টিকিট না পেয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ, ব্রিজের সঙ্গে ধাক্কায় ঠিকাদারের মৃত্যু

ঢাকা থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের সময় ব্রিজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মো. আরিফুল ইসলাম (২৬) নামে এক ঠিকাদারের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত আরিফুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রসুল্লাবাদ ইউনিয়নের দাররা গ্রামের সরকার বাড়ির মো. আজিজুল ইসলাম কান্দু ও লাকী বেগমের একমাত্র ছেলে। তিনি ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন এবং ‘ইলেকট্রনিক প্লাস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পরিবার ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে একটি কাজের উদ্দেশ্যে হবিগঞ্জের পিটিআই স্কুলে যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রা করেন আরিফুল ইসলাম। তবে টিকিট না পাওয়ায় তিনি ট্রেনের ছাদে উঠে ভ্রমণ শুরু করেন।

পথিমধ্যে ট্রেনটি ভৈরবের পুরাতন রেলসেতু এলাকায় পৌঁছালে ব্রিজের সঙ্গে তার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলম মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের সময় ব্রিজের সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আরিফুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মানবিক বিবেচনায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি এড়াতে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানিয়েছে। দুর্ঘটনাটি আবারও ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের ভয়াবহ ঝুঁকির বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন