Category: স্বাস্থ্য

  • আদ-দ্বীন হাসপাতালের রোগীদের জন্য পোস্তগোলায় বিকল্প সেবা, ফ্রি পরিবহন সুবিধা

    আদ-দ্বীন হাসপাতালের রোগীদের জন্য পোস্তগোলায় বিকল্প সেবা, ফ্রি পরিবহন সুবিধা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে মগবাজার শাখার রোগীরা চাইলে আদ-দ্বীন ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক হাসপাতাল-এ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এ জন্য রোগী ও তাদের স্বজনদের যাতায়াতের সুবিধার্থে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দুটি গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মগবাজার শাখা থেকে পোস্তগোলা শাখায় রোগী পরিবহনের জন্য বিশেষ যানবাহন চালু করা হয়েছে। এই সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রোগী কিংবা তাদের সঙ্গে থাকা স্বজনদের কোনো ভাড়া পরিশোধ করতে হবে না।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মগবাজার শাখায় যেসব চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়, তার সবই পোস্তগোলা শাখায় পাওয়া যাবে। ফলে রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা সহজেই গ্রহণ করতে পারবেন। রোগীদের ভোগান্তি কমানো এবং চিকিৎসাসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মগবাজার-পোস্তগোলা রুটে গাড়িগুলো চলাচল করবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে রোগীদের মগবাজার শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ২৭ মে মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং রোগীদের সেবা প্রদান অব্যাহত আছে। এই প্রেক্ষাপটে রোগীদের জন্য বিকল্প সেবা কেন্দ্র হিসেবে পোস্তগোলা শাখার সক্ষমতা কাজে লাগাতে এবং চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য রাখতে বিনামূল্যে পরিবহন সুবিধাসহ নতুন এই উদ্যোগ চালু করা হয়েছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড

    প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড

    নোয়াখালী প্রতিনিধি 

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে ক্লোজড করা হয়।

    মঙ্গলবার দুপুরে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি হাজিরা খাতা ও ডিউটি রোস্টার যাচাই করে বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও দেরিতে উপস্থিত হওয়ার তথ্য পান।

    পরিদর্শনকালে রোগী ও স্বজনরা হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া এবং দালালচক্রের সীমাহীন দৌরাত্ম্য, হাসপাতালের খাবারে সমস্যা, টয়লেলেটর অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় রোগীর স্বজনা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে সেবা পেতে উঠতে-বসতে টাকা লাগে।

    পরিদর্শনের একপর্যায়ে মন্ত্রী হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ও টয়লেট ঘুরে দেখেন। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ওষুধের মজুত এবং রোগীদের জন্য দেওয়া বিভিন্ন সেবার মানও খাবার তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। হাসপাতালে অনিয়ম দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন তিনি। হাসপাতাল পরিচালনায় ব্যর্থতার দায়ে তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে ক্লোজড করা হয়। একই সঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. আনার হোসেনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারী সরকারের শাসন ছিল। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব দেখা গেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারও টিকাদান কার্যক্রমে যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি। পরে অনেক কষ্ট করে টিকা সংগ্রহ করে আমরা শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি।স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এমন জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সারা দেশের হাসপাতালগুলোতেই আমরা নানা সমস্যা দেখতে পাচ্ছি; যেখানে হাত দিচ্ছি, সেখানেই ভয়াবহ চিত্র সামনে আসছে।নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এসে অমানবিক পরিস্থিতি দেখেছি। এখানে নতুন একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে, তবে এর অগ্রগতি অত্যন্ত ধীরগতির। আজ যেসব অব্যবস্থাপনা আমরা দেখেছি, সেগুলোর দায় তত্ত্বাবধায়ক এড়াতে পারেন না। এ কারণেই তাকে ক্লোজড করা হয়েছে।

  • গোপালগঞ্জে আইসিইউ উদ্বোধন, স্টার্টআপ প্রদর্শনী

    গোপালগঞ্জে আইসিইউ উদ্বোধন, স্টার্টআপ প্রদর্শনী

    গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 

    গোপালগঞ্জে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ উদ্বোধন, স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম এবং জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর।

    রোববার (১৪ জুন) সকাল ১১টায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে দেশের ১০টি জেলার ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ উদ্বোধন করেন। পরে ডা. কে এম বাবর গোপালগঞ্জের আইসিইউর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, আধুনিক আইসিইউ চালুর মাধ্যমে সংকটাপন্ন রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা এখন জেলাতেই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, পূর্বে আর্থিক অনিয়ম ও নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের কারণে এ সেবা দীর্ঘদিন কার্যকর ছিল না।

    এর আগে সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ পৌর মিলনায়তনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের প্রশংসা করে ডা. কে এম বাবর বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনী চর্চাই আগামীর উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।

    প্রতিযোগিতায় গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজ প্রথম, বাঘিয়ারঘাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ দ্বিতীয় এবং নারিকেলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় তৃতীয় স্থান অর্জন করে।

    পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ডা. এ কে এম বাবর জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জননিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

  • হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

    হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    দেশে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৩৯।

    বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সময়ের।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯২। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৪৭ জন।

    হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৬ জন, সিলেট ও বরিশালে একজন করে মারা গেছে।

    এ ছাড়া নতুন করে ৯৪ নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৯২৭ জন। আর ৯৪৫ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২৯ জনে।

  • হামে কুমিল্লায় আরও ১ শিশুর মৃত্যু

    হামে কুমিল্লায় আরও ১ শিশুর মৃত্যু

     

    কুমিল্লা প্রতিনিধি 

    কুমিল্লায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুর নাম সিমরান (৬ মাস)। সে কুমিল্লা নগরীর নুরপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শিমুল মিয়ার কন্যা। এই সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনায় জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুন হামের উপসর্গ নিয়ে সিমরানকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক ডা. মিয়া মঞ্জুর আহমেদ।

    চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের নিয়মিত ও সময়মতো টিকা গ্রহণ না করানো এবং অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণেই মূলত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আশার কথা হলো, আগের তুলনায় বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

    কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ৩০ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ১৩৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৫৮৭ জন। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    সিভিল সার্জন কার্যালয় ও চিকিৎসকরা শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি শিশুদের শরীরে তীব্র জ্বর, ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ, কাশি কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

  • নোয়াখালীতে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, আইসোলেশনে-১০৮

    নোয়াখালীতে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, আইসোলেশনে-১০৮

    নোয়াখালী প্রতিনিধি

    নোয়াখালীতে হামের উপসর্গে আক্রান্ত আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামের উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৫৫ শিশু। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০৮ শিশু।

    রোববার (৩১ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) রাজীব আহমেদ চৌধুরী। এর আগে, গত শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    মৃত শিশুর নাম সাওবান (সাড়ে ৩ বছর)। সে জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার পৌরকড়া গ্রামের মো. ওসমানের ছেলে।

    হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ মে হামের উপসর্গ নিয়ে সাওবানকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তার তীব্র জ্বরের পাশাপাশি নিউমোনিয়াও ছিল। চিকিৎসকরা তাকে শিশু ওয়ার্ডে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। শুক্রবার বিকেল থেকে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এবং অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

  • ক্যানসার চিকিৎসায় ‘নজিরবিহীন’ ইনজেকশন আবিষ্কার

    ক্যানসার চিকিৎসায় ‘নজিরবিহীন’ ইনজেকশন আবিষ্কার

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ক্যানসারবিরোধী নতুন এক ইনজেকশনের পরীক্ষা চালিয়েছেন চিকিৎসকরা, যা রোগীদের শরীরে থাকা সম্পূর্ণ টিউমার নির্মূল করে দিতে পারে। চিকিৎসকরা এই ফলাফলকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে অভিহিত করেছেন। গবেষকরা এই পরীক্ষার ফলাফলকে ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের ১১টি দেশে আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় (ট্রায়াল) এমন রোগীদের শরীরে এই ইনজেকশ দেওয়া হয়, যাদের ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে বা পুনরায় ফিরে এসেছে এবং অন্যান্য চিকিৎসায় যাদের কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

    ফলাফলে দেখা গেছে, ‘অ্যামিভ্যান্টাম্যাব’ (Amivantamab) নামের এই ইনজেকশন এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি রোগীর টিউমার ছোট করতে পেরেছে। অনেকের ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। চিকিৎসকরা দেখতে পান, তাদের মধ্যে ১৫ জন রোগীর টিউমার সম্পূর্ণভাবে গলে গেছে।

    লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চের (আইসিআর) জৈবিক ক্যানসার চিকিৎসাবিষয়ক অধ্যাপক কেভিন হ্যারিংটন বলেন, ‘যেসব রোগীর ক্যানসার কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি উভয় চিকিৎসারই প্রতিরোধী (রেজিস্ট্যান্ট) হয়ে উঠেছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি নজিরবিহীন ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া।’

    তিনি বলেন, ‘এ ধরনের রোগীদের জন্য চিকিৎসার বিকল্প খুবই সীমিত। তাই এই উপকারিতা দেখা সত্যিই আশাব্যঞ্জক।’

    কেভিন হ্যারিংটন পাশাপাশি রয়্যাল মার্সডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের কনসালট্যান্ট অনকোলজিস্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘এই চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতি বছর হাজার হাজার ক্যানসার রোগীর উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্যানসার সম্মেলন ‘আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি’র (অ্যাসকো) বার্ষিক সভায় রেবাবার এই ফলাফল উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

    মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে অভূতপূর্ব সাড়া

    বিশ্বের ষষ্ঠ সর্বাধিক প্রচলিত ক্যানসার মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসার। এই ট্রায়ালে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত ১০২ জন রোগীকে অ্যামিভ্যান্টাম্যাব ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৪৩ জনের টিউমার ছোট হয়ে গেছে বা সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। আর ২৮ জনের টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে এবং ১৫ জনের টিউমার পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে।

    গবেষকরা বলেছেন, ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও এই ইনজেকশন একই ধরনের ফলাফল দেখিয়েছে। জনসন অ্যান্ড জনসনের আবিষ্কৃত অ্যামিভ্যান্টাম্যাব বর্তমানে প্রায় ৬০টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ফুসফুসের ক্যানসারের পাশাপাশি মলাশয় (কোলোরেক্টাল), মস্তিষ্ক ও পাকস্থলীর ক্যানসারের ক্ষেত্রেও এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

    তিন উপায়েইনজেকশনের কর্মপ্রক্রিয়া

    এই ‘স্মার্ট’ ইনজেকশন তিনটি ভিন্ন উপায়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করে প্রথমত, এটি ইজিএফআর (এপিডার্মাল গ্রোথ ফ্যাক্টর রিসেপ্টর) নামের এমন একটি প্রোটিনকে বাধা দেয়, যা টিউমারের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।

    দ্বিতীয়ত, এটি এমইটি নামের একটি পথও বন্ধ করে দেয়, যেটি ব্যবহার করে ক্যানসারের কোষগুলো প্রচলিত চিকিৎসাকে ফাঁকি দিতে পারে।

    তৃতীয়ত, এটি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে সক্রিয় করে টিউমারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে।

    রোগীর অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া

    এই চিকিৎসায় প্রথম দিকে সুফল পান ৫৬ বছর বয়সী কার্ল ওয়ালশ। ২০২৪ সালের মে মাসে তার জিবে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তিনি রয়্যাল মার্সডেনে ‘অরিগ্যামি-৪’ নামের ওই ট্রায়ালে যোগ দেন।

    কার্ল ওয়ালশ বলেন, ‘শুরুতে আমাকে কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেগুলো সফল হয়নি। পরে আমাকে অরিগ্যামি-৪ ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এখন আমি চিকিৎসার সপ্তদশ চক্রে আছি। এই অগ্রগতিতে আমি খুবই সন্তুষ্ট।’

    অন্যান্য ক্যানসার চিকিৎসার মতো অ্যামিভ্যান্টাম্যাব শিরায় স্যালাইনের মাধ্যমে না দিয়ে ত্বকের নিচে ছোট একটি ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়। ফলে এর চিকিৎসা দ্রুত, সহজ এবং বহির্বিভাগে পরিচালনা করাও সুবিধাজনক।

    প্রতি তিন সপ্তাহে একবার দেওয়া এই চিকিৎসার বেশির ভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই ছিল মৃদু বা মাঝারি মাত্রার। ১০ জনের মধ্যে একজনেরও কম রোগীকে এই চিকিৎসা বন্ধ করতে হয়েছে।

    ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের বাসিন্দা ওয়াশ বলেন, ‘আমি এখন প্রায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছি। ট্রায়াল শুরু করার আগে ফোলা ও ব্যথার কারণে ঠিকমতো কথা বলতে পারতাম না, খেতেও অনেক কষ্ট হতো। চিকিৎসা শুরুর পর ফোলা অনেক কমে গেছে এবং ব্যথাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কেমোথেরাপির সময় জীভনের ওপর যে প্রভাব বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছিল, এখন আর তা হচ্ছে না।’

    পুরোনো দিনের কথা মনে করে তিনি বলেন, অসুস্থতার সবচেয়ে কঠিন সময়ে তাকে স্যুপ, রাইস পুডিং, ক্যানজাত পাস্তা ও অমলেটের মতো নরম খাবার খেতে হতো। এর সঙ্গে দিনে তিনবার চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী পুষ্টিকর দুধের পানীয়ও খেতে হতো। এতে তার ওজনও বেশ কমে গিয়েছিল।

    তিনি বলেন, ‘চিকিৎসার মাত্র দুই চক্রের পর থেকেই আমার খাদ্যাভ্যাস স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং ছয় মাসের মধ্যে আমি সব ধরনের খাবার খেতে পারছিলাম। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ছিল অনেক দিন পর প্রথম বড় স্টেক খাওয়া। আমার কথাবার্তাও এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক এবং কর্মক্ষেত্রে হেডসেট ব্যবহার করে নিয়মিত কথা বলতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

    ইতিবাচক অগ্রগতি

    গবেষকরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায মূলত মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ওপর পরিচালিত হয়েছিল। তবে এ পরীক্ষায় হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) পজিটিভ ওরোফ্যারিন্জিয়াল স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমার রোগীরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।

    তারা বলছেন, এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসা করা আরও কঠিন। তাই এই গ্রুপের রোগীদের ক্ষেত্রে এমন অগ্রগতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ার পর এই ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের বাঁচার সম্ভাবনা যেখানে খুবই কম, সেখানে অ্যামিভান্টাম্যাব নেওয়া রোগীরা চিকিৎসা শুরুর পর গড়ে সাড়ে ১২ মাস বেঁচে ছিলেন।

    আইসিআরের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ক্রিস্টিয়ান হেলিন বলেন, ‘এই গবেষণা দেখিয়েছে যে কীভাবে কঠোর বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি করা সম্ভব, যা সীমিত চিকিৎসার সুযোগ থাকা রোগীদের ক্ষেত্রেও অর্থপূর্ণ অগ্রগতি এনে দিতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, ‘যখন এমন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করা অত্যন্ত কঠিন, এর মধ্যে এই মাত্রার প্রতিক্রিয়া এবং বেঁচে থাকার আশাব্যঞ্জক হার অর্জন করা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’

    সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

  • সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

    সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ব্যাখ্যা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    শনিবার (৩০ মে) হাসপাতালের পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৭ মে হাসপাতালে ছয় নবজাতকের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পুলিশ, র‍্যাবসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ব্যাপক গণমাধ্যম কাভারেজের কারণে হাসপাতালের চিকিৎসক ও সেবাকর্মীরা কয়েকদিন ধরে মানসিক চাপে দায়িত্ব পালন করছেন।

    শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিদর্শনের পর বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক হাসপাতালে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বার্থে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিছু সাংবাদিক হাসপাতালের পরিচ্ছন্নকর্মীদের সঙ্গে কথা বললে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। কয়েকজন কর্মী উত্তেজিত আচরণ করেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উপস্থিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। সাংবাদিকদের প্রতি কোনো ধরনের অসম্মান প্রদর্শনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত বলে বিবেচনা করেন। আদ-দ্বীন হাসপাতাল সব সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা অনভিপ্রেত উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে। কোনো কর্মীর আচরণে সাংবাদিকরা কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

  • রাতে ঘুমের মধ্যে ঘামা ক্যানসারের লক্ষণ নয় তো

    রাতে ঘুমের মধ্যে ঘামা ক্যানসারের লক্ষণ নয় তো

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    সাধারণত ঘামের মাধ্যমেই মানুষের শরীর নিজের তাপমাত্রা ঠিক রাখে। তাই শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে প্রাকৃতিকভাবেই আমরা ঘামি। এছাড়া অন্যান্য শারীরিক সমস্যা, ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও অন্যান্য আরও অনেক বিষয়েও মানুষের ঘামার সঙ্গে জড়িত।

    তবে ঘামের এই সাধারণ প্রক্রিয়াই আপনার শরীরের ক্যানসার বাসা বেঁধেছে কি না তার বড় একটি লক্ষণ হতে পারে। রাতের বেলা ঘুমের মধ্যে ঘামা মূলত ক্যানসারের একটি প্রাথমিক লক্ষণ।

    তবে মনে রাখবেন, যদিও রাতে ঘাম হওয়া ক্যানসারের একটি সাধারণ লক্ষণ, তবে ক্যানসার হওয়ার পেছনে আরও বেশ কিছু কারণ দায়ী থাকতে পারে। এছাড়াও রাতের ঘামার পেছনে রয়েছে কার্সিনয়েড টিউমার, লিউকেমিয়া, ফিস্ফোমা, হাড়ের ক্যানসার, লিভার ক্যানসার ও মেসোথেলিওমার মতো আরও অনেক সমস্যা।

