Desk: এম টি রহমান মাহমুদ গোপালগঞ্জ

  • গোপালগঞ্জে মানসিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা নিখোঁজ

    গোপালগঞ্জে মানসিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা নিখোঁজ

    গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম করপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিজান আহম্মেদ ফোনে বিস্তারিত তথ্য জানান যে, গোবিন্দ বিশ্বাসের মানসিক প্রতিবন্ধী মা অনুমানিক ৫/৬ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাননি।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, নিখোঁজ ওই নারী মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি নিজের নাম-পরিচয় কিংবা বাড়ির ঠিকানা সঠিকভাবে বলতে নাও পারেন। এ কারণে পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

    এ অবস্থায়, যদি কোনো সহৃদয়বান ব্যক্তি তাকে কোথাও দেখতে পান বা তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারেন, তাহলে দ্রুত নিচের যেকোনো নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    যোগাযোগ: সিজান আহম্মেদ: 01729-464048 / 01728-721531

    মানবিক আবেদন একজন অসহায় মানসিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধাকে দ্রুত তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সংবাদটি সর্বোচ্চ শেয়ার করে সহযোগিতা করুন। আপনার একটি শেয়ারই হতে পারে একজন মায়ের নিরাপদে ঘরে ফেরার মানবতা। কেহ সন্ধান দিলে পরিবার আর্তনাদ থেমে যেত! যদি কোন ভাই ব্যক্তি তার সন্ধান দিয়ে আমাদের উপকৃত করবেন। মানবতার কল্যাণ সকলের কাছে আবেদন করছি। সাংবাদিক সহ সকল বিবেকবান ব্যক্তিবর্গ এর কাছে।

  • গোপালগঞ্জ জেলার কর্মরত (পিবিআই) উপ-পুলিশ পরিদর্শক রূপকুমার বিদায় সংবর্ধনা

    গোপালগঞ্জ জেলার কর্মরত (পিবিআই) উপ-পুলিশ পরিদর্শক রূপকুমার বিদায় সংবর্ধনা

    পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গোপালগঞ্জ জেলায় কর্মরত উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) জনাব রূপকুমার বিশ্বাস-এর বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু, পুলিশ সুপার, পিবিআই, গোপালগঞ্জ জেলা। এ সময় পিবিআই গোপালগঞ্জ জেলার সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও ফোর্স বিদায়ী কর্মকর্তার কর্মনিষ্ঠা, সততা, আন্তরিকতা ও সহকর্মীদের প্রতি তাঁর আন্তরিক আচরণের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য প্রদান করেন। বিদায়ী কর্মকর্তা জনাব রূপকুমার বিশ্বাসও পিবিআই গোপালগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালীন বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরে সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো স্মরণ করতে গিয়ে পরিবেশ আবেগঘন হয়ে ওঠে।

    সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার জনাব শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, “বদলি চাকরিজীবনের স্বাভাবিক নিয়ম। তবে একজন সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল সহকর্মীকে বিদায় জানানো সবসময়ই কষ্টের। আমি বিশ্বাস করি, জনাব রূপকুমার বিশ্বাস নতুন কর্মস্থলেও সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ পুলিশ-এর সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবেন। মহান আল্লাহ তাঁর কর্মজীবনকে আরও সাফল্যমণ্ডিত করুন এবং পরিবার-পরিজনকে নিয়ে সুস্থ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ জীবন দান করুন।”

    পরিশেষে পুলিশ সুপার মহোদয় বিদায়ী কর্মকর্তার হাতে ফুলের তোড়া ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিদায়ের এ মুহূর্তটি সহকর্মীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য নিদর্শন হয়ে থাকবে। এই ভালবাসা সব সময় আলোকিত। এই পৃথিবী ক্ষনস্থায়ী! আমরা ও মানুষ। আমরা চাই সকলে মিলে সুন্দর একটা বাংলাদেশ।

  • গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে টাকা চুরির অভিযুক্ত আসামি গ্রেফতার

    গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে টাকা চুরির অভিযুক্ত আসামি গ্রেফতার

    গোপালগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ক্যাশ কাউন্টার থেকে টাকা চুরি: থানা কর্তৃক দাখিলকৃত এফআরটির, সিসিটিভির সূত্র ধরে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, দুই বছর পর পিবিআই কর্তৃক আসামি গ্রেফতার; আদালতে স্বীকারোক্তি।

    ২০২৪ সালের ১ জুলাই গোপালগঞ্জের কারারগাতী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের ক্যাশ কাউন্টারে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায়কৃত বিদ্যুৎ বিলের ১,৬০,৬১২ টাকা রাখা একটি শপিং ব্যাগ চুরি হয়। খোঁজাখুঁজির পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি দীর্ঘ সময় কাউন্টারের সামনে অবস্থান করে দুপুর ২টা ৪৭ মিনিটে ক্যাশ কাউন্টারের গ্লাসের ফাঁক দিয়ে হাত ঢুকিয়ে নিচের তাকে রাখা টাকাভর্তি ব্যাগটি নিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়।

    এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (প্রশাসন) ওমর ফারুক বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা নং-১০, তারিখ: ০৪/০৭/২০২৪ খ্রি., ধারা: ৩৮০, পেনাল কোড-এ মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ দীর্ঘ ৯ মাস ১৬ দিন তদন্ত শেষে বিজ্ঞ আদালতে এফআরটি (Final Report True) দাখিল করে। পরবর্তীতে বাদীর নারাজি আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে পিবিআই গোপালগঞ্জ জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই গোপালগঞ্জ জেলার এসআই (নিঃ) মোঃ নজরুল ইসলাম।

    পুলিশ সুপার, পিবিআই, গোপালগঞ্জ “জনাব শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু-এর সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরির ঘটনায় জড়িত মোঃ টিটন খান (৩৫)-কে শনাক্ত করেন। তিনি অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে আটক ছিলেন। পরবর্তীতে ০৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালতের অনুমতিক্রমে তাকে এ মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

    পিবিআইর তদন্ত এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ টিটন খান (৩৫) একজন পেশাদার পকেটমার। ঘটনার দিন তিনি খুলনা থেকে বাসযোগে গোপালগঞ্জে এসে প্রথমে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের আশপাশে পকেটমারির সুযোগ খুঁজতে থাকেন। তবে সেখানে সুযোগ না পেয়ে তিনি গোপালগঞ্জ বাজারে ঘোরাফেরা করতে থাকেন। এ সময় এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পকেটে বিপুল পরিমাণ টাকা দেখতে পেয়ে তাকে অনুসরণ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, গোপালগঞ্জ-এর ক্যাশ কাউন্টারের সামনে যান। একপর্যায়ে তিনি ক্যাশ কাউন্টারের সামনে কাচের ভেতরে রাখা একটি শপিং ব্যাগ দেখতে পান। দুপুর আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে কাউন্টারের কাচের ফাঁক দিয়ে হাত প্রবেশ করিয়ে ব্যাগটি বের করে নেন। ব্যাগের ভেতরে বিপুল পরিমাণ টাকা দেখতে পেয়ে তিনি তা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে খুলনায় পালিয়ে যান। এছাড়া, সিডিএমএস (CDMS) পর্যালোচনায় গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পূর্বে চুরির অভিযোগে দায়েরকৃত ৪টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

    ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান। পিআইবি সদস্যরা তাদের অভিজ্ঞতায় আসামিকে খুঁজে বের করতে তাদের মেধার প্রশংসনীয় করেন কর্তৃপক্ষ। পুলিশ প্রশাসন চাইলে এদেশ কে আলোকিত করতে পারবে..?

  • গোপালগঞ্জে পিতার গলা কেটে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন

    গোপালগঞ্জে পিতার গলা কেটে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন

    গোপালগঞ্জে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় জন্মদাতা পিতাকে ধারালো বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যার দায়ে ঘাতক ছেলে আলীম কাজীকে (২৫) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মাদ সামছুল হক জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আলীম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চর মানিকদাহ গ্রামের কাজীর বাজার এলাকার মৃত ইসমাইল কাজীর ছেলে।

    মামলার বিবরণীতে জানাযায়, সাজাপ্রাপ্ত আলীম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। ২০২৩ সালের ১২ মে সন্ধ্যায় তিনি মাদক সেবন করে বাড়িতে এসে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুর শুরু করলে তার বাবা ইসমাইল তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আলীম তার বাবাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান।

    পরবর্তীতে ১৩ মে সকালে ইসমাইল কাজী বাড়ির পাশে আখের রস বিক্রির উদ্দেশ্যে আখ পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় আলীম একটি ধারালো বটি নিয়ে এসে আকস্মিকভাবে তার বাবার গলায় সজোরে কোপ দেন। এতে ইসমাইল কাজীর শ্বাসনালী কেটে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

    এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের বড় ছেলে সেলিম কাজী বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত আজ আসামী আলীম কাজীকে পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত। মাদকাসক্ত হয়ে অনেক জীবন আজ ধংসের কারণ! আমরা এর পরিত্রাণ চাই।

  • গোপালগঞ্জ এস এ পরিবহন কুরিয়ারে নকল সিগারেটের ৭১ হাজার পিস জব্দ

    গোপালগঞ্জ এস এ পরিবহন কুরিয়ারে নকল সিগারেটের ৭১ হাজার পিস জব্দ

    কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে গোপালগঞ্জে পৌঁছেছিল বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেটের চালান। তবে সরবরাহের আগেই পুলিশের অভিযানে তা জব্দ করা হয়েছে। এ সময় প্রায় ৭১ হাজার পিস নকল সিগারেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

    আজ শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরের বিসিক শিল্পনগরীর ব্রিজ এলাকায় অবস্থিত এস এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের একটি শাখা কার্যালয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ।

    গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ছয়টি কার্টনে রাখা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট জব্দ করা হয়।
    পুলিশ জানায়, সাতক্ষীরা ও খুলনা থেকে গোপালগঞ্জের পাঁচ ব্যবসায়ীর নামে এসব সিগারেট বুকিং করা হয়েছিল। চালানের মূল্য ঢাকার উত্তরা কার্যালয়ে পরিশোধের নির্দেশনা ছিল। কিন্তু সিগারেট নিতে এসে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
    এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ চলছে। নকল সিগারেট সরবরাহকারী সিন্ডিকেটের সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা সিগারেটের প্রকৃত উৎস, সরবরাহ নেটওয়ার্ক এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এই কোন অবৈধ ভাবে কুরিয়ারে এসেছে সিগারেট! কুরিয়ারের ব্যবসা যারা করেন তাদেরকে আরো সতর্ক হওয়ার জন্য ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

  • কাশিয়ানী থানার অপরাধ দমনে সক্রিয়, আলোচনায় ওসি মাহফুজুর রহমান

    কাশিয়ানী থানার অপরাধ দমনে সক্রিয়, আলোচনায় ওসি মাহফুজুর রহমান

    গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। হত্যা, মাদক, চুরি ও অন্যান্য আলোচিত মামলার তদন্তে অগ্রগতি এবং বিভিন্ন অভিযানে আসামি গ্রেপ্তারের ঘটনায় কাশিয়ানী থানার কার্যক্রম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে।

    পুলিশ জানায়, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, মাদকবিরোধী অভিযান, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গোপালগঞ্জ জেলার মানবিক পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ এসব কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে গোপালগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নির্বাচিত হন। পরে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে পেশাগত দক্ষতা ও কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি আইজিপি ব্যাজ লাভ করেন। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেও তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে স্বীকৃতি পান।

