ধর্ম ডেস্ক
দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সফর শেষে প্রত্যেককে মৃত্যুর মধ্যদিয়ে অনন্তকালের আবাসস্থলে প্রবেশ করতে হবে। চিরসত্য মৃত্যুকে ঘিরে তাই জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, মৃত্যু তোমাদের পেয়ে বসবেই (পাকরাও করবেই), যদিও তোমরা সুউচ্চ-সুদৃঢ় দুর্গের মধ্যে অবস্থান করো। (সুরা নিসা, আয়াত: ৭৮)
এ ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর আখিরাতের প্রথম ধাপই হলো কবর। আর এই কবরেই দুই ফেরেশতা মুনকার ও নাকিরের প্রশ্নের জবাবের ওপর নির্ভর করে মুমিন ও নেককার বান্দারা আযাব থেকে মুক্ত থাকবেন। অন্যদিকে গুনাহের ভাগীদারদের জন্য কবরের আযাব নির্ধারিত হবে।
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জালের ফিৎনা এবং কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন এবং তিনি বলতেন, তোমরা নিজ নিজ কবরে আযাবের সম্মুখীন হবে। (সুনান আন নাসায়ী, হাদিস: ২০৬৯)
এজন্য পরকালে সফল হতে বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে যেমন নবীজি (সা.) নানা আদেশ-নিষেধের কথা জানিয়েছেন, তেমনি বাতলে দিয়েছেন উত্তম আমলের মাধ্যমে আখিরাতে সফল হওয়ার রাস্তা। এর মধ্যে একটি হাদিসে ছোট্ট একটি আমলের কথা এসেছে, যেটি আখিরাতের প্রথম ধাপ কবরের আযাবের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি হলো, একবার এক সাহাবী একটি কবরের ওপর নিজের তাঁবু স্থাপন করেন। তখন তিনি ধারণা করতে পারেননি যে, সেটি একটি কবর। একপর্যায়ে হঠাৎ তিনি অনুভব করেন, কবরে একজন লোক সুরা মূলক তিলাওয়াত করছেন। অবশেষে তিনি তা পাঠ করে শেষ করেন। পরে তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন- ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (সা.), আমি এক স্থানে আমার তাঁবু ফেলি। আমার ধারণা ছিল না যে, এটি একটি কবর। পরে হঠাৎ অনুভব করি একজন লোক সুরা মুলক তিলাওয়াত করে খতম করলেন।
জবাবে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটি হলো প্রতিরোধক। এটি হলো মুক্তিদায়ক। এ কবরের আযাব থেকে মুক্তি দেয়। এ কবরের আযাব থেকে মুক্তি দেয়। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ২৮৯০)
আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, ৩০ আয়াত বিশিষ্ট কুরআনের একটি সুরা রয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি এই সুরা পাঠ করে তাহলে সুরাটি তার জন্য সুপারিশ করবে এবং তাকে মাফ করে দেয়া হবে। সুরাটি হলো ‘তাবারাকল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলক (সুরা মুলক)। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ২৮৯১; সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১৪০০)

