Category: সারাদেশ

  • ১০ গ্রামের মানুষের জীবন আটকে আছে একটি নৌকায়

    ১০ গ্রামের মানুষের জীবন আটকে আছে একটি নৌকায়

    শরীয়তপুর প্রতিনিধি

    আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার এই যুগেও শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষের জীবনে সময় যেন থমকে আছে অর্ধশতাব্দী আগে। কীর্তিনাশা নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে এখনও তাদের নিত্যদিনের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা একটি ছোট ডিঙি নৌকা। বৈরী আবহাওয়া, মাঝির অনুপস্থিতি কিংবা নৌকার সামান্য ত্রুটিতেই চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে।

    ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ইকরকান্দি বাজার ও পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় কীর্তিনাশা নদী পারাপারের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। বর্ষা কিংবা শুষ্ক মৌসুম সারা বছরই ফেরাঙ্গীকান্দী, নাওডোবা, সিংজালা, নারায়ণপুর, ইকরকান্দি, সূর্যমনি-সহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পার হতে হয়। স্থানীয়দের দাবি, ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা একই দুর্ভোগের শিকার হলেও এখন পর্যন্ত নির্মিত হয়নি একটি সেতু।

     

    নদীর পশ্চিম পাড়ে রয়েছে ৫৬ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি নুরানি মাদ্রাসা, ইকরকান্দি বাজার, নারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় এবং ভূমি অফিস। এসব শিক্ষা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে প্রতিদিন হাজারো মানুষের একমাত্র ভরসা নৌকা।

    সরেজমিনে কীর্তিনাশা নদীর ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, পারাপারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কৃষক, ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সবাই ছোট একটি নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, আমার বয়স এখন ৬৫ বছর। ছোটবেলা থেকে এই নদী নৌকায় পার হচ্ছি। স্কুল, মাদ্রাসা, বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস সব জায়গায় যেতে নৌকাই একমাত্র ভরসা। ব্রিটিশ আমল থেকে এখন পর্যন্ত এখানে কোনো সেতু হয়নি। একটি সেতু নির্মাণ হলে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।”

    রোববার সকাল ৯টায় নদীর ঘাটে দেখা যায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মালিহা, ঋদীতা ও রাবেয়াসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী নৌকার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। তারা জানায়, প্রায় ৩০ মিনিট ধরে ঘাটে অপেক্ষা করছে। মাঝি খাবার খেতে বাড়ি গেছেন। কখন ফিরবেন, তারও নির্দিষ্ট সময় নেই।

    শিক্ষার্থীরা বলে, প্রায়ই এমন হয়। নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে করতে স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়। আবার বৃষ্টি হলে নদী পার হতে ভয় লাগে। অনেক সময় স্কুলেই যেতে পারি না। আমরা চাই এখানে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ হোক।

    কলেজ শিক্ষার্থী রিফাত বলেন, একবার পরীক্ষার দিন নৌকা থেকে পড়ে গিয়েছিলাম। পরে বাড়ি ফিরে কাপড় বদলে আবার পরীক্ষায় যেতে হয়েছে। এতে অনেক দেরি হয়ে যায়। শুধু আমি নই, অনেক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেই এমন ঘটনা ঘটেছে। একটি সেতু হলে হাজারো শিক্ষার্থী সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারবে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী সফিক মাঝি বলেন, “বহু বছর ধরে আমরা সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এখনও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। কয়েকদিন আগেই ১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজন দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিল। এমন দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত সেতু নির্মাণ জরুরি।”

    গত ছয় বছর ধরে এই নদীতে নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন মাঝি বারেক খান। তিনি বলেন, “জন্মের পর থেকেই দেখছি মানুষ নৌকায় পারাপার হচ্ছে। এখানে একটি সেতু হলে আমিও খুশি হব। অন্য কোনো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করব। আমার ছয় বছরের অভিজ্ঞতায় তিনবার নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টি হলে ছোট শিক্ষার্থীরা ভয়ে স্কুলে যেতে চায় না। আবার কোনো কারণে আমি নৌকা চালাতে না পারলে মানুষকে তিন কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হয়।

    তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহে নৌকার যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ছয় দিন পারাপার বন্ধ ছিল। এতে যেমন তার আয় বন্ধ হয়ে যায়, তেমনি এলাকাবাসীকেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

    ৫৬ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কৃষ্ণারানী দাস বলেন, “আমাদের স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নদীর ওপার থেকে আসে। বৈরী আবহাওয়ায় উপস্থিতি অনেক কমে যায়। বর্ষাকালে নদীর স্রোত ও বৃষ্টির কারণে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে চায় না। দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ না হলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

    নারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, যোগাযোগ সমস্যার কারণে এই এলাকার শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নৌকায় পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেকেই লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন মাদবর বলেন, “এখানে একটি সেতু নির্মাণ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। নারায়ণপুর ও ইকরকান্দি বাজারের মধ্যবর্তী স্থানে একটি সেতু নির্মাণ হলে হাজারো মানুষ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।

    এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অনুপম চক্রবর্তী বলেন,বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ডিজাইন বিশেষজ্ঞরা স্থান পরিদর্শন করেছেন। আমরা আশাবাদী, দ্রুত সময়ের মধ্যেই এখানে একটি নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে। সেতুটি নির্মিত হলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট ও দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।

    কীর্তিনাশা নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষের প্রশ্ন একটাই আর কতদিন অপেক্ষা? স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও যেখানে একটি নৌকাই ২০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা, সেখানে একটি সেতু শুধু যোগাযোগের অবকাঠামো নয়, এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিরাপদ জীবনের জন্য সময়ের দাবি। এখন এলাকাবাসী অপেক্ষায় আছে, দীর্ঘ ৫০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কবে বাস্তবে রূপ নেবে তাদের স্বপ্নের সেতু।

  • গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে ৩৮ লাখ টাকার সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে ১২ ঘণ্টায়, অনিয়মের অভিযোগ

    গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে ৩৮ লাখ টাকার সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে ১২ ঘণ্টায়, অনিয়মের অভিযোগ

    গাইবান্ধা প্রতিনিধি

    গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ইদ্রাকপুর এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১ হাজার ৭০০ মিটার দীর্ঘ একটি পাকা সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১২ ঘণ্টা পরই সড়কের পিচ ও পাথর প্লাস্টিকের মতো উঠে আসতে শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দাবির পর সড়কটি পাকা করা হলেও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় কাজ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করে। হাত দিয়েই পিচ ও ইটের খোয়া টেনে তোলা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

    ইদ্রাকপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “সরকার প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ করলেও ঠিকাদার বাবলু ও ছগির নিম্নমানের কাজ করে পুরো প্রকল্পটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। রাস্তায় পর্যাপ্ত পিচ ব্যবহার করা হয়নি। সামান্য টান দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। আমরা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়কটি নতুন করে নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।”

    সরেজমিনে দেখা যায়, নবনির্মিত সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং আলগা হয়ে পড়ে রয়েছে। স্থানীয়রা কোদাল ও খালি হাত দিয়েই রাস্তার পিচ ও ইটের খোয়া তুলে দেখাচ্ছেন। অনেক স্থানে সামান্য চাপ দিলেই কার্পেটিং উঠে নিচের বালু ও মাটি বেরিয়ে আসছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পান ‘ছগির’ নামের এক ঠিকাদার। পরে তিনি অধিক মুনাফার আশায় কাজটি বাবলু নামের অপর এক ব্যক্তির কাছে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে হস্তান্তর করেন। অভিযোগ রয়েছে, উপ-ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তড়িঘড়ি করে রাতের আঁধারে কাজ শেষ করেন। কাজ শেষ হওয়ার পরপরই সড়কের কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করলে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠার পর অভিযুক্তরা মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মানসম্মতভাবে সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

  • গোবিন্দগঞ্জে খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান

    গোবিন্দগঞ্জে খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান

    গাইবান্ধা প্রতিনিধি

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ শিংজানী খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের শিংজানী এলাকায় খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শন করেন তিনি।

    ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নে নুরুল্লার বিল থেকে পুনতাইড় হয়ে বোচাদহ বাঙালি নদীর স্লুইস গেট পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ শিংজানী খালটি ১ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন করা হচ্ছে। অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এটি বাস্তবায়ন করছে।

    খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আল মামুন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামশিদ ইরাম খান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিন্দার আলী প্রমুখ।

  • শিশুর লাশ উদ্ধার নিয়ে আদিতমারী রণক্ষেত্র, ডিসি ও পুলিশের গাড়িবহরে হামলা: এসপি-ওসিসহ আহত-৩০

    শিশুর লাশ উদ্ধার নিয়ে আদিতমারী রণক্ষেত্র, ডিসি ও পুলিশের গাড়িবহরে হামলা: এসপি-ওসিসহ আহত-৩০

    জেভি২৪ ডেস্ক

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় নন্দিনী রানী (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে আটকের পর তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় জনতার ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

    বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেয়ার পাশাপাশি জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেট নিক্ষেপ করেন পুলিশ। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও এলাকাবাসীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নন্দিনী রানী ওই গ্রামের কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে এবং স্থানীয় ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত সোমবার (১৫ জুন) বিকেল থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে ভুট্টাক্ষেতে মাটিচাপা দেয়া ও বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহের সন্ধান মেলে।

    হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তে নেমে আদিতমারী থানা পুলিশ শিশুটির চাচা (পারিবারিক সম্পর্কের) বিধানকে (১৯) প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করে। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকেই তাকে আটক করে পুলিশ। তবে আটকের পর আসামিকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের পথরোধ করে এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বিধানের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং ইউএনওসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রশাসন স্থানীয়দের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু আসামিকে নিয়ে ফিরে আসার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুনরায় উত্তেজিত হয়ে প্রশাসনের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে ডিসি, এসপি এবং ইউএনওর ব্যবহৃত সরকারি গাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন।

    এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, ভুট্টাক্ষেতে শিশুটির লাশ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সেখানে যায়। কিন্তু আসামিকে নিয়ে আসার সময় জনগণ বাধা প্রদান করে। পরে বিজিবি ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়ে আমরা সেখানে যাই। সবাইকে বুঝিয়ে আসামিকে নিয়ে আসার সময় অতর্কিতভাবে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে আমাদের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর হয় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

    লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আসামিকে নিয়ে আসার সময় পুলিশের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং আমাদের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দেয়ার অপরাধে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হবে।

    তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নাজমুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা হচ্ছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড

    প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড

    নোয়াখালী প্রতিনিধি 

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে ক্লোজড করা হয়।

    মঙ্গলবার দুপুরে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি হাজিরা খাতা ও ডিউটি রোস্টার যাচাই করে বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও দেরিতে উপস্থিত হওয়ার তথ্য পান।

    পরিদর্শনকালে রোগী ও স্বজনরা হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া এবং দালালচক্রের সীমাহীন দৌরাত্ম্য, হাসপাতালের খাবারে সমস্যা, টয়লেলেটর অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় রোগীর স্বজনা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে সেবা পেতে উঠতে-বসতে টাকা লাগে।

    পরিদর্শনের একপর্যায়ে মন্ত্রী হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ও টয়লেট ঘুরে দেখেন। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ওষুধের মজুত এবং রোগীদের জন্য দেওয়া বিভিন্ন সেবার মানও খাবার তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। হাসপাতালে অনিয়ম দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন তিনি। হাসপাতাল পরিচালনায় ব্যর্থতার দায়ে তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে ক্লোজড করা হয়। একই সঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. আনার হোসেনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারী সরকারের শাসন ছিল। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব দেখা গেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারও টিকাদান কার্যক্রমে যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি। পরে অনেক কষ্ট করে টিকা সংগ্রহ করে আমরা শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি।স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এমন জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সারা দেশের হাসপাতালগুলোতেই আমরা নানা সমস্যা দেখতে পাচ্ছি; যেখানে হাত দিচ্ছি, সেখানেই ভয়াবহ চিত্র সামনে আসছে।নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এসে অমানবিক পরিস্থিতি দেখেছি। এখানে নতুন একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে, তবে এর অগ্রগতি অত্যন্ত ধীরগতির। আজ যেসব অব্যবস্থাপনা আমরা দেখেছি, সেগুলোর দায় তত্ত্বাবধায়ক এড়াতে পারেন না। এ কারণেই তাকে ক্লোজড করা হয়েছে।

  • দুই সন্তান নিয়ে মায়ের বাচার আকুতি: কিডনি দিতে প্রস্তুত স্বামী, বাধা শুধু অর্থসংকট

    দুই সন্তান নিয়ে মায়ের বাচার আকুতি: কিডনি দিতে প্রস্তুত স্বামী, বাধা শুধু অর্থসংকট

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    আমি বাচতে চাই, আমার সন্তানদের জন্য বাচতে চাই’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর এলাকার মোবারকপাড়ার বাসিন্দা মোসা. রোকসানা খাতুন (৪৫)। দুই সন্তানের এই জননী বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। দুটি কিডনি প্রায় সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে যাওয়ায় তার জীবন এখন নির্ভর করছে নিয়মিত ডায়ালিসিসের ওপর।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের শুরু থেকেই রোকসানার শরীরে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, অরুচি ও তীব্র শারীরিক ব্যথাসহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর অসুস্থ থাকার পর চলতি বছরের ২৭ মার্চ তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে কিডনির জটিল সমস্যা ধরা পড়ে।

    পরবর্তীতে ৩১ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে কিডনি বিশেষজ্ঞ ও সহকারি অধ্যাপক ডা. এমডি তৌহিদ বিল্লাল তপনের তত্ত্বাবধানে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দ্রুত ডায়ালিসিস শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    এরপরই রোকসানা ও তার পরিবার জানতে পারেন, তার দুটি কিডনিই প্রায় সম্পূর্ণরূপে অকেজো হয়ে গেছে। এমন দুঃসংবাদে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার।

    স্ত্রীকে সুস্থ করে তুলতে স্বামী মো. আমিন নিজের সাধ্যমতো চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে চিকিৎসার পেছনে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয়ে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।

    বর্তমানে রোকসানাকে সপ্তাহে দুইবার চুয়াডাঙ্গার খলিল মল্লিক ডায়ালিসিস সেন্টারে ডায়ালিসিস করাতে হচ্ছে। প্রতিবার ডায়ালিসিস, ওষুধ ও যাতায়াত খরচ মিলিয়ে মাসে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, যা একটি দিনমজুর পরিবারের পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

    সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী বিষয় হলো, স্ত্রীকে বাচাতে নিজের একটি কিডনি দিতে প্রস্তুত রয়েছেন স্বামী আমিন। তবে চিকিৎসকদের মতে, কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে, যা তাদের আর্থিক সামর্থ্যের অনেক বাইরে।

    একসময় কার্পাসডাঙ্গার একটি মুরগির খামারে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন আমিন। কিন্তু বর্তমানে অসুস্থ স্ত্রীর সার্বক্ষণিক সেবাযত্নের জন্য সেই কাজও ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এখন স্ত্রীকে গোসল করানো, খাওয়ানো, রান্নাবান্নাসহ সংসারের প্রায় সব দায়িত্বই তার কাধে।

    কান্নাভেজা চোখে আমিন বলেন, আমি আমার কিডনি দিয়ে স্ত্রীকে বাচাতে চাই। কিন্তু অপারেশনের টাকা জোগাড় করতে পারছি না। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো আমার দুই সন্তানের মা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

    চিকিৎসকদের ভাষ্য, দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করা গেলে রোকসানার সুস্থ জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে তার শারীরিক ঝুকি।

    মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে পুরো পরিবার। সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতাই হতে পারে রোকসানা খাতুনের নতুন জীবনের আশার আলো।

    সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা: মো. আমিন
    বিকাশ/নগদ/রকেট: ০১৪০৪৭৩০৮০৪

    একটি ছোট সহযোগিতাই ফিরিয়ে দিতে পারে দুই সন্তানের মায়ের মুখের হাসি, বাচাতে পারে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ।

  • খোকসায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা

    খোকসায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা

    স্টাফ রিপোর্টার

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার পৌর এলাকার কমলাপুর গ্রামের নবম শ্রেণির এক স্কুল পড়ুয়া ছাত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    আত্মহত্যার শিকার খোকসা পৌর এলাকার কমলাপুর গ্রামের মো: জিল্লুর রহমানের মোছাঃ তানিয়া জোয়াদ্দার জেরিন (১৪) এবং সে খোকসা জানিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

    পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে গত ১৫ জুন সোমবার সকালে তার মা মোছাঃ রাজিয়া খাতুন তাকে বকাঝকা করেন। এরপর দুপুরের দিকে তানিয়া নিজ শয়নকক্ষের দরজা বন্ধ করে একা অবস্থান করে। আনুমানিক বেলা ৩টার দিকে তার দাদি পিয়ারা খাতুন ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে দেখতে পান, ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তানিয়া ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।

    তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

    খোকসা থানার ওসি(তদন্ত) মোশাররফ হোসেন আত্মহত্যার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনাটি মর্মান্তিক।

  • ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ রুটে ‘দ্বিতীয় যমুনা সেতু’ নির্মাণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

    ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ রুটে ‘দ্বিতীয় যমুনা সেতু’ নির্মাণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

    গাইবান্ধা প্রতিনিধি

    যমুনা নদীর ওপর গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যে ‘দ্বিতীয় যমুনা বহুমুখী সেতু’ নির্মাণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

    ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ঘাট দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়ন কেন্দ্রীয় কমিটি’র উদ্যোগে চরাঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করা হয়।

    স্মারকলিপিতে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে যমুনার দুই চ্যানেলে পৃথক দুটি সেতু নির্মাণ এবং মাঝখানের স্থায়ী চরে আধুনিক কেন্দ্রীয় রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন, চরাঞ্চলের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠা এবং যমুনার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত ‘চর ট্যুরিজম’ গড়ে তোলা।

