Tag: ফিপা বিশ্বকাপ

  • একদিনে ৪ ম্যাচ ড্র, ভাঙ্গল ৬৮ বছরের রেকর্ড

    একদিনে ৪ ম্যাচ ড্র, ভাঙ্গল ৬৮ বছরের রেকর্ড

    স্পোর্টস ডেস্ক 

    বিশ্বকাপে ফুটবলপ্রেমীরা এক ঐতিহাসিক ও অবিশ্বাস্য দিন প্রত্যক্ষ করলেন। সোমবার বিশ্বমঞ্চে মাঠে নেমেছিল মোট আটটি দল। সাধারণত ফুটবল ম্যাচে হার-জিতের রোমাঞ্চ দেখতেই দর্শক মাঠে আসেন, কিন্তু এই দিনটি ফুটবল ইতিহাসকে রাঙাল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক গল্পে। এদিন অনুষ্ঠিত চারটি ম্যাচের প্রতিটিই শেষ হয়েছে ড্রয়ের মাধ্যমে। আর এই অদ্ভুত সমতার মধ্য দিয়ে ভেঙে গেছে দীর্ঘ ৬৮ বছরের পুরোনো এক ঐতিহাসিক রেকর্ড। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ইরান ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ২-২ গোলের ড্র ম্যাচটি দিয়ে শেষ পর্যন্ত এই বিরল রেকর্ডের জন্ম হলো।

    রেকর্ড ভাঙার এই মহাকাব্যে অবশ্য শুধু ইরান ও নিউজিল্যান্ডের একার অবদান ছিল না। সোমবারের অন্য তিনটি ম্যাচও সমতায় শেষ হয়েছিল। দিনের প্রথম ম্যাচে স্পেন ও কেপ ভার্দে গোলশূন্য (০-০) ড্র করে। এরপর বেলজিয়াম ও মিশর মুখোমুখি হয়ে ১-১ গোলে মাঠ ছাড়ে। দিনের তৃতীয় ম্যাচে সৌদি আরব ও উরুগুয়েও ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেয়। সবশেষে ইরান ও নিউজিল্যান্ডের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২-২ গোলে শেষ হলে পূর্ণতা পায় এই ঐতিহাসিক দিন।

    একই দিনে বিশ্বকাপের সব ম্যাচ ড্র হওয়ার ঘটনা ফুটবল বিশ্বে সর্বশেষ ঘটেছিল ৬৮ বছর আগে। ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে এমন একটি দিনের দেখা মিলেছিল। কাকতালীয়ভাবে, ১৯৫৮ সালের সেই দিনটিও ছিল ১৫ জুন। তবে ২০২৬ সালের ১৫ জুনের এই দিনটি এক দিক থেকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সম্পূর্ণ অনন্য ও একক রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে।

    ৬৮ বছর আগের সেই দিনেও ৪টি ম্যাচ ড্র হয়েছিল, তবে সেদিন আরও ৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেই ৪টি ম্যাচের স্পষ্ট ফলাফল এসেছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক দিনে অনুষ্ঠিত হওয়া সবকটি ম্যাচই ড্র হওয়ার কোনো নজির আগে ছিল না। ফলে ২০২৬ সালের ১৫ জুনে এসে ফুটবল বিশ্ব দেখল ‘এক দিনে সব ম্যাচ ড্রয়ের নজির নেই কোনো বিশ্বকাপেই।’ এর মাধ্যমে আগের সব ইতিহাস ভেঙে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল চলতি বিশ্বকাপ।

    ইতিহাস গড়ার এই ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। ম্যাচের শুরুতেই ইরানকে চমকে দিয়ে এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। খেলার মাত্র ৭ মিনিটে দলের পক্ষে প্রথম গোল করেন এলিজাহ জাস্ট। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ক্রিস উডের একটি দারুণ পাস থেকে বল পেয়ে তিনি ঠান্ডা মাথায় ইরানের জালে বল পাঠান।

    ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ইরান ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি, বরং তারা দুর্দান্তভাবে আক্রমণ চালাতে থাকে। ফলশ্রুতিতে ৩২ মিনিটে রামিন রেজাইয়ান বক্সের খুব কাছ থেকে নিখুঁত এক শটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। সমতাসূচক এই গোলের পর পুরো লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে উপস্থিত ইরানি সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। প্রথমার্ধের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হয়।

    বিরতির পর মাঠের লড়াই আরও জমে ওঠে। ৫৪ মিনিটে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় নিউজিল্যান্ড। অধিনায়ক ক্রিস উডের আরেকটি চমৎকার সহায়তায় নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এলিজাহ জাস্ট। ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দকে একা পেয়ে অত্যন্ত শান্তভাবে তিনি বল জালে জড়িয়ে দেন।

    নিউজিল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ইরান আবারও গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তারা একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে নিউজিল্যান্ডের রক্ষণভাগে। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে মোহাম্মদ মুহিবি দারুণ এক হেডে প্রতিপক্ষের বল জালে জড়িয়ে দেন। ফলে ম্যাচ আবার ২-২ গোলের সমতায় ফেরে।

    শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত দুই দলের কেউই আর কোনো গোল করতে পারেনি। ফলে দুই দলই এক পয়েন্ট করে নিয়ে মাঠ ছাড়ে। তবে এই ম্যাচটি শুধু মাঠের লড়াই বা পয়েন্ট ভাগাভাগির জন্য নয়, ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে ৬৮ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন এক কীর্তি স্থাপন করার জন্য।

  • ৩ লাল কার্ডের উত্তেজনাকর ম্যাচে জয় দিয়ে মেক্সিকোর বিশ্বকাপ শুরু

    ৩ লাল কার্ডের উত্তেজনাকর ম্যাচে জয় দিয়ে মেক্সিকোর বিশ্বকাপ শুরু

    স্পোর্টস ডেস্ক 

    ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ জিতে অভিযান শুরু করল দলটি। তবে এই ঐতিহাসিক জয় ও গোলের পাশাপাশি পুরো ম্যাচে ছড়িয়েছিল তুমুল উত্তেজনা; যেখানে দুই দলের খেলোয়াড়দের আচরণের কারণে রেফারিকে মোট তিনটি লাল কার্ড ব্যবহার করতে হয়েছে।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেক্সিকো প্রথমার্ধেই বেশ কয়েকটি গোল করার মতো সুযোগ তৈরি করে। খেলার তৃতীয় মিনিটে রাউল হিমিনেজের একটি জোরালো শট দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রোনেন উইলিয়ামস ঠেকিয়ে দেন। তবে গোল পেতে মেক্সিকোকে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি; ৯ম মিনিটে হুলিয়ান কিনিয়োনেসের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। ১৯তম মিনিটে কিনিয়োনেস এবং প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ব্রায়ান গুটিয়েরেজ ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ মিস করলে ১-০ গোলের ব্যবধানে প্রথমার্ধ শেষ হয়।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের দৃশ্যপটে নাটকীয় বদল আসে এবং ৫০তম মিনিটে পেনাল্টি বক্সের মাথায় ফাউল করে আসরের প্রথম লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার স্ফেফেলো সিথোলে। দশ জনের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে থাকা মেক্সিকো ৬৬তম মিনিটে মাঠে নামায় গিলবার্তো মোরাকে, যিনি মেক্সিকোর বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার রেকর্ড গড়েন। এর ঠিক এক মিনিট পরেই অর্থাৎ ৬৭তম মিনিটে রাউল হিমিনেজ গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন।

    ম্যাচের শেষ দিকে খেলোয়াড়দের মধ্যে ফাউল করার প্রবণতা ও উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। ৮৪তম মিনিটে মেক্সিকোর খেলোয়াড়কে আক্রমণ করতে গিয়ে ফাউল করে দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক মিডফিল্ডার থেম্বা জেওয়ানে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। তবে মেক্সিকোও সম্পূর্ণ ম্যাচটি ১১ জন নিয়ে শেষ করতে পারেনি; ম্যাচের যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে ফাউল করে মেক্সিকোর ডিফেন্ডার সেজার মন্তেস লাল কার্ড দেখলে শেষ পর্যন্ত তিন লাল কার্ডের নাটকীয় এই ম্যাচের সমাপ্তি ঘটে।
  • বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখবেন যেভাবে

    বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখবেন যেভাবে

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজ পর্দা উঠছে ফুটবল বিশ্বকাপের। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে মেক্সিকো সিটিতে, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচের আগে। বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য ম্যাচটি যেমন রাতজাগা আয়োজন, তেমনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও দেখা যাবে রাতেই।

    মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে। এরপর রাত ১টায় শুরু হবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ, যেখানে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

    বাংলাদেশ থেকে টেলিভিশনে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা যাবে সময় টিভি, বিটিভি ও টি স্পোর্টসে। যারা মোবাইল, ল্যাপটপ বা স্মার্ট টিভিতে দেখতে চান, তাদের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে থাকছে টফি ও বায়োস্কোপ।

    অর্থাৎ টিভি দর্শকরা নির্ধারিত চ্যানেলে গিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচ দেখতে পারবেন। আর মোবাইল বা ল্যাপটপে দেখতে চাইলে টফি বা বায়োস্কোপ অ্যাপ অথবা ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে। স্মার্ট টিভিতে অ্যাপ সাপোর্ট থাকলে সেখান থেকেও দেখা যেতে পারে।

    এবারের বিশ্বকাপে একটি নয়, তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থাকছে। তিন আয়োজক দেশ মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে আলাদা অনুষ্ঠান আয়োজন করবে। প্রথম অনুষ্ঠানটি হচ্ছে মেক্সিকোতে। পরে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রেও নিজেদের উদ্বোধনী আয়োজন হবে।

    মেক্সিকোর অনুষ্ঠানে দেশটির সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য ও সংগীতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে শাকিরা, বার্না বয়, জে বালভিনসহ একাধিক আন্তর্জাতিক শিল্পীর পারফর্ম করার কথা রয়েছে। উদ্বোধনী আয়োজন শেষে মাঠে নামবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

    বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য তাই আজ রাতের সূচি পরিষ্কার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, রাত ১টায় প্রথম ম্যাচ। টিভিতে সময় টিভি, বিটিভি ও টি স্পোর্টস; আর অনলাইনে টফি ও বায়োস্কোপেই দেখা যাবে বিশ্বকাপের শুরুর আয়োজন।

  • জমজমাট ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু আজ

    জমজমাট ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু আজ

     স্পোর্টস ডেস্ক 

    দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) পর্দা উঠতে যাচ্ছে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপের। ফুটবল ইতিহাসের বৃহত্তম এই মহাযজ্ঞ যৌথভাবে আয়োজন করছে উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্র (১৯৯৪) এবং মেক্সিকো (১৯৭০ ও ১৯৮৬) বিশ্বকাপ আয়োজন করলেও, কানাডার জন্য এবারই প্রথম বিশ্বমঞ্চের আয়োজক হওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিন দেশের ১৬টি ভেন্যুতে ৩৯ দিনব্যাপী এই আসরে সর্বমোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ম্যাক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় (আজটেকা স্টেডিয়াম) ম্যাক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের খেলা। আর ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এই বিশ্বযুদ্ধের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকছে

    বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশ মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে আয়োজিত হবে। এই প্রথমবারের মতো একটি বিশ্বকাপ তিন দেশে সমান্তরালভাবে উদ্বোধন করা হচ্ছে।

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি আয়োজক দেশে সমান্তরালভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিটি অনুষ্ঠান শুরু হবে সংশ্লিষ্ট আয়োজক দেশের উদ্বোধনী ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে। তিনটি অনুষ্ঠান আলাদা হলেও এগুলো একটি অভিন্ন থিমের মাধ্যমে যুক্ত থাকবে যেখানে ফুটবলের মাধ্যমে মানুষকে সীমান্ত পেরিয়ে একত্রিত করার বার্তা তুলে ধরা হবে।

    অনুষ্ঠানগুলোর প্রযোজক হিসেবে দায়িত্বে আছেন মার্কো বালি। তিনি একাধিক অলিম্পিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিটি শো আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করলেও সবগুলোই ফুটবলের ঐক্যের বার্তার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

    প্রতিটি দেশ নিজেদের সংস্কৃতি ও ভিজ্যুয়াল পরিচয় তুলে ধরবে

    কানাডা: ‘কালচারাল মোজাইক’ বা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য

    মেক্সিকো: ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাডো’ শিল্প

    যুক্তরাষ্ট্র: ‘ঝলমলে, উজ্জ্বল’ কাপ থিম

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘বিশ্বকাপের সূচনা এমন একটি মুহূর্ত, যা পুরো বিশ্ব একসঙ্গে ভাগ করে নেয়। মেক্সিকো সিটি থেকে শুরু হয়ে টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসে এই অনুষ্ঠানগুলো অনুষ্ঠিত হবে, যা সংগীত, সংস্কৃতি ও ফুটবলের এক অভিন্ন উদ্‌যাপন হবে।’

    সময় ও স্থানভিত্তিক আয়োজন

    মেক্সিকো সিটি (১১ জুন)

    মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে স্বদেশীয় সংস্কৃতি, আধুনিক লোকশিল্প এবং ‘পাপেল পিকাডো’ প্রদর্শিত হবে। এতে শাকিরা, জে বালভিন, মানা, লিলা ডাউনসসহ আরও অনেক আন্তর্জাতিক সংগীতশিল্পী অংশ নেবেন।

    টরন্টো (১২ জুন)

    কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এখানে দেশটির বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক মিশ্রণ তুলে ধরা হবে। এতে পারফর্ম করবেন আলানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে, এলেসিয়া কারা, জেসি রেইজস, নোরা ফাতেহি, সঞ্জয়সহ অনেকে। এটি কানাডার জন্য ঘরের মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচের আগে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে।

    লস অ্যাঞ্জেলেস (১২ জুন)

    যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে। এতে থাকবে বৃহৎ ভিজ্যুয়াল শো এবং কেটি পেরি, ফিউচার, আনিতা, এলএলএ ও রেমার মতো প্রমুখ শিল্পিদের পারফরম্যান্স। প্রতিটি অনুষ্ঠানের পর মাঠে খেলোয়াড়দের ওয়ার্ম-আপ, প্রি-ম্যাচ অনুষ্ঠান এবং আনুষ্ঠানিক কিক-অফ প্রোটোকল সম্পন্ন হবে।

    মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠান প্রায় ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড, আর টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের অনুষ্ঠান প্রায় ১৩ মিনিট করে চলবে।

     

  • অবশেষে বিশ্বকাপ খেলতে ইরান দলকে ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র

    অবশেষে বিশ্বকাপ খেলতে ইরান দলকে ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র

    স্পোর্টস ডেস্ক 

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে ইরানের জাতীয় ফুটবল দলকে ভিসা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচ শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে এ বিষয়ে অনিশ্চয়তার অবসান হলো। খবর শাফাক নিউজের।

    ভিসা অনুমোদনে বিলম্ব হওয়ায় ইরান তাদের প্রস্তুতি ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় স্থানান্তর করে। দলটি ৭ জুন সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

    ইরান ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রুপ-জি’র প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। এরপর একই শহরে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আগেই জানিয়েছিলেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাবেন না।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এবারের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরুর পর এই প্রথম এমন একটি আসর হতে যাচ্ছে, যেখানে আয়োজক দেশ ও অংশগ্রহণকারী একটি দেশের মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা রয়েছে।

  • বিশ্বকাপ শুরু না হতেই ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

    বিশ্বকাপ শুরু না হতেই ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

    স্পোর্টস ডেস্ক 

    ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে একের পর এক বিতর্ক যেন থামছেই না।  টিকিটের উচ্চমূল্য ও ইরানের ভিসা জটিলতার মতো ইস্যুর পর এবার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।  সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বকাপের সব স্টেডিয়ামে দর্শকরা কোনো ধরনের পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল সঙ্গে নিতে পারবেন না। 

    এর আগে নির্দেশিকায় বলা ছিল, সর্বোচ্চ এক লিটার ধারণক্ষমতার স্বচ্ছ ও খালি প্লাস্টিক বোতল স্টেডিয়ামে আনা যাবে।  তবে নতুন নিয়মে সেই সুযোগও বাতিল করা হয়েছে।  এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক সমর্থক এটিকে অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত কড়াকড়ি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, বোতল ছুড়ে মারার মতো ঘটনার মাধ্যমে মাঠে থাকা খেলোয়াড়, রেফারি বা দর্শকদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।

    একই সঙ্গে ফিফা জানিয়েছে, স্টেডিয়ামগুলোর ভেতরে দর্শকদের জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি থাকবে কুলিং টেন্ট, মিস্টিং জোন এবং ফ্যান জোনের মতো সুবিধা। প্রয়োজন অনুযায়ী বোতলজাত পানি বিক্রিও করা হবে।

    তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়াবিদদের একাংশ।  তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন স্টেডিয়ামে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে খেলা হওয়ায় পর্যাপ্ত পানির সহজলভ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  বিশেষ করে খোলা স্টেডিয়ামে দীর্ঘ সময় দর্শক ও খেলোয়াড়দের অবস্থানের কারণে হিট স্ট্রেসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

  • তাহলে এবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে আর্জেন্টিনা!

    তাহলে এবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে আর্জেন্টিনা!

    স্পোর্টস ডেস্ক 

    কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এই শিরোপা-উল্লাস লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনও। তবে আলোচনা এখানে নয়। এবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ৪৮ দলের ফিফা বিশ্বকাপ। 

    যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা দলে আছেন মেসি। কোচ লিওনেল স্কালোনির মূল ভরসাও তিনি। পাশাপাশি, দলে ১৭ জন ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী এবং ৯ জন নতুন খেলোয়াড় আছেন। সবমিলিয়ে শিরোপাটা ধরে রাখার জন্য দলের যে সব রসদ প্রয়োজন, এবারের আর্জেন্টিনা দলে তার সবই রয়েছে।

    এদিকে আর্জেন্টিনা দলটি দেখে ফুটবলবিশেষজ্ঞদের অভিমত, ১৯৬২ সালের পর এবারই প্রথম টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারে কোনো দল। এর আগে, ১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনার সামনে সেই সুযোগ ছিল, কিন্তু ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে গিয়ে ম্যারাডোনার দল ইতিহাস গড়তে ব্যর্থ হয়।

    ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলও এই সুযোগ হারায়। তবে ২০০২ সাল পর্যন্ত টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে দুটি জয় করেছিল ব্রাজিল। কাতারে ফ্রান্সের সামনেও এই সুযোগ ছিল। কিন্তু মেসিদের কাছে হেরে সেই স্বপ্নভঙ্গ হয়ে ফরাসিদের।

    বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে মাত্র দুটি দেশের টানা দু’বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি আছে। প্রথম দল হিসেবে ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে এই রেকর্ড গড়ে ইতালি। এরপর ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপে পেলের জাদু ও গারিঞ্চাদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে একই কীর্তি গড়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু গত ৬৪ বছরে আর কোনো দেশ এই অর্জনে নাম লেখাতে পারেনি।

    এবার আর্জেন্টিনা কী পারবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয় করতে? ফুটবল বিশ্বে মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন দেখছে এবং সমর্থকদের মধ্যে বড় আশা তৈরি হয়েছে। যদিও সেই উত্তর মেলাতে আপাতত ১৯ জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে ভক্ত-সমর্থকদের।

    কিছু লক্ষণ অবশ্য মেসিদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে। বিশ্বকাপজয়ী কোচ, বিশ্বকাপজয়ী অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অধিকাংশ ফুটবলারও এবার আর্জেন্টাইন শিবিরে আছেন। সবচেয়ে বড় শক্তি দলটির ভেতরের ঐক্য ও ড্রেসিং রুমের দারুণ পরিবেশ, যা বড় সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এ ছাড়া আধুনিক ফুটবল ও অন্যান্য খেলার সাম্প্রতিক ফলাফল বলছে, দলীয় স্থিতিশীলতা থাকলে টানা শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাব ফুটবলে পিএসজি ও অন্যান্য শীর্ষ দলগুলো ধারাবাহিক সাফল্য মূলত ভালো টিমওয়ার্ক ও ভারসাম্যের কারণেই এসেছে। গত ৩০ মে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে টাইব্রেকারে আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয় পিএসজি।

    যদিও এর আগে কিলিয়ান এমবাপ্পে-নেইমার জুনিয়র কিংবা লিওনেল মেসিদের মতো তারকাদের ভিড়িয়েও ইউরোপাসেরা খেতাব জিততে পারেনি দলটি। কিন্তু সবশেষ দুই আসরে তারকাভর্তি টাইটানিক নয়, বরং একাত্মতা আর ড্রেসিং রুমের স্থিতিশীলতার মন্ত্রেই সাফল্য পেয়েছে কোচ লুইস এনরিকের অধীনে থাকা দলটি।

    ক্রিকেট ও ফুটবলের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়ও একই চিত্র দেখা যায়। যেখানে দল হিসেবে একসঙ্গে খেলা ও ড্রেসিং রুমের স্থিতিশীলতা শিরোপা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে। উদাহরণ হিসেবে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কথাও আসতে পারে। এর আগে, তারকা নির্ভর দল গড়েও প্রত্যাশিত শিরোপা স্বাদ বঞ্চিত ছিল বিরাট কোহলির দল। কিন্তু সবশেষ দুই আসরে দলীয় স্থিতিশীলতা, ড্রেসিংরুমের চমৎকার পরিবেশ টিম স্পিরিটের মন্ত্রে শিরোপা উল্লাসে মেতেছে তারা।

