Tag: শিক্ষা অফিস

  • রামুতে ৭২ শিক্ষক পদ শূন্য, চাপে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা

    রামুতে ৭২ শিক্ষক পদ শূন্য, চাপে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা

    এস.এম. হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার

    কক্সবাজারের রামু উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে।বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একাধিক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    রামু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট শিক্ষক পদ (প্রধান শিক্ষকসহ) রয়েছে ৫৯৮টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৫২৬ জন শিক্ষক। প্রধান শিক্ষকের ২৬টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৪৬টি পদসহ মোট ৭২টি পদ শূন্য রয়েছে।

    উপজেলার ৮২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৬টি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তুলনামূলক বেশি। এসব বিদ্যালয়ে মোট ৪৮টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। অধিকাংশ শূন্যপদ পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে তার মধ্যে মাঝিরকাটা, থোয়াংগাকাটা, জাউচপাড়া, থিমছড়ি হালিমা বেগম চৌধুরী, শুকমনিয়া, জুমছড়ি ও উত্তর বড়বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনটি করে পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এছাড়া ঈদগড় খরলিয়া মুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারটি পদ শূন্য রয়েছে।

    তবে উপজেলা শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে রামু উপজেলার কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ শিক্ষকশূন্য নয় এবং কোনো বিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষক কর্মরত রয়েছে। তারপরও অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা কম থাকায় পাঠদান কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

    স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত ও মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং শিক্ষার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    মাঝিরকাটা এলাকার এক অভিভাবক বলেন, “বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা প্রয়োজন।”
    মাঝির কাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্হাপনা পর্ষদের নবনির্বাচিত সভাপতি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন জানান,রামুর শিক্ষা ব্যবস্হায় প্রধান সমস্যা শিক্ষক সংকট।এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু নতুন নিয়োগ নয়, শিক্ষকদের সুষম বণ্টনও জরুরি। কারণ কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা তুলনামূলক বেশি থাকলেও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে এখনও শিক্ষক সংকট প্রকট।

    অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষা একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনের ভিত্তি। তাই রামুর প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

    এ বিষয়ে রামু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ হানিফ মিয়া জানান,সারাদেশের মতো রামু উপজেলায় ও শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের তবে শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।