Tag: হজ

  • হজে গিয়ে ৩৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

    হজে গিয়ে ৩৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    পবিত্র হজ পালন শেষে ধীরে ধীরে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন বাংলাদেশি হাজিরা। শনিবার (৩০ মে) দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত ১৫টি ফিরতি ফ্লাইটে মোট ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজী দেশে পৌঁছেছেন।

    ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্পডেস্কের দৈনিক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এদিকে, চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    বুলেটিন অনুযায়ী, চলতি হজ মৌসুমে এখন পর্যন্ত মোট ৩৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী। এর মধ্যে পবিত্র মক্কায় ২৭ জন এবং মদিনায় ১০ জন ইন্তেকাল করেছেন। তবে জেদ্দা, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফায় এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

    হজ বুলেটিনে আরও বলা হয়, ৩০ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ফিরতি ফ্লাইট (এসভি-৫৮০৬) স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪ মিনিটে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪৪৫ জন হাজী নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে। ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

    দেশে ফেরা ৬ হাজার ১৭৫ হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪১৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ৭৫৯ জন রয়েছেন। ফিরতি যাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১ হাজার ১৮৪ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ১ হাজার ৬৯১ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৩ হাজার ৩০০ জন হাজী পরিবহন করেছে। এ পর্যন্ত মোট ১৫টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৪টি এবং ফ্লাইনাস ৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

    চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট পরিচালিত হয় ১৮ এপ্রিল, আর শেষ ফ্লাইট যায় ২১ মে। এদিকে হজ শেষে হাজিদের দেশে ফেরার কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৩০ মে থেকে, যা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল আজহা আজ

    মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল আজহা আজ

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা আজ বুধবার (২৭ মে) উদযাপিত হচ্ছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ঈদের নামাজ আদায় ও পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে পালন এ উৎসব করবেন।

    মঙ্গলবার (২৬ মে) জিলহজ মাসের ৯ম দিনে ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে সমবেত হন। ভোর থেকেই সাদা ইহরাম পরিহিত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।

    ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আরাফাতে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারে সময় কাটান। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় কান্না ও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তারা।

    দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন শায়খ আলি আল হুদাইফি। এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর সংগ্রহ করেন হাজিরা।

    আজ ১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা। পরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কুরবানি করবেন হাজিরা। কুরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করবেন তারা। এরপর কাবা শরিফ তাওয়াফের মধ্য দিয়ে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

    মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে চেয়েছিলেন। ওই অনন্য ঘটনার স্মরণেই ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির এ রেওয়াজ চালু হয়। মহান আল্লাহপাকের প্রতি আনুগত্য এবং তারই রাহে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের এ ঐতিহাসিক ঘটনার ধারাবাহিকতায় মুসলিম বিশ্বে কোরবানি ও ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়ে আসছে।

    এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসলমানদের অনেকে আগেই গরু, ছাগলসহ কুরবানির পশু কিনেছেন। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নানা প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা।

    হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সৌদি সরকার ব্যাপক নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তীব্র গরমে হাজিদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন স্থানে পানির ফোয়ারা ও ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের যাতায়াত সহজ করতে প্রায় ২৪ হাজার বিশেষ বাস পরিচালনা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

  • আজ পবিত্র হজ

    আজ পবিত্র হজ

    ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হলো হজ। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করা ফরজ। প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লাখো মুসল্লি সৌদি আরবের মক্কায় একত্রিত হন এই মহান ইবাদত পালনের জন্য। হজ শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের এক অনন্য শিক্ষা।

    আজ ৯ জিলহজ, মঙ্গলবার, পবিত্র হজের দিন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা এখন অবস্থান করছেন ইসলামের পবিত্র ভূমি মক্কা ও মিনায়। সাদা ইহরামের পোশাকে ধনী-গরিব, কালো-সাদা, আরব-অনারব সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত কামনা করছেন। এই দৃশ্য মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সমতার প্রতীক হয়ে ওঠে।

    গতকাল পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল থেকে তাঁবুর নগরী মিনায় হাজিদের অবস্থানের মাধ্যমে হজ শুরু হয়েছে। সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরশু রাত থেকেই মক্কার মসজিদুল হারাম হয়ে ইহরাম বেঁধে মিনায় এসেছেন তারা।

    এরপর হাজিরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন। আরাফাতের ময়দানে অবস্থান হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দিনে হাজিরা কান্না, দোয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের গুনাহ মাফ করে দেন এবং রহমতের দরজা খুলে দেন।

    আরাফাতের পর হাজিরা মুজদালিফায় যান। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করেন এবং শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য কঙ্কর সংগ্রহ করেন। পরে মিনায় ফিরে জামারাতে শয়তানকে প্রতীকীভাবে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এই কাজ মানুষের জীবনে মন্দ, পাপ ও শয়তানের প্ররোচনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শিক্ষা দেয়।

    হজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পশু কোরবানি। হজরত ইবরাহিম আ. আল্লাহর আদেশ পালনের জন্য নিজের প্রিয় সন্তানকে কোরবানি করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। তাঁর সেই ত্যাগের স্মৃতিতেই মুসলমানরা কোরবানি করেন। এর মাধ্যমে মানুষ ত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা পায়।

    হজ মানুষের জীবনে আনে এক নতুন পরিবর্তন। অনেকেই মনে করেন, হজ থেকে ফিরে আসার পর একজন মানুষ যেন নতুন জীবনের সূচনা করেন। হিংসা, অহংকার, লোভ ও অন্যায় থেকে দূরে থাকার প্রতিজ্ঞা করেন তারা। তাই হজ শুধু শরীরের সফর নয়, এটি আত্মারও এক পবিত্র যাত্রা।

    আজকের এই পবিত্র দিনে বিশ্বের মুসলমানরা শান্তি, ক্ষমা ও কল্যাণের জন্য দোয়া করছেন। যুদ্ধ, সহিংসতা ও অশান্তিতে ভরা পৃথিবীতে হজের শিক্ষা মানুষকে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবতার পথে চলার আহ্বান জানায়।

    পবিত্র হজ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক বিশাল নেয়ামত। এই ইবাদত মানুষকে শেখায় ধৈর্য, ত্যাগ, শৃঙ্খলা ও আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস। তাই হজের এই মহিমান্বিত দিনটি মুসলমানদের হৃদয়ে বিশেষ গুরুত্ব ও আবেগের স্থান দখল করে আছে।