মাদারীপুরে গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা
মোঃ জসীম মিয়া, মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটাগুলো এখন পরিবেশের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আবাদি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কেটে নেওয়া এবং বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় পুড়ছে আশপাশের ফসল ও গাছপালা।
নিয়ম নীতি ও আইনের তোয়াক্কা না করেই চলছে এই অবৈধ কার্যক্রম। বেশিরভাগ ইট ভাটায় গাছ কাটার জন্য স’মিল পর্যন্ত বসিয়ে নিয়েছে ।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাহাড়, সংরক্ষিত এলাকা কিংবা লোকালয়ের এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে,মাদারীপুরে অনেক অবৈধ ইট ভাটা বসতবাড়ি ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গা ঘেঁষেই কার্যক্রম চালাচ্ছে অবৈধ কার্যক্রম। অধিকাংশ ভাটারই নেই কোনো পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বা জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স।
কৃষকদের অভিযোগ, ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে ধানের ফলন কমে যাচ্ছে এবং আম-লিচুর মতো মৌসুমি ফলের মুকুল ঝরে পড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, “ভাটার মালিকরা জোর করে বা ফুসলিয়ে ফসলি জমির মাটি কিনে নিচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর বেশ কিছু অবৈধ ইট ভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও চিমনি গুঁড়িয়ে দিলেও কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবারও সচল
হয়ে উঠেছে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়া ইট ভাটাগুলো।

ইট ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় বাতাসে কার্বন-মনোক্সাইড বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‘স্বাস্থ্যঝুঁকি আশপাশের মানুষের শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ছে। জীববৈচিত্র্য ধ্বংস: উচ্চ তাপমাত্রার কারণে মাটির অণুজীব মারা যাচ্ছে।’
প্রশাসনের কাছে যথাযথ পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কেবল জরিমানা নয়, বরং স্থায়ীভাবে এসব অবৈধ ভাটা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি মাটির ইটের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ‘ব্লক ইট’ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, “অবৈধ সব ইটভাটার তালিকা আমাদের কাছে আছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
