Tag: হজ্জ

  • মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার মধ্যেই শুরু হলো পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা

    মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার মধ্যেই শুরু হলো পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    মার্কিন-ইরান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতার আবহে সৌদি আরবে আজ সোমবার (২৫ মে/৮ জিলহজ) থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের মূল আচার-অনুষ্ঠানিকতা। গতকাল রবিবার রাত থেকেই হজযাত্রীরা মক্কা থেকে তাঁবুর শহর মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে সৌদির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    পবিত্র কাবা শরীফ সাতবার তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ শেষে হজযাত্রীরা বাসে চেপে কিংবা পায়ে হেঁটে মিনার দিকে রওনা হন। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এবারের হজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৫ লাখ বিদেশি হজযাত্রীর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সৌদি আরবের আরও কয়েক লাখ স্থানীয় নাগরিক। ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই হজ পালন সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জীবনে অন্তত একবার আবশ্যিক।

    হজের এই আধ্যাত্মিক কার্যক্রম মোট ছয় দিনব্যাপী স্থায়ী হবে। সাধারণত ঈদুল আজহার তিন দিন আগে থেকে শুরু হয়ে ঈদের দুই দিন পর পর্যন্ত এই আনুষ্ঠানিকতা চলে। সৌদি আরবে আগামী ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার কথা রয়েছে, সেই অনুযায়ী ২৯ মে হবে এবারের হজের শেষ দিন।

    হজযাত্রীদের যাত্রা ও অবস্থান নির্বিঘ্ন করতে সৌদি সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আবাসন, আতিথেয়তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জিলকদ মাস থেকে এ পর্যন্ত হাজিদের তাঁবু ও সেবাকেন্দ্রগুলোতে ৮৩ হাজারেরও বেশি মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। মিনার ক্যাম্পে হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, খাদ্য ও পরিবহন সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধানের জন্য বিশেষ তদারকি দল মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে সৌদি গেজেট সূত্রে জানা গেছে।

  • মিনায় পৌঁছেছেন হজযাত্রীরা, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ

    মিনায় পৌঁছেছেন হজযাত্রীরা, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আজ। সেই লক্ষ্যে সারাবিশ্ব থেকে আগত হাজিরা নিজেদের প্রস্তুত করছেন। রোববার (২৪ মে) এশার নামাজের পরই হাজিরা তাবুর শহর হিসেবে পরিচিত মিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। মিনায় যাওয়ার আগে মুসল্লিরা ইহরামের কাপড় পরিধান করেন।

    শরীয়তের বিধান অনুসারে, হাজিরা ৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে ফজর হতে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। মিনায় রাত্রিযাপন শেষে ৯ জিলহজ (মঙ্গলবার) আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হবেন তারা। সেখানে এ বছর হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি।

    খুতবার পর হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করবেন হাজিরা। ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওয়ানা দিবেন হাজিরা। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ শেষে উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগে মুজদালিফা থেকে মিনায় যাবেন হাজিরা এবং শুধু বড় জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় পশু কুরবানি দেবেন ও মাথা মুণ্ডন কিংবা চুল ছোটো করবেন।

    ১১ ও ১২ জিলহজ হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্বে মিনা ত্যাগ করবেন হাজিরা।

    চলতি বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬ লাখ থেকে ১৮ লাখ মুসলমান হজ পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশ থেকে এ বছর সাড়ে ৭৮ হাজার মানুষ হজ পালন করতে সৌদি আরব গেছেন।

    এদিকে হজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি প্রশাসন। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল মনসুর বিন নাসের আল-ফায়েজ হজের পবিত্র স্থানগুলোতে নিয়োজিত বাহিনীর কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি জানান, হাজিদের সেবায় নিরাপত্তা বাহিনীগুলো পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।

    কমান্ডার আরও উল্লেখ করেন, এ বছর বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সেবামূলক সংস্থাগুলোর মধ্যে চমৎকার সমন্বয় রয়েছে। এর ফলে আল্লাহর মেহমানরা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের ইবাদত সম্পন্ন করতে পারবেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে সর্বমোট ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৩২০ জন ধর্মপ্রাণ মুসলিম হজ পালন করেছিলেন। এর মধ্যে সৌদি আরবের বাইরে থেকে আসা হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ জন। এ বছর হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই সেই সংখ্যা পার হয়ে যাওয়ায় এবারের হজ গত বছরের তুলনায় হতে যাচ্ছে আরও বড় পরিসরে।

  • হজের দিন বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব

    হজের দিন বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    চলতি বছর পবিত্র হজ তথা আরাফাতের দিন মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। এদিন পবিত্র কাবা শরিফের ঠিক ওপরে অবস্থান করবে সূর্য। ইসলামি ক্যালেন্ডারের অন্যতম এই পবিত্র দিনে দুপুরে কাবাঘরের আশপাশে কোনো ছায়া দেখা যাবে না। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এমন বিরল ঘটনা প্রতি ৩৩ বছরে মাত্র একবার ঘটে।

    রোববার (২৪ মে) এক প্রতিবেদনে গালফ নিউজ জানিয়েছে, এবার আরাফাতের দিন একটি মহাজাগতিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। দুপুরের দিকে পবিত্র কাবাঘরের ঠিক ওপরে থাকবে সূর্য। ওই মুহূর্তে মক্কায় ছায়া পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যাবে।

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ঘটনাটি আগামী ২৭ মে দুপুরে ঘটবে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সাধারণত প্রতিবছর দুবার কাবার ওপর সূর্য সরাসরি অবস্থান করে। মক্কার অবস্থান উত্তর অক্ষাংশের প্রায় ২১ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে হওয়ায় সূর্য যখন নিরক্ষরেখা ও কর্কটক্রান্তির মধ্যে চলাচল করে, তখন এ ঘটনা ঘটে। তবে আরাফাতের দিনের সঙ্গে এবার মিলে যাওয়ায় তার এবারের ঘটনাকে বিশেষ করে তুলেছে।

    তাদের মতে, সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে এমন বিরল ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল বিশ্ববাসী। হিজরি চান্দ্র ক্যালেন্ডার ও গ্রেগরিয়ান সৌর ক্যালেন্ডারের পার্থক্যের কারণেই এ বিরল সমাপতন তৈরি হয়। চান্দ্র বছরের চক্র একই সৌর তারিখের সঙ্গে আবার মিলতে প্রায় ৩৩ বছর সময় নেয়।

    আজেল সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জোর দিয়ে বলেছে, এই ঘটনাটি প্রাকৃতিক ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পুনরাবৃত্তি। এর মানে এই নয় যে, তাপমাত্রা অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে। কারণ তাপমাত্রা কেবল সূর্যের অবস্থানের ওপরই নির্ভল করে না, বরং আর্দ্রতা, মেঘের উপস্থিতি ও বায়ুপ্রবাহের গতিবিধিসহ একাধিক জলবায়ুগত কারণে প্রভাবিত হয়।

    সৌদির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের সরকারি মুখপাত্র হুসেইন আল কাহতানি বলেছেন, স্বাভাবিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে প্রতি বছরই এই ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই ঘটনার ফলে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাওয়ার যে অমূলক দাবি করা হয়, সেগুলো ব্যাখ্যা।

    তিনি আরও বলেন, আবহাওয়ার তথ্য ও তাপমাত্রার প্রতিবেদনের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সংখ্যাসূচক পূর্বাভাস মডেলের একটি সমন্বিত ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। গুজব বা প্রচারিত অসত্য তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস করার পরিবর্তে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যমের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানান তিনি।