Blog

  • একদলীয় শাসনের চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না : জামায়াত আমির

    একদলীয় শাসনের চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না : জামায়াত আমির

    দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার যে কোনো প্রচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    তিনি বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে জোর করে শাসনব্যবস্থা চালাতে চাইলে জনগণই হিমালয়ের মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

    শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের আত্মত্যাগের ফলেই দেশে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের অবদানকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

    সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে দলীয় অনুগতদের নিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসানোর মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসনের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী, একদলীয় শাসন কখনো টেকসই হয়নি। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হলে দেশের মানুষ তা প্রতিহত করবে।’

    সংসদে বিরোধী দলকে অবমূল্যায়নের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যেমন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কটূক্তি করত, এখন বিএনপিও একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার চর্চা করা।

    প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, বড় বাজেট প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়, সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ না হলে উন্নয়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে না।

    ব্যবসায়ীদের দুরবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সম্মেলনে আসার আগে নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাঁদাবাজি ও অনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ লক্ষ্য করেছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

    গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায়কে সম্মান করা গণতন্ত্রের মৌলিক শর্ত। গণভোটে যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো জনগণের সমর্থন পেয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা থাকা উচিত।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরকারের এক উপদেষ্টার বক্তব্যে জনগণের রায় ও গণতান্ত্রিক চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

    সরকারকে জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো সময় আছে, জনগণের রায়কে সম্মান করুন। অন্যথায় জোর করে শাসনব্যবস্থা চালাতে চাইলে জনগণ আপনাদের সামনে হিমালয় পর্বত হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে।’

    সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জনগণ গণতান্ত্রিক চর্চার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা থাকলে তাদের জোট আরও ভালো ফল করতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    নারায়ণগঞ্জের শিল্পখাতের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, একসময় দেশের শিল্প রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই জেলার গৌরব পুনরুদ্ধারে শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্যমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

    রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব নয়। জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা কথার চেয়ে কাজের মূল্যায়ন করে।

    নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সংঘর্ষের আশঙ্কা, দেশজুড়ে সতর্কবার্তা

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সংঘর্ষের আশঙ্কা, দেশজুড়ে সতর্কবার্তা

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সারা দেশে সতর্ক থাকতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় সম্ভাব্য কর্মসূচি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    মূলত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে ‘নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা’ নিতে নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। আগামী ২৩ জুন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ বিষয়ে একটি ‘জরুরি বার্তা’ পাঠানো হয়।

    দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজির কাছে পাঠানো ওই বার্তায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির ‘সম্ভাব্য কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন’ করার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, সেই দিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করার চেষ্টা হতে পারে।

    এর ফলে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপির নেতাকর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেয়া হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে। এ অবস্থায় বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে সারা দেশে এ বার্তা পাঠানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, তারা এ সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন। তবে তিনি বলেন, ‘স্পেসিফিক কোনও থ্রেট বা আশঙ্কা নেই। আমরা সতর্ক আছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সারা বছরই বিভিন্ন কর্মসূচি থাকে। আমাদের সামনে বড় কর্মসূচি হচ্ছে ১০ মহররমের আশুরা। পাশাপাশি ২৩ জুন একটি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও রয়েছে। তাই আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি।’

    নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীতের মতোই পুলিশের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি। নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নতুন পরিকল্পনা, নতুন নিরাপত্তা চেকপোস্ট ও অপারেশন কার্যক্রম অব্যাহত আছে এবং থাকবে।’

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। এর তিন দিন পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, শীর্ষ নেতা এবং প্রভাবশালী সংসদ সদস্যদের একে একে গ্রেপ্তার করা হয়। আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী বিভিন্ন দলের কয়েকজন নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    দলটির অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তাদের দেখা যায় না।

    আন্দোলন দমনে শত শত মানুষকে হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের বিচার চলছে। বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

    তবে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময় ধরপাকড় চালানোর কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

