Category: অৰ্থনীতি

  • আজ দেশের সব ডিপো থেকে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ

    আজ দেশের সব ডিপো থেকে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ

    বার্ষিক মজুদ গণনা ও যাচাই কার্যক্রমের কারণে বুধবার (১ জুলাই) সারাদেশে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীন সব তেল ডিপো ও প্রধান স্থাপনা থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ এবং বিপণন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

    তবে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটাতে জেট ফুয়েল সরবরাহ চালু রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিপিসি।

    বিপিসির বণ্টন ও পরিবীক্ষণ অধিশাখার মহাব্যবস্থাপক (ব.ও. বিপ.) ফেরদৌসী মাসুম হিমেলের সই করা এক জরুরি অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    আদেশে বলা হয়েছে, প্রতি অর্থবছরের সমাপনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিপিসির আওতাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর প্রধান স্থাপনা ও আঞ্চলিক ডিপোগুলোতে বার্ষিক মজুদ গণনা এবং বাস্তব মজুদ যাচাই করা হবে। এ কারণে চট্টগ্রামের প্রধান স্থাপনাসহ দেশের সব ডিপো ও স্থাপনায় বুধবার দিনভর সাধারণ জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিপণন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থগিত থাকবে।

    তবে বিমান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট ডিপোগুলোকে জেট এ-১ জ্বালানির সংরক্ষণ ট্যাংকের বার্ষিক যাচাই কাজ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাচাই কার্যক্রম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরগুলোতে জেট ফুয়েল সরবরাহ পুনরায় চালু করতে বলা হয়েছে।

    বিপিসির এই পদক্ষেপ মূলত বার্ষিক হিসাব সমাপনী ও মজুদের সঠিকতা নিশ্চিত করার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। এ কারণে এক দিনের জন্য সাধারণ জ্বালানি তেল বিতরণ ও বিপণন বন্ধ থাকলেও বিমান চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

  • দেশে নিট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১.২৩ বিলিয়ন ডলার

    দেশে নিট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১.২৩ বিলিয়ন ডলার

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    দেশে নিট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১২৩ কোটি ৯৮ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার বা ৩১.২৩ বিলিয়ন ডলার।

    একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত বিভিন্ন তহবিলসহ মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৮০ কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা ৩৫.৮০ বিলিয়ন ডলার।

    বুধবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর।

    এর আগে গত মে মাসে নিট রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল। তবে দুই মাসের আমদানি ব্যয়ের বিল পরিশোধের পর তা ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়।

    প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

    আকু (এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন) ব্যবস্থার আওতায় প্রতি দুই মাস পরপর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আমদানি-সংক্রান্ত বিল পরিশোধ করা হয়।

  • রুপির বিপরীতে ১০ বছরে সর্বোচ্চ দামে বাংলাদেশি টাকা

    রুপির বিপরীতে ১০ বছরে সর্বোচ্চ দামে বাংলাদেশি টাকা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর ভারতীয় রুপির বিপরীতে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। বর্তমানে বাংলাদেশের ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ৭৯ ভারতীয় রুপি, যা মাত্র কিছুদিন আগেও ছিল মাত্র ৭৩ রুপি।

    একইভাবে আগে যেখানে ১০০ রুপি কিনতে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রায় ১৪০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হতো, মুদ্রা বাজারের বর্তমান হারের কারণে এখন সেখানে লাগছে মাত্র ১২৩ টাকা।

    মুদ্রা বিনিময় হারের এই বড় ধরনের পরিবর্তনে দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত বাণিজ্য, আমদানি কার্যক্রম এবং ভারতগামী পাসপোর্টধারী যাত্রীদের মধ্যে বড় রকমের স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সাধারণত ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে একজন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীকে যাত্রার আগেই বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। এর মধ্যে ভারতীয় দূতাবাসের ভিসা ফি ১ হাজার ৫৫০ টাকা, ভারতের বন্দর চার্জ ৪০০ রুপি, বাংলাদেশ সরকারের ভ্রমণ কর ১ হাজার টাকা এবং বন্দর ফি ৬৫ টাকা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

    এর বাইরেও ভিসার সিরিয়াল সংগ্রহ ও যাতায়াত বাবদ একটি বড় অঙ্কের ব্যয় হয়। ফলে রুপির উচ্চমূল্যের কারণে এতদিন ভারত ভ্রমণ সাধারণ মানুষের জন্য বেশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছিল।

    শুধু ভ্রমণই নয়, রুপির চড়া দামের কারণে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতেও অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছিল দেশের ব্যবসায়ীদের, যার ফলে অনেক আমদানিকারক লোকসানের আশঙ্কায় তাঁদের ব্যবসার পরিধি সীমিত করে ফেলেছিলেন।

    তবে সম্প্রতি ভারতের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করেই রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান লক্ষণীয়ভাবে বাড়তে শুরু করে এবং গত তিন দিনের ব্যবধানে টাকার অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। এতে ভ্রমণকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

    বেনাপোল স্থলবন্দর ব্যবহারকারী পাসপোর্টধারী রাশেদুজ্জামান জানান, টাকার মান বাড়ায় ভারত ভ্রমণের খরচ আগের চেয়ে কিছুটা কমবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির বিষয়।

    অন্যদিকে বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বাংলাদেশি টাকা শক্তিশালী হওয়ায় ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের সামগ্রিক ব্যয় কমবে এবং দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন এই পরিবর্তনকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে বলেন, বিগত ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশি টাকার মান রুপির বিপরীতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ভারতের নির্বাচন-পরবর্তী এই সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যাত্রী চলাচল আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

    বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১ হাজার ৮৩৬ জন দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেছেন এবং একই দিনে ৩৪৫টি ট্রাকে করে দুই দেশের আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহন করা হয়েছে।

    বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, ব্যবসায়ী ও ভ্রমণকারীদের জোরালো প্রত্যাশা হলো বাংলাদেশি টাকার এই ইতিবাচক ধারা যদি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকে, তবে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গতিশীল হবে এবং সীমান্ত অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

  • আরও ২৫০০ কোটি টাকা ধার পেল ইসলামী ব্যাংক

    আরও ২৫০০ কোটি টাকা ধার পেল ইসলামী ব্যাংক

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা হিসেবে আরো ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক। তবে পাওয়া অর্থের পুরোটা এখনো ব্যবহার করতে হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আলতাফ হুসাইন।

    সোমবার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গতকালও আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছি।

    সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটি ঘিরে গ্রাহকদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কমে আসছে বলেও জানান আলতাফ হুসাইন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আতঙ্কে যারা আমানত তুলে নিয়েছেন, তারা আবারও ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে ফিরে আসবেন।

    গ্রাহকদের আস্থা ফেরার ইতিবাচক লক্ষণও দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন ভারপ্রাপ্ত এমডি। তিনি জানান, দেশের একটি বড় শাখা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, আগের তুলনায় হিসাব বন্ধের (অ্যাকাউন্ট ক্লোজড) সংখ্যা প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে গেছে।

    আলতাফ হুসাইন বলেন, এই প্রবণতা গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসার ইঙ্গিত বহন করে। নতুন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ব্যবস্থাপনা কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আলতাফ হুসাইন বলেন, ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী সাবেক চেয়ারম্যান একটি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন। সাবেক চেয়ারম্যানকে অপসারণের চিঠি হস্তান্তরের সঙ্গে সঙ্গেই গাড়িটি ফেরত নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, গ্রাহকদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ লক্ষ্যেই ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করে যাচ্ছে।

    এদিকে ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেছেন, এখন পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। আমানতকারীদের নির্বিঘ্নে লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখার অনুরোধ করেন।

    একই সঙ্গে তিনি জানান, যোগ্য ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনে যাচাই-বাছাই চলছে।

    ইসলামী ব্যাংকের নিরপেক্ষ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রসঙ্গে মোহাম্মদ জহির হোসেন জানান, পূর্ণাঙ্গ বোর্ড হিসেবে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন হচ্ছে। যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন আছে। আমরা এখানে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ লোক দিতে চাই, যারা এই ব্যাংকটিকে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারবেন। আশা করি, খুব শিগগিরই আপনারা একটি সুন্দর ও নিরপেক্ষ বোর্ড পাবেন।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তিনি সীমিত সময়ের জন্য এক সদস্য বোর্ডের দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে ব্যাংকের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।

    আমানতকারীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। নির্বিঘ্নে লেনদেন চালিয়ে যান। ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখুন।

  • কত টাকা ব্যাংকে থাকলে দিতে হবে না কর

    কত টাকা ব্যাংকে থাকলে দিতে হবে না কর

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকে জমা রাখা টাকার ওপর আবগারি শুল্ক মওকুফের সীমা বাড়াচ্ছে সরকার। আগামী অর্থবছর থেকে যাদের ব্যাংক হিসাবে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা থাকবে, তাদের কোনো আবগারি শুল্ক দিতে হবে না।

    বর্তমানে ব্যাংকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা থাকলে কোনো শুল্ক কাটা হয় না। সেই সীমা বাড়িয়েই এখন ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ একথা জানান।

    তিনি জানান, ক্ষুদ্র আমানতকারীদের স্বস্তি দিতে শুল্ক অব্যাহতির সীমা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকিং ব্যবস্থায় একটি ঋণ হিসাবের বিপরীতে একাধিক ডিল বা অ্যাকাউন্ট খোলা হলে প্রতিটির বিপরীতে আবগারি শুল্ক কাটা হয়। এখন একবারই কাটা হবে।

     

  • ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল, ঋণ মিলবে ৯ শতাংশ সুদে

    ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল, ঋণ মিলবে ৯ শতাংশ সুদে

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ব্যবসা-বাণিজ্য গতিশীল করতে দেশের ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার নতুন পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিলের আওতায় সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ হারে চলতি মূলধন হিসেবে ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। সোমবার (৮ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ’ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা এ সংক্রান্ত নির্দেশনাটি ইতোমধ্যে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নতুন এই তহবিলের নাম দেয়া হয়েছে ‘সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন পুনঃ অর্থায়ন তহবিল’। প্রাথমিকভাবে যার মেয়াদ হবে ৩ বছর।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১ কোটি ১৮ লাখ সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নতুন এই তহবিলের ফলে বিশাল এই খাতের উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ হারে চলতি মূলধন হিসেবে ঋণ পাবেন।

    এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চাহিদার তুলনায় চলতি মূলধনের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সিএমএসএমই খাতের বিকাশ ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতির চাকা গতিশীল করার লক্ষ্যে এই তহবিল গঠন করা হয়েছে। যার মূল উদ্দেশ্য সচল সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন ঋণ বা বিনিয়োগ সরবরাহের মাধ্যমে তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন, সেবা বা ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করা।

    এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও উদ্যোক্তা উভয়ের জন্যই নতুন এই তহবিলের সুদের হার নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিলের আওতায় ঋণ নিলে গ্রাহক বা উদ্যোক্তা পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে এই তহবিল থেকে টাকা পাবে। তবে ব্যাংকগুলোকে প্রতি ৩ মাস (ত্রৈমাসিক) পরপর এই সুদ পরিশোধ করতে হবে।

    এছাড়া প্রচলিত ব্যাংকের পাশাপাশি শরিয়াভিত্তিক পরিচালিত ব্যাংক বা সাধারণ ব্যাংকের ইসলামিক বিভাগও নিজস্ব নিয়মে গ্রাহকদের এই ঋণ সুবিধা (বিনিয়োগ আকারে) দিতে পারবে। তবে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করা এই ঋণ আদায়ের সব দায়-দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর। যদিও ঋণের ঝুঁকি কমাতে ব্যাংক চাইলে নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকের কাছ থেকে সহ-জামানত বা কোলেটারাল নিতে পারবে।

  • মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ‘এমটিবি ট্রেড এক্স’ চালু, মিলবে যে সুবিধা

    মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ‘এমটিবি ট্রেড এক্স’ চালু, মিলবে যে সুবিধা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি) সম্প্রতি এমটিবি ট্রেড এক্স-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছে। এটি একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল ওয়েব পোর্টাল, যা ট্রেড লেনদেনের অনুরোধ জমা দেওয়া এবং তার স্বীকৃতি প্রক্রিয়াকে সুগম করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

    এই মাইলফলকটি এমটিবি’র এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটাল ট্রেড রূপান্তরের যাত্রাপথে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

    এমটিবি ট্রেড এক্স হলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তৈরি দেশের প্রথম কার্যকর ও অর্থবহ একটি সমাধান। এমটিবি ট্রেড এক্স-এর মাধ্যমে ব্যাংকটি প্রচলিত, কাগজভিত্তিক ম্যানুয়াল প্রক্রিয়াকরণ থেকে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে রূপান্তরিত হয়েছে। ব্যাংকের ট্রেড গ্রাহকরা এখন যেকোনো সময় এবং যেকোনো স্থানে রিয়েল টাইমে তাদের ট্রেড লেনদেন শুরু করতে এবং তার গতিবিধি ট্র্যাক করতে পারবেন। যার ফলে কাগজের নথিপত্র এবং শাখায় যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা দূর হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মটি ট্রেড সমূহকে আরও বেশি দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং সুবিধা প্রদান করে। এটি একটি সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্ভাবন, যা এমটিবি’র ডিজিটাল ব্যাংকিং বিভাগ বিজনেস এবং ট্রেড অপারেশনস টিমের সাথে নিবিড় সহযোগিতায় পরিকল্পনা ও নকশা তৈরি করেছে।

    অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এই ডিজিটাল সমাধানটি গ্রাহকদের উন্নত সেবা, দ্রুততর প্রক্রিয়াকরণ এবং নির্বিঘ্ন ট্র্যাকিং সুবিধা নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশে এখনও ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস (ইটিআরএস) সংক্রান্ত বিধিমালা পুরোপুরি গ্রহণ করা না হলেও, এমটিবি ট্রেড এক্সের মাধ্যমে আমাদের ব্যাংক কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সসহ বাণিজ্য শুরুর পর থেকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পর্যন্ত একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল পরিবেশের জন্য ‘প্লাগ-এন্ড-প্লে’ হিসেবে প্রস্তুত থাকল।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ বিজনেস অফিসার, চৌধুরী আখতার আসিফ, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ট্রেজারি প্রধান, মো. শামসুল ইসলাম এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং ও ট্রেড অপারেশনস বিভাগের প্রধানগণসহ ব্যাংকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। বক্তারা দেশের ক্রমবর্ধমান ট্রেড ফাইন্যান্স ইকোসিস্টেম গঠনে ‘এমটিবি ট্রেড এক্স’-এর কৌশলগত গুরুত্ব ও দূরদর্শী ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

  • দেশের বাজারে আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা?

    দেশের বাজারে আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা?

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যহ্রাসের প্রভাব পড়েছে দেশের স্বর্ণবাজারেও। দেশের বাজারে ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকেই সোনার নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণ একই দামে বিক্রি হচ্ছে।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে গত ২৫ মে স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

    এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

  • পাঁচ খনিতে ৭ বিলিয়ন টনের বেশি মজুদ আছে কয়লা

    পাঁচ খনিতে ৭ বিলিয়ন টনের বেশি মজুদ আছে কয়লা

    দিনাজপুর প্রতিনিধি

    বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রধান কয়লাখনির সংখ্যা পাঁচটি। এগুলোর অধিকাংশই দেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত এবং উচ্চমানের বিটুমিনাস কয়লায় সমৃদ্ধ।

    বর্তমানে আবিষ্কৃত খনিগুলো হলো- দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী ও দীঘিপাড়া, রংপুরের খালাশপীর এবং জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ কয়লাক্ষেত্র। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বড়পুকুরিয়ায় প্রায় ৩৯০ মিলিয়ন টন, ফুলবাড়ীতে ৫৭২ মিলিয়ন টন, দীঘিপাড়ায় ৬০০ মিলিয়ন টন এবং খালাশপীরে ১৪৩ মিলিয়ন টন কয়লার মজুদ রয়েছে। সবচেয়ে বড় মজুদ রয়েছে জামালগঞ্জে, যেখানে প্রায় ৫.৪ বিলিয়ন টন কয়লা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে সম্ভাব্য কয়লা মজুদের পরিমাণ প্রায় ৭.১ বিলিয়ন টন।

    ৩০০ বছরের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা রয়েছে।

    বর্তমানে দেশে চালু কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বার্ষিক কয়লার চাহিদা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ থেকে এক কোটি ৫০ লাখ টন। পায়রা, রামপাল, মাতারবাড়ী এবং বড়পুকুরিয়াসহ বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হওয়ায় এই চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সে হিসাবে, পুরো ৭.১ বিলিয়ন টন কয়লা ব্যবহার করা গেলে বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ৪৭০ থেকে ৫৯০ বছর পর্যন্ত দেশের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব।

    তবে বাস্তবে পুরো মজুদ উত্তোলন করা যায় না। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, ভূতাত্ত্বিক জটিলতা, পরিবেশগত ঝুঁকি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ কয়লা উত্তোলনযোগ্য ধরা হয়। সে হিসেবে মোট মজুদের মাত্র অর্ধেকও যদি উত্তোলনযোগ্য হয়, তাহলেও প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন টন কয়লা ব্যবহার করা সম্ভব হবে। বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী এই কয়লা দিয়েই প্রায় ২৩০ থেকে ৩০০ বছর দেশের বিদ্যুৎ খাতের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা যেতে পারে।

    তবুও আমদানির ওপর পূর্ণনির্ভরতা

    বিপুল মজুদ থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল কয়লাখনি হলো দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি। এখান থেকে বছরে গড়ে ৭ থেকে ১০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করা হয়, যা জাতীয় চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ফলে দেশের প্রায় সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন আমদানিকৃত কয়লার ওপর নির্ভরশীল। পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কক্সবাজারের মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বিদেশী কয়লায় চলছে। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে বছরে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ থেকে এক কোটি ৫০ লাখ টন কয়লা আমদানি করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার ওপর নির্ভর করে এর জন্য বছরে প্রায় ২ থেকে ২.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় দেশের ডলার সঙ্কটকে আরো তীব্র করছে। একই সাথে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতার কারণে বিদ্যুৎ খাতও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে।

    কয়লা উত্তোলন আটকে আছে কেন?

    বাংলাদেশে কয়লা উত্তোলন নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই রয়েছে নীতিগত অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে ওপেন-পিট নাকি ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন হবে- এই বিতর্কের কারণে বড় প্রকল্পগুলো এগোয়নি। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মতে, বাংলাদেশের অধিকাংশ কয়লাখনি তুলনামূলক কম গভীরতায় অবস্থিত। ফলে ওপেন-পিট পদ্ধতিতে উত্তোলন করলে উৎপাদন ব্যয় কম হবে এবং অধিক পরিমাণ কয়লা উত্তোলন সম্ভব হবে। কিন্তু এই পদ্ধতিতে ব্যাপক জমি অধিগ্রহণ, কৃষিজমি ক্ষতি, বসতভিটা উচ্ছেদ এবং পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ২০০৬ সালে ফুলবাড়ী কয়লাখনি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তীব্র আন্দোলন ও হতাহতের ঘটনার পর সরকার অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নেয়। এরপর থেকে কার্যত ফুলবাড়ী প্রকল্প স্থবির হয়ে আছে। অন্য দিকে ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে উত্তোলন তুলনামূলক নিরাপদ হলেও তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। বড়পুকুরিয়া খনিতে ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে উৎপাদনের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, প্রত্যাশিত পরিমাণ কয়লা উত্তোলন সম্ভব হয়নি। জামালগঞ্জ কয়লাক্ষেত্রের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বড়। খনিটির কয়লার স্তর মাটির প্রায় ৬০০ থেকে এক হাজার মিটার গভীরে অবস্থান করছে। ফলে বর্তমান প্রযুক্তি ও ব্যয়ের কাঠামোয় এটিকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক মনে করা হচ্ছে না।

    দেড় যুগেও হয়নি কয়লানীতি

    বাংলাদেশে জাতীয় কয়লানীতি প্রণয়নের আলোচনা শুরু হয় প্রায় দেড় যুগ আগে। ২০০৮ সালে খসড়া কয়লানীতি তৈরি হলেও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নীতিটি ঝুলে থাকার কারণে কয়লা উত্তোলনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিদেশী বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি উন্নয়ন- কোনোটিই এগোয়নি। ফলে দেশের জ্বালানি পরিকল্পনায় এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার এক দিকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে, অন্য দিকে দেশীয় কয়লা উত্তোলনে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। ফলে আমদানিনির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে।

    জ্বালানি নিরাপত্তায় বাড়ছে ঝুঁকি

    বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা বাংলাদেশের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সেই সময় ডলার সঙ্কটের কারণে কয়লা আমদানিতে সমস্যা দেখা দেয় এবং কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান জ্বালানি যদি বিদেশি বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে যেকোনো বৈশ্বিক সঙ্কট সরাসরি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করবে। তাদের ভাষ্য, দেশীয় কয়লার একটি অংশও যদি পরিকল্পিতভাবে উত্তোলন করা যেত, তাহলে অন্তত বিদ্যুৎ খাতের একটি বড় অংশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো। একই সাথে বৈদেশিক মুদ্রার চাপও কমে আসত।

    নবায়নযোগ্য জ্বালানি বনাম কয়লা বিতর্ক

    পরিবেশবিদদের একটি অংশ মনে করেন, বিশ্ব এখন ধীরে ধীরে কয়লা থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগোচ্ছে। ফলে নতুন করে বড় আকারে কয়লা উত্তোলন দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে জ্বালানি অর্থনীতিবিদদের অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় আগামী কয়েক দশকে কয়লা পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। গ্যাসের মজুদ কমে যাচ্ছে, এলএনজি আমদানির ব্যয় বাড়ছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতাও এখনো সীমিত। তাদের মতে, পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশীয় কয়লার ব্যবহার বাড়ানোই হতে পারে বাস্তবসম্মত সমাধান। কারণ দেশের মাটির নিচে শত শত বছরের জ্বালানি মজুদ রেখে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার কয়লা আমদানি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা- দুই ক্ষেত্রেই বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

  • স্বস্তিতে নেই খোকসার কাপড় ব্যবসায়ীরা

    স্বস্তিতে নেই খোকসার কাপড় ব্যবসায়ীরা

    ফাহিম শাওন

    কুষ্টিয়ার খোকসা কাপড় ব্যবসায়ীদের মুখে নেই হাসি। বিক্রি নিয়ে রয়েছেন দূর চিন্তায়।

    আসন্ন ঈদ-উল আযাহাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দামের কাপড় তুলেছেন খোকসার কাপড় ব্যবসায়ীরা। কিন্তু তার অর্ধেকও বিক্রি হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

    আজ রবিবার ( ২৪ মে) খোকসা বাজারের বিভিন্ন কাপড় দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, দোকানে অলস সময় পার করছেন তারা। কয়েকটি দোকানে এক থেকে ২ জন থাকলে ক্রেতা রয়েছেন।

    কাপড় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর পারভেজ জানান, আমি পঞ্চাশ হাজার টাকার মাল তুলেছি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩ হাজার টাকার মাল বিক্রয় করা হয়েছে। আজ সকাল থেকে একটা ক্রেতাও দোকানে আসেনি।

    কাপড় ব্যবসায়ী রাজু শেখ জানান, আমি প্রায় সতের বছর ধরে কাপড়ের ব্যবসা করছি। আগের তুলনায় কাপড়ের দোকান বেড়েছে তিনগুণ। শুধু বাজারেই রয়েছে দেরশ এর অধিক। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় বাজারেও কাপড়ের দোকান বেড়ে গেছে। ফলে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে চাঁদরাত পর্যন্ত বিক্রি হবে। কিছুটা বিক্রি বাড়তে পারে বলে আমি আশা করি।

    আরেক ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ শেখ জানান, আমি এই ঈদকে কেন্দ্র করে দেড় লক্ষ টাকার কাপড় এনেছি। এখন পর্যন্ত মাত্র পঁচিশ হাজার টাকার কাপড় বিক্রি হয়েছে। তবে বিক্রি হবে বলে আশা করছি। গত রমজানে আমার দোকানে তিনজন কর্মচারী রেখেছিলাম, কিন্তু এবার শুধুমাত্র একজনকে রাখা হয়েছে।

    খোকসাতে বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাবুব আলম চঞ্চল জানান, করোনার সময়ও আমরা এর থেকে ভালো ব্যবসা করেছি৷ কিন্তু এবারে তার থেকেও খারাপ হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, খোকসা মূলত কৃষি নির্ভর এলাকা। এবারে কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। বেশিরভাগ পেয়াজ পচে যাচ্ছে। ভালো দাম পাচ্ছেন না তারা। ফলে বাজারে লোকজন কম। তাছাড়া কাপড়ের দাম বাড়েনি। কিন্তু সেই তুলনায় বিক্রি নাই বললেই চলে।