শরীয়তপুরে গোসাইরহাট উপজেলার ২টি ইউপিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইউজিপিপি) আওতায় খাল খনন/পুন:খনন কর্মসূচিতে অনিয়ম দেখা গিয়েছে। উপজেলার কোদালপুর ও নাগের ইউনিয়নের ২ টি প্রকল্পে, শ্রমিকের কাজ করছে এক্সভেটর মেশিন, প্রতিদিন ১১৩০ শ্রমিকের কাজ করার কথা থাকলেও, আনুমানিক ৯০০ এর উপর শ্রমিক অনুপস্থিত থাকছেন।
প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করলেও উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির উপর দায় চাপিয়ে জানান, তিনি জানেন না কতজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। অন্যদিকে প্রতিদিন কতজন শ্রমিক কাজ করছেন, তা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা, (ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য এবং শ্রমিক সর্দার) ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।
৯০০ জনের উপর শ্রমিক অনুপস্থিত থাকলেও কাজ পরবর্তী প্রতিদিন হাজিরার ৫০০টাকা পারিশ্রমিকের টাকা প্রদানের জন্য ১১৩০ জন শ্রমিকের মধ্যে কোদালপুর ইউনিয়ন প্রকল্পের ২৯৭ জন এবং নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ৮৩৩ জনের ব্যাংক একাউন্ট খোলা হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই ২টি ইউপি শাখায়।
আর এইসব ব্যাংক একাউন্ট খোলা হয়েছে খাল খনন প্রকল্পের জন্য গঠিত কমিটির সদস্যদের মাধ্যমে। কমিটির সদস্যরা এলাকায় ঘুরে ঘুরে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য শ্রমিকের নাম সংগ্রহ করেছেন।
যারা ব্যাংক একাউন্ট খুলেছেন তাদের মধ্যে ২টি প্রকল্পের অন্তত ২০ জনের সাথে মুঠোফোনে কথা হয়েছে। অধিকাংশ ব্যাংক একাউন্ট ধারীরা জানান, উদ্বোধনের দিন ছাড়া অনেকেই খাল খনন কর্মসূচিতে কাজ করতে যান নি। কিন্তু অনেকেই জানেন না তাদের অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে কিনা। ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য কমিটির সদস্যদের কয়েকজন তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়েছেন। বিনামূল্যে ব্যাংক একাউন্ট খুলে দেয়া হবে, এই প্রতিশ্রুতিতে।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে ৫০% এক্সকাভেটর এবং ৫০% শ্রমিকের মাধ্যমে খাল খনন কাজ করার কথা উল্লেখ রয়েছে। কোদালপুর প্রকল্পে ২৯৭ জন শ্রমিকের মধ্যে নিয়মিত কাজ করছেন ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক, নাগের পাড়া প্রকল্পে ৮৩৩ জন শ্রমিকের মধ্যে নিয়মিত কাজ করছেন ১০০ থেকে ১২৫ জন শ্রমিক। ৫০℅ কাজ শ্রমিকের মাধ্যমে করার কথা থাকলেও, অধিকাংশ কাজ করে ফেলছে এক্সকাভেটর মেশিন।
গত ৭ দিনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব এইসব অনিয়ম উঠে এসেছে উপজেলার কোদালপুর ইউপির ৫ কি.মি ও নাগেরপাড়া ইউপির ১৪ কি.মি খাল খনন ও পুন:খনন কর্মসূচিতে।
*গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ঢাকার, উপ-পরিচালক (কাবিখা-৩) মো: নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত (স্বারকে) চিঠিতে ১১৭ নম্বর সিরিয়ালে গোসাইরহাট উপজেলার দুইটি ইউপিতে মোট ১৯ কিলোমিটার খাল খননের কথা উল্লেখ করা হয়। নাগেরপাড়া ইউপি প্রকল্পের (ওয়েজ ও নন ওয়েজ, লেবার সর্দারসহ) ১৪ কিলোমিটার খাল খননের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৫২ হাজার ১৬৫ টাকা এবং কোদালপুর ইউপির প্রকল্পের (ওয়েজ ও নন ওয়েজ, লেবার সর্দারসহ) ৫ কিলোমিটার খালের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ কোটি ২৮ লক্ষ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। খাল খননের দৈর্ঘ্য নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।
চলমান কাজের ২ ইউপির মধ্যে নাগেরপাড়া ইউপিতে মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রকল্প পরিচালনা কমিটির কাগজে কাগজ কলমে ১৪ কি.মি. খাল খননের কথা থাকলেও, স্থানীয় সিদ্ধান্তে বাস্তবে কাজ হচ্ছে ৬ কি.মি এর। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি বলছে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ৮ কি.মি খাল খননের কাজ চলছে। উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (অফিস) বলছে, প্রয়োজনীয় বাজেট না পাওয়ায় ১৪ কি.মি খাল খননের কাজ কমিয়ে ৬ কি.মি. করা হয়েছে। ১৪ কি.মি. কে, ৬ কি.মি করা হয়েছে এমন কোন নথিপত্রে দেখাতে পারেননি প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।
কোদালপুর ইউপির প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বাবু মৃধা বলছেন শ্রমিক দিয়ে এত কাজ করানো সম্ভব না। বাস্তবতা আরো কঠিন। যার জন্য তারা শ্রমিক কম ব্যবহার করে এক্সভেটর মেশিন দ্বারা বেশি কাজ করছেন। আর মেশিন এর কাজ আরো বেশি সুন্দর হচ্ছে। তাছাড়া খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধনী দিন শরীয়তপুর তিন আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ও জেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন, ওই সব অনুষ্ঠান করতে গিয়ে আমার দুই লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে এবং নাগেরপাড়া প্রকল্পের কমিটিরও ৭ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য আমাদের আলাদা কোন বরাদ্দ দেয়া হয়নি। খাল খননের বরাদ্দ থেকে টাকা বের করে আমাকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের খরচের ওই দুই লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে হবে। কারণ পকেটের টাকা খরচ করা তো সম্ভব না।
উপজেলার কোদালপুর ইউপি খাল খনন প্রকল্পের পাশেই বাড়ি ঢালিপাড়া এলাকার সিরাজ সরদারের ছেলে কালিম উদ্দিন সরদার (৪০) বলেন, এই খালের পাশে আমার বাড়ি। আমার বাড়ির সম্মুখে খাল খনন করা হচ্ছে। সকালের ২০ থেকে ৩০ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখেছি। তারা কোদাল ও ওরা নিয়ে কাজ করেছেন। তবে তারা খাল খনন করেননি। শুধু খালের পাড় ঠিক করে একটু মাটি পিটাপিটি করেছেন।
ঐই এলাকার আরো একজন বাসিন্দা শাহনাজ বেগম (৩০) বলেন, এখানে খাল খননের শ্রমিকদের কাজ করতে দেখেছি। তবে তারা খাল কাটেননি। খাল মেশিন দিয়ে কেটেছে অল্প কয়েকজন শ্রমিক শুধু খালের পাড় ঠিক করেছেন।
কোদালপুর ইউনিয়নের উপকারভোগী শ্রমিকদের সর্দার নজরুল খান মুঠোফোনে বলেন, খাল খনন প্রকল্পের কাজের জন্য তিনি ১৩ জন শ্রমিকের একটি তালিকা স্থানীয় মেম্বারের কাছে জমা দিয়েছিলেন। তবে তালিকা নেওয়ার পর তাঁদের কাউকেই কাজে ডাকা হয়নি। মেম্বার শ্রমিকদের মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিও সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু এরপর প্রকল্পের কাজ বা পারিশ্রমিক সংক্রান্ত কোনো তথ্য তাঁদের জানানো হয়নি। এবং তারা কাজেও যাননি।
খাল খনন কর্মসূচির নাগেরপাড়া ইউপি কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি মেম্বার লতিফ ঢালি মুঠোফোনে বলেন, আমরা নাগেরপাড়া ইউপিতে ৮ কিলোমিটার খান খনন করছি, প্রতিদিন দুটি এক্সভেটর মেশিন এর মাধ্যমে কাজ চলছে। পাশাপাশি ১২০ থেকে ১৬০ জনের মতো শ্রমিক কাজ করছে। খুব সুন্দর ভাবে কাজ হচ্ছে।
প্রতিদিন কতজন শ্রমিকের কাজ করার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদেরকে কাগজে-কলমে ৮৩৩ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা। আর ১৪ কি.মি খাল খনন করার কথা থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস আমাদের ৮ কি.মি. খাল খনন করতে বলেছেন।
জানতে চাইলে অন্যদিকে নাগেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, ৮৩৩ জন এর মধ্যে নিয়মিত ৫০০ উপর শ্রমিক কাজ করছেন।
আপনি ৫০০ জন শ্রমিকের কথা বলছেন কিন্তু শ্রমিক সরদার বলছেন ১২৫ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন এবং সরেজমিনে এমন শ্রমিক পাওয়া গিয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমনটা হওয়ার কথা না, এই বিষয়ে আমি এর বেশি কিছু জানিনা। প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস আমাদেরকে যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে আমরা সেই ভাবেই কাজ করছি। আমরা ৮ কিলোমিটার খাল খনন করছি।
তাহলে বাকি শ্রমিকরা কাজ করছে না কেন জানতে চাইলে তিনি পুনরায় বলেন, বাকি শ্রমিকরা কই বা কোথায়, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সাথে এই বিষয়ে আলাপ করে দেখেন তারা এই বিষয়ে ভাল বলতে পারবেন।
নাগেরপাড়া প্রকল্পের শ্রমিকের কাজ করার লিস্টে নাম রয়েছে আ: রব সিকদার এর মেয়ে সাদিয়া আক্তার নামের এক নারীর, কাজ পরবর্তী পারিশ্রমিক নেয়ার জন্য তার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করা হয়েছে নাগেরপাড়া ইউপি কৃষি অফিসে।
ব্যাংক একাউন্ট এবং খাল খননের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার স্বামী খুব শীঘ্রই সৌদি আরবে যাবে কাজ করতে। তাই আমার শাশুড়ি আমার কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়ে কৃষি ব্যাংকে একটি একাউন্ট খুলেছেন। এর বেশি কিছু আমি জানিনা। আর আমাকে কোন খালের মাটি কাটার কথাও কেউ বলেনি। আমি কখনো খালে মাটি কাটতেও যাইনি।
দুই প্রকল্পের খাল খনন কর্মসূচিতে কোন অনিয়ম পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে গোসাইরহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: ইকবাল কবির, আমি প্রকল্পের বিষয় নিয়ে কোন কথা বলতে চাই না।
তবে গোপনে ধারণকৃত অডিও বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার কাছে তথ্য রয়েছে, প্রকল্পের নিয়ম মেনেই কাজ হচ্ছে। কাজ খুব সুন্দর হচ্ছে। এসকাভেটর মেশিনের পাশাপাশি শ্রমিকরাও কাজ করছে। আমি আজকে সকালে গিয়েও কোদালপুর প্রকল্প পরিদর্শন করে এসেছি। মাঝে মাঝে প্রকল্প এলাকায় ঘুরতে যাই। হাতে অনেক কাজ থাকে, তাই সব সময় খোজ নেয়া সম্ভব হয় না।