    এ ছাড়া কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে স্প্যানিশ লা লিগায় টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বার্সেলোনা। জার্মান বুন্দেসলিগায় টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ। এখানেও একইরকম রহস্যমন্ত্রে সফল দলগুলো। এই দিকগুলো আর্জেন্টিনা দলে এখন স্পষ্টভাবে বিদ্যমান।

    সব মিলিয়ে বলা যায়, অন্যান্য দলের তুলনায় আর্জেন্টিনা অনেকটাই এগিয়ে। যদি এই ধারাবাহিকতা ও ঐক্য বজায় থাকে, তাহলে আবারও বিশ্বকাপ শিরোপা মেসির হাতেই উঠতে পারে, এমন সম্ভাবনাই এখন বেশি আলোচনায়

  • বিশ্বকাপের আগেই প্রতিপক্ষকে ৬ গোলে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল

    বিশ্বকাপের আগেই প্রতিপক্ষকে ৬ গোলে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল

    স্পোর্টস ডেস্ক 

    ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরুর আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতিতে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। রবিবার রিও ডি জেনিরোর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে প্রীতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ গোলে হারিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল। খেলা শুরুর এক মিনিটও পূর্ণ হওয়ার আগেই দলকে এগিয়ে দেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। কাসেমিরোর কাছ থেকে বল পেয়ে দূরপাল্লার শক্তিশালী শটে পানামার গোলরক্ষক অরল্যান্ডো মসকেরাকে পরাস্ত করেন তিনি।

    তবে ১৪তম মিনিটে অপ্রত্যাশিতভাবে সমতায় ফেরে পানামা। মাইকেল মুরিলোর নেওয়া ফ্রি-কিক মাতেউস কুনিয়ার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলরক্ষক অ্যালিসনের নাগালের বাইরে জালে জড়িয়ে যায়। সমতা ফেরানোর পর বেশিক্ষণ ম্যাচে টিকে থাকতে পারেনি পানামা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই আবারও এগিয়ে যায় ব্রাজিল। বাম প্রান্ত দিয়ে ভিনিসিয়ুসের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাসেমিরো হেডে বল জালে পাঠান।

    বিরতির পর ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি প্রায় পুরো শুরুর একাদশ বদলে দেন। কিন্তু তাতেও দলের আক্রমণভাগের ধার কমেনি, বরং আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ৫৩তম মিনিটে পানামার গোলরক্ষক মসকেরার ভুল পাস থেকে বল পেয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড রায়ান। বোর্নমাউথের এই তরুণ ফুটবলারের গোল মারাকানার দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করে তোলে।

    ৬০তম মিনিটে দূরপাল্লার শটে ব্রাজিলের চতুর্থ গোল করেন লুকাস পাকেতা। এর তিন মিনিট পর পেনাল্টি থেকে পঞ্চম গোল যোগ করেন ইগর থিয়াগো। বক্সের ভেতরে মসকেরা তাকে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। দ্বিতীয়ার্ধজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বজায় রাখে ব্রাজিল। ৮১তম মিনিটে পাকেতার ভাসিয়ে দেওয়া পাস নিয়ন্ত্রণে এনে পানামার রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে দলের ষষ্ঠ গোল করেন বোটাফোগোর ডানিলো।

    ম্যাচের শেষ দিকে একটি সান্ত্বনার গোল পায় পানামা। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া কার্লোস হার্ভির শক্তিশালী শটে ব্যবধান কমে ৬-২ হয়। তবে তাতে ম্যাচের ফল বদলানোর কোনো সুযোগ ছিল না। নেইমার কাফের চোটে মাঠের বাইরে থাকলেও এই ম্যাচে ব্রাজিলের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফর্মার ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। একটি গোল করার পাশাপাশি কাসেমিরোর গোল তৈরিতেও ভূমিকা রাখেন তিনি। পুরো ম্যাচজুড়ে গতি ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে পানামার রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন এই উইঙ্গার।

    গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, মারকিনিয়োস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতো কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়াই মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। তবুও আনচেলত্তির দল আক্রমণভাগে নিজেদের গভীরতা ও বৈচিত্র্য প্রদর্শন করেছে। ম্যাচে ব্রাজিল ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলেছে। গোলপোস্টে ছিলেন অ্যালিসন। রক্ষণভাগে ছিলেন ওয়েসলি, ব্রেমার, লেও পেরেইরা ও অ্যালেক্স সান্দ্রো। মাঝমাঠে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারায়েস দায়িত্ব পালন করেন। আক্রমণভাগে ছিলেন রাফিনিয়া, হেনরিক, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাতেউস কুনিয়া।

    অন্যদিকে থমাস ক্রিস্টিয়ানসেনের অধীনে পানামার একাদশে ছিলেন অরল্যান্ডো মসকেরা, ব্ল্যাকম্যান, কর্দোবা, এসকোবার, রদ্রিগেজ, দিয়াজ, বারসেনাস, হার্ভি, আন্দ্রাদে, ওয়াটারম্যান ও মুরিলো। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক ভেন্যু মারাকানায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিজেদের সমর্থকদের সামনে ব্রাজিলের শেষ ম্যাচ।

    এখন টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এরপর ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’ অভিযান শুরু করবে সেলেসাওরা। একই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

  • ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলের জার্সি নম্বর ঘোষণা নেইমার ১০, অন্যরা কে কত?

    ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলের জার্সি নম্বর ঘোষণা নেইমার ১০, অন্যরা কে কত?

    স্পোর্টস ডেস্ক 

    আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের জন্য নেইমারদের অফিশিয়াল জার্সি নম্বর প্রকাশ করেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। প্রায় আড়াই বছর পর জাতীয় দলে ফেরা ও চোট কাটিয়ে ওঠার লড়াইয়ে থাকা তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়রের পিঠেই উঠছে ১০ নম্বর জার্সি। আর আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা ম্যাথিউস কুনিয়াকে দেওয়া হয়েছে ৯ নম্বর জার্সি।

    নিজেদের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের মতোই জাতীয় দলেও ৭ নম্বর জার্সি পরে মাঠ মাতাবেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। আর আক্রমণভাগের আরেক তারকা রাফিনিয়ার গায়ে উঠছে ১১ নম্বর জার্সি। ব্রাজিলের বিস্ময় বালক এনড্রিক পরবেন ১৯ নম্বর জার্সি।

    আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে তার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা। আজ রবিবার (৩১ মে) রাতে রিও ডি জেনিরোর বিখ্যাত মারাকানা স্টেডিয়ামে প্রথম প্রীতি ম্যাচে পানামার মুখোমুখি হবে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। এরপর আগামী শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে মিশরের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলবে ব্রাজিল দল।

    কে কত নম্বর জার্সি পেলেন? 
    ১. অ্যালিসন বেকার (গোলরক্ষক)
    ২. ওয়েসলি
    ৩. গ্যাব্রিয়েল মাগালাস
    ৪. মার্কিনহোস
    ৫. কাসেমিরো
    ৬. অ্যালেক্স সান্দ্রো
    ৭. ভিনিসিয়াস জুনিয়র (ভিনি জুনিয়র)
    ৮. ব্রুনো গিমারেস
    ৯. ম্যাথিউস কুনিয়া
    ১০. নেইমার জুনিয়র
    ১১. রাফিনিয়া
    ১২. ওয়েভারটন (গোলরক্ষক)
    ১৩. দানিলো
    ১৪. ব্রেমার
    ১৫. লিও পেরেরা
    ১৬. দগলাস সান্তোস
    ১৭. ফাবিনহো
    ১৮. দানিলো সান্তোস
    ১৯. এনড্রিক

    ২০. লুকাস পাকেতা

    ২১. লুইজ হেনরিকে
    ২২. গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি
    ২৩. এডারসন (গোলরক্ষক)
    ২৪. ইবানেজ
    ২৫. ইগর থিয়াগো
    ২৬. রায়ান

  • কেমন হলো আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল

    কেমন হলো আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল

    স্পোর্টস ডেস্ক 

    বড় কোনো চমক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় ফিফা বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে লিওনেল মেসির সঙ্গী হিসেবে যেসব তারকারা এতদিন আলোচনায় ছিলেন, তাদেরই অনেকেই এবার কোচের প্রিয় তালিকায় জায়গা পাননি। মূলত মাঠের প্রতিটি পজিশনে একাধিক বিকল্প খেলোয়াড় থাকায় কৌশলগত দিক থেকেও বেশি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন আর্জেন্টাইন কোচ। 

