Category: আন্তর্জাতিক

  • মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার মধ্যেই শুরু হলো পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা

    মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার মধ্যেই শুরু হলো পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    মার্কিন-ইরান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতার আবহে সৌদি আরবে আজ সোমবার (২৫ মে/৮ জিলহজ) থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের মূল আচার-অনুষ্ঠানিকতা। গতকাল রবিবার রাত থেকেই হজযাত্রীরা মক্কা থেকে তাঁবুর শহর মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে সৌদির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    পবিত্র কাবা শরীফ সাতবার তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ শেষে হজযাত্রীরা বাসে চেপে কিংবা পায়ে হেঁটে মিনার দিকে রওনা হন। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এবারের হজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৫ লাখ বিদেশি হজযাত্রীর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সৌদি আরবের আরও কয়েক লাখ স্থানীয় নাগরিক। ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই হজ পালন সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জীবনে অন্তত একবার আবশ্যিক।

    হজের এই আধ্যাত্মিক কার্যক্রম মোট ছয় দিনব্যাপী স্থায়ী হবে। সাধারণত ঈদুল আজহার তিন দিন আগে থেকে শুরু হয়ে ঈদের দুই দিন পর পর্যন্ত এই আনুষ্ঠানিকতা চলে। সৌদি আরবে আগামী ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার কথা রয়েছে, সেই অনুযায়ী ২৯ মে হবে এবারের হজের শেষ দিন।

    হজযাত্রীদের যাত্রা ও অবস্থান নির্বিঘ্ন করতে সৌদি সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আবাসন, আতিথেয়তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জিলকদ মাস থেকে এ পর্যন্ত হাজিদের তাঁবু ও সেবাকেন্দ্রগুলোতে ৮৩ হাজারেরও বেশি মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। মিনার ক্যাম্পে হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, খাদ্য ও পরিবহন সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধানের জন্য বিশেষ তদারকি দল মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে সৌদি গেজেট সূত্রে জানা গেছে।

  • ছয় মুসলিম দেশকে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করতে বললেন ট্রাম্প

    ছয় মুসলিম দেশকে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করতে বললেন ট্রাম্প

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ইসরায়েলের সঙ্গে পাকিস্তানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় মুসলিম দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা ‘বাধ্যতামূলক’ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ জন্য আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

    সোমবার (২৫ মে) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে! হয় সবার জন্য একটি দারুণ চুক্তি হবে, নয়তো কোনো চুক্তিই হবে না। আবার যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরতে হবে, তবে আগের চেয়েও বড় ও শক্তিশালী হয়ে। আর তা কেউই চায় না!

    তিনি বলেন, শনিবার সৌদি আরবের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি, প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম বিন জাবের আল থানি ও মন্ত্রী আলী আল-থাওয়াদি, পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ এবং বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফার সঙ্গে আলোচনার সময় আমি বলেছি যে, এই অত্যন্ত জটিল ধাঁধাটি সমাধান করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত প্রচেষ্টার পর, এই সমস্ত দেশগুলোর জন্য ন্যূনতম হলেও একযোগে আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।

    ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহারাইন একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এটিই আব্রাহাম চুক্তি। এর মাধ্যমে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল উপসাগরীয় দেশ দুটি। যদিও বলা হয়, চুক্তির উদ্দেশ্য দশকব্যাপী শত্রুতা ও দূরত্ব কমিয়ে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

    এর আগে সৌদি আরবের যুবরাজ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাব্য আগ্রহ প্রকাশ করলেও রিয়াদ বলেছে, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শর্তেই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

  • ইরান যুদ্ধ শেষে ইসরায়েলের সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোকে মিত্রতার আহ্বান ট্রাম্পের

    ইরান যুদ্ধ শেষে ইসরায়েলের সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোকে মিত্রতার আহ্বান ট্রাম্পের

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ অবসানের পর আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি বা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    গত শনিবার বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক যৌথ ফোনালাপে তিনি এই বিশেষ অনুরোধ জানান। দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফোনালাপে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার পর তার পরবর্তী বড় পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে ইসরায়েল ও বিভিন্ন মুসলিম দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা, যা মূলত ঐতিহাসিক আব্রাহাম চুক্তিরই একটি বর্ধিত রূপ। বিশেষ করে একটি সৌদি-ইসরায়েল শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, যদিও বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের কারণে এই পথে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে।

    এই গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান এবং বাহরাইনের নেতারা যুক্ত ছিলেন। মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদসহ অন্য নেতারা এই শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের সংহতি প্রকাশ করেছেন। ওই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে নেতারা ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘তারা সবাই বলেছেন, এই চুক্তিতে আমরা আপনার সঙ্গে আছি। আর যদি এটি কাজ না-ও করে, তবুও আমরা আপনার সঙ্গেই থাকব।’ ফোনালাপ চলাকালীন ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন যে, ইরান সংকট মিটে যাওয়ার পর তিনি আশা করেন যারা এখনও ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করেননি, তারা দ্রুতই এই প্রক্রিয়ায় শামিল হবেন। তবে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও কাতারের মতো দেশগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে এই অনুরোধটি এতটাই অভাবিত ছিল যে, আলোচনার মাঝে এক পর্যায়ে স্তব্ধতা নেমে আসে। ওই মুহূর্তের

    বর্ণনা দিয়ে একজন কর্মকর্তা জানান, ‘অনুরোধের পর লাইনে সম্পূর্ণ নীরবতা নেমে এসেছিল এবং ট্রাম্প রসিকতা করে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে তারা এখনও লাইনে আছেন কি না।’ এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী তদারকির দায়িত্ব জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

    পরদিন রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে লিখেন, ‘আমি মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশকে এ পর্যন্ত তাদের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই, যা ঐতিহাসিক আব্রাহাম চুক্তিতে তাদের যোগদানের মাধ্যমে আরও বৃদ্ধি ও শক্তিশালী হবে।’ তিনি এমনকি সুদূর ভবিষ্যতে ইরানকেও এই শান্তি প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার একটি ক্ষীণ সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন, যদিও তার পূর্বশর্ত হিসেবে তেহরানকে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে। এদিকে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে আরব নেতাদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ না করা হবে একটি ঐতিহাসিক ভুল এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সৌদি আরব এখনো ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থি সরকারের নীতি নিয়ে সন্দিহান এবং তারা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়ে অনড় প্রতিশ্রুতি দাবি করে আসছে।

  • মিনায় পৌঁছেছেন হজযাত্রীরা, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ

    মিনায় পৌঁছেছেন হজযাত্রীরা, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আজ। সেই লক্ষ্যে সারাবিশ্ব থেকে আগত হাজিরা নিজেদের প্রস্তুত করছেন। রোববার (২৪ মে) এশার নামাজের পরই হাজিরা তাবুর শহর হিসেবে পরিচিত মিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। মিনায় যাওয়ার আগে মুসল্লিরা ইহরামের কাপড় পরিধান করেন।

    শরীয়তের বিধান অনুসারে, হাজিরা ৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে ফজর হতে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। মিনায় রাত্রিযাপন শেষে ৯ জিলহজ (মঙ্গলবার) আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হবেন তারা। সেখানে এ বছর হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি।

    খুতবার পর হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করবেন হাজিরা। ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওয়ানা দিবেন হাজিরা। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ শেষে উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগে মুজদালিফা থেকে মিনায় যাবেন হাজিরা এবং শুধু বড় জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় পশু কুরবানি দেবেন ও মাথা মুণ্ডন কিংবা চুল ছোটো করবেন।

    ১১ ও ১২ জিলহজ হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্বে মিনা ত্যাগ করবেন হাজিরা।

    চলতি বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬ লাখ থেকে ১৮ লাখ মুসলমান হজ পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশ থেকে এ বছর সাড়ে ৭৮ হাজার মানুষ হজ পালন করতে সৌদি আরব গেছেন।

    এদিকে হজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি প্রশাসন। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল মনসুর বিন নাসের আল-ফায়েজ হজের পবিত্র স্থানগুলোতে নিয়োজিত বাহিনীর কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি জানান, হাজিদের সেবায় নিরাপত্তা বাহিনীগুলো পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।

    কমান্ডার আরও উল্লেখ করেন, এ বছর বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সেবামূলক সংস্থাগুলোর মধ্যে চমৎকার সমন্বয় রয়েছে। এর ফলে আল্লাহর মেহমানরা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের ইবাদত সম্পন্ন করতে পারবেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে সর্বমোট ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৩২০ জন ধর্মপ্রাণ মুসলিম হজ পালন করেছিলেন। এর মধ্যে সৌদি আরবের বাইরে থেকে আসা হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ জন। এ বছর হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই সেই সংখ্যা পার হয়ে যাওয়ায় এবারের হজ গত বছরের তুলনায় হতে যাচ্ছে আরও বড় পরিসরে।

  • চুক্তির খুব কাছাকাছি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

    চুক্তির খুব কাছাকাছি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    চুক্তি সইয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তিতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে, ইরান অবাধে তেল বিক্রি করতে পারবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

    এই চুক্তি যুদ্ধের আরও বিস্তার ঠেকাবে এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ওপর চাপ কমাবে। তবে, এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পারমাণবিক দাবিগুলোকে পূরণ করে এমন একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির দিকে নিয়ে যাবে কিনা তা এখনো অস্পষ্ট। ট্রাম্প এবং মধ্যস্থতাকারীরা উভয়েই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে চুক্তিটি শিগগিরই ঘোষণা করা হতে পারে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং শেষ মুহূর্তে ভেস্তেও যেতে পারে।

    মার্কিন ওই কর্মকর্তা বর্তমানে খসড়া চুক্তিতে যা রয়েছে তার একটি বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেছেন, যার অনেকটাই আলোচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অন্যান্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই বিষয়গুলো এখনো ইরানের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে তেহরানও ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে।

    চুক্তিতে কী রয়েছে

    উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করবে, যা ৬০ দিন কার্যকর থাকবে এবং পারস্পরিক সম্মতিতে এর মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। এই ৬০ দিনের সময়ে হরমুজ প্রণালী খোলা থাকবে এবং সেখানে কোনো ধরনের শুল্ক নেওয়া হবে না। পাশাপাশি ইরান প্রণালিতে স্থাপন করা মাইন সরিয়ে ফেলতে সম্মত হবে, যাতে জাহাজগুলো অবাধে চলাচল করতে পারে।

    এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে এবং কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে, যাতে ইরান অবাধে তেল বিক্রি করতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, এটি ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় সুবিধা হবে। তবে তিনি বলেন, এতে বৈশ্বিক তেলের বাজারও উল্লেখযোগ্য স্বস্তি পাবে।

    মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরান যত দ্রুত মাইন সরিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে, তত দ্রুত অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই চুক্তিতে ট্রাম্পের মূল নীতি হলো‘কাজের বিনিময়ে স্বস্তি’।

    ইরান চেয়েছিল অবিলম্বে জব্দ অর্থ ছাড় এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। কিন্তু মার্কিন পক্ষ জানিয়েছে, বাস্তব ছাড় না দেওয়া পর্যন্ত তা সম্ভব হবে না।

    পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে এখনো আলোচনা বাকি

    খসড়া সমঝোতা স্মারকে ইরানের পক্ষ থেকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা না করার অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত করা এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় বসার কথাও রয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তা জানান।

    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে মৌখিকভাবে জানিয়েছে যে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করা এবং পারমাণবিক উপাদান ত্যাগের বিষয়ে কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত।

    যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের সময়কালে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ অর্থ ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি হবে। তবে এসব পদক্ষেপ কেবল একটি চূড়ান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর কার্যকর হবে।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনী ৬০ দিনের এই সময়জুড়ে অঞ্চলে অবস্থান করবে এবং কেবল চূড়ান্ত চুক্তি হলে সেগুলো প্রত্যাহার করা হবে। চমকপ্রদ বিষয় হলো, খসড়া সমঝোতা স্মারকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধ শেষ হবে।

    শনিবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই শর্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি চুক্তির আরও কিছু বিষয় নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, তিনি অত্যন্ত সম্মানজনক ও সংযতভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

    মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এটি কোনো ‘একতরফা যুদ্ধবিরতি’ হবে না। যদি হিজবুল্লাহ পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ বা হামলার চেষ্টা করে, তাহলে ইসরায়েলকে তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘হিজবুল্লাহ শান্ত থাকলে ইসরায়েলও শান্ত থাকবে।’

    নেতানিয়াহুকে তার ডাকনাম ধরে উল্লেখ করে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘বিবির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় রয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বার্থও বিবেচনা করতে হয়।’

    কীভাবে এই অগ্রগতি হলো

    শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কয়েকজন আরব ও মুসলিম নেতার সঙ্গে ফোনালাপে এই চুক্তির বিষয়ে মতামত নেন এবং সবাই এতে সমর্থন জানিয়েছেন বলে কলটির বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র জানিয়েছে।

    মার্কিন কর্মকর্তার মতে, এতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কড়া অবস্থানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদও ছিলেন। এছাড়া সৌদি আরব, কাতার, মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নেতারাও ওই আলোচনায় অংশ নেন। এই দেশগুলো মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় জড়িত রয়েছে।

    পাকিস্তানিরাই প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এ প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, যিনি শুক্রবার ও শনিবার তেহরানে ছিলেন চুক্তিটি সম্পন্ন করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে।

    সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প একদিকে চুক্তি এগিয়ে নেওয়া এবং অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা চালানোর মধ্যে দোদুল্যমান অবস্থায় ছিলেন। তবে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই বেশি ঝুঁকেছিলেন।

  • হজের দিন বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব

    হজের দিন বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    চলতি বছর পবিত্র হজ তথা আরাফাতের দিন মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। এদিন পবিত্র কাবা শরিফের ঠিক ওপরে অবস্থান করবে সূর্য। ইসলামি ক্যালেন্ডারের অন্যতম এই পবিত্র দিনে দুপুরে কাবাঘরের আশপাশে কোনো ছায়া দেখা যাবে না। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এমন বিরল ঘটনা প্রতি ৩৩ বছরে মাত্র একবার ঘটে।

    রোববার (২৪ মে) এক প্রতিবেদনে গালফ নিউজ জানিয়েছে, এবার আরাফাতের দিন একটি মহাজাগতিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। দুপুরের দিকে পবিত্র কাবাঘরের ঠিক ওপরে থাকবে সূর্য। ওই মুহূর্তে মক্কায় ছায়া পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যাবে।

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ঘটনাটি আগামী ২৭ মে দুপুরে ঘটবে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সাধারণত প্রতিবছর দুবার কাবার ওপর সূর্য সরাসরি অবস্থান করে। মক্কার অবস্থান উত্তর অক্ষাংশের প্রায় ২১ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে হওয়ায় সূর্য যখন নিরক্ষরেখা ও কর্কটক্রান্তির মধ্যে চলাচল করে, তখন এ ঘটনা ঘটে। তবে আরাফাতের দিনের সঙ্গে এবার মিলে যাওয়ায় তার এবারের ঘটনাকে বিশেষ করে তুলেছে।

    তাদের মতে, সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে এমন বিরল ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল বিশ্ববাসী। হিজরি চান্দ্র ক্যালেন্ডার ও গ্রেগরিয়ান সৌর ক্যালেন্ডারের পার্থক্যের কারণেই এ বিরল সমাপতন তৈরি হয়। চান্দ্র বছরের চক্র একই সৌর তারিখের সঙ্গে আবার মিলতে প্রায় ৩৩ বছর সময় নেয়।

    আজেল সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জোর দিয়ে বলেছে, এই ঘটনাটি প্রাকৃতিক ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পুনরাবৃত্তি। এর মানে এই নয় যে, তাপমাত্রা অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে। কারণ তাপমাত্রা কেবল সূর্যের অবস্থানের ওপরই নির্ভল করে না, বরং আর্দ্রতা, মেঘের উপস্থিতি ও বায়ুপ্রবাহের গতিবিধিসহ একাধিক জলবায়ুগত কারণে প্রভাবিত হয়।

    সৌদির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের সরকারি মুখপাত্র হুসেইন আল কাহতানি বলেছেন, স্বাভাবিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে প্রতি বছরই এই ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই ঘটনার ফলে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাওয়ার যে অমূলক দাবি করা হয়, সেগুলো ব্যাখ্যা।

    তিনি আরও বলেন, আবহাওয়ার তথ্য ও তাপমাত্রার প্রতিবেদনের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সংখ্যাসূচক পূর্বাভাস মডেলের একটি সমন্বিত ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। গুজব বা প্রচারিত অসত্য তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস করার পরিবর্তে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যমের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানান তিনি।

  • শান্তিচুক্তি চূড়ান্তের পথে, হরমুজ খোলা নিয়ে দ্বিমত

    শান্তিচুক্তি চূড়ান্তের পথে, হরমুজ খোলা নিয়ে দ্বিমত

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২৩ মে) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে। তবে ট্রাম্পের দাবি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ। তারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অবাস্তব’ বলে উল্লেখ করেছে।

    ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিটি সম্পন্ন হলে হরমুজ প্রণালি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান। তাই এই প্রণালি খুলে দেওয়া নিয়ে ট্রাম্পের একক দাবি সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ। অবশ্য আলোচনার বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যকার বিরোধ কিছুটা কমেছে। তবে এখনও বেশ কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য আরও তিন-চার দিন অপেক্ষা করতে হবে।

    এই শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়ায় মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির তেহরানে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে শনিবার তিনি তেহরান ত্যাগ করেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এই আলোচনাকে ‘আশানুরূপ’ বলে বর্ণনা করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার জন্য একটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও বিস্তৃত চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।

    গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর এই অঞ্চলে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এর জের ধরে হরমুজ প্রণারি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা নেমে আসে। বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চললেও গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এখনও সাধারণ জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ রয়েছে।

    এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি মূলত তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম ধাপে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটবে। দ্বিতীয় ধাপে হরমুজ প্রণালির সংকটের সমাধান করা হবে এবং তৃতীয় ধাপে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ৩০ দিনের একটি আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজনে আলোচনার সময় আরও বাড়তে পারে। আগামী শুক্রবার ঈদের ছুটির পর শান্তি চুক্তি নিয়ে পরবর্তী আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, তাদের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা তেহরানের প্রধান দাবি। তবে এর চেয়েও বড় অগ্রাধিকার হলো নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার হুমকি বন্ধ করা এবং লেবাননে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো।

    সবশেষে, ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, চলমান যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও ‘বোকামি করে যুদ্ধ শুরু করে’, তবে এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ ও তিক্ত। দীর্ঘ সংঘাতের পরও ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অস্ত্র মজুদের পাশাপাশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদও অক্ষুণ্ন রেখেছে।

  • বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প চালুর ঘোষণা দিলেন অমিত শাহ

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প চালুর ঘোষণা দিলেন অমিত শাহ

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তকে ‘অভেদ্য’ করতে এবং অনুপ্রবেশ রোধে নতুন প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা করছে ভারত সরকার। শিগগিরই ড্রোন, রাডার, স্মার্ট ক্যামেরা ও অন্যান্য আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প চালুর ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    শনিবার (২৩ মে) দিল্লিতে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) ইনভেস্টিচার সেরিমনি এবং রুস্তমজি মেমোরিয়াল লেকচারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সমন্বিত সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য।

    শাহ যোগ করেন, ‘সীমান্তকে স্মার্ট বর্ডারে রূপান্তর করতে সরকার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে। স্মার্ট বর্ডার ধারণার আওতায় সব ধরনের প্রযুক্তি একত্রিত করে আগামী এক বছরের মধ্যে একটি অভেদ্য সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে চলছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুব শিগগিরই ড্রোন, রাডার, আধুনিক ক্যামেরা এবং অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি স্মার্ট বর্ডার প্রকল্প চালু করবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিএসএফের কাজ অনেক সহজ এবং আরও শক্তিশালী হবে।’

    পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সীমান্তকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ‘উদ্বেগের কারণ’ হিসেবে উল্লেখ করে শাহ বলেন, এই দুই সীমান্ত প্রচলিত পদ্ধতিতে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বর্তমানে এসব সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহ, গবাদিপশু পাচার, জাল ভারতীয় মুদ্রা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের মতো হুমকি রয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের বিপদ চিহ্নিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনুপ্রবেশের মাধ্যমে সীমান্তের ওপার থেকে কৃত্রিম জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের যে চেষ্টা চলছে, তা রোধ করা আমাদের দায়িত্ব। এজন্য আমাদের সর্বদা সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সরকার শুধু অনুপ্রবেশ বন্ধ করতেই নয়, বরং প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করে দেশ থেকে বহিষ্কার করতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

  • পশ্চিমবঙ্গে পশু কোরবানি নিয়ে নিষেধাজ্ঞা, আতঙ্কে মুসলিমরা

    পশ্চিমবঙ্গে পশু কোরবানি নিয়ে নিষেধাজ্ঞা, আতঙ্কে মুসলিমরা

    পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই নিয়ে নতুন গাইডলাইন জারি করেছে রাজ্য সরকার। নির্ধারিত নিয়ম মেনে জবাই করতে হবে, অন্যথায় হতে পারে জেল ও জরিমানা এমন কঠোর বার্তাই দিয়েছে প্রশাসন।

    ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রকাশিত এ নির্দেশনা ঘিরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক। বিশেষ করে ধর্মীয় কোরবানির ক্ষেত্রে আরোপিত নানা শর্তে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গরু, মহিষ বা বলদ জবাইয়ের আগে সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পাশাপাশি সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ অনুমোদন নিতে হবে। এ জন্য পশুর ফিটনেস সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    নির্দেশিকায় আরও বলা হয়, কেবল ১৪ বছরের বেশি বয়সী পশু অথবা বার্ধক্য কিংবা অসুস্থতার কারণে স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারানো পশুই জবাই করা যাবে।

    এ ছাড়া প্রকাশ্য স্থানে পশু জবাই বা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। নতুন এ নিয়ম কার্যকর হওয়ায় কোরবানি আয়োজন নিয়ে অনেকের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    উত্তর প্রদেশের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি এখন পশ্চিমবঙ্গেও দৃশ্যমান হচ্ছে। সাধারণ মুসলিম নাগরিকরা মনে করছেন, এ আইনি কড়াকড়ি আসলে একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়া এবং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার পরিকল্পিত কৌশল।

    বারুইপুরের স্থানীয় এক বাসিন্দার মতে, সরকারি অনুমোদন পাওয়া এবং ১৪ বছরের বুড়ো গরু খুঁজে বের করে কোরবানি দেওয়া কার্যত অসম্ভব। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ আতঙ্ক কাজ করছে যে, বৈধভাবে গরু নিয়ে যাওয়ার পথেও তাদের মৌলবাদী হেনস্তার শিকার হতে হবে এবং হচ্ছেও। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে অনেকে মুসলিম সমাজকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

    রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এ ধরনের নির্দেশিকা জারির মাধ্যমে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক মেরূকরণকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।

    সমালোচকদের দাবি, আইনের আড়ালে হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই এ সরকারের প্রধান লক্ষ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুমন কল্যাণের মতে, যখন একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় রীতিকে টার্গেট করা হয়, তখন তা কেবল আইনগত বিষয় থাকে না বরং তা রাষ্ট্রের সাম্প্রদায়িক চরিত্রকে প্রকাশ করে দেয়। এটি পরিষ্কারভাবে মেরূকরণের রাজনীতি, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

  • হামলার মধ্যেও ৩ নবজাতককে যেভাবে বাঁচালেন ইরানি নার্স

    হামলার মধ্যেও ৩ নবজাতককে যেভাবে বাঁচালেন ইরানি নার্স

    জেভি২৪ ডেস্ক

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় কেঁপে উঠছিল তেহরানের খাতাম আল-আনবিয়া হাসপাতাল। চারদিকে ধোঁয়া আর আতঙ্কে ছুটোছুটি করছিল মানুষ। সেই ভয়াবহ মুহূর্তে নিজের জীবনের কথা না ভেবে ৩ নবজাতককে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যান ইরানি নার্স নেদা সালিমি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিও এখন সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

    গত ১ মার্চ সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালের পাশের একটি সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বোমা হামলায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে হাসপাতালের জানালার কাচ ভেতরে ঢুকে পড়ে, ছাদের অংশ ভেঙে পড়ে ধুলার মেঘ তৈরি হয়। আতঙ্কিত রোগীরা ধোঁয়াভরা করিডোর দিয়ে দৌড়ে পালাতে থাকেন।

    হাসপাতালের পঞ্চম তলার নবজাতক ওয়ার্ডে তখন তিনটি শিশু শুয়ে ছিল। জন্মের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পেরিয়েছে তাদের। বিস্ফোরণের মুহূর্তে শিশুদের পাশেই বসে প্রতিবেদন লিখছিলেন নার্স নেদা সালিমি।

    তিনি বলেন, ভাবার সময় ছিল না। মাথায় শুধু একটাই চিন্তা ছিল শিশুগুলোকে নিরাপদ জায়গায় নিতে হবে।

    নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তিন নবজাতককে বুকে তুলে নিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন তিনি। চারদিকে তখন ধ্বংসাবশেষ ঝরছে।

    সাত সেকেন্ডের সেই ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিডিওতে ধরা পড়েনি পরের পরিস্থিতি। করিডোরে পৌঁছে দুই নবজাতককে সহকর্মীদের হাতে তুলে দেন তিনি। আরেক শিশুকে বুকে চেপে ধরে হাসপাতালের আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটতে থাকেন।

    নেদা বলেন, আমরা শিশুদের পুরো সময় কোলে রেখেছিলাম, যাতে তারা আঘাত না পায়। আশ্রয়কেন্দ্রে তখন শুধু ভয় আর মানুষের একে অন্যকে সাহায্য করার চেষ্টা।

    তিন শিশুর মধ্যে দুইজন ছেলে ও একজন মেয়ে। হামলার এক ঘণ্টারও কম সময় আগে তাদের জন্ম হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর মায়েরা তখনো শয্যায়। বিস্ফোরণের পর অনেকে ভেবেছিলেন, তাদের সন্তান হয়তো বেঁচে নেই।

    নেদা বলেন, অবশেষে যখন মায়েদের খুঁজে পেলাম এবং শিশুদের তাদের হাতে ফিরিয়ে দিলাম, সেটাই ছিল সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত। কয়েক মিনিটের জন্য আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম যে বাইরে যুদ্ধ চলছে।

    ৩৬ বছর বয়সী নেদা সালিমি কেরমানশাহর বাসিন্দা। ইরান ইউনিভার্সিটি অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নার্সিংয়ে পিএইচডির শেষ সেমিস্টারে পড়ছেন তিনি। প্রায় ১২ বছর ধরে নার্স হিসেবে কাজ করছেন। শিশু ও নবজাতক পরিচর্যায় রয়েছে এক দশকের অভিজ্ঞতা। তিনি এক ছয় বছর বয়সী সন্তানের মা।

    তিনি বলেন, নবজাতকদের সঙ্গে প্রতিদিন কাজ করতে করতে তাদের প্রতি এক ধরনের দায়িত্ববোধ তৈরি হয়। মা হওয়ায় সেই অনুভূতি আরও গভীর হয়েছে।

    নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে কাজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে নেদা বলেন, এক মুহূর্তে হয়তো কোনো শিশুকে বাঁচানো যায় না, আর কিছুক্ষণ পর আরেক মাকে হাসিমুখে বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিতে হয়। এখানে শোক আর আশার মধ্যে প্রতিনিয়ত চলাফেরা করতে হয় আমাদের।

    যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও হাসপাতালের কর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মার্চের হামলার আগে ২০২৫ সালের জুনের ১২ দিনের যুদ্ধেও নবজাতকদের সরিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল নেদার।

    তিনি বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে বসে আমি আল্লাহর কাছে কয়েক মিনিট সময় চেয়েছিলাম। শুধু এতটুকু, যাতে শিশুদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারি। এরপর যদি মৃত্যু আসে, তাতেও আপত্তি ছিল না।

    ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রাতারাতি আলোচনায় চলে আসেন নেদা। প্রতিবেশীরা বাড়িতে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছেন। হাসপাতালেও ফোনের পর ফোন এসেছে।

    তবে নেদা মনে করেন, এটি কোনো একার সাহসিকতা নয়। সেদিন আমার সব সহকর্মী সাহসিকতার সঙ্গে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

    এখনও তিনি তিন শিশুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তার জানা মতে, তিনজনই সুস্থ আছে। নেদা বলেন, এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ। তিনটি ছোট হৃদস্পন্দন এখনও চলছে।

    যুদ্ধের পরও নার্সদের ওপর মানসিক চাপ ও সংকট রয়ে গেছে বলে জানান তিনি। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, জনবল সংকট, অর্থনৈতিক চাপ এবং যুদ্ধের মানসিক ক্ষত বয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাদের।

    নেদা বলেন, যখন চারদিকে বোমা পড়ে আর কেউ আপনাকে বাঁচাতে আসে না, তখন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আশার আলো জ্বালানোই আসল দায়িত্ব। একজন ভালো নার্সের শুধু দক্ষতা নয়, মানবিক হৃদয়ও থাকতে হয়।

    ভবিষ্যতে বড় হয়ে যদি সেই শিশুরা একদিন জানতে পারে জন্মের প্রথম ঘণ্টায় কী ঘটেছিল। তিনি চান তারা বুঝুক, তাদের জীবন এক অলৌকিক উপহার।

    মৃদু হাসি দিয়ে নেদা বলেন, আমি চাই তারা শক্ত ও মানবিক মানুষ হয়ে উঠুক। তাহলেই মনে হবে, সবকিছু সার্থক ছিল।

    সূত্র : প্রেস টিভি