Tag: সীমান্তে

  • কক্সবাজার-বান্দরবান সীমান্তে স্থলমাইনের বিভীষিকা: থামছে না হতাহতের মিছিল

    কক্সবাজার-বান্দরবান সীমান্তে স্থলমাইনের বিভীষিকা: থামছে না হতাহতের মিছিল

    এস.এম. হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার

    বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কক্সবাজার ও বান্দরবানের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে স্থলমাইনের আতঙ্ক এখনো বাস্তব ও ভয়াবহ। বিশেষ করে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম, তুমব্রু, দোছড়ি, আশারতলী, চাকঢালা এবং কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সংলগ্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঘটনা ঘটছে। সীমান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, কাঠ সংগ্রহকারী, এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও এই মরণফাঁদ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।

    সাড়ে ৮ বছরে হতাহত অন্তত ৫৭ জন পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি ও পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকায় অন্তত ৫৭ জন হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫ জন নিহত এবং ৪৪ জন পা হারিয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন।

    ২০২৫-২০২৬: উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে মাইন বিস্ফোরণ
    শুধু ২০২৫ ও ২০২৬ সালেই সীমান্তে একের পর এক মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

    উল্লেখযোগ্য ঘটনা ২৪ জানুয়ারি ২০২৫ নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে পৃথক বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি আহত হন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে এক বিজিবি সদস্য গুরুতর আহত হন।

    ২০২৬ সালের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত অন্তত ৭ জন পা হারানোর ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে আসে। সম্প্রতি নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তে চার ঘণ্টার ব্যবধানে ৩ জন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।

    ২৪ মে ২০২৬ ঘুমধুম সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন, যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা।

    জুন ২০২৬-এ পৃথক ঘটনায় এক রোহিঙ্গা শ্রমিক নিহত এবং আরেক রোহিঙ্গা শ্রমিক আহত হন। একজন আনসার সদস্যও মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন।

    সীমান্তবাসীর জীবনে স্থায়ী আতঙ্ক স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সীমান্তের পাহাড়ি ঝিরি, বনাঞ্চল ও কৃষিজমিতে কাজ করতে গেলেই মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়। অনেক পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম সদস্য হারিয়েছে। কেউ হারিয়েছেন পা, কেউ হারিয়েছেন জীবিকা। ফলে সীমান্ত এলাকার অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমার সীমান্তের বিভিন্ন অংশে পূর্বে পুঁতে রাখা স্থলমাইন এখনো সক্রিয় রয়েছে। বর্ষাকাল, পাহাড়ি ঢল ও মাটির ক্ষয়ের কারণে অনেক মাইন স্থান পরিবর্তন করে নতুন এলাকায় চলে আসছে। ফলে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দূরের এলাকাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

    বিশেষজ্ঞরা সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মাইন অপসারণ উদ্যোগ এবং আহতদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

    কক্সবাজার-বান্দরবান সীমান্তে স্থলমাইন এখন শুধু নিরাপত্তা ইস্যু নয়, এটি একটি মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। গত কয়েক বছরে নিহতের চেয়ে পঙ্গুত্বের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় শতাধিক মানুষ ও পরিবার দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। সীমান্তে নতুন করে প্রাণহানি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই নীরব মৃত্যুফাঁদ আরও বহু মানুষের জীবন বিপন্ন করবে।

  • বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প চালুর ঘোষণা দিলেন অমিত শাহ

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প চালুর ঘোষণা দিলেন অমিত শাহ

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তকে ‘অভেদ্য’ করতে এবং অনুপ্রবেশ রোধে নতুন প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা করছে ভারত সরকার। শিগগিরই ড্রোন, রাডার, স্মার্ট ক্যামেরা ও অন্যান্য আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প চালুর ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    শনিবার (২৩ মে) দিল্লিতে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) ইনভেস্টিচার সেরিমনি এবং রুস্তমজি মেমোরিয়াল লেকচারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সমন্বিত সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য।

    শাহ যোগ করেন, ‘সীমান্তকে স্মার্ট বর্ডারে রূপান্তর করতে সরকার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে। স্মার্ট বর্ডার ধারণার আওতায় সব ধরনের প্রযুক্তি একত্রিত করে আগামী এক বছরের মধ্যে একটি অভেদ্য সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে চলছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুব শিগগিরই ড্রোন, রাডার, আধুনিক ক্যামেরা এবং অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি স্মার্ট বর্ডার প্রকল্প চালু করবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিএসএফের কাজ অনেক সহজ এবং আরও শক্তিশালী হবে।’

    পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সীমান্তকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ‘উদ্বেগের কারণ’ হিসেবে উল্লেখ করে শাহ বলেন, এই দুই সীমান্ত প্রচলিত পদ্ধতিতে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বর্তমানে এসব সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহ, গবাদিপশু পাচার, জাল ভারতীয় মুদ্রা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের মতো হুমকি রয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের বিপদ চিহ্নিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনুপ্রবেশের মাধ্যমে সীমান্তের ওপার থেকে কৃত্রিম জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের যে চেষ্টা চলছে, তা রোধ করা আমাদের দায়িত্ব। এজন্য আমাদের সর্বদা সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সরকার শুধু অনুপ্রবেশ বন্ধ করতেই নয়, বরং প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করে দেশ থেকে বহিষ্কার করতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস