Desk: যবিপ্রবি প্রতিনিধি

  • বরিশাল বিভাগীয় ছাত্র কল্যাণ সংঘের নেতৃত্বে আশিকুল ও তারিফ

    বরিশাল বিভাগীয় ছাত্র কল্যাণ সংঘের নেতৃত্বে আশিকুল ও তারিফ

    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বরিশাল বিভাগীয় ছাত্র কল্যাণ সংঘের ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    রোববার (১৯ জুলাই) সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (ইএসটি) বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তারিফ আহমদ।

    এছাড়া সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন রেজওয়ানা মাসুম মাহি এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন নাঈম।

    কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, কোষাধ্যক্ষ নাঈম হাওলাদার, উপ-কোষাধ্যক্ষ অন্তর দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল মৃধা লিমন, দপ্তর সম্পাদক কুদরত এলাহি স্পন্দন, উপ-দপ্তর সম্পাদক তানভীর হোসেন সৈকত, প্রচার সম্পাদক অরিত্র ঘোষ, উপ-প্রচার সম্পাদক জয়ীতা হালদার, ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক কানিজ ফাতিমা, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হাসিব হোসেন ও অনিক ঘরামী, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আল-আমিন হোসেন এবং সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ইবতিদা খান তানিশা।

    এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সিফাত আরেফিন, রায়হান হোসেন ও সাব্বির হোসেন।

  • বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা বড় পর্দায় দেখার আয়োজন ঘিরে যবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ

    বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা বড় পর্দায় দেখার আয়োজন ঘিরে যবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ

    ফুটবল বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার মহারণকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে। শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে খেলা উপভোগের সুযোগ করে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের দুটি স্থানে মোট চারটি বড় পর্দায় ফাইনাল ম্যাচ প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের খোলা স্থানে দুটি বড় পর্দা স্থাপন করা হয়েছে। পর্দাগুলো এমনভাবে বসানো হয়েছে যাতে প্রধান ফটকসংলগ্ন সড়ক এবং বিপরীত পাশে অবস্থিত তাপসী রাবেয়া হলসংলগ্ন সড়ক থেকে শিক্ষার্থীরা খেলা দেখতে পারেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবনের সামনের স্থানে আরও দুটি বড় পর্দা স্থাপন করা হয়েছে। এসব পর্দা থেকে জগদীশ চন্দ্র একাডেমিক ভবনসংলগ্ন এলাকা এবং বিপরীত পাশ থেকেও খেলা উপভোগ করা যাবে।

    বিরূপ আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়ামেও খেলা দেখার বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হলেও ফাইনাল ম্যাচ উপভোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    এই আয়োজনের বিষয়ে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদ হোসেন বলেন, “ভার্সিটি জীবনে চার বছর পর পর আসা এই ফুটবল বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের এটাই শেষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত স্থানে ৪টি বড় স্ক্রিনে খেলা দেখানোর এই দারুণ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। আলাদা আলাদা রুমে অল্প কয়েকজন মিলে দেখার চেয়ে বন্ধু ও সিনিয়রদের সঙ্গে হাজারো শিক্ষার্থীর সম্মিলিত উল্লাসে বড় পর্দায় খেলা দেখার মজাই আলাদা। প্রশাসনের এই আয়োজন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে আরও আনন্দময় করে তুলবে। আশা করি, ভবিষ্যতেও প্রশাসন এমন আরও সুন্দর উদ্যোগ নেবে।”

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোহাম্মদ হামিদুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আজ দিবাগত রাতে উন্মুক্ত স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন স্থানে দুটি এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবনের সামনের রাস্তায় দুটি বড় পর্দা স্থাপন করা হয়েছে। আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জিমনেশিয়ামেও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে সেখানে ভেন্টিলেশন কম থাকায় গরমে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তাই সবাইকে উন্মুক্ত স্থানে খেলা দেখার আহ্বান জানাচ্ছি। কেবল বৃষ্টি হলে জিমনেশিয়ামে খেলা দেখার সুযোগ দেওয়া হবে।”

    নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রক্টোরিয়াল টিম দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”

  • স্রোতের বিপরীতে টিকে থাকার গল্প: যবিপ্রবির নবীনদের উদ্দেশ্যে এক বড় ভাইয়ের চিঠি

