মননোয়নের দাবিতে মতবিনিময় সভা
পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনা জেলা মহিলা দলের দফতর সম্পাদক ও ঈশ্বরদী উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি, রাজপথের ত্যাগী নারী নেত্রী রোকেয়া হাসেমকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। শনিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় জনতা ফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই দাবি জানানো হয়।
জাতীয় মানবাধিকার সমিতি ও সমমনা সাংস্কৃতিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় নবনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের নিকট রোকেয়া হাসেমকে মনোনয়ন প্রদানের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনের প্রচার সম্পাদক আরজে সুহিল ইরফান কৌশিকের সঞ্চালনায় সভায় বক্তারা বলেন, রোকেয়া হাসেম একজন পরীক্ষিত ও সাহসী নেত্রী। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ডিগ্রি কলেজে বিপুল ভোটে জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে নানা জুলুম, নির্যাতন ও রিমান্ডের শিকার হলেও তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। এমনকি তাঁর সন্তানদেরও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে, তবুও তিনি দলের প্রশ্নে আপসহীন থেকেছেন।
রোকেয়া হাসেম কুষ্টিয়া ভেড়ামারার এক ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের কন্যা। তাঁর ভাই কুষ্টিয়া-২ আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম এবং অপর ভাই ভেড়ামারা পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম আলম। এছাড়া পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব তাঁর নিকটাত্মীয়। ব্যক্তিগত জীবনে বিধবা হয়েও দুই সন্তানকে নিয়ে শক্ত হাতে তিনি রাজনীতির হাল ধরে রেখেছেন।
জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা এবং ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন, “দুঃসময়ে যারা রাজপথে থেকে নেতাকর্মীদের সাহস জুগিয়েছেন, তাদেরই এখন মূল্যায়নের সময়। রোকেয়া হাসেমের মতো তৃণমূলভিত্তিক ও মেধাবী নেতৃত্ব সংসদে গেলে নারী অধিকার ও এলাকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।”
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রোকেয়া হাসেমের সন্তান ও জনতা ফোরামের মুখপাত্র মোবাশ্বিরা নুজহাত তাসনিয়া উপ্তি। উপস্থিত ছিলেন সংগঠক মাহবুব আলী, আবুল কাশেম, শাহ আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোকেয়া হাসেম বলেন, “আমার ঠিকানা বিএনপি ও জিয়া পরিবার। রাজপথে থেকে দলের প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। এখন আমাদের প্রিয় নেতা দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ চলছে। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেয়, তবে আমি নেতার স্বপ্ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমৃত্যু কাজ করে যাব।”
তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা, দলের হাইকমান্ড এই ত্যাগী নেত্রীকে মূল্যায়নের মাধ্যমে এলাকার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।
