুরুষ টেস্ট খেলোয়াড় র‌্যাংকিং নিয়ে ঈদের আগের দিন সুখবর পেলেন বাংলাদেশ দলের তারকা ক্রিকেটাররা।

    পাকিস্তান সিরিজে দুই টেস্টে চার ইনিংসে ২৫৯ রান করে ১০ ধাপ এগিয়ে ১৬ নম্বরে উঠে এসেছেন জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম।

    লিটন দাস সিরিজে ২৩৯ রান করে ১৪ ধাপ এগিয়ে ২৪তম স্থানে উঠে এসছেন।

    সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম দুই ধাপ এগিয়ে টেস্ট বোলিং র‌্যাংকিংয়ে ১১তম। তিনি নতুন ক্যারিয়ার সেরা রেটিং অর্জন করেছেন।

    অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ দুই ধাপ এগিয়ে ২৫ নম্বারে। নাহিদ রানা ১০ ধাপ এগিয়ে ৫৪তম পজিশনে।

    আইসিসি টেস্ট অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়েও তাইজুলের উন্নতি হয়েছে। তিন ধাপ এগিয়ে ২৯তম তিনি।

    বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ হারলেও পাকিস্তানের পেসার খুররাম শাহজাদ টেস্ট বোলিং র‌্যাংকিংয়ে ৪৯তম স্থানে উঠেছেন।

  • ঈদ শুভেচ্ছা বার্তায় ‘প্রধানমন্ত্রী’ ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবিকতার চর্চাই কোরবানির মূল তাৎপর্য

    ঈদ শুভেচ্ছা বার্তায় ‘প্রধানমন্ত্রী’ ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবিকতার চর্চাই কোরবানির মূল তাৎপর্য

    স্পোর্টস ডেস্ক

    পবিত্র ঈদুল আজহার গুরুত্ব ও গভীর তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন যে, “কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; বরং লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ আর মনের পশুত্বকে পরাভূত করার দীক্ষা গ্রহণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে কোরবানির মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য।” বুধবার (২৭ মে) সন্ধ্যায় দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল প্রান্তের মুসলিম উম্মাহকে ঈদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, তাকওয়ার আদর্শ এবং নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার অনন্য বার্তা নিয়ে পুনরায় আমাদের দ্বারে উপস্থিত হয়েছে ঈদুল আজহা। দলমত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষকে তিনি “ঈদ মুবারক” জানিয়ে আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শুধু পশু কোরবানি নয়- ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবিকতার চর্চাই কোরবানির মূল তাৎপর্য।

    পবিত্র কোরবানির শিক্ষা সম্পর্কে আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণের এই উৎসব আমাদের ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত করবে, সত্য ও সুন্দরের পথে ধাবিত করবে, এটিই হোক পবিত্র কোরবানির অন্যতম শিক্ষা।” সামর্থ্যবানদের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বিনীত অনুরোধ জানান যাতে তারা সুবিধাবঞ্চিতদের ভুলে না যান। তাঁর ভাষায়, “যাদের আল্লাহ এ বছর কোরবানি করার সামর্থ্য দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার বিনীত আবেদন, যাদের পশু কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য হয়নি, তাদের সঙ্গে কোরবানির মাংস ভাগাভাগি করে নিন।” এটিকেও তিনি কোরবানির একটি অপরিহার্য শিক্ষা হিসেবে গণ্য করেন।

    পরিবেশ সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী পশুর চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করে বলেন, “কোরবানির পশুর রক্ত ও বর্জ্য পরিষ্কারের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সহায়তা করুন। যথাসম্ভব নিজেরাও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিন, যাতে কোরবানির দিনেই সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ফেলা যায়।” পরিশেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন বাংলাদেশসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকে। তাঁর প্রার্থনা ছিল, “পবিত্র ঈদে কায়মনোবাক্যে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের মাতৃভূমিসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও মানবজাতির জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দান করেন।” একই সঙ্গে তিনি বৈশ্বিক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার জন্যও স্রষ্টার দরবারে বিশেষ মোনাজাত করেন।