রাজশাহীতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু

সারাদেশের ন্যায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকাতেও উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। রোববার সকাল ৮টায় শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন।

শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অপুষ্টিজনিত জটিলতা কমানো এবং রাতকানা রোগসহ ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতিজনিত নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিরোধের লক্ষ্যে পরিচালিত এ কর্মসূচি বিকেল ৫টা পর্যন্ত একযোগে চলবে। নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের বয়সভেদে নীল ও লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডের আওতায় স্থাপিত ৩৮৪টি কেন্দ্রে একযোগে ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরাও শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানো এবং অভিভাবকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে কাজ করছেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আগত অভিভাবকদের শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির গুরুত্ব সম্পর্কেও সচেতন করা হচ্ছে।

রাসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৯ হাজার ১১৩ জন শিশুকে নীল রঙের (১ লাখ আইইউ) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৫৭ হাজার ২৮২ জন শিশুকে লাল রঙের (২ লাখ আইইউ) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৬৬ হাজার ৩৯৫ জন শিশুকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বৃহৎ এ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি ৭৬৮ জন স্বেচ্ছাসেবী মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে শিশুদের নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা, স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নির্ধারিত বয়সসীমার সব শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যেসব শিশু গুরুতর অসুস্থ, জ্বর বা চিকিৎসকের বিশেষ পরামর্শে রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ করে ক্যাপসুল গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন