Category: আইন ও আদালত

  • দুই ঘণ্টার নাটকীয়তার পর আদালতে শিবির নেতা জিসান, জামিন নামঞ্জুর; কারাগারে প্রেরণ

    দুই ঘণ্টার নাটকীয়তার পর আদালতে শিবির নেতা জিসান, জামিন নামঞ্জুর; কারাগারে প্রেরণ

    কুমিল্লা প্রতিনিধি

    ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়াকে (২৮) দুই ঘণ্টার নাটকীয়তার পর আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৩ এর বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ জামিন আবেদন শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করেন এবং জিসানকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

    এর আগে জিসান মিয়া সুস্থ না অসুস্থ এ নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে। বোর্ড বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে সুস্থ বলে মতামত দেয়। এরপর মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

    কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান জানান, মেডিকেল বোর্ডের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফলে জিসানকে সুস্থ পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে।

    হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও দুপুরে আদালতে হাজির করার কথা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আদালতে নিয়ে আসেন। পুলিশ ও ডিবির কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয় তাকে।

    আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, “পুলিশ যেভাবে আসামিকে আদালতে নিয়ে এসেছে, তা সঠিক প্রক্রিয়ায় হয়নি। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে হাসপাতাল থেকে আদালতে আনার বিষয়টি নিয়ে নাটকীয়তা করা হয়েছে। পরে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে তাকে সরাসরি বিচারকের কক্ষে নেওয়া হয়। আমরা জামিন আবেদন করেছিলাম, কিন্তু আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।”

    উল্লেখ্য যে, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগের মামলায় গত শুক্রবার রাতে জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কিন্তু ওই ছাত্রশিবির নেতা নিজেকে ‘অসুস্থ দেখিয়ে’ পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এত দিন। এ জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও আদালতে প্রেরণ করেনি পুলিশ। এর আগে দাউদকান্দি থেকে কথিত নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় ‘অচেতন’ অবস্থায় জিসানকে উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করে পরিবার। পরে ওই দিন রাতেই চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলন করে জানান , জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।

  • তিন মামলায় শিল্পী মমতাজের জামিন

    তিন মামলায় শিল্পী মমতাজের জামিন

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    রাজধানীর মিরপুর থানায় করা সাগর হত্যা মামলাসহ তিন মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম।

    সোমবার (১৫ জুন) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি এবিএম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। গত বছরের ১২ মে রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনে একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন মমতাজ।

    আদালতে মমতাজের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট খায়রুন নেছা।

    এর আগে রাজধানীর মিরপুর থানায় করা সাগর হত্যা মামলায় সাবেক এমপি মমতাজ বেগমকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

    সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগম সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে লড়েন। আওয়ামী লীগের হয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন তিনি। তবে মমতাজ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আর শেষ হাসি হাসতে পারেননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দেওয়ান জাহিদ আহমেদের (টুলু) কাছে হেরে যান মমতাজ বেগম।

  • বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষায় পাস করলেন জাইমা রহমান

    বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষায় পাস করলেন জাইমা রহমান

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অধীনে অধস্তন আদালতে আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রিলিমিনারি (এমসিকিউ) পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। শুক্রবার (১২ জুন) রাতে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সাফল্যের খবর নিশ্চিত করেছেন।

    নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের স্টোরিতে জাইমা রহমান লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি আপনাদের কাছে ছোট একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের কথা শেয়ার করতে চাই। আমার দেশে আইন প্র্যাকটিসের জন্য আজ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রথম ধাপ এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।’

    জানা গেছে, শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত ১০০ নম্বরের এই এমসিকিউ পরীক্ষায় জাইমা রহমান রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজ কেন্দ্রে অংশ নেন। একই দিন রাতে বার কাউন্সিলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

    বার কাউন্সিল সূত্রে জানা গেছে, এবারের এমসিকিউ পরীক্ষায় মোট ৩৭ হাজার ৮০ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে জাইমা রহমানসহ মোট ৯ হাজার ২০১ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

    উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের এখন দ্বিতীয় ধাপে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় পাসের পর সর্বশেষ ধাপে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই তারা আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করার চূড়ান্ত সনদ পাবেন।

    ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের এই সাফল্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তার এই অর্জন আইনজীবী হিসেবে দেশের বিচার ব্যবস্থায় অবদান রাখার পথে প্রথম বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় হাইকোর্টে চালু হচ্ছে বিশেষ বেঞ্চ

    নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় হাইকোর্টে চালু হচ্ছে বিশেষ বেঞ্চ

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার আপিল দ্রুত নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। রোববার আপিল বিভাগের এজলাসে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের একটি প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এ সিদ্ধান্ত দেন। এ উদ্যোগের ফলে আপিল নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর ধরে চলা বিলম্বের অবসান ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

    গতকাল রোববার নিজ কার্যালয়ে রুহুল কুদ্দুস কাজল শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘অতিসম্প্রতি সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর যে নির্মম হত্যাকাণ্ড-শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের যে মামলা, তার রায় ৭ জুন প্রকাশিত হয়েছে, যা ঘোষিত হয়েছে নিম্ন আদালত কর্তৃক এবং দুজন আসামির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

    হাইকোর্টের অনুমোদন ছাড়া এ রায় যে চূড়ান্ত নয় তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এমন অনেক চাঞ্চল্যকর মামলার রায় হয় কিন্তু মানুষ এই রায় কার্যকর হতে দেখতে পায় না বিলম্বের কারণে।’

    রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আমরা যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা সবসময় বলে থাকি, যতক্ষণ না সেই শাস্তি কার্যকর হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত রায়ের ব্যাপারে মানুষের শঙ্কা থেকে যাচ্ছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে আমি উন্মুক্ত আদালতে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টিতে এটি এনেছি।’ এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

    তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি নারী এবং শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে এই জাতীয় মামলা, অর্থাৎ শিশু রামিসা, আছিয়া এবং রসু খাঁ মামলাগুলো শুনানির জন্য হাইকোর্টে একটি সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন করবেন, যেটি আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে।’

    এই বেঞ্চটি কেবল এ ধরনের মামলার জন্য নির্ধারিত থাকবে জানিয়ে কাজল বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পক্ষ থেকে আমাদের নিয়োজিত আইন কর্মকর্তারা কোনো মামলায় কোনো রকম অ্যাডজর্নমেন্ট চাইবেন না। কোনো অ্যাডজর্নমেন্ট ছাড়াই এই মামলাগুলো শুনানির জন্য আমি আমাদের আইন কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছি।’

    ছুটির মধ্যেও বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রের এই আইন কর্মকর্তা।

    রুহুল কুদ্দুস কাজল আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের বিচারিক আদালতগুলোতে ছুটি চলছে। এই ছুটির মধ্যেও নারী এবং শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং আদালতের কার্যক্রম প্রধান বিচারপতি অব্যাহত রেখেছেন।’

    প্রধান বিচারপতির এই উদ্যোগকে ‘মাইলফলক’ বর্ণনা করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘বিচারকে ত্বরান্বিত করার জন্যে, মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য, বিশেষ করে আদালতের প্রতি মানুষের যে আস্থা সে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্যে তিনি আজকে যে উদ্যোগটি গ্রহণ করেছেন, সেটিও একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

    রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করায় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান রুহুল কুদ্দুস কাজল।

    তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই যে, তিনি রামিসার পরিবারের কাছে গিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করার জন্যে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যা করণীয় করবেন বলেছিলেন।’

    কেবল আলোচিত মামলা নয়, প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে সমানভাবে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কাজল বলেন, ‘কোনো একটা মামলা আলোচিত হলেই আমরা সেটার পেছনে ছুটি, এটাও সত্য বাস্তবতা আমাদের মতো দেশে। কিন্তু প্রত্যেকটি অপরাধ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেই অপরাধের বিচার, অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় আনা এবং তাদের শাস্তির মুখোমুখি করা, এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’

  • শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় মাইলফলক : অ্যাটর্নি জেনারেল

    শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় মাইলফলক : অ্যাটর্নি জেনারেল

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।

    আজ রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের মতে, এই রায় দেশের বিদ্যমান বিচারিক ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলো। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় আনীত অভিযোগসমূহ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অপরাধীদের সর্বোচ্চ এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

    মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালতের নির্দেশনায় মূল আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং সহযোগী হিসেবে তার স্ত্রী স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিচারিক আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জরিমানার এই অর্থ প্রয়াত শিশু রামিসার বৈধ উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া অপরাধীরা এই অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের মালিকানাধীন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে সেই অর্থ নিহতের পরিবারকে প্রদানের সুনির্দিষ্ট আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    আলোচিত এই রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদু্স কাজল গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। দ্রুততম সময়ে বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার নেপথ্যে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর রাষ্ট্রের সব যন্ত্র অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে ও সমন্বিত উপায়ে কাজ করেছে। আর সে কারণেই এত দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।”

    অ্যাটর্নি জেনারেল আরও উল্লেখ করেন যে, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এই বিচারিক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র তার সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, “এত কম সময়ের মধ্যে এই মামলার বিচার সম্পন্ন করার মাধ্যমে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে।” এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে অপরাধের প্রবণতা হ্রাস পাবে এবং অপরাধীদের কাছে একটি জোরালো সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে। মূলত রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগের কারণেই এই নজিরবিহীন দ্রুত বিচার সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সুপ্রিম কোর্ট ও অ্যাটর্নি জেনারেলের বিভিন্ন শাখা শনিবার খোলা

    সুপ্রিম কোর্ট ও অ্যাটর্নি জেনারেলের বিভিন্ন শাখা শনিবার খোলা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    মামলা ফাইলিংয়ের সুবিধার্থে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন শাখা এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের একটি শাখা শনিবার (৬ জুন) খোলা রয়েছে।

    বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে পৃথক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।

    সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের স্ট্যাম্প রিপোর্টার, ফাইলিং ও এফিডেভিট শাখা ৬ জুন (শনিবার) অফিস চলাকালীন সময়ে খোলা রাখা হবে।

    অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইনজীবীদের মামলার নোটিশের কপি জমা দেওয়ার সুবিধার্থে নোটিশ কপি গ্রহণ শাখা ৬ জুন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

  • রামিসা হত্যা মামলা নতুন করে আলোচনায় আসা কে এই ‘ডলার’?

    রামিসা হত্যা মামলা নতুন করে আলোচনায় আসা কে এই ‘ডলার’?

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার হত্যা মামলার চার্জ গঠনের শুনানিতে নতুন মোড় এসেছে। আদালতে তোলার সময় আসামি সোহেল রানা নিজের স্ত্রীকে নির্দোষ দাবি করে ‘ডলার’ নামে এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে মূল অপরাধী হিসেবে দাবি করেছেন।

    চার্জগঠন শুনানির দিন আদালতে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ দাবি করেন। তবে এই ‘ডলার’ কে তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে মামলায় নতুন রহস্য তৈরি হয়েছে।

    সোমবার (১ জুন) চার্জ গঠনের শুনানির জন্য কারাগার থেকে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। সকাল থেকেই তাদের ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর বিচারকের এজলাসে তাদের উপস্থিত করা হয়।

    আদালতে আনার সময় সাংবাদিকদের সামনে সোহেল দাবি করে বলেন, আমি একা দোষী না, আমার স্ত্রীর দোষ নেই। সব দোষ ডলারের। আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার। ডলার দুই লাখ টাকা দিছে।

    নতুন নাম আসা ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, মিরপুর ১১ নম্বর বাড়ি, অনেক টাকাওয়ালা। তিনি ওই ব্যক্তির পূর্ণ পরিচয় বা অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু না জানালেও সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, মেইন আসামি ডলারকে ধরেন, সে-ই রামিসাকে হত্যা করেছে।

    এই বক্তব্যের পর মামলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘ডলার’ নামটি। তবে, তদন্ত সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে ‘ডলার’ সম্পর্কিত বক্তব্যকে ‘ম্যাটার অব ট্রায়াল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) আজিজুর রহমান দুলু।

    তার ভাষায়, ম্যাটার অব ট্রায়াল নিয়ে কোনো মামলার ডিসচার্জ হয় না। পুলিশ রিপোর্টে যেটা আমরা পাইনি, সে বিষয়ে প্রসিকিউশনের কিছু বলার নেই। আর ডিফেন্স থেকে যা বলা হয়, সেগুলো ম্যাটার অব এভিডেন্স, যা প্রমাণের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

    তিনি আরও বলেন, মামলার নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করছে। আমরা সম্পূর্ণ আশাবাদী যে এই মামলায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে।

    স্পেশাল পিপি জানান, আসামির বক্তব্য বিচার চলাকালীন সময়ের বিষয়, যা সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

    তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মামলার তদন্ত শেষে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

    অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। আদালত চার্জগঠন শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেছিলেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইনগতভাবে যা যা করণীয়, তা করা হবে। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ার গতি ও সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

    আইনজীবীরা বলছেন, নিম্ন আদালতে বিচারকাজ দ্রুত এগোলেও চূড়ান্ত রায় কার্যকরের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে বিচার দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি রায় কার্যকর হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    এর আগে, গত ১৯ মে পল্লবীতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার দুই আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

  • রামিসা হত্যাকাণ্ডে আদালতে সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করা হবে: আইনমন্ত্রী

    রামিসা হত্যাকাণ্ডে আদালতে সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করা হবে: আইনমন্ত্রী

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারকার্যে আদালতের কাছে আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আমাদের কাছে যে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, তাতে আসামির সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।

