Desk: এস.এম. হুমায়ুন কবির

  • নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবি’র অভিযানে ১ লাখ ৭৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার

    নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবি’র অভিযানে ১ লাখ ৭৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার

    সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযানে আবারও বড় সাফল্য অর্জন করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)। অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবিরের সার্বিক দিকনির্দেশনায় পরিচালিত আজকের বিশেষ অভিযানে ১ লাখ ৭৯০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক সিজার মূল্য ৩ কোটি ২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।

    সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে জারুলিয়াছড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী কাজু বাদাম বাগান এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বিজিবির আভিযানিক দল চোরাকারবারীদের ধাওয়া করে। এ সময় পাচারকারীরা তাদের কাছে থাকা ইয়াবা ফেলে জঙ্গলের ভেতরে পালিয়ে যায়।

    পরবর্তীতে বিজিবির বিশেষ দল ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ১০টি কার্টনে থাকা মোট ১ লাখ ৭৯০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করে। এর মধ্যে খয়েরি রঙের ৯৯ হাজার ৭৯২ পিস এবং সবুজ রঙের ৯৯৮ পিস ইয়াবা ছিল।

    বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্তে মাদক পাচার রোধে অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবিরের নেতৃত্বে গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। যার ফলে একের পর এক মাদকবিরোধী অভিযানে সফলতা আসছে।

    অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবির জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মাদক নির্মূলে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।”

    স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, আজকের এই বড় চালান উদ্ধার সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১১ বিজিবির পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা মাদকমুক্ত সীমান্ত গঠনে বিজিবির এমন অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

  • নাইক্ষ্যংছড়িতে আইন-শৃঙ্খলায় ইতিবাচক পরিবর্তন মাদক ও চোরাচালান দমনে সক্রিয় পুলিশ, প্রশংসায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

    নাইক্ষ্যংছড়িতে আইন-শৃঙ্খলায় ইতিবাচক পরিবর্তন মাদক ও চোরাচালান দমনে সক্রিয় পুলিশ, প্রশংসায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

    বান্দরবানের সীমান্তবর্তী উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়ি দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, অস্ত্র ও বিভিন্ন সীমান্ত অপরাধের কারণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে পরিচিত। মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন এই জনপদে একসময় চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের তৎপরতা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সোমবার (২২ জুন) নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পরিদর্শনে এসে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মোঃ নাজমুল হক মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও জনসম্পৃক্ত পুলিশিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

    সীমান্ত অপরাধ দমনে জোরালো অবস্থান স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক মাসে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার উদ্যোগে মাদক পাচার, চোরাচালান, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দোছড়ি, ঘুমধুম, তুমব্রু, বাইশারী ও সোনাইছড়ি এলাকার বিভিন্ন রুটে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক অভিযানে ইয়াবা, আইস, গাঁজা এবং চোরাচালানকৃত বিভিন্ন পণ্য জব্দ হওয়ার ঘটনাও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত ব্যবহার করে সক্রিয় থাকা কয়েকটি চোরাকারবারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

    ওসি মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে কার্যকর তৎপরতা
    স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে থানার কার্যক্রমে গতিশীলতা বেড়েছে। সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ বৃদ্ধির কারণে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফলাফল দেখা যাচ্ছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, আগে অনেক অপরাধী প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও বর্তমানে পুলিশের নজরদারি বৃদ্ধির কারণে তাদের তৎপরতা কমে এসেছে। মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে পুলিশের সক্রিয় উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

    ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সন্তোষ থানা পরিদর্শনের সময় বান্দরবানের পুলিশ সুপার খন্দকার ওয়াহাবুল হক নাইক্ষ্যংছড়ির সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চলমান মাদকবিরোধী অভিযান এবং থানার বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অতিরিক্ত ডিআইজিকে অবহিত করেন।

    পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ নাজমুল হক থানার বিভিন্ন শাখার কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম নিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    সীমান্ত নিরাপত্তায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন বিশেষজ্ঞদের মতে, নাইক্ষ্যংছড়ির মতো সীমান্তবর্তী এলাকায় শুধুমাত্র পুলিশের একক প্রচেষ্টায় অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পুলিশ, বিজিবি, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

    তাদের মতে, ওসি মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে চলমান অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং জনসম্পৃক্ত পুলিশিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে মাদক ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব হবে।

    জনআস্থার নতুন ভিত্তি সীমান্ত এলাকায় অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক উন্নয়নের ফলে নাইক্ষ্যংছড়িতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, এই ধারা অব্যাহত থাকলে সীমান্ত জনপদ নাইক্ষ্যংছড়ি অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ এলাকায় পরিণত হবে এবং পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

  • কচ্ছপিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হলেন সাংবাদিক জাবেদুল আনোয়ার

    কচ্ছপিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হলেন সাংবাদিক জাবেদুল আনোয়ার

    কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কচ্ছপিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তরুণ সাংবাদিক জাবেদুল আনোয়ার।

    শনিবার (২০ জুন) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত পরিচালনা কমিটির সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। বিদ্যালয়টি ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এটি এলাকার অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

    সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাবেদুল আনোয়ার মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, “কচ্ছপিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। এ দায়িত্ব লাভের পেছনে যাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা, সমর্থন ও দোয়া করেছেন, তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের ভালোবাসা, আস্থা ও সহযোগিতা আমার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।”

    তিনি আরও বলেন, “বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনে আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে চাই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।”

    এদিকে, জাবেদুল আনোয়ার সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁরা বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করতে তাঁর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।