    স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন নবী টিটুল এবং সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান বাবু।

    সমাবেশে বক্তব্য দেন সাঘাটার ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মণ্ডল, ফুলছড়ির গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলী খান খুশু, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হুদা শাহিন, আশরাফুল ইসলাম টিটু, মশিউর রহমান, সাদেকুল ইসলাম মনির, মাজেদুর রহমান মাজু ও জাহাঙ্গীর আলম।

    এছাড়া সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর সরকার, সমাজসেবক ওহিদুল ইসলাম জয়, সামছুল হক, কচুয়াহাট ছিন্নমূল সমিতির প্রতিনিধি দুলু মিয়া এবং প্যানেল চেয়ারম্যান জিহাদুর রহমান মওলা। এ সময় চরাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ যোগাযোগ রুট পুনরায় চালু করা সময়ের দাবি। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে এবং যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর যানবাহনের অতিরিক্ত চাপও কমবে। তাই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।

  • কালুখালীতে ৫ কিঃমিঃ খাল পুন:খনন সুবিধা পাবে ৫ টি বিল- দু-পাশে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন

    কালুখালীতে ৫ কিঃমিঃ খাল পুন:খনন সুবিধা পাবে ৫ টি বিল- দু-পাশে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন

    রাজবাড়ী প্রতিনিধি 

    রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের কুমোর গাড়া বিল হতে ৬ নং ওয়ার্ডের গড়াই টিকরির বিল ভায়া মুনাই বিল হতে বেতবাড়ীয়া অভিমুখী ৫ কিঃ মিঃ খাল পুনঃখনন ও খালের দু পাশ দিয়ে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

    সোমবার (১৫ ম জুন) প্রধান অতিথি হিসেবে এ খাল পুনঃখননের প্রকল্পের বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন।

    এসময় কালুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: লুৎফর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিমাই চন্দ্র রায়, মাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শরিফুল ইসলাম, মৃগী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দুলাল মৌলবীসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাহ উদ্দিন বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার পাইলটিং প্রকল্প হিসাবে আমাদের মাজবাড়ী ইউনিয়নে ৫ কিলোমিটার খাল পুন: খনন কাজ চলমান রয়েছে, আশাকরি সঠিক সময়ের মধ্যেই এ কাজ সুন্দর ভাবে শেষ হবে।

    এ প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি আমাদের এই বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির উদ্যোগের ফলে বর্জ্রপাত সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে মুক্তি মিলবে বলেই বিশ্বাস এই কর্মকর্তার।

    খাল খননে ও বৃক্ষ রোপন হলে জলাবদ্ধতা কমবে, পানির ধারণক্ষমতা বাড়বে। কৃষি জমির সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে। তিনি খাল পুনঃখননে ও বৃক্ষ রোপণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

    অনুষ্ঠান শেষে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন বলেন প্রায় ২০০০ হাজার গাছের চারা রোপন করা হবে। এই গাছ যাতে ভালো থাকে এলাকার লোকজন দেখে রাখবে,এটা আমার আপনার সম্পদ।

    প্রসঙ্গত : উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)’র আওতায় উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নে ৫ কিঃ মিঃ খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষ-রোপনের কাজের ব্যায় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৮ লক্ষ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। যেখানে ২৯৭ জন শ্রমিক ৪৩ দিনে ৫০০ টাকা হারে দিনমজুর হিসেবে কাজ করবেন।

  • টেকনাফে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    টেকনাফে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    কক্সবাজার প্রতিনিধি 

    কক্সবাজারের টেকনাফে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি খালি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলিসহ কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি মনছুর আলম (৪২)কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১৫।

    সোমবার (১৫ জুন) ভোরে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের বাহারছড়া এলাকায় র‌্যাব-১৫, সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
    র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাহারছড়া এলাকার একটি দোতলা বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক মজুত থাকার তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির মালিক পালানোর চেষ্টা করলে সদস্যরা তাকে ঘেরাও করে আটক করতে সক্ষম হন।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তি মনছুর আলম (৪২) টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা।

    অভিযানে তার হেফাজত থেকে একটি বিদেশি তৈরি পিস্তল, একটি খালি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

    র‌্যাবের দাবি, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি নিজ হেফাজতে রাখার মাধ্যমে তিনি ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

    গ্রেপ্তার আসামি ও উদ্ধার করা আলামত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে র‌্যাব-১৫ জানিয়েছে।