Desk: শিক্ষা

  • প্রাথমিকে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা কত টাকা, কত দিন পাবে

    প্রাথমিকে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা কত টাকা, কত দিন পাবে

    এবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় দেশব্যাপী মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ কোটায় বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন।

    রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় দেশের ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় থেকে মোট ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন। পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে বৃত্তি পেয়েছে ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৩৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

    এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা কত টাকা করে কত দিন পর্যন্ত পাবে।

    বর্তমানে ট্যালেন্টপুল (মেধাবৃত্তি) প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসে ৩০০ টাকা এবং এককালীন ২২৫ টাকা পাবে। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ২২৫ টাকা ও এককালীন ২২৫ টাকা করে দেওয়া হবে। তবে ২০২৬ সালের জন্য প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুমোদিত হলে বৃত্তির অর্থ বাড়বে। সে ক্ষেত্রে ট্যালেন্টপুল বৃত্তির মাসিক ভাতা ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তির মাসিক ভাতা ৪৫০ টাকায় উন্নীত হবে।

    এদিকে শিক্ষা বিভাগের তথ্য হলো, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে হলেও বৃত্তির টাকা দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। কারণ, পঞ্চম শ্রেণি শেষ করা শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। যখন বৃত্তি পায়, তখন তারা মাধ্যমিকে পড়া শুরু করে। নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এই বৃত্তির টাকা পাবে। এরপর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। ওই বৃত্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বৃত্তির টাকা দেওয়া হবে।

    এবার বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যাই বেশি। মোট ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন ছাত্রী (৫৪.৭১ শতাংশ) এবং ৩৫ হাজার ৮৯২ জন ছাত্র (৪৫.২৯ শতাংশ) বৃত্তি অর্জন করেছে।

  • প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ব্যাকগ্রাউন্ডের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য শিক্ষকতায় নতুন সুযোগ

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ব্যাকগ্রাউন্ডের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য শিক্ষকতায় নতুন সুযোগ

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় সংগীত, চারুকলা ও নাট্যকলাসহ বিভিন্ন সৃজনশীল বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ আয়োজিত রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সাংস্কৃতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ কোনো বিতর্কের বিষয় নয়। বরং এটি শিশুদের সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, আত্মপ্রকাশ ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সংগীত, সাহিত্য, আবৃত্তি, নাটক, চিত্রকলা কিংবা কেরাত সবই শিশুদের আত্মপ্রকাশের সুযোগ তৈরি করে। কোন শিক্ষার্থী কোন মাধ্যমে নিজেকে বিকশিত করবে, সেটি তার এবং তার পরিবারের পছন্দের বিষয়।

    ববি হাজ্জাজ জানান, প্রাথমিক শিক্ষার নতুন কারিকুলামে সাংস্কৃতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আওতায় শিক্ষার্থীরা আবৃত্তি, কেরাত, বক্তৃতা, সংগীত, নৃত্য, নাটক এবং অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। তিনি এ বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি না করে শিশুদের সামগ্রিক বিকাশের স্বার্থে সবাইকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ প্রয়োজন। সরকার চায়, সঙ্গীত, নাটক ও চারুকলার শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়ে শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে ভূমিকা রাখুক।

    অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অণিমা রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।