Category: আন্তর্জাতিক

  • বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে ভারতের নতুন তৎপরতা

    বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে ভারতের নতুন তৎপরতা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনায় নেমেছে ভারত সরকার। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা সীমান্ত এলাকা ছাড়াও বড় শহরগুলোর জনসংখ্যা প্রবণতা বিশ্লেষণ করবে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানায়, সীমান্তবর্তী জেলা ও মেগাসিটিগুলোতে জনসংখ্যার পরিবর্তন, অভিবাসন প্রবণতা এবং এর সম্ভাব্য সামাজিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা চালাবে এই কমিটি। গত বছরের ১৫ আগস্ট লালকেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে মোদি কিছু অঞ্চলে ‘অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই বিষয়টি সরকারের নীতিগত আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

    ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি শুধু জনসংখ্যার পরিসংখ্যান নয়; বরং জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক ভারসাম্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গেও সম্পর্কিত। এ প্রেক্ষাপটে বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকারের নেতৃত্বে গত ২৬ মে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।

    এই কমিটি ভারত–বাংলাদেশ ও ভারত–পাকিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলসহ বিভিন্ন শহর ও শিল্পকেন্দ্রের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করবে। এক বছরের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

    সরকারি সূত্রের মতে, ইতোমধ্যে কমিটি প্রাথমিক বৈঠক করেছে এবং কাজের রূপরেখা নির্ধারণ করেছে। আগামী মাসগুলোতে তারা বিভিন্ন সীমান্ত জেলা ও নগর এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করবে। স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা সংস্থা, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করা হবে।

    পর্যালোচনার অংশ হিসেবে জনগণনা তথ্য, ভোটার তালিকা, অভিবাসন সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য সরকারি উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় জনসংখ্যা পরিবর্তনের কারণ, সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং শহরাঞ্চলে অভিবাসনের চাপও খতিয়ে দেখা হবে।

    এ কমিটির আওতায় শুধু সীমান্ত অঞ্চল নয়, দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদসহ বড় শহরগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসনের প্রবণতা বেশি।

    ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যার পরিবর্তন কর্মসংস্থান, অবকাঠামো, জনসেবা এবং আইনশৃঙ্খলার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব প্রবণতা বোঝা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রকৃতি ও কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নই হবে এই কমিটির মূল লক্ষ্য, যাতে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাগত পরিকল্পনা আরও কার্যকর করা যায়।

  • দুই দেশে হামলা চালাল ইরান

    দুই দেশে হামলা চালাল ইরান

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    মার্কিন হামলার পাল্টা জবাবে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটি ও কুয়েতের আলি আল সালেম ও আহমদ আল জাবের বিমান ঘাঁটিতে ড্র্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। খবর আলজাজিরা।

    পাশাপাশি এ হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, আইআরজিসি হরমুজে থাকা দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। হরমুজে সব ধরনের জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। এ ঘোষণার পরই তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে।

    আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালি অবৈধভাবে পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় দুটি তেলের ট্যাঙ্কারে হামলা চালানো হয়েছে।

    এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে জোরালে হামলার হুমকি দেন। এর পর বন্দর আব্বাসসহ ইরানের কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানী তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

  • জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কাজ কী?

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কাজ কী?

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের সদস্য ১৯০টি দেশের গোপন ভোটাভুটিতে ৯৯ ভোট পেয়ে এই পদে জয়লাভ করেছেন তিনি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১ ভোট। অর্থাৎ আট ভোটে জিতেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    এর মধ্য দিয়ে সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে দ্বিতীয়বারের মতো বসতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি। ৪০ বছর আগে ১৯৮৬ সালে সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।

    আগামী আটই সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ৮১তম অধিবেশনের এক বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন মি. রহমান। তবে কোন কোন দেশ বাংলাদেশকে ভোট দিয়েছে, তা জানা সম্ভব নয়। কারণ এই নির্বাচন গোপন ব্যালটে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র একটি করে ভোট দেয়, কিন্তু কোন দেশ কাকে ভোট দিয়েছে তা সাধারণত প্রকাশ করা হয় না।

    ব্রাজিল আগেই প্রকাশ্যে বাংলাদেশের প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিল এবং অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন বা ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে প্রচারণা চালানোর ঘোষণা দিয়েছিল। তাই ধারণা করা যায়, ওআইসিভুক্ত অনেক দেশ সমর্থন করেছে বাংলাদেশকে।

    ফলে মানুষের মাঝে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে যে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে মি. রহমান কী কাজ করবেন? তার দায়িত্ব কী কী? এই দায়িত্বই বা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

    সভাপতির কাজ

    জাতিসংঘের পাঁচটি আঞ্চলিক গোষ্ঠী পর্যায়ক্রমে এই সভাপতি পদে প্রতিনিধিত্ব করেন। এবারে সাধারণ পরিষদের এই ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্বের দায়িত্ব পড়েছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গোষ্ঠীর ভাগে।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির প্রধান কাজ হলো, সাধারণ পরিষদের অধিবেশন পরিচালনা করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনাকে সমন্বয় করা। নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে সকল রাষ্ট্রকে আস্থায় এনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি।

    সাধারণ পরিষদের সভাপতি জাতিসংঘের প্রধান নির্বাহী নন। জাতিসংঘের প্রশাসনিক প্রধান হলেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সাধারণ পরিষদের সভাপতি মূলত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন।

    প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে ১৬৫টির মতো এজেন্ডা বা আলোচ্য সূচি থাকে। এখানে সভাপতির কাজ হলো এজেন্ডাগুলোর ওপর ডিসকাশন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই অধিবেশনে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা অংশ নেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা ও আলোচনার পরে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার কাজটিও করেন সভাপতি।

    আর্থিক দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও পালন করতে হয়। একটি হলো- পিস কিপিং বাজেট এবং অন্যটি পুরো জাতিসংঘের অর্থাৎ এর অধীনে থাকা ছয়টি সংস্থার মোট বাজেট পরিচালনার কাজ। অর্থাৎ জাতিসংঘের অর্থ পরিচালনার কাজটা পুরোটাই মোটাদাগে সাধারণ পরিষদ করে এবং এখানে যিনি সভাপতি হন তার একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। এই দুটো ম্যান্ডেটরি বিষয় মানতে বাধ্য জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র।

    এছাড়াও সাধারণ পরিষদের আরেকটি ক্ষমতা আছে, যখন নিরাপত্তা পরিষদ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয় তখন সদস্য রাষ্ট্ররা সেই প্রস্তাবটিকে সাধারণ পরিষদে নিয়ে আসে। এক্ষেত্রে সভাপতির একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হয়।

    যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয় সভাপতিকে

    জাতিসংঘের বর্তমান সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক বলেছেন, এই নির্বাচন এমন এক পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হলো যখন বহুপাক্ষিক কূটনীতির জন্য একটি ব্যতিক্রমী কঠিন সময়। ইউএন নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের পর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে মিজ বেয়ারবক বলেন, জাতিসংঘ কেবল প্রতিকূল পরিস্থিতিরই মুখোমুখি হচ্ছে না, বরং প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে।

    মিজ বেয়ারবক বলেন, সাধারণ পরিষদ প্যাক্ট ফর দ্য ফিউচার বা ভবিষ্যতের চুক্তি বাস্তবায়ন, ‘ইউএন৮০’ উদ্যোগের মাধ্যমে সংস্কার প্রচেষ্টা এগিয়ে নেয়া এবং ব্যাপক ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন কাটিয়ে ওঠার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি মি. রহমানকে তার কাজের ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করতে হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বর্তমান সভাপতি।

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ধীরগতি, মানবিক কার্যক্রম ও উন্নয়নের জন্য তহবিল কমে যাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আজকের বিশ্বের পরিবর্তে ১৯৪৫ সালের মতো সেই পুরোনো বিশ্বেই আটকে রয়েছে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

    যে ৬ লক্ষ্যে কাজ করবেন খলিলুর রহমান

    সভাপতি পদে প্রার্থিতার সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তার ভিশন স্টেটমেন্টে ছয়টি লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। তার এই ভিশন স্টেটমেন্টের শিরোনাম, ‘রিস্টোরিং ট্রাস্ট, ম্যানেজিং ট্রান্সফরমেশন: এ ইউনাইটেড ন্যাশনস দ্যাট ডেলিভারস ফর অল।’

    সভাপতি নির্বাচনের আগে দেয়া এই স্টেটমেন্টে মি. রহমান জানিয়েছেন, শান্তি, নিরাপত্তা ও সকলের জন্য ন্যায়বিচার, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার(এসডিজিএস) অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং জলবায়ু পদক্ষেপ ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে কাজ করবেন তিনি।

