এস.এম. হুমায়ুন কবির,কক্সবাজার
মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা নাইক্ষ্যংছড়ি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচারের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ করিডোর হিসেবে পরিচিত। সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র বারবার মাদক প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে আসলেও সাম্প্রতিক সময়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর ধারাবাহিক অভিযানে সেই অপতৎপরতায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ জারুলিয়াছড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ১,০০,০৪৫ (এক লক্ষ পয়তাল্লিশ) পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ১৩ হাজার ৫০০ টাকা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ১৮ জুন বিকাল আনুমানিক ৩টা ৫০ মিনিটে সীমান্ত পিলার ৪৭/২-এস হতে প্রায় ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এবং জারুলিয়াছড়ি বিওপি থেকে প্রায় ৮০০ গজ পূর্বদিকে সেগুন বাগান এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানের সময় কয়েকজন চোরাকারবারি মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে।
এসময় বিজিবির আভিযানিক দল তাদের ধাওয়া করলে পাচারকারীরা নিজেদের কাছে থাকা ইয়াবার চালান ফেলে জঙ্গলের ভেতরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে বিজিবি সদস্যরা ১০টি কার্টনে রাখা ৯৯,০৪৪ পিস খয়েরি রঙের এবং ১,০০১ পিস সবুজ রঙের ইয়াবাসহ মোট ১,০০,০৪৫ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
নেতৃত্বে দৃঢ়তা, অভিযানে সাফল্য সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির দায়িত্ব গ্রহণের পর সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। তার পরিকল্পিত নেতৃত্ব, নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে সীমান্তজুড়ে মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ১১ বিজিবির একের পর এক সফল অভিযানে ইয়াবা পাচারকারীরা চাপে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা মাদক ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।
মানবিক কর্মকাণ্ডেও প্রশংসিত শুধু মাদকবিরোধী অভিযানেই নয়, মানবিক কর্মকাণ্ডেও প্রশংসা কুড়িয়েছে ১১ বিজিবি। অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবিরের উদ্যোগে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করে হাজারো অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। অনেকেই তাকে একজন “শিক্ষাবান্ধব ও মানবিক সেনা কর্মকর্তা” হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
সীমান্ত সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির জানিয়েছেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় চলমান কঠোর নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযানের ফলে মাদক চোরাচালান রোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের প্রত্যাশা, ১১ বিজিবির এমন কঠোর ও জনবান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সীমান্ত এলাকা আরও নিরাপদ ও মাদকমুক্ত হবে।
সচেতন মহলের অভিমত, সীমান্ত সুরক্ষা ও জনসেবার সমন্বিত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির। মাদকবিরোধী সাহসী অভিযান এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি ইতোমধ্যে সীমান্তবাসীর আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।