Desk: রাবিপ্রবি প্রতিনিধি

  • সড়ক দূর্ঘটনায় আহত রাবিপ্রবি শিক্ষার্থী

    সড়ক দূর্ঘটনায় আহত রাবিপ্রবি শিক্ষার্থী

    সড়ক দুর্ঘটনায় রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহত প্রজ্ঞাপন চাকমা ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

    রবিবার (২১ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে ফেরার পথে খিপ্যাপাড়া বৌদ্ধ বিহার এলাকায় মোটরবাইক আরোহী ঐ শিক্ষার্থীকে বিপরীত পাশ থেকে আসা একটি বাইক সরাসরি ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাবিপ্রবি শিক্ষার্থী প্রজ্ঞাপন চাকমা মোটরবাইকযোগে যাচ্ছিলেন। এসময় বিপরীত পাশ থেকে আসা একটি মোটরবাইক ওভারটেক করতে গিয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তার পা কেটে যায় গেছে এবং ডান হাতেও প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। এসময় প্রচুর রক্ত বের হতে দেখা যায়।

    তাকে দ্রুত রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার পায়ে সেলাইসহ প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং দ্রুত অপারেশন করতে হবে বলে জানান।

    এ বিষয়ে রাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী বলেন, “আমি অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছি,দুর্ঘটনার বিষয়টি আমি শুনেছি। তার সঙ্গে তার কয়েকজন বন্ধু আছে।আমি তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।”

    এছাড়াও রাবিপ্রবি উপাচার্য তার চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব বহনের আশ্বাস প্রদান করেন।

    দূর্ঘটনার শিকার হওয়া প্রজ্ঞাপনের সহপাঠীরা জানায়, এতো বছর পরও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা প্রদানের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেই। এছাড়াও নেই কোন এম্বুলেন্স। জরুরি মুহূর্তে কখনো কখনো পাওয়া যায় মা ডাক্তারকেও। তারা এমতাবস্থায় অযাচিত দূর্ঘটনা রোধে দ্রুত মেডিকেল সেবার মানোন্নয়নের দাবি জানান।

  • বাবা দিবসে রাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

    বাবা দিবসে রাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

    বাবা শব্দটার মাঝে লুকিয়ে থাকে দায়িত্ব, নিরাপত্তা, অধিকার আর সুপ্ত ভালোবাসা। দায়িত্ব ও কর্তব্যের আড়ালে বাবার ভালোবাসা অনেক সময় প্রকাশ পায় না, তবুও বাবা আমাদের মাথার উপরের ছাদ।

    তিনি যেন বটগাছের মতো যিনি ছায়া দেন, নিরাপত্তা দেন এবং আগলে রাখেন। আমাদের সুখের জন্য বাবা সারাজীবন নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা ও স্বার্থ ত্যাগ করে যান। নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেন। বাবা নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ভরসা ও শক্তির আরেক নাম এমনটাই মনে করেন রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা ।

    এবারের বাবা দিবসকে ঘিরে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন রুথিনা বেসরা।

    বাবাকে নিয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, “বাবার জন্য আলাদা দিন লাগে না। কাছে থাকলে কি লাগবে জিজ্ঞেস করা, একটু পর পর এটা সেটা এনে দেওয়া, দূরে থাকলে ঘন্টায় ঘন্টায় কল দিয়ে খোঁজ নেওয়া মানুষ টাই আমার বাবা। বাবা মানেই আমার ছোটবেলার জামা কাপড়, ছবি যত্ন করে রাখা। গরমকালে আম খাও, কাঁঠাল খাও বলতে বলতে পাগল হয়ে যাওয়া। পছন্দের খাবারগুলো আমার জন্য তুলে রাখা। প্রশংসা করার সময় দিলখোলা প্রশংসা করা আর বকা দেওয়ার সময় আকাশ পাতাল এক করে বকাঝকা করা আর কোন কিপটামি নেই। তার উদ্যোগেই আমার বাসা থেকে ৪৯৫ কিলোমিটার দূরে পড়তে আসা। মানুষটা আমাদের মাঝে বেঁচে থাকুক আরো অনেক বছর।

    ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বাবলু রায় ত্রিপুরা বলেন,” ‘বাবা’ শব্দটি ছোট হলেও এর গভীরতা ও ব্যাপ্তি অপরিসীম। বাবা শুধু একজন অভিভাবক নন; তিনি প্রত্যেকটা সন্তানের জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা, অনুপ্রেরণা ও শক্তির উৎস। আমাদের প্রতিটি সফলতার পেছনে বাবার অদৃশ্য ত্যাগ, নিরলস পরিশ্রম এবং নীরব সংগ্রাম জড়িয়ে থাকে। জীবনের কোনো এক সময়ে যখন হতাশা গ্রাস করে বা পথ চলার প্রেরণা হারিয়ে ফেলি, তখন বাবার ঘামঝরা পরিশ্রম, আত্মত্যাগ ও দায়িত্ববোধের কথা মনে পড়লে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পাই। অনেক সময় আমরা নিজের অজান্তে বাবার ভালোবাসার গভীরতা ভাষায় প্রকাশ করতে পারি না কিংবা পুরোপুরি উপলব্ধিও করতে পারি না, কিন্তু জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর অবদান অনুভব করি। বাবা দিবসে আমার বাবাসহ পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা, আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অফুরন্ত ভালোবাসা।”

    ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনির্বান ভৌমিক রাজ বলেন, “বাবা,যার দূরদর্শী সিদ্ধান্তই আমার ভবিষ্যতের ভিত্তি। শৈশব থেকে বড় হওয়ার পথে বাবার নেওয়া জীবনের অনেক সীদ্ধান্ত হয়তো বোঝার ক্ষমতা হয়নি! কিছু সীদ্ধান্তে হয়তো মতের অমিল ছিলো! কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে উপলব্ধি করেছি বাবার নেওয়া প্রতিটি সীদ্ধান্তের পিছনে ছিলো আমার ভালো থাকা, আমার সুন্দর ভবিষ্যৎ। আজ আমার সকল অর্জনের পিছনে তার ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার বড় অবদান রয়েছে ! বাবার জ্ঞানের ছায়া আমার জীবনের বড় শক্তি! বাবা দিবসে আজীবন তার ছায়ার পথ চলার প্রত্যাশা করি।

    ম্যানেজমেন্ট বিভাগের নাসিলি চাকমা বলেন, “বাবা মানেই এক বুক ভরা আশ্রয়। বাবা তোমার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা সবসময় আমাদের আগলে রেখেছে। কেউ কোন কথায় আমার মন খারাপ করে দিলে, তুমি সুন্দরভাবে বুঝিয়ে সাহস, উৎসাহ আর অনুপ্রেরণা দাও।”

    তিনি আরো বলেন,”ছোটবেলার থেকেই দেখে আসছি তুমি কত পরিশ্রম এবং কষ্ট সহ্য করো। রোদ বৃষ্টিতে ভিজে কাজ শেষে বাড়ি ফিরেও হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করো, নিজের কষ্ট কখনো বুঝতে দাও না। ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি বাবা যেন সব সময় সুস্থ, নিরাপদ ও আনন্দে থাকেন। জীবনের সব দুঃখ কষ্ট দূর হয়ে যাক, তার মুখের হাসি যেন কখনো ম্লান না হয়।”

    ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সুশান্ত তালুকদার বলেন, “আমাকে কেউ ‘বাবা’ সম্পর্কে বলতে বললে বাবার নাম আর পেশা ছাড়া কিছুই বলতে পারি না। কারণ ছোটবেলা থেকে সেটাই শেখানো হয়েছে। ঘরে স্কুলে সবখানেই এক প্রশ্ন, “তোমার বাবার নাম কি? তোমার বাবা কি করেন?” মায়ের আদর-ভালোবাসা পেয়ে মাকেও কিভাবে আদর-ভালোবাসা দিতে হয় সেটা শিখেছি। কিন্তু কোনোদিন বাবার থেকে তা শেখা হয়ে উঠেনি হয়তো বাবাদের ভালোবাসা তাদের দায়িত্বের আড়ালে ই থেকে যায় । দেখে মনে হবে হয়তোবা তারা ভালো-ই বাসেন না, শুধু সংসার নামক মায়ায় আটকে গিয়েছেন দেখেই দায়িত্বশীল আচরণ করেন। কিন্তু তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ আমরা খুব কম উপলব্ধি করতে পারি। তবে সেই ছোট থাকতে একদিন বাবার সাথে টার্মিনালে বসে বাসের অপেক্ষা করছিলাম, বাবা ২টা পটেটো ক্রেকার্স এর প্যাকেট ধরিয়ে দিলেন। প্যাকেট খুলে একটা খেলনা সৈনিক পেয়েছিলাম, কি যে খুশি। বাবার সাথে ভালো স্মৃতি হিসেবে এখনো এইটুকুই মনে গেথে আছে।

    এখন প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটা দিনে টাকা পাঠান। কোনো কারণবশত পাঠাতে না পারলে কল করে বলেন, “আজকে দোকানে টাকা ছিলো না/ভুলেই গিয়েছি। কাল পাঠালে হবে?” এই দুটো লাইন-ই তার ” ভালোবাসা”-র পরিচয়। আমারো সেই ভালোবাসার বিনিময়ে বাবার উদ্দেশ্যে কয়েক লাইন বলা। বাবা দিবসে সকল বাবা-দের জানাই বাবা দিবসের শুভেচ্ছা।”