    একইসঙ্গে, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, অভিবাসী ও শরণার্থী এবং মানবাধিকার, অন্তর্ভূক্তিমূলক উদ্ভাবনের আওতায় ডিজিটাল গভর্নেন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উদীয়মান প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ এবং জাতিসংঘের সংস্কার করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিরোধমূলক কূটনীতি, শান্তি বিনির্মাণ এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় সমর্থন দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন খলিলুর রহমান।

  • কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, বাদ যাচ্ছে না বাংলাদেশও

    কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, বাদ যাচ্ছে না বাংলাদেশও

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর শ্রম আইন নিয়ে সোচ্চার হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    এ নিয়ে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় নির্বাচিত হয়ে আসার পর ‍দ্বিতীয়বারের মতো শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলো ট্রাম্প প্রশাসন।

    মঙ্গলবার (২ জুন) এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি জারি করেছে ইউএসটিআর। জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে এবার এসব দেশের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় এক তদন্তের পর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’-এর অধীনে এই সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

    এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    তদন্ত প্রতিবেদনে দেশগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে ইউএসটিআর। যেসব দেশ আংশিক নিয়ম কার্যকর করেছে বা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে জোরপূর্বক শ্রমের পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এবং যেসব দেশ সম্পূর্ণভাবে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে।

    প্রথম তালিকায় রয়েছে কানাডা, মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইকুয়েডর, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান।

    অন্যদিকে দ্বিতীয়টিতে রয়েছে যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াসহ ৫৪টি দেশ।

    বিজ্ঞপ্তিতে একটি ‘টেক্সটাইল মেকানিজম’-এর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য হ্রাসকৃত (কম) শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।

    তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য এটি স্বস্তির কারণ হতে পারে কি না, তা পরবর্তী শুনানিতে স্পষ্ট হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি অ্যাম্বাসেডর জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, ‘আমাদের প্রধান ব্যাবসায়িক অংশীদাররা জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকদের বৈশ্বিক বাজারে একটি অসমান প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আমরা এই বৈষম্য আর সহ্য করব না।’

    ইউএসটিআর-এর তদন্তে বলা হয়েছে, এই ৬০টি দেশের ব্যর্থতার কারণে তৈরি হওয়া সস্তা পণ্য মার্কিন বাজারে প্রবেশ করছে। এটি মার্কিন উৎপাদকদের জন্য অসদুপায় ও অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছে এবং বৈধভাবে ব্যাবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    তবে এই শুল্ক এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর করা হয়নি। এটি আপাতত একটি প্রস্তাব, যার ওপর অংশীজনদের মতামত ও শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম বাজার। নতুন এই প্রস্তাব কার্যকর হলে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া সমস্ত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০% শুল্ক যোগ হবে। ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।

  • আমি মুখ খুললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে, হাদি হত্যা প্রসঙ্গে মমতা

    আমি মুখ খুললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে, হাদি হত্যা প্রসঙ্গে মমতা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    শরীফ ওসমান হাদিকে ইঙ্গিত করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হত্যাকারীর নাম গোপন করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোন করে চাপ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। নির্বাচনে হারের পর মঙ্গলবার (২ জুন) প্রথমবার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এ দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী।

    বিধানসভার নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই বিস্ফোরক মমতা। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে চাপে রাখতে রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে নাম না করে বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যা প্রসঙ্গ টেনে এনে বিস্ফোরক দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ভোট পরবর্তী অশান্তি, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ, নিট পরীক্ষার জালিয়াতি ও বিজেপি সরকারের প্রতিহিংসামূলক আচরণের প্রতিবাদে মঙ্গলবার কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার ‘ওয়াই চ্যানেল’-এ এই ধরনা কর্মসূচিতে বসেন মমতা।

    এদিনের রাজনৈতিক সভা থেকে হঠাৎ করেই বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহবায়ক ওসমান হাদি হত্যার বিষয়টিও তুলে ধরেন মমতা। মমতার দাবি, হাদি হত্যাকারীদের রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন পান মমতা। তাকে বলা হয় এই বিষয়টি যেন বাইরে না জানানো হয়।

    মমতা বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না। আমার অধিকারও নেই বলার। কিন্তু আমি যেটা বলতে চাইছে তা হলো ওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এইটা তাদের কৃতিত্ব। কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়। কারণ এটা দেশের ব্যাপার।’