    স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে থানা পুলিশের টহল ও অপরাধবিরোধী তৎপরতা বেড়েছে। বিভিন্ন ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের কারণে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে বলে তাঁদের ধারণা। তবে এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা।

    ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাশিয়ানী থানা পুলিশ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান, দ্রুত তদন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকার কারণে কাশিয়ানী থানার কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। আমরা সকলে মিলে এই সমাজটাকে আলোকিত করবো। যার যার স্হান থেকে একটি করে ভাল কাজ করলে এবং সকলে সচেতন হলে সমাজে কখন ও অপরাধ সংগঠিত হয় না।

  • গোপালগঞ্জে মায়ের মুক্তির দাবিতে ইউএনও কার্যালয়ে আট বছরের শিশু জেরিন

    গোপালগঞ্জে মায়ের মুক্তির দাবিতে ইউএনও কার্যালয়ে আট বছরের শিশু জেরিন

    গলায় ঝুলছে ছোট্ট একটি প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা, “আমার মা ও ৮ মাসের ভাইয়ের জেল থেকে মুক্তি চাই ? প্ল্যাকার্ডটি গলায় ঝুলিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এসে নীরবে বসে ছিল আট বছরের শিশু জেরিন। তার একটাই আবেদন মাকে আর ছোট ভাইকে যেন বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

    সকালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মায়ের মুক্তির দাবিতে সেখানে অপেক্ষা করছে জেরিন। তবে ওই সময় ইউএনও জেলা সদরে সরকারি কাজে থাকায় তার সঙ্গে দেখা করতে পারেনি শিশুটি।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিশু জেরিনকে নির্যাতনের অভিযোগে গত ২০ মে কোটালীপাড়া থানা-পুলিশ তার সৎ মা আকলিমাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আকলিমার সাত মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য ছেলেও মায়ের সঙ্গে কারাগারে রয়েছে। এরপর থেকেই পরিবারটি নানা সংকটের মধ্য দিয়ে দিন পার করছে।

    কান্নাজড়িত কণ্ঠে জেরিন বলেন, “মা জেলে যাওয়ার পর থেকে আমার খুব কষ্ট হয়। ছোট ভাইটাও জেলে আছে। ও তো কিছুই বোঝে না। মা তার ভুল বুঝতে পেরেছে। আমি চাই মা আর আমার ছোট ভাই বাসায় ফিরে আসুক। আমরা সবাই একসঙ্গে থাকতে চাই।”

    জেরিনের বাবা মুন্না মোল্লা বলেন, সংসারটা একেবারে ভেঙে গেছে। সাত মাসের ছেলে সন্তানটি জেলে বড় হচ্ছে, আর বাসায় তিনটি মেয়ে মাকে ছাড়া কষ্টে আছে। আইনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে আদালত যদি জামিন দেন, তাহলে পরিবারটি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।”

    স্থানীয় বাসিন্দা শাহানাজ বেগম বলেন, “জেরিনকে প্রায়ই মায়ের জন্য কাঁদতে দেখি। শিশুটির এই আকুতি আমাদেরও কষ্ট দেয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে, তবে শিশুদের বিষয়টি মানবিকভাবে দেখা প্রয়োজন।

    কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল বলেন, “মামলাটি বিচারাধীন হওয়ায় আদালতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে সাত মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশু ও তিন কন্যাশিশুর ভবিষ্যতের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার দাবি রাখে। শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।”

    একদিকে বিচারাধীন মামলা, অন্যদিকে মাকে ফিরে পাওয়ার জন্য একটি শিশুর আকুতি। দুই বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে জেরিনের ছোট্ট প্ল্যাকার্ডটি যেন বড় একটি প্রশ্ন তুলে ধরে- শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করতে সমাজ ও রাষ্ট্রের ভূমিকা কী থাকা উচিত!

    মানবতার কল্যাণ ও মানবিক দিক দেখার আকুতি শিশু সন্তানের!