    ক্যানসারের কারণেই যে রাতে ঘুমের মধ্যে ঘাম হয়, কোনো গবেষণায় এমন কোনো প্রমাণ স্পষ্ট নয়। হতে পারে শরীর ক্যানসার বা অন্য যে কোনো সমস্যার সঙ্গে লড়াই করার চেষ্টা করছে। এছাড়া শরীরের হরমোন পরিবর্তনের কারণেও রাতে ঘাম হতে পারে।

    গবেষণা বলে, ক্যানসার অনেক সময় জ্বর সৃষ্টি করে। আর এ সময় শরীর অতিরিক্ত ঘেমে সেই তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করে। কারণ তখন শরীর ঠান্ডা হওয়ার চেষ্টা করে। কখনো কেমোথেরাপি, হরমোন পরবর্তনকারী ওষুধ এবং মরফিনের মতো ক্যানসার চিকিৎসাও রাতে অতিরিক্ত ঘামের কারণ হতে পারে।

    তবে মনে রাখবেন, ক্যানসারের কারণে যদি রাতে ঘাম হয়, সেক্ষেত্রে ক্যানসারের অন্যান্য লক্ষণগুলো অনুভব করবেন আপনি। আর সেই অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর আসা ও হঠাৎ ওজন কমা।

    ক্যানসার ছাড়াও অন্যান্য কিছু কারণে রাতে ঘুমের মধ্যে ঘাম হতে পারে। যেমন, মেয়েদের পেরিমেনোপজ ও মেনোপজের সময় হরমোনের মাত্রার পরিবর্তন হলে রাতে ঘামের সমস্যা হতে পারে। অন্যদিকে, নারীদের গর্ভাবস্থায় হরমোন এবং শরীরের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। আর শরীরে কিছু ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের (যেমন যক্ষ্মা ও এন্ডোকার্ডাইটিস) ক্ষেত্রেও রাতে ঘামার সমস্যা হতে পারে।

    রাতে অতিরিক্ত ঘামার ক্ষেত্রে, ইডিওপ্যাথিক হাইপারহাইড্রোসিসও একটি কারণ হতে পারে। এটি মূলত এমন একটি অবস্থা যা শরীরে ঘন ঘন মাত্রাতিরিক্ত ঘাম তৈরি করে। আবার অতি সক্রিয় থাইরয়েড বা হাইপারথাইরয়েডিজম, মানসিক চাপ, উদ্বেগের কারণেও রাতে ঘুমের মধ্যে ঘাম হতে পারে।

    অন্যান্য কারণের মধ্যে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গরম পানীয় পান করা, মদ্যপান, মসলাদার খাবার খাওয়া ইত্যাদি কারণেও ঘুমের মধ্যে ঘাম হতে পারে। তবে নিয়মিত মাত্রাতিরিক্ত ঘাম হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করবেন না।

    মনে রাখবেন, বেশিরভাগ মানুষই কখনও না কখনও রাতে ঘাম হওয়ার সমস্যা অনুভব করেন। তবে সাধারণত এতে কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হয় না। যদি আপনার নিয়মিত রাতে ঘাম হয়, তবে এর পরিণতি নির্ভর করে মূলত এর কারণের ওপর। ক্রমাগত রাতে ঘাম হওয়া হলো আপনার শরীরের একটি সংকেত, যা আপনাকে জানিয়ে দেয় যে বড় কোনো সমস্যা হতে পারে।

    যদি নিয়মিত আপনার রাতে ঘামার সমস্যা দেখা দেয় তবে উপসর্গগুলো নিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আপনার রাতে ঘাম হওয়ার কারণ নির্ণয় করতে পারলে এটির চিকিৎসা করা সহজ হবে।

     

    সূত্র :  হেলথ লাইন

  • হামে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৫২৮

    হামে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৫২৮

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    সারাদেশে ২৩ মে সকাল ৮টা থেকে ২৪ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে দেশে হাম ও হামের সদৃশ উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৫২৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩০৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে এদের মধ্যে ১২৮ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম সংক্রমণে অন্তত ৮৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে হামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপসর্গ নিয়ে আরও ৪৪২ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

    ডিজিএইচএসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ মে পর্যন্ত সময়কালে সারাদেশে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ৮ হাজার ৬২২ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে।

    সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্যমতে, দেশব্যাপী এ পর্যন্ত মোট ৬৩ হাজার ৮১৩ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৬ হাজার ২১৪ জন রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে আক্রান্ত অন্যদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।