Desk: ববি প্রতিনিধি

  • তীব্র লোডশেডিংয়ে নাকাল ববি শিক্ষার্থীরা, স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত

    তীব্র লোডশেডিংয়ে নাকাল ববি শিক্ষার্থীরা, স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) লাগামহীন লোডশেডিংয়ে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনে চার থেকে পাঁচ ঘন্টার অধিক লোডশেডিংয়ে পড়াশোনা, ক্লাস-পরীক্ষা, গবেষণায় ব্যাঘাত ঘটছে শিক্ষার্থীদের। বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা রাতে ঘুম ও পড়াশোনায় চরম ভোগান্তিতে দিনাতিপাত করছেন  চারটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা।

    লোডশেডিংয়ের কবলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দপ্তরগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটতেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় রেজিস্ট্রার শাখা, অর্থ দপ্তর, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের এক শিক্ষক বিরক্ত প্রকাশ করে বলেন, তিনঘন্টা যাবৎ বসে আছি কাজ করার জন্য কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকার কারনে কিছুই করতে পারছি না। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন মডারেশন, ফলাফল তৈরি, পরীক্ষার রুটিনসহ নানা কার্মকান্ড বিঘ্নিত হচ্ছে।

    ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ল্যাবের কার্যক্রমও। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেন শিক্ষকরা প্রজেক্টরে বিদ্যুৎ না থাকায় পাঠদানও ব্যহত হচ্ছে আর তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে করতে হচ্ছে ক্লাস দিতে হচ্ছে পরীক্ষা।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা এর মধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং আমরা অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি। কোনোরকম কষ্ট করে ক্লাস থেকে ফিরে হলে এসে বিশ্রাম নেবো তারও উপায় নেই হলেও বিদ্যুৎ থাকে না ঘন্টার পর ঘন্টা। লোডশেডিংয়ে জন্য আমাদের পড়াশোনা ও ঘুমের চরম ভোগান্তি হচ্ছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি আবাসিক হলে প্রায় আড়াইহাজার শিক্ষার্থী অবস্থান করেন। একরুমে গাদাগাদি করে থাকতে হয় আটজনকে। এই তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ে আবাসিক হলে একটি কক্ষে আটজন থাকা বেশ কষ্টের। চারটি আবাসিক হলের কমপক্ষে ১৫ জন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে প্রত্যেই শিক্ষার্থীই লোডশেডিংয়ে তীব্র ভোগান্তির কথা তুলে ধরে এর থেকে দ্রুত পরিত্রাণের দাবি জানান।

    শেরে বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রেদোয়ান হোসেন বলেন, নামেমাত্র বিদ্যুৎ থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এরিয়ার বাইরে ঠিকই বিদ্যুৎ থাকতেছে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ও আবাসিক হলে বিদ্যুৎ থাকে না। রাতে তিনঘন্টা দিনে তিন ঘন্টা ছয় ঘন্টা নিয়মিত কখনো কখনো এরও বেশি সময় লোডশেডিং হচ্ছে। রাত ১২ টার দিকে ঘুমের সময় লোডশেডিং হয় দিনে দুপুর ২টার দিকে। এমন সময় লোডশেডিং দেয় যখন শিক্ষার্থীদের ঘুমানো পড়ার সময়। লোডশেডিংয়ে আমাদের পড়াশোনা ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই কামনা করছি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি প্রকৌশলী ইলেকট্রিক মো. মামুন অর রশিদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করে ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    লোডশেডিংয়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে লোডশেডিংয়ে আমরা ভোগান্তিতে পড়েছি পাশাপাশি বিদ্যুতের ভোল্টেজেরও সমস্যা রয়েছে। এতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কম্পিউটারসহ দামি দামি যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ারও সম্ভবনা রয়েছে। আমরা পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।