    রোববার (৩১ মে) সকালে শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ফুটবল ও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে পাঁচজন সদস্য চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তারা পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে আমাদের অবহিত করেছেন। বর্তমানে আমরা তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।

    তিনি আরও বলেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রকে রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। মাদকের বিরুদ্ধে সমাজের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।

    মন্ত্রী বলেন, সরকার সারাদেশে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামেলি কার্ড প্রদান করবে। এটি আমাদের প্রতিশ্রুতি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষক কার্ড চালু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া মসজিদের ইমাম ও মন্দিরের পুরোহিতদের সরকারি ভাতা প্রদানের পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন এবং শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ, শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লাসহ অন্যান্যরা।

  • সাড়ে নয় বছর পর জঙ্গি মামলায় খালাস পেলেন সেই তিন ছাত্রী

    সাড়ে নয় বছর পর জঙ্গি মামলায় খালাস পেলেন সেই তিন ছাত্রী

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    সাড়ে নয় বছর আইনি লড়াই শেষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের তিন ছাত্রী জঙ্গিবাদের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন। অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় গত ২৪ মে জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাদের অব্যাহতির রায় দেন।

    শনিবার (৩০ মে) মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, এই শিক্ষার্থীদের জঙ্গি তকমা দিয়ে রাষ্ট্র বা তদন্ত সংশ্লিষ্টরা কী অর্জন করেছে? তাদের কাছ থেকে কোনো অবৈধ বা নিষিদ্ধ বস্তু পাওয়া যায়নি, কেবল কোরআন, হাদিস এবং ডা. জাকির নায়েকের কিছু বই উদ্ধার করা হয়েছিল। অথচ জঙ্গি তকমার কারণে অভিযুক্তদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন।

    বদিউল আলম সুজন আরও বলেন, পরিবার চাইলে রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা আইনগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে এ মামলার পেছনে কারা ভূমিকা রেখেছে, তা চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাই।

    মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই রাতে কুমিল্লা শহরের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। অভিযানের সময় হলের ২০২ নম্বর কক্ষে অবস্থানরত তিন ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাদের কক্ষ তল্লাশি চালানো হয়।

    তল্লাশিকালে কক্ষ থেকে কয়েকটি ধর্মীয় ও ইসলামী বিষয়ক বই জব্দ করা হয়। জব্দকৃত বইয়ের মধ্যে ছিল ড. জাকির নায়েকের লেকচার সমগ্র, ‘আদর্শ পরিবার পরিবেশ’, ‘পরকালের প্রস্তুতি’ এবং ‘ইসলামী আন্দোলনের পথ ও পাথেয়’ শীর্ষক গ্রন্থ।

    পরে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির পর তিন ছাত্রীকে জঙ্গিবাদের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

    ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিছুদিন কারাভোগের পর তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।

    এরপর মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং উচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন বিচারিক ধাপ অতিক্রম করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে আদালত অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ না পাওয়ায় গত ২৪ মে তিন শিক্ষার্থীকে খালাসের আদেশ দেন।

    রায়ের পর শিক্ষার্থীরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় এক দশক ধরে চলা একটি কঠিন অধ্যায়ের অবসান হয়েছে। তারা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

    মামলার শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনি সহায়তা প্রদান করেন অ্যাডভোকেট শহীদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন এবং অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম মনির।

  • রামিসা হত্যার বিচার: ঈদের ছুটিতেও খোলা থাকবে সংশ্লিষ্ট আদালত

    রামিসা হত্যার বিচার: ঈদের ছুটিতেও খোলা থাকবে সংশ্লিষ্ট আদালত

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের জন্য ঈদের ছুটিতেও সংশ্লিষ্ট আদালত খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যেই এই বিচারপ্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপগুলো শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

    আজ রোববার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারকাজ এগিয়ে নিতে ঈদের ছুটিতে সংশ্লিষ্ট আদালত খোলা রাখার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে শিশুধের ওপর বর্বরতার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি আসলে একটি সামাজিক অবক্ষয়। সামাজিক সংস্কার প্রয়োজন। কিছু অপসংস্কৃতি আমাদের সমাজে প্রভাব ফেলেছে। ধর্ষণের মাত্রা, তীব্রতা ও ধরন আমাদের সহ্যসীমার বাইরে।

    রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার সাত ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার এক দিনের মাথায় তার স্ত্রীকেও সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে আমরা খুব দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছি।

    তিনি বলেন, শুধু এই মামলা পরিচালনার জন্য আমরা একজন বিশেষ পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) নিয়োগ দিয়েছি। সার্বিক দিক বিবেচনা করে আশা করছি, আজই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হবে। আর আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে বিচারকাজ শেষ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।