তুহিন হোসেন, পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামে দাদি সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তারকে (১৬) হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা এবং নিহত কিশোরীর সম্পর্কে চাচা শরিফুল ইসলাম শরীফকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়েছে।
রবিবার (১লা মার্চ) দুপুরে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাতুড়ি, বাঁশের গুঁড়ি ও রড উদ্ধার করেছে।
গ্রেফতারকৃত শরিফুল ইসলাম পেশায় একজন ট্রাক চালক। ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন ।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে জামিলাদের বাড়িতে বাজার পৌঁছে দিতে গিয়ে কিশোরীকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন শরীফ। জামিলা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে চড় মারেন, যা শরীফ নিজের অপমান হিসেবে গণ্য করেন।
২৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) দিবাগত রাতে শরীফ পুনরায় তাদের বাড়িতে যান। তিনি পূর্বের ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইলেও দাদি সুফিয়া খাতুন তাকে ক্ষমা না করে চিৎকার শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শরীফ পাশে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে বৃদ্ধার মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করেন।
দাদিকে বাঁচানোর চেষ্টা ও জামিলা চিৎকার শুরু করলে শরীফ রাজমিস্ত্রিদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম (কুন্নি) দিয়ে তার মাথায় ও কপালে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এরপর অচেতন অবস্থায় কিশোরীকে টেনেহিঁচড়ে পাশের সরিষা ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং শেষে গলা টিপে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যান।
নিহত জামিলা আক্তার কালিকাপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এই ঘটনায় জামিলার বোন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। প্রশাসনের অভিযানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রধান আসামিকে চিহ্নিত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
