Author: Jvadmin

  • অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়

    স্পোর্টস ডেস্ক 

    মিরপুরে লেখা হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে পাওয়া ১৯২ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। এই জয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।

    প্রথম ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে জয় মানেই সিরিজ নিশ্চিত। সেই সুযোগ হাতছাড়া করেনি মেহেদী হাসান মিরাজের দল। বৃষ্টি, ভেজা আউটফিল্ড, ডিএলএসের নতুন লক্ষ্য, মাঝপথে উইকেট হারানোর চাপ সব সামলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।

    মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শুরু হয়েছিল ধ্বংসস্তূপ দিয়ে। স্কোরবোর্ডে কোনো রান ওঠার আগেই ৩ উইকেট নেই। সেই জায়গা থেকে মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিলেও শেষ হাসি বাংলাদেশেরই। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে নির্ধারিত ৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশ পেরিয়ে যায় ৩৫ ওভারেই। অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

    এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের জন্য এটি বড় এক অর্জন। ঘরের মাঠে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বোলিং, ব্যাটিং ও ম্যাচ শেষ করার দক্ষতা তিন জায়গাতেই নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

    টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম ওভারেই ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান ফেরান কুপার কনোলিকে। একই ওভারে ম্যাট রেনশকেও আউট করেন বাঁহাতি পেসার। কোনো রান তোলার আগেই ৩ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

    ৭.৩ ওভারে অ্যালেক্স ক্যারিও ফেরেন মোস্তাফিজের বলে। তখন অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৪ উইকেটে ২৫। শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় বাংলাদেশের হাতে। পরে অধিনায়ক জশ ইংলিস কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। ৩৮ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৩৪ রান। তাঁকে ফিরিয়ে দেন তানভীর ইসলাম।

    এরপর ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে ইনিংস গুছানোর চেষ্টা করেন লাবুশেন। গ্রিন ৫০ বলে ২৫ করে তানভীরের বলে ফিরলেও অস্ট্রেলিয়ার আসল লড়াই শুরু হয় সপ্তম উইকেটে। লাবুশেনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন বার্টলেট। দুজন মিলে ১০০ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন।

    লাবুশেন ৮৫ বলে ৩ চারে অপরাজিত থাকেন ৫৫ রানে। বার্টলেট খেলেন পাল্টা আক্রমণের ইনিংস। ৪৮ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৫২ রান। শেষ দিকে তাসকিন বার্টলেট ও অ্যাডাম জাম্পাকে পরপর দুই বলে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রান আটকে দেন। বৃষ্টির কারণে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রানে।

    বাংলাদেশের হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ৭ ওভারে ২ মেডেনসহ ২৭ রানে নেন ৩ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ৮ ওভারে ৩৩ রানে নেন ৩ উইকেট। তানভীর ইসলাম নেন ২ উইকেট।

    বৃষ্টি বিরতির পর বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২। রান তাড়ায় শুরুটা বাংলাদেশেরও ভালো হয়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই তানজিদ হাসান ফিরে যান কোনো রান না করে। তবে এরপর সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় উইকেটে ৮৬ রানের ভিত গড়ে দেন।

    সৌম্য ৪৭ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৪২ রান। শান্তর ব্যাট থেকেও আসে ৫৩ বলে ৪২ রান। দুজনের জুটিতে চাপ কমে যায় বাংলাদেশের। তবে ৮৬ থেকে ১২২ রানের মধ্যে সৌম্য, শান্ত ও লিটন দাস ফিরে গেলে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফেরে। লিটন ১৮ বলে ২১ রান করেন।

    মোসাদ্দেক হোসেন ১৪ বলে ১৫ রানের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস খেলেন। তবে শেষ কাজটা করেন তাওহিদ হৃদয় ও অধিনায়ক মিরাজ। হৃদয় এক প্রান্ত ধরে রাখেন, মিরাজ অন্য প্রান্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ম্যাচ শেষ করে আসেন। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৫১ রানের জুটিতে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

    হৃদয় ৫৫ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন। মিরাজ ২২ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ৩৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৫ রানে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বার্টলেট, ম্যাট রেনশ, রাইলি মেরেডিথ, অ্যাডাম জাম্পা ও ক্যামেরন গ্রিন একটি করে উইকেট নেন।

    ম্যাচসেরা হন মোস্তাফিজুর রহমান। নতুন বলে তাঁর দুই ওভারই অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচের শুরুতে ছিটকে দেয়। তাসকিনের সঙ্গে তাঁর পেস আক্রমণই তৈরি করে দেয় বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তি। ব্যাট হাতে সেই কাজ শেষ করেন সৌম্য, শান্ত, হৃদয় ও মিরাজ।

  • বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখবেন যেভাবে

    বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখবেন যেভাবে

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজ পর্দা উঠছে ফুটবল বিশ্বকাপের। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে মেক্সিকো সিটিতে, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচের আগে। বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য ম্যাচটি যেমন রাতজাগা আয়োজন, তেমনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও দেখা যাবে রাতেই।

    মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে। এরপর রাত ১টায় শুরু হবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ, যেখানে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

    বাংলাদেশ থেকে টেলিভিশনে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা যাবে সময় টিভি, বিটিভি ও টি স্পোর্টসে। যারা মোবাইল, ল্যাপটপ বা স্মার্ট টিভিতে দেখতে চান, তাদের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে থাকছে টফি ও বায়োস্কোপ।

    অর্থাৎ টিভি দর্শকরা নির্ধারিত চ্যানেলে গিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচ দেখতে পারবেন। আর মোবাইল বা ল্যাপটপে দেখতে চাইলে টফি বা বায়োস্কোপ অ্যাপ অথবা ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে। স্মার্ট টিভিতে অ্যাপ সাপোর্ট থাকলে সেখান থেকেও দেখা যেতে পারে।

    এবারের বিশ্বকাপে একটি নয়, তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থাকছে। তিন আয়োজক দেশ মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে আলাদা অনুষ্ঠান আয়োজন করবে। প্রথম অনুষ্ঠানটি হচ্ছে মেক্সিকোতে। পরে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রেও নিজেদের উদ্বোধনী আয়োজন হবে।

    মেক্সিকোর অনুষ্ঠানে দেশটির সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য ও সংগীতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে শাকিরা, বার্না বয়, জে বালভিনসহ একাধিক আন্তর্জাতিক শিল্পীর পারফর্ম করার কথা রয়েছে। উদ্বোধনী আয়োজন শেষে মাঠে নামবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

    বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য তাই আজ রাতের সূচি পরিষ্কার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, রাত ১টায় প্রথম ম্যাচ। টিভিতে সময় টিভি, বিটিভি ও টি স্পোর্টস; আর অনলাইনে টফি ও বায়োস্কোপেই দেখা যাবে বিশ্বকাপের শুরুর আয়োজন।

  • নীলফামারী জামায়াতে ইসলামী উদ্যোগে প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের জনশক্তি নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    নীলফামারী জামায়াতে ইসলামী উদ্যোগে প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের জনশক্তি নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    নীলফামারী প্রতিনিধি 

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের জনশক্তিদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সংগঠনের প্রচার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, আধুনিক ও কার্যকর করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে নীলফামারী জেলা জামায়াত অফিস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিতব্য এ সভায় নীলফামারী জেলা প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি, অধ্যাপক ছাদের হোসেনের সভাপতিত্বে,প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি,
    অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বশীল আবদুল কাদিম, সদর উপজেলা আমির সাঈদ আবু হানিফা শাহ, সহকারী সেক্রেটারি আহমাদ রায়হান।

    সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিট পর্যায়ের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বশীল জনশক্তিরা অংশগ্রহণ করবেন।
    এসময় অসুস্থ দুজন সাংবাদিক ওমর ফারুক ও রায়হান আলীর তুলে ধরেন তারা

    এতে বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার, সংগঠনের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধরা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর প্রচারণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মিডিয়া কর্মী তৈরির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

    এছাড়াও সভায় অংশগ্রহণকারীদের মতামত গ্রহণ, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    জেলা জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেছেন, এ মতবিনিময় সভার মাধ্যমে প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের জনশক্তিদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং সংগঠনের আদর্শিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

  • অপারেশন মাঝপথে রেখে পালালেন ডাক্তার; ভ্রাম্যমাণ আদালতের লাখটাকা জরিমানা ও ক্লিনিক বন্ধ ঘোষনা

    অপারেশন মাঝপথে রেখে পালালেন ডাক্তার; ভ্রাম্যমাণ আদালতের লাখটাকা জরিমানা ও ক্লিনিক বন্ধ ঘোষনা

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    অস্ত্রোপচার টেবিলে রোগী রেখে ডাক্তার পালিয়ে যাওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্তবর্তী কার্পাসডাঙ্গা বাজারে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেসরকারি অ্যাপোলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য বিভাগ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন।

    অভিযানে অ্যাপোলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিভিন্ন অনিয়ম তথ্য উঠে আসে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ২ টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ টিম ক্লিনিকটিতে অভিযান চালায়। এ সময় চিকিৎসা সেবার মান, জনবল, অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করে একাধিক অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ জুন মুসলিমা খাতুন নামে এক নারীর জরায়ুর টিউমার অপসারণের জন্য ক্লিনিকটিতে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ছাড়াই অপারেশন শুরু করা হয়। আরও বিস্ময়করভাবে অস্ত্রোপচার চলাকালীন একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার অপারেশন অসমাপ্ত রেখেই ক্লিনিক ত্যাগ করেন। এতে রোগীর জীবন ঝুকির মুখে পড়ে। পরে তাকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গায় স্থানান্তর করা হলে সেখানে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

    ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনমনে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। রোগীর স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

    এরই প্রেক্ষিতে বুধবার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে বৃহস্পতিবার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অসঙ্গতি শনাক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে এবং আপাতত ক্লিনিকটি বন্ধ রাখা হয়েছে। কাগজপত্র, চিকিৎসক ও জনবলের বৈধতা, সরঞ্জাম এবং সেবার মান যাচাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া কীভাবে এমন ঝুকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার পরিচালিত হচ্ছিল? তাদের দাবি, মানুষের জীবন নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা যায় না। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত তদারকির ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

  • গাইবান্ধায় সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ সভা

    গাইবান্ধায় সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ সভা

    গাইবান্ধা প্রতিনিধি

    গাইবান্ধা জেলার সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় জেলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নে রামমন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন সুন্দরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম সরকার, সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, গোবিন্দগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. ময়নুল হাসান সাদিক।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) একেএম হেদায়েতুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন নবী টিটুলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, হিন্দু ও মুসলিম ধর্মীয় নেতারা।

    ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা সভায় পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নে রামমন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মাঝে যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় রূপ না নেয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    সভায় অংশগ্রহণকারী হিন্দু ও মুসলিম ধর্মীয় নেতারা সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত সম্পদের উৎস ও অর্থায়নের বিষয়টি সরকারি পর্যায়ে তদন্তের দাবি জানানো হয়।

    বক্তারা বলেন, গাইবান্ধা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি অনন্য উদাহরণ। জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ধর্মীয় নেতাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

    সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্বদা সতর্ক রয়েছে। কোনো পক্ষ যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

  • কক্সবাজার-বান্দরবান সীমান্তে স্থলমাইনের বিভীষিকা: থামছে না হতাহতের মিছিল

    কক্সবাজার-বান্দরবান সীমান্তে স্থলমাইনের বিভীষিকা: থামছে না হতাহতের মিছিল

    এস.এম. হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার

    বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কক্সবাজার ও বান্দরবানের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে স্থলমাইনের আতঙ্ক এখনো বাস্তব ও ভয়াবহ। বিশেষ করে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম, তুমব্রু, দোছড়ি, আশারতলী, চাকঢালা এবং কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সংলগ্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঘটনা ঘটছে। সীমান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, কাঠ সংগ্রহকারী, এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও এই মরণফাঁদ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।

    সাড়ে ৮ বছরে হতাহত অন্তত ৫৭ জন পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি ও পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকায় অন্তত ৫৭ জন হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫ জন নিহত এবং ৪৪ জন পা হারিয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন।

    ২০২৫-২০২৬: উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে মাইন বিস্ফোরণ
    শুধু ২০২৫ ও ২০২৬ সালেই সীমান্তে একের পর এক মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

    উল্লেখযোগ্য ঘটনা ২৪ জানুয়ারি ২০২৫ নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে পৃথক বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি আহত হন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে এক বিজিবি সদস্য গুরুতর আহত হন।

    ২০২৬ সালের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত অন্তত ৭ জন পা হারানোর ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে আসে। সম্প্রতি নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তে চার ঘণ্টার ব্যবধানে ৩ জন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।

    ২৪ মে ২০২৬ ঘুমধুম সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন, যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা।

    জুন ২০২৬-এ পৃথক ঘটনায় এক রোহিঙ্গা শ্রমিক নিহত এবং আরেক রোহিঙ্গা শ্রমিক আহত হন। একজন আনসার সদস্যও মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন।

    সীমান্তবাসীর জীবনে স্থায়ী আতঙ্ক স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সীমান্তের পাহাড়ি ঝিরি, বনাঞ্চল ও কৃষিজমিতে কাজ করতে গেলেই মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়। অনেক পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম সদস্য হারিয়েছে। কেউ হারিয়েছেন পা, কেউ হারিয়েছেন জীবিকা। ফলে সীমান্ত এলাকার অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমার সীমান্তের বিভিন্ন অংশে পূর্বে পুঁতে রাখা স্থলমাইন এখনো সক্রিয় রয়েছে। বর্ষাকাল, পাহাড়ি ঢল ও মাটির ক্ষয়ের কারণে অনেক মাইন স্থান পরিবর্তন করে নতুন এলাকায় চলে আসছে। ফলে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দূরের এলাকাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

    বিশেষজ্ঞরা সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মাইন অপসারণ উদ্যোগ এবং আহতদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

    কক্সবাজার-বান্দরবান সীমান্তে স্থলমাইন এখন শুধু নিরাপত্তা ইস্যু নয়, এটি একটি মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। গত কয়েক বছরে নিহতের চেয়ে পঙ্গুত্বের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় শতাধিক মানুষ ও পরিবার দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। সীমান্তে নতুন করে প্রাণহানি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই নীরব মৃত্যুফাঁদ আরও বহু মানুষের জীবন বিপন্ন করবে।

  • ফরিদপুরের নগরকান্দার তালমায় খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

    ফরিদপুরের নগরকান্দার তালমায় খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

    ফরিদপুর প্রতিনিধি

    ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের তালমা সুইচগেট থেকে সন্তোষী পর্যন্ত চলমান খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে তিনি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন এবং খননকাজের অগ্রগতি, গুণগত মান ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

    পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের মান বজায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাইফুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আমিনুল ইসলাম, তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে নাব্যতা হারানোর কারণে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি কৃষিকাজও ব্যাহত হতো।

    খাল পুনঃখনন কাজ শেষ হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

    পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

    এর আগে তিনি নগরকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

  • টেকনাফে ৫ লাখ ইয়াবাসহ মিয়ানমারের দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

    টেকনাফে ৫ লাখ ইয়াবাসহ মিয়ানমারের দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

    কক্সবাজার প্রতিনিধি 

    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ পিস ইয়াবাসহ মিয়ানমারের কুখ্যাত মাদক চোরাকারবারি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৫।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফের সাবরাং খালের দক্ষিণ পাশে মন্ডলপাড়া এলাকায় মো. কবির হোসেনের জমিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    র‌্যাব-১৫ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মিয়ানমারের সংঘবদ্ধ একটি মাদক চক্র বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান নিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল এলাকায় অবস্থান নিয়ে অভিযান চালায়।

    অভিযানের সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন মাদক কারবারি পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় দুইজনকে আটক করা হলেও আরও ৪ থেকে ৫ জন পালিয়ে যায়। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মন্ডু থানার ভুসিডং জেলার হায়েংখালী গ্রামের মৃত নূর মোহাম্মদ সায়েদের ছেলে মো. সাজেদ (৩২) এবং দলিয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে এনামুল হাসান (৩৩)।

    র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় চালানটি বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৫ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।

    র‌্যাব-১৫ জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

    গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

  • ববি বাসে আইকনিক এক্সপ্রেসের ধাক্কা আহত তিন শিক্ষার্থী, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    ববি বাসে আইকনিক এক্সপ্রেসের ধাক্কা আহত তিন শিক্ষার্থী, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    ববি প্রতিনিধি

    বরিশালের দপদপিয়া সেতু এলাকায় ওভারটেক করতে গিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) একটি বাসের পেছনে ধাক্কা দেয় একটি যাত্রীবাহী বাস। এ ঘটনায় উভয় বাসই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে দপদপিয়া সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বহনকারী বাসটি নির্ধারিত গন্তব্যে যাওয়ার পথে দপদপিয়া সেতু অতিক্রম করছিল। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটিকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। ওভারটেকের একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের পেছনের অংশে সজোরে ধাক্কা দেয়।
    সংঘর্ষের ফলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের পেছনের অংশ এবং যাত্রীবাহী বাসটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করলেও বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এতে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তবে আকস্মিক এ ঘটনায় বাসে থাকা যাত্রীরা কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

    দুর্ঘটনার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট যাত্রীবাহী বাসটিকে আটক অবস্থায় রাখে। পরবর্তীতে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, সড়কে বেপরোয়া ওভারটেকিংয়ের প্রবণতা প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে যানবাহন চালকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রশংসিত চাপরতলা ইউনিয়নের তরুণ জনপ্রতিনিধি রুবেল

    উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রশংসিত চাপরতলা ইউনিয়নের তরুণ জনপ্রতিনিধি রুবেল

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়নের খান্দুরা গ্রামের তরুণ জনপ্রতিনিধি ও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুবেল মেম্বার একের পর এক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়াচ্ছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তার এসব উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

    এলাকাবাসীর দাবি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের পথে একাধিকবার নানা বাধা ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন রুবেল মেম্বার। তবে তিনি কখনো পিছিয়ে যাননি। বরং জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

    এ বিষয়ে রুবেল মেম্বার বলেন, “যত বাধাই আসুক না কেন, জনগণের স্বার্থে আমরা কাজ করে যাব। এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণই আমার প্রধান লক্ষ্য।”

    তিনি আরও বলেন, “সংসদ সদস্য এম এ হান্নান মহোদয় এবং চাপরতলা ইউনিয়নে তাঁর প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ সোহেল আবদালের সার্বিক সহযোগিতার কারণেই আমি উন্নয়নমূলক কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে পারছি। ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়নে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চাই।”

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন, পাক পাঞ্জাতনের উসিলায় ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র থেকে আমাকে রক্ষা করুন এবং ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন।”

    তার এই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করেও এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা ও সমালোচনার মুখেও তিনি ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

    স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তরুণ এই জনপ্রতিনিধি ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।