    কাতার বিশ্বকাপে অনেকটা তরুণ দল নিয়েই পাড়ি জমিয়েছিল লে আলবিসেলেস্তেরা। সেই দলের দুই তৃতীয়াংশ ফুটবলার এবারও বিশ্বমঞ্চ মাতাবেন। টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের মিশনে সেই দলের ওপরই আস্থা রেখেছেন স্কালোনি।

    আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক হয়তো মার্কোস আকুনার না থাকা। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে রিভার প্লেটে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়ায় বিষয়টি অনেকটা প্রত্যাশিতই ছিল। স্কোয়াডে দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠিত কোনো লেফটব্যাক না থাকায় এই পজিশনে তাকে দিয়ে বাড়তি সুবিধা আদায়ের সুযোগ ছিল কোচের। এই পজিশনে ফাকুন্দো মেদিনা কিংবা ভ্যালেন্তিন বার্কো থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে মিডফিল্ডে খেলছেন বার্কো। তবে লেফটব্যাকেও বেশ অভিজ্ঞ তিনি। সবমিলিয়ে এই পজিশনে ভুগতে পারে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

    মার্কোস সেনেসির বদলে ফাকুন্দো মেদিনাকে দলে নেওয়াও অবাক করার মতোই। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিতই সুযোগ পাচ্ছিলেন সেনেসি। কিন্তু অভিজ্ঞতা বিবেচনায় দ্বিতীয় সেন্টারব্যাক হিসেবে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকেও রাখা হয়েছে।

    রক্ষণভাগে ৮ ফুটবলার বেছে নিয়েছেন স্কালোনি। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ডিফেন্সে লিওনার্দো বালের্দি, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি ও ফাকুন্দো মেদিনা রয়েছেন। এর মধ্যে প্রয়োজনে বাঁ-প্রান্তেও খেলতে পারেন মেদিনা। যদিও বাঁ-প্রান্তে নিকোলাস তালিয়াফিকো অন্যতম ভরসা। অন্যদিকে ডানপ্রান্তে গনসালো মন্তিয়েল ও নাহুয়েল মলিনা আছেন।

    মিডফিল্ডে ৭ জন ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে লেয়ান্দ্রো পারেদেস, রদ্রিগো দে পল ও এক্সেকিয়েল পালাসিওস মূলত রক্ষণাত্মক দায়িত্ব সামলাতে পারবেন। তবে প্রয়োজনে আক্রমণেও ভূমিকা রাখতে সক্ষম তারা।

    অন্যদিকে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডে স্কালোনির ভরসার নাম ভ্যালেন্তিন বারকো, জিওভানি লো সেলসো, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজ। এই চারজনই মাঝমাঠে সৃজনশীলতা ও আক্রমণের গতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তবে লো সেলসোর কারণে এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া কিংবা ম্যাক্সিমো পেরোনের হয়তো দলে জায়গা হয়নি।

    আক্রমণভাগেও একাধিক বিকল্প আছেন। স্কালোনির দলে ফরোয়ার্ড হিসেবে হুলিয়ান আলভারেজ, লিওনেল মেসি, নিকোলাস গনসালেজ, থিয়াগো আলমাদা, জিওভানি সিমিওনে, নিকো পাজ, হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ আছেন।

    গোলরক্ষকের জায়গায় আছেন তিনজন অভিজ্ঞ ফুটবলার। অ্যাস্টন ভিলার হয়ে সম্প্রতি উয়েফা ইউরোপা লিগ জেতা এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ আবারও আর্জেন্টিনার প্রথম পছন্দ। কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স এখনো সমর্থকদের মনে গেঁথে আছে। এ ছাড়া দলে রয়েছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হুয়ান মুসো এবং অলিম্পিক মার্সেইয়ের হেরোনিমো রুলিও।

    তবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দলে অন্যতম বড় চমক ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনোর বাদ পড়া। যদিও গত ডিসেম্বর থেকেই স্কোয়াডে তার না থাকা অনেকটা স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। সাম্প্রতিক সময়ে রিয়াল মাদ্রিদে খুব বেশি খেলার সুযোগ না পাওয়াই এর পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। সব মিলিয়ে আকুনা-মাস্তানতুয়োনোদের বাদ পড়া বাদ দিয়ে অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির সমন্বয়ে এবারও শক্তিশালী দল নিয়েই বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামছে আর্জেন্টিনা।