  • সড়ক সংস্কারের আড়ালে পাহাড় কাটা, ঝুঁকিতে অর্ধশত পরিবার

    সড়ক সংস্কারের আড়ালে পাহাড় কাটা, ঝুঁকিতে অর্ধশত পরিবার

    বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পিএইচপি মোড় থেকে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের দোহাই দিয়ে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়ক উন্নয়ন কাজের নামে বিশাল আকৃতির পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে, যার ফলে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত অন্তত অর্ধশত পরিবার চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব মাটি ট্রাক ও ডাম্পারযোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটতে পারে, যা তাদের ঘরবাড়ি ও জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড় কাটার কারণে অনেক স্থানে মাটির স্বাভাবিক গঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় ফাটল দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা দ্রুত পাহাড় কাটা বন্ধ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, নির্বিচারে পাহাড় কাটা শুধু পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে না, বরং ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা অবৈধ পাহাড় কাটা ও মাটি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

    এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সড়ক সংস্কারের নামে যদি পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হয়ে থাকে, তাহলে এর অনুমোদন কারা দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নজরদারি কোথায়? বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

  • বগুড়ায় দাম কমেছে সবজির

    বগুড়ায় দাম কমেছে সবজির

    বগুড়ায় সরবরাহ বাড়ায় বেশিরভাগ সবজির দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে।

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, সপ্তাহের ব্যবধানে বগুড়ায় বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫টাকা পর্যন্ত কমেছে।আগের তুলনায় সবজির সরবরাহ বেড়েছে এবং কিছু পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আগামী সপ্তাহে আরও কিছু সবজির দাম কমতে পারে।

    শুক্রবার (১৯ জুন) বগুড়ার ফতেহ আলী, রাজাবাজার, কলোনী ও খান্দার বাজারসহ শহরের বেশকিছু বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রকারের আলু মান ও জাতভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০টাকা আর কাঁচা মরিচ ৬০টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পটলের দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৪০টাকায়। যা আগে বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০টাকা। বেগুনের দাম কমে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০টাকায়। অথচ এক সপ্তাগ আগে বেগুন বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০টাকায়। এছাড়া দাম কমে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০টাকা, করলা ৫০ থেকে ৬০টাকা, ঢেঁড়স ৪০টাকা, তরী ৪০টাকা, মিষ্টি লাউ ৩০ থেকে ৪০টাকা, কাঁকরোল ৬০টাকা, বাঁধাকপি ৬০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দেশী আদা ১৬০টাকা, দেশি রসুন ১২০টাকা, চায়না রসুন ১৬০টাকা, গাজর ১৬০টাকা, টমেটো ১২০টাকা ও ফুলকপি ১০০টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।

    এদিকে মুরগি ও মাছের বাজারে দাম আগের মতই রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে ১৬০ টাকা, এবং দেশি মুরগি ৬০০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে এখন লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায়। সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় লেয়ার মুরগির দাম কমেছে। তবে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নেই।

    এদিন বাজারে আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা, তিন কেজি ওজনের কাতল মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং একই ওজনের সিলভার কার্প মাছ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বেচাকেনা হয়। টেংরা মাছের কেজি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং পাবদা মাছ ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বড় ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০টাকা কেজি এবং ছোট ইলিশ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার করতে আসা সালমা আক্তার জানান, বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। মাছ এবং মাংসের দামও আছে হাতের নাগালে। সব মিলিয়ে বাজার শেষে খুশিমনেই বাড়ি ফিরতে পারছেন তারা।

    বগুড়া ফতেহ আলী বাজারের সবজি বিক্রেতা খোকন মিয়া জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। এজন্য বেশিরভাগ সবজির দাম কিছুটা কমেছে। সরবরাহ ঠিক থাকলে সামনে আরও কমতে পারে।

  • জীবননগরে আইসিটি অফিসারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    জীবননগরে আইসিটি অফিসারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার (আইসিটি আফিসার) ও মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মাহমুদুর রহমানের (৩৫) ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে পুলিশ জীবননগর পৌর শহরের বসুতিপাড়ার বহুতল ভবনের ভাড়া বাসার তৃতীয় তলার একটি ফ্লাট হতে তার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    মাহমুদুর রহমান ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। ৩ বছর পূর্বে তিনি জীবননগরে আইসিটি অফিসার পদে যোগদান করেন।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম রাসেল ও থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান সেখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্ত্রী ইতি খাতুনের সাথে বিবাদের কারণে এক সন্তানের জনক মাহমুদুর রহমান আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

    স্ত্রী ইতি খাতুন জানান, তাদের স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে সাংসারিক বিষয়াদি নিয়ে ঝামেলা হতো, তা আবার মিটেও যেতো। তিনি বর্তমানে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বৃহস্পতিবার রাতে কিম্বা শুক্রবার তাদের মধ্যে কোনো ঝগড়া-বিবাদ হয়নি। সকালে তিনি ছেলের জন্য জুস আনতে যান। জুস কিনে আনার পর ঘরের দরজা লাগিয়ে দেন। দীর্ঘক্ষণ দরজা না খোলায় তিনি দরজা ধাক্কাধাক্কি করেন। পরে প্রতিবেশী ডেকে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃতদেহ দেখতে পান।

    জীবননগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান সেখ জানান, মামমুদুর রহমানের মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে থানাতে নেওয়া হয়েছে।

  • তথ্য চাইতেই ক্ষিপ্ত সাদুল্লাপুরের এসিল্যান্ড, সাংবাদিকের বুম-ক্যামেরা ধাক্কিয়ে অফিস ত্যাগ

    তথ্য চাইতেই ক্ষিপ্ত সাদুল্লাপুরের এসিল্যান্ড, সাংবাদিকের বুম-ক্যামেরা ধাক্কিয়ে অফিস ত্যাগ

    গাইবান্ধা প্রতিনিধি

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে যমুনা টেলিভিশন ও সময় টিভির দুই সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকদের দাবি, ধাপেরহাট এলাকায় সরকারের ১/১ অর্পিত ‘ক’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি ব্যক্তি নামে দেখিয়ে অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য ও বক্তব্য নিতে গেলে তারা বাধার মুখে পড়েন। এ সময় এসিল্যান্ড ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল পৌনে ৪ টার দিকে সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

    অভিযোগ অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য জানতে যমুনা টেলিভিশনের গাইবান্ধা প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান পলাশ এবং সময় টিভির সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু তার কার্যালয়ে গেলে তিনি প্রথমে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা টেবিলে রাখতে বলেন। পরে বুম ও ক্যামেরা দেখে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

    একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের হাতে থাকা বুম ও ক্যামেরা ধাক্কিয়ে সরিয়ে দেন, আঙুল উঁচিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কার্যালয় থেকে বের হয়ে যেতে নির্দেশ দেন। পরে দ্রুত সরকারি গাড়িতে উঠে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।

    অভিযোগ রয়েছে, ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া মৌজায় রংপুর মহাসড়কের ফোরলেন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১/১ খতিয়ান ও ২৩৭ নম্বর বিআরএস খতিয়ানের প্রায় সাড়ে ৬ শতক অর্পিত সম্পত্তিকে ব্যক্তি মালিকানাধীন দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাত করা হয়েছে। এতে জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা ও উপজেলা ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্টদের যোগসাজস রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাশ্ববর্তী পীরগঞ্জের রামনাথপুর এলাকার জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণের প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩২ টাকা উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে একই জমির মালিকানা দাবি করে স্থানীয় আসাদুল্লাহ ফারুকী নামের এক ব্যক্তি আপত্তি জানান।

    এর আগে ২০২২ সালে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ইউনিয়ন ভূমি তহসিলদারের প্রতিবেদনে ওই সম্পত্তিতে সরকারি স্বার্থ নে

  • গাইবান্ধায় ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

    গাইবান্ধায় ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

    গাইবান্ধা প্রতিনিধি

    গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গাইবান্ধার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গাইবান্ধা সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিবির একটি আভিযানিক দল। এ সময় সদর উপজেলার ১০ নং ঘাগোয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের উত্তর ঘাগুয়া সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শাকিল মিয়া (২০), পিতা- মৃত সাদ মিয়াকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

    পুলিশ জানায়, ধৃত আসামীর পরিহিত প্যান্টের ডান পকেট তল্লাশি করে সাদা পলিথিনে মোড়ানো এক পুঁটলিতে থাকা কমলা রঙের ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা নং-৪৩, তারিখ ১৮ জুন ২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক), ৩৬(৫) ও ৪১ ধারায় রুজু করা হয়েছে।

    গাইবান্ধা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

  • নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ১১ বিজিবির দুঃসাহসিক অভিযান: বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার, মাদক সিন্ডিকেটে আতঙ্ক

    নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ১১ বিজিবির দুঃসাহসিক অভিযান: বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার, মাদক সিন্ডিকেটে আতঙ্ক

    এস.এম. হুমায়ুন কবির,কক্সবাজার

    মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা নাইক্ষ্যংছড়ি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচারের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ করিডোর হিসেবে পরিচিত। সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র বারবার মাদক প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে আসলেও সাম্প্রতিক সময়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর ধারাবাহিক অভিযানে সেই অপতৎপরতায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।

    এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ জারুলিয়াছড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ১,০০,০৪৫ (এক লক্ষ পয়তাল্লিশ) পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ১৩ হাজার ৫০০ টাকা।

    বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ১৮ জুন বিকাল আনুমানিক ৩টা ৫০ মিনিটে সীমান্ত পিলার ৪৭/২-এস হতে প্রায় ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এবং জারুলিয়াছড়ি বিওপি থেকে প্রায় ৮০০ গজ পূর্বদিকে সেগুন বাগান এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানের সময় কয়েকজন চোরাকারবারি মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে।

    এসময় বিজিবির আভিযানিক দল তাদের ধাওয়া করলে পাচারকারীরা নিজেদের কাছে থাকা ইয়াবার চালান ফেলে জঙ্গলের ভেতরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে বিজিবি সদস্যরা ১০টি কার্টনে রাখা ৯৯,০৪৪ পিস খয়েরি রঙের এবং ১,০০১ পিস সবুজ রঙের ইয়াবাসহ মোট ১,০০,০৪৫ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

    নেতৃত্বে দৃঢ়তা, অভিযানে সাফল্য সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির দায়িত্ব গ্রহণের পর সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। তার পরিকল্পিত নেতৃত্ব, নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে সীমান্তজুড়ে মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ১১ বিজিবির একের পর এক সফল অভিযানে ইয়াবা পাচারকারীরা চাপে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা মাদক ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    মানবিক কর্মকাণ্ডেও প্রশংসিত শুধু মাদকবিরোধী অভিযানেই নয়, মানবিক কর্মকাণ্ডেও প্রশংসা কুড়িয়েছে ১১ বিজিবি। অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবিরের উদ্যোগে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করে হাজারো অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়েছে।

    এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। অনেকেই তাকে একজন “শিক্ষাবান্ধব ও মানবিক সেনা কর্মকর্তা” হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

    সীমান্ত সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির জানিয়েছেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

    সীমান্ত এলাকায় চলমান কঠোর নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযানের ফলে মাদক চোরাচালান রোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের প্রত্যাশা, ১১ বিজিবির এমন কঠোর ও জনবান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সীমান্ত এলাকা আরও নিরাপদ ও মাদকমুক্ত হবে।

    সচেতন মহলের অভিমত, সীমান্ত সুরক্ষা ও জনসেবার সমন্বিত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির। মাদকবিরোধী সাহসী অভিযান এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি ইতোমধ্যে সীমান্তবাসীর আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

  • বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে এসে চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত অজ্ঞাত দু’বন্ধুর পরিচয় মিলেছে

    বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে এসে চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত অজ্ঞাত দু’বন্ধুর পরিচয় মিলেছে

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধ

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় রেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় নিহত মোটরসাইকেল আরোহী অজ্ঞাত দু’বন্ধুর পরিচয় মিলেছে।

    তারা হলেন, দামুড়হুদা উপজেলার সড়াবাড়িয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাজ (১৮) এবং সদর উপজেলার মর্তুজাপুরের তাহের আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন (২১)।

    এ ঘটনায় পা-কাটা পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন অপর বন্ধু উপজেলার ডুগডুগি কলোনিপাড়া গ্রামের অহিদুল ইসলামের আব্দুল কাদের (২৫)।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ডাক্তারের পরামর্শে আব্দুল কাদেরকে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য রাতেই রওনা হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার দুধপাতিলা রেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    https://journalvision24.com/?p=2313

    আহতের আব্দুল কাদেরের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে আব্দুল কাদের ও তার কাছে বেড়াতে আসে দু’বন্ধু দামুড়হুদা উপজেলার সড়াবাড়িয়া গ্রামের রাজ এবং সদর উপজেলার মর্তুজাপুরের আব্দুল্লাহ আল মামুন।

    এদিন বিকেলে তারা ৩ জন একটি মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বের হয়েছিলেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা দামুড়হুদার দুধপাতিলা রেল ক্রসিং পার হচ্ছিলেন। এ সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ‘মহানন্দা মেইল’ ট্রেন তাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

    এতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই দু’বন্ধু রাজ ও মামুনের নির্মম মৃত্যু হয়। এ সময় আব্দুল কাদেরের পা কেটে গিয়ে তিনি গুরুতর জখম হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে আহত কাদেরকে উদ্ধার করে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আব্দুল কাদেরের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন। ডাক্তারের পরামর্শে পরিবারের সদস্যরা রাতেই আব্দুল কাদেরকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।

    সংবাদ পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ, জিআরপি (রেলওয়ে) পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ দু’টি উদ্ধার করে মুর্গে পাঠান।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত অজ্ঞাত দু’বন্ধে পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন, দামুড়হুদা উপজেলার সড়াবাড়িয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাজ (১৮) এবং সদর উপজেলার মর্তুজাপুরের তাহের আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন (২১)।

  • গাইবান্ধায় গার্লস গাইড ওরিয়েন্টেশন কোর্স অনুষ্ঠিত, জাতীয় ফল মেলায় অংশ নিলেন জেলা প্রশাসক

    গাইবান্ধায় গার্লস গাইড ওরিয়েন্টেশন কোর্স অনুষ্ঠিত, জাতীয় ফল মেলায় অংশ নিলেন জেলা প্রশাসক

    গাইবান্ধা প্রতিনিধি

    গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে বাংলাদেশ গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশন, রংপুর অঞ্চল-এর উদ্যোগে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাইডিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একদিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন কোর্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ওরিয়েন্টেশন কোর্সে জেলার বিভিন্ন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাইড কোম্পানি গঠন, পরিচালনা, নেতৃত্ব বিকাশ, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ উন্নয়নসহ গাইডিং কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, গাইডিং কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাইডিং কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

    বাংলাদেশ গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশন, রংপুর অঞ্চল-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ ওরিয়েন্টেশন কোর্সের মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গাইডিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

    জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ এর র‍্যালি ও আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক

    একই দিনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গাইবান্ধা কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

    অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষি কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ, ফল চাষের গুরুত্ব এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    এসময় প্রধান অতিথি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ বৃক্ষের চারা বিতরণ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে ফলদ বৃক্ষ রোপণের আহ্বান জানান এবং দেশীয় ফল উৎপাদন বৃদ্ধি ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠান দুটি গাইবান্ধা জেলার শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।