ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের পূর্ব ফুলবাড়ীয়া দোহায় দীর্ঘদিন ধরে অবাধে গ্যাস ট্যাবলেট ও বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এতে পানি দূষিত হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নদীপারের কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, একশ্রেণির অসাধু মাছ শিকারির কারণে এখন বাঁওড়ে পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের আঁধারে বাঁওড়ে গ্যাস ট্যাবলেট ও বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগ করে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে ছোট-বড় সব ধরনের দেশীয় মাছ মারা যাচ্ছে। একই সঙ্গে পানির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দেওয়ালীকান্দা, পূর্ব ফুলবাড়ীয়া, চরবাঙ্গরাইল, রায়েরচর, গুচ্ছগ্রাম, বিষ্ণুদি ও কাকদী এলাকার বাসিন্দারা। প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই বাওরের পানির ওপর নির্ভরশীল হলেও বর্তমানে সেই পানি পান, রান্না কিংবা গোসলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু মোল্লা (৩৪) বলেন, “গ্যাস ট্যাবলেট দেওয়ার কারণে পুঁটি মাছ, শৈল মাছ, গজার মাছসহ অনেক দেশীয় মাছ মারা যাচ্ছে। আগের মতো মাছও পাওয়া যায় না।”
রোকন মোল্লা (৬৫) বলেন, “এই পানি কেউ রান্না করে খেতে পারে না, গোসলও করতে পারে না। শরীরে চুলকানি ও এলার্জি বাড়তেছে।”
হেমায়েত মোল্লা (৩৮) বলেন, “বাওরের পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমরা চরম সমস্যায় আছি। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দরকার।”
সুমন মোল্লা (৩২) বলেন, “রাত হলেই কিছু লোক এসে বিষ দিয়ে মাছ মারে। আমরা বাধা দিলেও তারা শোনে না।”
বাচ্চু মোল্লা (৫৬) বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এই বাওরে আর কোনো মাছ থাকবে না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ঘটনা চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অসাধু চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পরিবেশের পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্যও।
এ বিষয়ে বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান (শাহিন) বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ এই বিল ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু কিছুদিন ধরে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে পানি অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
সালথা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু মুঠোফোনে বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অভিযান চালিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় এনে বাওর রক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি সেখানে একটি মৎস্য অভয়ারণ্য গড়ে তোলারও দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।