    অমিত শাহকে মমতার প্রশ্ন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথার ভান্ডার। তথ্য ভান্ডার।’

    তার অভিমত, ‘এতদিন আমি বলিনি। কিন্তু আজকে অত্যাচারে শেষ সীমায় গেছে বলে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলব না।’

    মিশনারি অব চারিটিস তহবিল বন্ধ করে দেয়া নিয়েও এদিন সোচ্চার হয়েছেন মমতা। মূলত বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস। মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনের বিদ্রোহী হিসাবে চিহ্নিত হয়েছেন। মঙ্গলবারেও মমতার ধর্না কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৬ জন বিধায়ক। এমন অবস্থায় বিজেপিকে নিশানা করেছেন দলনেত্রী এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তার অভিযোগ, ‘দিল্লি থেকে কলকাঠি নাড়িয়ে তৃণমূলকে ভেঙে দেয়ার চক্রান্ত চলছে। বেআইনিভাবে পুলিশ দিয়ে আমাদের দলের বিধায়ক কাউন্সিলরদের ভয় দেখানো হচ্ছে। যদিও সেই প্রচেষ্টা কোনভাবেই সফল হবে না।’

    কেন্দ্রকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘আমাকে কতবার বলা হয়েছিল, আপনি কি চান, সব কিছু দেব। কিন্তু আমাদের দলের একটা নীতি আছে, আদর্শ আছে, দর্শন আছে। আজকে আমার একটাই দুঃখ, যাদের জন্য সারা জীবন করেছি, তারাই আজ গদ্দারের সাথে লাইন দিয়েছে। যারা আজকে তৃণমূলকে ভাঙ্গার জন্য গাদ্দারী করছে, আমি বলব সবাইকে ভগবান যেন সুমতি দেন। যদি কোনদিন ভালো কাজ করে থাকি, সেটা মেনে চলব।’

    এদিনের ধরনা কর্মসূচি শুরু করার আগে তিনি রেড রোডে অবস্থিত ভারতীয় সংবিধানের রচয়িতা বি আর আম্বেদকর এবং জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান। এরপর সেখান থেকে চলে আসেন ওয়াই চ্যানেলে। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করে দলের নেতাকর্মীদের সমাবেশে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হলেও বিধায়ক ও সাংসদদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।

    সদ্য শেষ হওয়ার রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে ৮০ আসনে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূল। এর মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সোমবারই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে তৃণমূল। ফলে ৭৮ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন বিধায়ক, সাংসদ, কাউন্সিলর ও পরাজিত বিধায়কদের দেখা গেল এদিনের কর্মসূচিতে। এদের মধ্যে অন্যতম বিধায়ক কুনাল ঘোষ, শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব, নয়না ব্যানার্জি, সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি, দোলা সেন। দলনেত্রীর নির্দেশ সত্বেও কার্যত ছন্নছাড়া অবস্থা তৃণমূলের এই ধারণা কর্মসূচির চেহারা।

    এ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী তাপস রায়।শুভেন্দু বলেন, ‘এত দুরবস্থা জানতাম না। দেড়শটা লোকও আসেনি। আপনারা ২০০ জন সাংবাদিক না থাকলে আরো করুন অবস্থা হয়ে যেত।’

    রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং একসময় তৃণমূল করে আসা রাজনীতিবিদ তাপস রায় জানিয়েছেন, ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক। সেই কারণে ক্ষমতায় থাকলে দম্ভ, অহংকার দেখাতে নেই। অহংকারটা আকাশ ছোঁয়া হয়ে গিয়েছিল।’

    স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূলের অন্দরের বিদ্রোহ কি আরো চওড়া হচ্ছে? কারণ মঙ্গলবারও কলকাতার কর্পোরেশনের কাউন্সিলার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তারক সিং।

    এরকম এক আবহে জল্পনা আরো বাড়িয়েছে রাজ্যের তাপস রায়’এর একটি পোস্টকে ঘিরে। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতো অবস্থা হলো তৃণমূলের। বিধানসভার স্পিকারের কাছে প্রায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গেছে ঋতব্রত ব্যানার্জি। খেলা হবে।’

    এনিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাপস রায় বলেন, ‘তৃণমূল দুটো ভাগে ভাগ হয়েছে। একদিকে মমতাকে অস্বীকার করছে, অন্যদিকে অভিষেককে অস্বীকার করছে। এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এটা অনিবার্য ছিল, এটা হওয়ারই ছিল। এটা হবে। তার কারণ তৃণমূল দলটা অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গায়ক-গায়িকা নায়ক নায়িকাদের নিয়ে গঠিত। একটা বাংলার দল অথচ সর্বভারতীয় দল হিসেবে দেখাতে গিয়ে গুজরাট, দিল্লি, বিহার সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে এসে রাজ্যসভা ও লোকসভায় পাঠানো হতো।’

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা স্থগিত করল ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা স্থগিত করল ইরান

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

    লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলমান আলোচনা স্থগিত করেছে ইরান।

    সোমবার (১ জুন) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

    তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত অপরাধ ও যুদ্ধবিরতির শর্ত বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের আলোচক দল মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আলোচনা ও খসড়া বিনিময় স্থগিত করেছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, লেবানন ইস্যু ছিল তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অন্যতম শর্ত। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি সব ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে পুরোপুরি ভঙ্গ হয়েছে।

    রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের এই সিদ্ধান্ত দ্রুত যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। কারণ শান্তি আলোচনা চলার মধ্যেই ইরানের একাধিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার চালানোর কথা বলেছে ইরানও।

    এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়াটা অন্যতম প্রধান শর্ত। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যে কোনো প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতেও হিজবুল্লাহকে সমর্থন দেবে ইরান।

    সোমবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি লেখেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ্য করুন: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিঃসন্দেহে সব ফ্রন্টে কার্যকর, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত।’

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কোনো একটি ফ্রন্টে ভঙ্গ করা হলে সেটি সব ফ্রন্টে ‍যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে বলে ওই পোস্টে জানান তিনি।

  • ইরানে আক্রমণ করা উচিত হয়নি: ট্রাম্প

    ইরানে আক্রমণ করা উচিত হয়নি: ট্রাম্প

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে বিস্ময়কর মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ করা উচিত হয়নি। তবে একই সঙ্গে তার দাবি, কয়েক মাস আগে মার্কিন বাহিনী বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে হামলা না চালালে ইরান এখন পরমাণু অস্ত্রের মালিক হয়ে যেত। এছাড়া ইরানের সামরিক বাহিনীকে ইচ্ছাকৃতভাবে পুরোপুরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।

    সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান নিয়ে তার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে (হামলা চালাতে) যাওয়া উচিত হয়নি। ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প একথা বলেন। একই সাক্ষাৎকারে ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাগদাদে কিংবা ইরানে মার্কিন বাহিনীর যাওয়া উচিত হয়নি।

    তিনি বলেন, ‘ইরাকে যা ঘটেছিল, তা দেখুন। আমরা খুব খারাপ করেছি। আমরা যা করেছিলাম, তা ছিল অত্যন্ত বোকামি। আসলে প্রথম থেকেই আমাদের সেখানে (হামলা চালাতে) যাওয়া উচিত ছিল না।’

    এরপর তিনি ইরানের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘আমাদের ইরানেও (হামলা চালাতে যাওয়া) উচিত হয়নি। কিন্তু ইরানের সেই সক্ষমতা আছে। যদি আমরা ৯ মাস আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে তাদের ওপর হামলা না চালাতাম, তাহলে এই মুহূর্তে তাদের হাতে একটি পরমাণু অস্ত্র থাকত এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো।’

    ট্রাম্প আরও বলেন, ‘সম্ভবত তখন ইসরায়েল থাকত না। হয়তো পুরো মধ্যপ্রাচ্যই থাকত না। এরপর পরিস্থিতি কোথায় গড়াত, তা কল্পনা করাও কঠিন’। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবেই ইরানের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি লক্ষ্যবস্তু করেনি।

    তার ভাষায়, ‘তাদের সামরিক বাহিনীকে আমরা মোটামুটি ছেড়ে দিয়েছি, কারণ আমরা মনে করি তাদের সামরিক বাহিনী কিছুটা মধ্যপন্থি। তবে অন্য কিছু লোক আছে, যারা মধ্যপন্থি নয়। আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি। নেতৃত্বের বিভিন্ন স্তরের লোকজনকে আমরা লক্ষ্যবস্তু করেছি। কিন্তু সামরিক বাহিনীকে আমরা আসলে ছেড়ে দিয়েছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে এটা শুনে বিস্মিত হতে পারেন। কারণ যুদ্ধে এমন ভুল হয়েছে, যেখানে সবাইকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। তারপর এমন একটি দেশ তৈরি হয়েছে, যা ৪০ বছরেও আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।’

  • ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আসেনি ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’

    ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আসেনি ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য বা প্রস্তাবিত চুক্তিতে সই করবেন কি না, তা নির্ধারণ করতে নিজের উপদেষ্টাদের নিয়ে হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ জরুরি বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রায় দুই ঘণ্টার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে।

    শুক্রবার (২৯ মে) হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, সমঝোতার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। তবে ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।

    ট্রাম্প বলেছেন, তাদের (ইরানকে) অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির উভয় দিকে অবাধ নৌযান চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে।

    বড় ধরনের সংকট মোকাবিলায় হোয়াইট হাউসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে ইরান জানিয়েছিল, তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা করছে না।

    বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন কোনো চুক্তিই করবেন না যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকের (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) খসড়ায় একমত হয়েছিল। তবে সেটি কার্যকর হতে ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অনুমোদন প্রয়োজন। প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

    এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্র সরিয়ে নিয়ে ধ্বংস করবে। তবে আলোচনায় থাকা সমঝোতা স্মারকে এমন কোনো শর্ত অন্তর্ভুক্ত নেই বলে জানা গেছে।

    গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।

    গতকাল শুক্রবার সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নিতে তিনি প্রস্তুত। এর ফলে সেখানে আটকে থাকা জাহাজগুলো নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারবে।

    ট্রাম্প বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ লেনদেন হবে না। তবে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

    ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে ‘সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ’ রয়েছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক উপকরণ ধ্বংসের কোনো শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য যুদ্ধের অবসান। পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো আলোচনা চলছে না।

    হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুম’ হলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে সুরক্ষিত এবং উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি গোয়েন্দা কেন্দ্র। এটি মূলত একটি কমান্ড সেন্টার, যেখানে বসে প্রেসিডেন্ট এবং তার জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

  • মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল আজহা আজ

    মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল আজহা আজ

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা আজ বুধবার (২৭ মে) উদযাপিত হচ্ছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ঈদের নামাজ আদায় ও পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে পালন এ উৎসব করবেন।

    মঙ্গলবার (২৬ মে) জিলহজ মাসের ৯ম দিনে ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে সমবেত হন। ভোর থেকেই সাদা ইহরাম পরিহিত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।

    ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আরাফাতে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারে সময় কাটান। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় কান্না ও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তারা।

    দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন শায়খ আলি আল হুদাইফি। এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর সংগ্রহ করেন হাজিরা।

    আজ ১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা। পরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কুরবানি করবেন হাজিরা। কুরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করবেন তারা। এরপর কাবা শরিফ তাওয়াফের মধ্য দিয়ে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

    মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে চেয়েছিলেন। ওই অনন্য ঘটনার স্মরণেই ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির এ রেওয়াজ চালু হয়। মহান আল্লাহপাকের প্রতি আনুগত্য এবং তারই রাহে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের এ ঐতিহাসিক ঘটনার ধারাবাহিকতায় মুসলিম বিশ্বে কোরবানি ও ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়ে আসছে।

    এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসলমানদের অনেকে আগেই গরু, ছাগলসহ কুরবানির পশু কিনেছেন। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নানা প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা।

    হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সৌদি সরকার ব্যাপক নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তীব্র গরমে হাজিদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন স্থানে পানির ফোয়ারা ও ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের যাতায়াত সহজ করতে প্রায় ২৪ হাজার বিশেষ বাস পরিচালনা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

  • হাসপাতালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু

    হাসপাতালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় সোমবার (২৫ মে) তাকে হাসপাতালে নিয়ে দাঁতের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, নেতানিয়াহুকে রাতে জেরুজালেমের হাদাশাহ ইন কেরেম হসপিটালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি দাঁতের চিকিৎসা নেন।

    তবে দাঁতের চিকিৎসা শেষে গত রাতেই জেরুজালেমের হাদাসাহ এইন কেরেম হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন বলে তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।

    জনসাধারণের কাছ থেকে চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য গোপন করার অভিযোগে বেশ কয়েকটি ঘটনায় নেতানিয়াহু সমালোচিত হওয়ার পর তার স্বাস্থ্য একটি প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।