    স্রোতের বিপরীতে টিকে থাকার গল্প: যবিপ্রবির নবীনদের উদ্দেশ্যে এক বড় ভাইয়ের চিঠি

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাসে পা রাখা প্রতিটি প্রাণই এক একটি স্বপ্নীল গল্প। দূর-দূরান্ত থেকে যখন তোমরা এই ক্যাম্পাসে আসো, তখন তোমাদের চোখে থাকে এক বুক আশা, আর সাথে থাকে একটি মার্জিত ও ভদ্র পারিবারিক পরিচয়। সবাই অত্যন্ত চমৎকার, স্মার্ট এবং সুশিক্ষিত পরিবার থেকে এসেছ। তোমাদের মধ্যে অনেকেই স্কুল-কলেজের টপার, বোর্ডের সেরা মেধাবী। কিন্তু এই সুন্দর শুরুর আড়ালে একটা নির্মম সত্য লুকিয়ে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশাল স্রোত। এই স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে অনেক ব্রিলিয়ান্ট শিক্ষার্থী একটা সময়ে এসে হারিয়ে যায়, আর খুব অল্প কিছু মানুষই পারে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে।

    আজ প্রায় তৃতীয় বর্ষে দাঁড়িয়ে, পেছনের দিনগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকেই তোমাদের উদ্দেশ্যে কিছু বাস্তব কথা বলতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিন থেকেই নিজের জীবনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা ‘গোল’ সেট করা সবচেয়ে জরুরি। তুমি ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চাও, সেটা আগে ঠিক করো। লক্ষ্যহীন নৌকা যেমন দিক হারিয়ে ফেলে, জীবনের লক্ষ্য না থাকলে তুমিও এই বিশাল ক্যাম্পাসে খেই হারিয়ে ফেলবে। আর একবার লক্ষ্য স্থির করার পর, সেটা অর্জনের জন্য নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু বিলিয়ে দিতে হবে, কারণ পরিশ্রম ও সততার কোনো বিকল্প নেই।

    এর পাশাপাশি ক্যাম্পাস লাইফের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বন্ধু নির্বাচন। একজন ভালো বন্ধু যেমন তোমাকে টেনে তুলতে পারে, তেমনি একটি ভুল বন্ধুত্ব তোমার পুরো জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে। শুরুতে সবাইকে খুব আপন মনে হবে, সবাই খুব ভদ্র আচরণ করবে। কিন্তু মনে রাখবে, স্বার্থের এই দুনিয়ায় অনেকেই শুধু নিজের প্রয়োজনে তোমাকে ব্যবহার করতে চাইবে। এমন কিছু বন্ধুও জুটে যেতে পারে, যারা তোমাকে ধীর ধীরে বিভিন্ন নেশাদ্রব্যের বা এমন অন্যান্য অন্ধকার জগতের দিকে ঠেলে দেবে। এদের শুরুতে চেনা যায় না, এরা মুখোশ পরে ঘোরে। তাই বন্ধু নির্বাচনে সর্বোচ্চ সতর্ক হও। যে বন্ধু তোমাকে পড়াশোনায় অনুপ্রেরণা দেয়, বিপদে নিঃস্বার্থভাবে পাশে দাঁড়ায়, তাকেই আপন করে নাও।

    অনেক সময় দেখা যায়, স্কুল বা কলেজের মেধার অহংকার নিয়ে চলতে গিয়ে অনেকেই ভার্সিটির প্রথম সেমিস্টারেই পিছিয়ে পড়ে। তখন নিজের অজান্তেই মনে প্রশ্ন জাগে “কী মেধা নিয়ে স্কুল-কলেজ পার করলাম, আর আজ ভার্সিটি পার করতে পারছি না কেন?” পড়াশোনা কঠিন মনে হতে শুরু করে। এর একমাত্র কারণ হলো পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বা ‘ফ্লো’ নষ্ট হওয়া। তাই প্রথম বর্ষের প্রথম দিন থেকেই পড়াশোনার একটা ছন্দ ধরে রাখতে হবে। আমি বলছি না যে তোমরা সারাদিন শুধু বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন উপভোগ করার জন্য, আড্ডা দেওয়ার জন্য, নতুন নতুন স্মৃতি তৈরি করার জন্য। কিন্তু সবকিছুর একটা নির্দিষ্ট সময় আছে।

    আমার সহজ সূত্র হলো: “যাই কিছু হয়ে যাক না কেন, পড়াশোনার সময় পড়াশোনা, বাকি সময় অন্য কিছু।” পড়াশোনা আর এনজয়মেন্টের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারলেই ক্যাম্পাস লাইফ সুন্দর হবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো করতে হলে শিক্ষক এবং সিনিয়রদের সাথে সুসম্পর্ক বা ভালো কানেকশন রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যেসব সিনিয়র পড়াশোনায় খুব পারদর্শী এবং যাদের ক্যারিয়ার সচেতনতা ভালো, তাদের সাথে যোগাযোগ রাখো। তাদের থেকে পরামর্শ নাও কীভাবে পড়তে হবে, কোন রিসোর্সগুলো ফলো করতে হবে, ল্যাব বা থিসিস কীভাবে করতে হয়। বড় ভাই হিসেবে তাদের অভিজ্ঞতা তোমাদের পথ চলাকে অনেক সহজ করে দেবে।

    সবশেষে, সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা সব পরিস্থিতিতেই সর্বদা সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। অহংকার মানুষকে ধ্বংস করে দেয়, আর কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে বিনয়ী ও মানসিকভাবে শান্ত রাখে। মনে রাখবে, তুমি আজ যেখানে আছ, তা অনেকেরই স্বপ্ন। তাই প্রতিনিয়ত সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাও, এটি তোমাকে মানসিকভাবে শক্ত রাখবে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে সঠিক পথে চলার শক্তি জোগাবে।

    নবীন বন্ধুদের উদ্দেশ্যে আমার শেষ কথা: তোমরা যবিপ্রবিতে এসেছ নিজেদের একটা অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে, হারিয়ে যেতে নয়। স্রোতে গা ভাসিয়ে দেওয়া খুব সহজ, কিন্তু স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে নিজের মেধা, সততা আর লক্ষ্য টিকিয়ে রাখাটাই আসল কৃতিত্ব। আশা করি, তোমরা প্রথম দিন থেকেই সচেতন থাকবে, সঠিক বন্ধু বেছে নেবে এবং নিজের স্বপ্নের প্রতি সৎ থাকবে।

    তোমাদের সবার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন সাফল্যে ও আনন্দে ভরে উঠুক। ক্যাম্পাস জুড়ে তোমাদের জন্য রইল একরাশ শুভকামনা ও স্বাগত সম্ভাষণ! মাহফুজুল ইসলাম ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগ, ৩য় বর্ষ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)

  • যবিপ্রবি ডিবেট ক্লাবের নেতৃত্বে আলভী-মোস্তাফিজ

    যবিপ্রবি ডিবেট ক্লাবের নেতৃত্বে আলভী-মোস্তাফিজ

    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ডিবেট ক্লাবের ‘দায়িত্ব হস্তান্তর ও বিদায় সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর, বিদায়ী কমিটিকে সংবর্ধনা এবং ক্লাবের ধারাবাহিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নবগঠিত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোঃ আসিফ করিম আলভী এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোস্তাফিজুর রহমান।

    শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৪ টাই বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় বিদায়ী কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের সম্মাননা হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয় এবং নতুন কমিটির সদস্যদের শুভেচ্ছা জানানো হয়।

    নবগঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- সহ-সভাপতি শ্রেয়া ভৌমিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোছাঃ সাদিয়া আফরিন, সাংগঠনিক সম্পাদক রাগীব ইশরাক, কোষাধ্যক্ষ মুহতাসিম তাসফিয়া মাহিন, দপ্তর সম্পাদক অর্পিতা শিরীন স্বর্ণা, প্রশিক্ষণ ও বিতর্ক সম্পাদক লাবণী ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তুষার শাহরিয়ার, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মোঃ সামিউর রহমান, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ তৈহিদুল ইসলাম জয় এবং কার্যনির্বাহী সদস্য সুমাইয়া আহমেদ সামিরা, রায়হান হোসেন, মারুফ আহমেদ ও মোঃ কায়েস সরকার।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর শেখ মাহমুদুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোঃ রাফিউল হাসান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মোহাম্মদ নওশীন আমিন শেখ (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ), ড. ফারহানা ইয়াসমিন (ইংরেজি বিভাগ), ড. মোহাম্মদ আরমান ইসলাম (পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ), আসিফ আব্দুল্লাহ (বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ), এবং ফারহা করিম সালাত (জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, “ডিবেট ক্লাব অন্য যেকোনো ক্লাবের তুলনায় ভিন্ন, কারণ এটি সম্পূর্ণ দক্ষতাভিত্তিক একটি সংগঠন। এখানে নতুন শিক্ষার্থীদের যুক্তি, বিশ্লেষণ ও নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়। ভবিষ্যতে ক্লাবগুলোর সাফল্য, কার্যক্রমের গতিশীলতা এবং অর্জনের ভিত্তিতে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”

    নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ আসিফ করিম আলভী বলেন, “প্রথমেই ক্লাবের উপদেষ্টা ও সিনিয়রদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, যারা আমার ওপর আস্থা রেখে সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রথম বর্ষ থেকেই ডিবেট ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সিনিয়রদের কাছ থেকে রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে বাস্তবধর্মী শিক্ষা পেয়েছি। তাঁদের দিকনির্দেশনায় আমরা জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করেছি। এমন প্রগতিশীল সিনিয়রদের পেয়ে আমরা সত্যিই সৌভাগ্যবান।”

    বিদায়ী সভাপতি মোতালেব হোসাইন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সবচেয়ে বেশি সময় ও ভালোবাসা দিয়েছি ডিবেট ক্লাবকে। কমিটিতে থাকাকালে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। আজ দায়িত্ব হস্তান্তর হলেও একজন ডিবেটরের কখনো বিদায় হয় না। আমরা আজীবন এই ক্লাবের সদস্য হিসেবে ক্লাবের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকব।”

    অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোঃ রাফিউল হাসান বলেন, “ডিবেট ক্লাবকে বরাদ্দের ক্ষেত্রে সবসময় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। চেয়ার, টেবিল, প্রজেক্টরসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করেছি। জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সময় স্পন্সর সংগ্রহ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায়ও সহযোগিতা করা হয়েছে, যাতে ক্লাবটি আরও এগিয়ে যেতে পারে।”

  • যবিপ্রবিতে টেকসই গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক লেখালেখিতে দক্ষতা অর্জন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

    যবিপ্রবিতে টেকসই গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক লেখালেখিতে দক্ষতা অর্জন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি (এসিএস) স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার এর আয়োজনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে “ইনোভেটিভ রিসার্চ ফর অ্যা সাসটেইনেবল ফিউচার অ্যান্ড মাস্টারিং সাইয়েন্টিফিক রাইটিং” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর।

    আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০ টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আন্নী আফরিন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, গবেষণা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে হবে। একইসাথে এসিএস স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার জাস্ট আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান তিনি। তিনি সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, বর্তমান বিশ্বে কেবল গবেষণার জন্যই গবেষণা করা হয় না, বরং গবেষণার ইমপ্যাক্ট বা সমাজ ও শিল্পক্ষেত্রে এর বাস্তব প্রভাব কতটুকু, তা সবচেয়ে বেশি মূল্যায়ন করা হয়। তাই আমাদের তরুণ গবেষকদের অবশ্যই সমাজের সমস্যা সমাধানকারী এবং ইমপ্যাক্টফুল গবেষণায় মনোযোগী হতে হবে।

    ডিনস কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. ইমরান খান বলেন, “আমি আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি (এসিএস) কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই যবিপ্রবিতে তাদের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু করার জন্য। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করে। আজকের সেমিনারের বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। আমি শুধু একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই গবেষণায় নৈতিকতা। কোনো অবদান ছাড়া কাউকে অথর হিসেবে যুক্ত করা বা অন্যের কাজ নিজের নামে প্রকাশ করা সম্পূর্ণ অনৈতিক। ভালো গবেষক হতে হলে শুরু থেকেই এথিক্সের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।”

    ক্লাবটির উপদেষ্টা ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল কাউসার বলেন, “আজকের এই আয়োজনে উপস্থিত থাকার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের উপস্থিতি আমাদের নতুন যাত্রাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। এসিএস ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার জাস্টের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের গবেষণা, বৈজ্ঞানিক লেখালেখি ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা। ভবিষ্যতেও আমরা বিভিন্ন সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও আউটরিচ কার্যক্রমের মাধ্যমে এই কাজ এগিয়ে নিতে চাই। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা বলতে চাই, তোমরা নতুন কিছু শেখা ও জানার আগ্রহ কখনো হারিয়ে ফেলো না। সবশেষে, এই আয়োজন সফল করার জন্য সকল সদস্য, শিক্ষক ও প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

    বৈজ্ঞানিক লেখালেখি ও গবেষণার নৈতিকতা নিয়ে তিনি বলেন, গবেষণায় ডাটা ম্যানিপুলেশন কোনোভাবেই কাম্য নয়। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা নেতিবাচক ফলাফল প্রকাশ করতে ভয় পায়, কিন্তু নেতিবাচক ফলাফলও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সততার সাথে সঠিক তথ্য ফুটিয়ে তুলতে হবে।

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এস. এম. তারেক আবেদিন ও যবিপ্রবির রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কে. এম. আনিস-উল-হক। এছাড়াও সেমিনারে বক্তব্য রাখেন রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আজিজুর রহমান খান, এসিএস স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার জাস্টের সভাপতি মোঃ আল আমিন ও সহ-সভাপতি এস. এইচ. এম. ইরফান। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিনবৃন্দ, বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ ও গবেষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • আর্জেন্টাইন ভক্তের তুলির আঁচড়ে যবিপ্রবির দেয়ালে নেইমার জুনিয়র

    আর্জেন্টাইন ভক্তের তুলির আঁচড়ে যবিপ্রবির দেয়ালে নেইমার জুনিয়র

    ফুটবল মানেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দী আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের চিরন্তন দ্বৈরথ। তবে মাঠের এই বৈরিতা যে মাঠের বাইরে এক অনন্য সৌহার্দ্য আর শিল্পের রূপ নিতে পারে, তার এক দারুণ দৃষ্টান্ত দেখাল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাস। কিছুদিন আগেই যেখানে লিওনেল মেসির প্রতিচ্ছবিতে সেজেছিল ক্যাম্পাসের দেয়াল, এবার ঠিক তার পাশেই রঙ-তুলির আঁচড়ে প্রাণ পেলেন সেলেসাওদের প্রাণভ্রমরা নেইমার জুনিয়র।

    তবে এই দেয়ালচিত্রের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো, নেইমারের ছবিটি এঁকেছেন একজন আর্জেন্টিনা সমর্থক। আর পুরো উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রাজিল সমর্থকদের যৌথ অর্থায়নে। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা ছাড়িয়ে ফুটবল এখানে হয়ে উঠেছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক।

    এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ব্যাপারে ব্রাজিল ভক্ত ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাশফি চৌধুরী বলেন,”ক্যাম্পাসের দেয়ালে শুধু মেসির ছবি দেখে একজন ব্রাজিল ভক্ত হিসেবে শূন্যতা অনুভব করছিলাম। সব ব্রাজিল সমর্থকের আবেগের জায়গা থেকে এবং প্রিয় তারকার সাথে ছবি তোলার সুযোগ করে দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ। সবার সহযোগিতায় মাত্র পাঁচ দিনেই আমরা কাজটি শেষ করি, যা আমাদের হেক্সা মিশনের স্বপ্নেরই প্রতিফলন। বিশেষ কৃতজ্ঞতা আমার বন্ধু রাহিমকে, যে আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েও এত সুন্দরভাবে নেইমারকে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছে।”

    পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রাহিম, যিনি আগের মেসির ছবিটিও এঁকেছিলেন। একজন আর্জেন্টাইন ফ্যান হয়ে কেন ব্রাজিলের নেইমারের ছবি আঁকলেন, জানতে চাইলে রাহিম বলেন, “আমি মূলত একজন শিল্পপ্রেমী, আর শিল্প কোনো বিভেদ বোঝে না। আমি চেয়েছি ফুটবলের এই উৎসবে কোনো বৈথম্য না থাকুক। সেই ভাবনা থেকেই এক দেয়ালে যেমন মেসির ছবি এঁকেছি, তেমনি চেয়েছি অন্য দেয়ালটি জুড়ে থাকুক নেইমারের নান্দনিক রূপ। ক্যাম্পাসের বড় ভাই, ব্যাচমেট ও অনুজদের অনেকেই ব্রাজিলের কট্টর ভক্ত। তাঁদের সেই নিখাদ আবেগকে সম্মান জানাতেই একজন আর্জেন্টাইন হয়েও আমি তুলি হাতে নিয়েছি। আর সত্যি বলতে, নেইমার একজন অসাধারণ ফুটবল জাদুকর, যাঁর খেলাকে ভালোবাসতে বাধ্য যেকোনো ফুটবলপ্রেমী।”

    ক্যাম্পাসজুড়ে ইতোমধ্যে দেয়ালচিত্র দুটি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন অনেকেই সেখানে ছবি তুলছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন।

    মাঠের লড়াই মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকুক, আর ক্যাম্পাসে থাকুক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য যবিপ্রবির এই ব্যতিক্রমী দেয়ালচিত্র যেন সেই বার্তাই বহন করছে। ফুটবল যে কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়, বরং মানুষে মানুষে বন্ধন তৈরিরও একটি শক্তিশালী মাধ্যম, তারই এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে যবিপ্রবির ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের এই উদ্যোগ।

  • যবিপ্রবির প্রথম বারের মতো উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান

    যবিপ্রবির প্রথম বারের মতো উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান

    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) প্রথম বারের মতো উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান।

    মঙ্গলবার (২৮ জুন) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো: শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০১ এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসানকে উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করা হল। যোগদানের তারিখ থেকে তিনি চার বছর মেয়াদে উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি তাঁর মূল পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

    সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রজ্ঞাপনটি আমি হাতে পেয়েছি। আমার এখানে কিছু কাজ বাকি আছে। এগুলো শেষ করে আজকে বা কালকের মধ্যে আমি যবিপ্রবিতে জয়েন করবো।

    উল্লেখ্য, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন( আইবিএ) থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনে শিক্ষকতা শুরু করেন।

  • সুইমিংপুল ছাড়াই আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন যবিপ্রবির মেয়েরা, তৃতীয় ছেলেরা

    সুইমিংপুল ছাড়াই আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন যবিপ্রবির মেয়েরা, তৃতীয় ছেলেরা

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুল সুবিধা ছাড়াই আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার ও ওয়াটারপোলো (ছাত্রী) প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। এছাড়াও ছাত্রদের প্রতিযোগিতায় ৩য় স্থান অধিকার করে যবিপ্রবি।

    ২৬ ও ২৭ জুন দুইদিন ব্যাপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে দেশের ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়।

    প্রতিযোগিতায় যবিপ্রবির শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নারী সাঁতারু মিতু আক্তার মেয়েদের ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক, ৫০ মিটার বাটারফ্লাই, ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক ও ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল এই চারটি ইভেন্টেই স্বর্ণপদক জিতেছেন। একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী শ্রাবন্তী আক্তার চারটি ইভেন্টেই রৌপ্যপদক অর্জন করেছেন। চারটি স্বর্ণপদক জয়ের পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় ছাত্রী বিভাগের সেরা সাঁতারু নির্বাচিত হয়েছেন মিতু আক্তার। অপরদিকে ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইল সাঁতারে তৃতীয় হয়েছেন যবিপ্রবি শিক্ষার্থী মামুন আলী।

    মিতু আক্তার বলেন, “সাঁতারে মেয়েদের চারটি ইভেন্টেই প্রথম স্থান অর্জন এবং প্রতিযোগিতার সেরা সাঁতারু হতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উপস্থাপন করতে চাই এই চেষ্টা থাকবে। তবে একটি হতাশার দিক আমাদের ভার্সিটিতে কোনো সুইমিংপুল নেই। আমরা বারবার শুনে এসেছি যে আমরা একটি মানসম্মত সুইমিংপুল পাব কিন্তু তা এখনো কার্যকর হয়নি। এসব কারণে কিছু হতাশার জায়গা থেকেই যায়।”

    শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক ও সাঁতারু দলের ম্যানেজার আব্দুল্লাহ হেল কাফি বলেন, “যে বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো নিজস্ব সুইমিংপুল নেই, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ই আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠায় এই সাফল্য এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক সুইমিংপুল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্য আরও সাফল্য অর্জন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

    উল্লেখ্য, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে নিজস্ব কোনো সুইমিংপুল না থাকায় শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের সাঁতার ক্লাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের পুকুর ব্যবহার করা হয়। এছাড়া উক্ত বিভাগের জাতীয় পর্যায়ের সাঁতারুরা তাদের অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় সুইমিংপুলের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত।