টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার (১৩ জুলাই) পৃথক তিনটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কক্সবাজার অঞ্চলের ১১, ২ ও ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, তারা বন্যাকবলিত ও পানিবন্দী মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও রান্না করা খাবার বিতরণ করেছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) জানায়, টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে জামছড়ি, ফুলতলী, ভালুখাইয়া, লেম্বুছড়ি, দোছড়ি ও মিলেনপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সাপমারাঝিড়ি, বাহিরমাঠ, হাজিরমাঠ, ডাক্তারকাটা, বামহাতিরছড়া, ম্যান্ডেলপাড়া ও দোছড়িপাড়া গ্রামের ১৯০টি পাহাড়ি ও বাঙালি দিনমজুর, অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে ৪৬০ প্যাকেট রান্না করা খাবার এবং প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় বিজিবির সদস্যরা দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) শাহপরীরদ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অতিবৃষ্টিজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি দুঃস্থ ও পানিবন্দী পরিবারের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়ার সার্বিক দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
এদিকে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) কক্সবাজার সদর উপজেলার পূর্ব মুক্তারকুল এলাকায় বন্যাকবলিত ৬৫টি এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের আরও ৫৫টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে। ফলে ব্যাটালিয়নটির পক্ষ থেকে মোট ১২০টি পরিবারের হাতে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনটি ব্যাটালিয়নের পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির দায়িত্বের অংশ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বিজিবি আরও জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবন্দী মানুষের খোঁজখবর রাখা, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজন হলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য সীমান্তে মোতায়েন বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।