প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে ২৯৭ জন শ্রমিকের মধ্যে কত শ্রমিকের কাজ করতে দেখেছেন, প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি শ্রমিকদের কাজ করতে দেখেছি, তবে কতজন কাজ করেছে তা গুনে দেখিনি।
২টি প্রকল্পে প্রতিদিন কতজন শ্রমিক কাজ করবে এবং কত কিলোমিটার খাল খনন চলছে জানতে চাইলে তিনি পুনরায় বলেন, দুটি প্রকল্পে ১১৩০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। কোদালপুরে ২৯৭ জন এবং নাগেরপাড়ায় ৮৩৩ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা। আর তাদেরকে মজুরি হিসেবে প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে প্রদান করা হবে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে। এবং মন্ত্রণালয় চিঠিতে ২১ কিলোমিটার খাল খননের কথা উল্লেখ রয়েছে। কোদালপুরে ৫ কিলোমিটার এবং নাগেরপাড়ায় ১৪ কিলোমিটার খাল খননের কথা। স্থানীয় সিদ্ধান্তে, কোদালপুরে ২ কিলোমিটার এবং নাগেরপাড়ায় ৬ কিলোমিটার খাল খনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এই সময়ে স্থানীয় সিদ্ধান্তের চিঠি বা নথি দেখতে চাইলে তিনি তা প্রতিবেদককে দেখাতে পারেননি। এ সময় তিনি বলেন কাগজটি এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই, আপনাদেরকে দেখানো সম্ভব না।
জানতে চাওয়া হয় নাগেরপাড়া প্রকল্পর বাস্তবায়ন কমিটি জানিয়েছে তাদেরকে ৮ কিলোমিটার খাল খননের কথা বলা হয়েছে, আপনার সাথে কমিটির কথার গড়মিল কেন, প্রতি উত্তরে তিনি বলেন, ৬ কিলো জায়গা যদি তার ৮ কিলো করে থাকে তাহলে তো ভালোই হলো। তারা নিজের টাকায় খরচ করে ২ কিলো খালখনন আমাদেরকে বেশি করে দিচ্ছেন।
দুই প্রকল্পে প্রতিদিন ১১৩০ জন শ্রমিকের মধ্যে আনুমানিক ২০০ শ্রমিক কাজ করছেন, বাকি আনুমানিক ৯০০ এর উপর শ্রমিকরা কাজ করছে না কেন, অনেক শ্রমিক জানেন না কর্মসূচির লিস্টে তাদের নাম রয়েছে এবং শ্রমিকের কাজ কেন এসকাভেটি মেশিন দিয়ে করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি ৫০% কাজ এসকাভেটর মেশিন দিয়ে হবে এবং ৫০% কাজ শ্রমিক করবে। সেভাবেই কাজ হচ্ছে। ৯০০ শ্রমিক কাজ করছে না এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি এই বিষয়ে ভালো জানে। অনেক সময় কাজে লিস্টে একজনের নাম থাকে, কাজ অন্য কেউ করে। লিস্টে যার নাম রয়েছে এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। অনেক সময় তারা নিজের কাজ না করে তাদের আত্মীয়-স্বজনদেরকে দিয়েও কাজ করান।
এই সময় তিনি সিরাজগঞ্জের একটি প্রকল্পের ছবি দেখিয়ে বলেন, এই যে দেখেন সিরাজগঞ্জের প্রকল্পের কাজটি পুরোটাই এসকাভেটর মেশিন দিয়ে হয়েছে। কাজটি কত সুন্দর হয়েছে, আর দেখতে কত সুন্দর লাগছে। শ্রমিকের কাজ যদি এসকাভেটর মেশিন দিয়ে হয়, তাতে ক্ষতি কি। খাল খনন কর্মসূচি ঠিক মতন হচ্ছে কিনা সেটা ভালো করে দেখেন। এমনিতেই আমরা শ্রমিক পাচ্ছিনা। আর অনুরোধ রইল খাল খনন নিয়ে নেগেটিভ কিছু লিখেন না। অন্যান্য জেলাতেও খাল খননের অধিকাংশ কাজ এসকাভেটর মেশিন দিয়ে কাজ হচ্ছে, শ্রমিক দিয়ে খুব কম করানো হচ্ছে। সেখানেও তো সাংবাদিকরা কিছু বলছেন না বা নিউজ করছেন না। তাহলে আপনাদের কেন করা লাগবে?
