Desk: আন্তর্জাতিক

  • পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের

    পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের

    তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কিয়ের স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

    সোমবার (২২ জুন) এক বক্তব্যে তিনি জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ এবং লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন।

    দলীয় এমপিদের ক্রমবর্ধমান চাপ ও অ্যান্ডি বার্নহ্যামের ওয়েস্টমিনস্টারে ফেরার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।

    ঐতিহাসিক নির্বাচনী জয়ের মাত্র দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে স্টারমারকে তার দলের এমপিরা নেতৃত্ব ছাড়ার সময়সীমা নির্ধারণের আহ্বান জানাতে শুরু করেন। বিশেষ করে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নাইজেল ফারাজের উত্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন অনেক লেবার এমপি।

    গত শুক্রবার পর্যন্ত স্টারমার নেতৃত্ব ধরে রাখার এবং যেকোনো নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও সপ্তাহের শুরুতে মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা এবং সরকারি অবকাশ কেন্দ্র চেকার্সে স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে সময় কাটানোর পর তার অবস্থান বদলে যায়।

    জানা গেছে, অন্তত ছয়জন মন্ত্রিসভার সদস্য ব্যক্তিগতভাবে তাকে নেতৃত্ব ছাড়ার পরামর্শ দেন। একই সময় স্টারমার ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা পদত্যাগের ভাষণের খসড়া প্রস্তুত করতে শুরু করেন।

    স্টারমারের এই সিদ্ধান্তের ফলে লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে। নতুন নেতা নির্বাচিত হলে তিনি হবেন গত এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যিনি সম্প্রতি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছেন।

    তবে দলীয় সূত্র বলছে, অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় ৮১টি মনোনয়ন সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হলে বার্নহ্যাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতৃত্ব পেতেও পারেন।

    নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়া বা ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর তার উত্তরসূরিকে দুর্বল অর্থনীতি এবং জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

    স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। ফেব্রুয়ারিতে স্কটিশ লেবার নেতা আনাস সারওয়ার প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ দাবি করলে প্রথম বড় সংকট তৈরি হয়। যদিও তখন মন্ত্রিসভা তার পক্ষে অবস্থান নেয়।

    পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্য সংকট মোকাবিলা এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাজ্যকে না জড়ানোর সিদ্ধান্ত তার অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী করেছিল। কিন্তু এপ্রিলে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার মেন্ডেলসনকে নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক নতুন করে চাপ সৃষ্টি করে।

    এ ছাড়া শীতকালীন জ্বালানি ভাতা সীমিত করা, কল্যাণ খাতে ব্যয় কমানো ও পরে এসব সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কারণে দলীয় জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। অনেক এমপি তাকে দুর্বল ও অকার্যকর নেতা হিসেবে দেখতে শুরু করেন। তার যোগাযোগ দক্ষতা নিয়েও অসন্তোষ ছিল।

    মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে লেবারের বড় ধরনের ক্ষতির পর স্টারমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।

    এরপর স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হ্যলির সরে দাঁড়ানো তার অবস্থানকে আরও দুর্বল করে। ধীরে ধীরে লেবার এমপিদের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয় যে স্টারমারের নেতৃত্ব আর টেকসই নয়।

    ২০২৪ সালের নির্বাচনে টনি ব্লেয়ারের ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক জয়ের পর সবচেয়ে বড় বিজয় এনে দিয়েছিলেন স্টারমার। তিনি ছিলেন লেবারের ইতিহাসে চতুর্থ নেতা, যিনি দলকে জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় আনতে সক্ষম হন। তবে সেই সাফল্যের দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তার পদত্যাগের ঘোষণাকে ব্রিটিশ রাজনীতিতে এক নাটকীয় পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে।