স্টাফ রিপোর্টার:
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার মাহফুজুর রহমান বর্ষণ নামে এক ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী কুষ্টিয়ার খোকসা থানার ওসির ভয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছে জেলা প্রশাসকের কাছে।
ভুক্তভোগী মাহাফুজুর রহমান বর্ষন কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার জানিপুরের মাঠপাড়া গ্রামের গোলাম সরোয়ারের ছেলে।
এছাড়াও খোকসা বাজারের প্রধান সড়কে ভুক্তভোগীর বর্ষণ ইলেকট্রনিক্স নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
বর্তমান খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোতালেব হোসেনকে খোকসা উপজেলার এক আওয়ামী লীগ নেতার কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা অথবা তার মেয়ের জন্য একটি ল্যাপটপ এনে দিতে বলেন। আর এই কাজটি না করায় এখন জীবনের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও দাবি করেন ওই ব্যবসায়ী।
এমন পরিস্থিতিতে ওই ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদনে উল্লেখ করেন,আমার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে নাম বর্ষণ ইলেক্ট্রিক, খোকসা বাজার প্রধান সড়কে অবস্থিত। থানার খুবই নিকটে দোকান হওয়ার প্রেক্ষিতে খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (মোঃ মোতালেব হোসেন) সহিত একটা সু-সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। সম্পর্কের জেরে, ওসি স্যার ০১/০১/২০২৬ ইং তারিখে খোকসা থানার শিমুলিয়া ইউনিয়নের নাসির মেম্বার সে বাংলাদেশ আওয়ামিলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত তার নিকট হতে ১ লক্ষ টাকা অথবা ওসি স্যারের মেয়ের জন্য একটি ল্যাপটপ এনে দেওয়ার জন্য আমাকে বলে। আমি এই কাজ করতে রাজি না হলে, ওসি স্যার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হুমকি দিতে থাকে। ০৭/০২/২০২৬ ইং রাত ৯:৩১ আমার দোকানে এসে ওসি স্যার আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। পরবর্তীতে ওসি স্যারের নির্দেশে ১৫/০২/২০২৬ইং খোকসার শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজন আমার অনুপস্থিতে আমাদের বাড়িতে এসে আমাকে খোঁজ করে এবং সেই কাজটি করেছি কিনা জানতে চায়। সন্ত্রাসী রাজন আমার হোয়াট্স এপে ল্যাপটপের মডেল (HP Core i7 12th Gen.) পাঠিয়ে আমাকে কিনে দিতে বলে। আমি কিনে দিতে রাজি না হলে। আমার প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। এমতাবস্থায় আমার ব্যবসা পরিচালনা করা বাড়ির বাহিরে বের হওয়া অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বর্ষণ বলেন, আমি খুব কঠিন সময় পার করছি। ওসি প্রথমে সুন্দর সম্পর্ক সৃষ্টি করেছে তারপর আমাকে ডেকে এসব করতে বলেছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে থানার মসজিদে এটা ওটা লাগিয়ে বিল নিতে পাওনাদারকে আমার দোকানে পাঠিয়ে দেই এছাড়াও বিভিন্ন কাজে টাকা দাবি করে আসছে ইমোশনাল ব্লাকমেইল করে। সেসময় তিনি ওসির বদলি ও বিচার দাবি করেন।
অভিযুক্ত খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোতালেব হোসেন জানান, আমি সন্ত্রাসী রাজনকে গ্রেফতারের জন্য তৎপর, সেটা খোকসাবাসী সবাই জনে। অভিযোগকারীর বাসা আর রাজনের বাসায় একই জায়গায়। যেহেতু আমি সন্ত্রাসী রাজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি সেক্ষেত্রে এটা রাজন চক্রান্ত করে অভিযোগকারীকে দিয়ে করাইতে পারে। আর নাসির মেম্বার নামে আমি কাউকে চিনি না।
এবিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন জানান, অভিযোগটি আমি পেয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে।