আপনারা ভাই ব্রাদার আসছেন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আপনাদের বিষয়টা দেখব। ভাবছি এই উপজেলা থেকে খুব শীঘ্রই বদলি হয়ে চলে যাব। এভাবে কাজ করা যায় না। আর আমি এতক্ষণ আপনাদের যা বললাম এসব কথা আবার পত্রিকায় লিইখেন না। ভাই ব্রাদার হিসেবে আপনাদের সাথে সবকিছু শেয়ার করলাম। অন্য কোন সাংবাদিক আসলে শেয়ার করতাম না।
বিষয় জানতে চাইলে গোসারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুশরাত আরা খানম, বলেন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এসকাভেটর মেশিন ও শ্রমিক দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা রয়েছে। যদি শ্রমিকরা কাজ না করেন তাহলে তাদের টাকা ফেরত যাবে।
আর যেসব শ্রমিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, তারা শ্রমিক হিসেবে খাল খননে কাজ করছেন না, অথবা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশন অনুযায়ী সঠিকভাবে কাজ হচ্ছে না। অঅভিযোগের প্রেক্ষিতে এ বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। তদন্তের পর যদি আমরা কোন অনিয়ম খুঁজে পাই। আমরা বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো, তারা যেভাবে আমাদের নির্দেশনা দিবেন আমরা সেভাবে কাজ করব।
জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কর্মকর্তা নাজনীন শামীমা বলেন, খাল খনন এবং পূন:খননের প্রকল্পটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর প্রায়োরিটি বেসিস একটি প্রজেক্ট। গোসাইরহাট উপজেলার দুটি ইউপিতে এ প্রকল্প চলমান রয়েছে। এখানে ৫০% মেশিন এবং ৫০% শ্রমিক দিয়ে কাজ করতেই হবে। দুটি প্রকল্পে ১১৩০ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা, কোন প্রকল্পে যদি কোন শ্রমিক কাজ না করে তাহলে প্রকল্পের শ্রমিকের জন্য বরাদ্দকৃত সেই মজুরি প্রদান করা হবে না। যে কয়জন কাজ করেছে, শুধু সে কয়জনের পারিশ্রমিক প্রদান করা হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির তদারকির অবহেলার কারণে খালখনণ কর্মসূচিতে এ অনিয়ম দেখা গিয়েছে, তাদের অবহেলার প্রমাণ পেলে কি ব্যবস্থা নেবেন জানতে চাইলে তিনি পুনরায় বলেন, কেউ অবহেলা করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাকে জবাবদিহিতা আওতায় আনা হবে। আর তাদের অবহেলা প্রমাণিত হলে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ বিষয়ে জানার জন্য শরীয়তপুর ৩ নং আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুর উদ্দিন অপুকে ফোন দিলে, তিনি মুঠোফোনটি কেটে দেন। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়েও তার কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার ফোনে ফোন দিলেও তারপরে সংযোগ পাওয়া যায়নি। যার জন্য তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকদফা সরেজমিনে খাল খনন প্রকল্পের এইসব অনিয়ম দেখা যায়, এই সময় সরজমিনে কোদালপুর ইউপিতে শুধু এসকাভেটর মেশিন এর মাধ্যমে খাল খনন করতে দেখা গিয়েছে। আর কিছু শ্রমিককে দেখা গিয়েছে খালের পানি অপসারণ করতে।
নাগেরপাড়া ইউপি তে কি দেখা যায়, এসকে ভিডিও মেশিনের মাধ্যমে খাল খননের কাজ চলছে। আর কিছু জায়গায় অন্তত ১০০ থেকে ১২০ জন এর মত শ্রমিক খালের মাটি কাটছেন। এসব শ্রমিকদের জড়োসড়ো হয়ে ৫০ মিটার থেকে ১০০ মিটার খাল খনন করতে দেখা গিয়েছে।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি জানিয়েছে, প্রকল্পের কাজটি বর্ষা কালে হওয়ার কারণে, খাল খননে তাদের সিম খেতে হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলেই খাল ভরে যায়, পানি সেচ করে আবার খাল খননের কাজ শুরু করতে হয়। আর বর্ষা সিজনের শ্রমিকরা পাওয়া যায় না। তাই যদি শীতকালে খাল খনন কর্মসূচি প্রকল্প হাতে না হতো তাহলে সুন্দরভাবে খাল খনন কর্মসূচির কাজ সম্পন্ন করা যেত।