Category: ক্যাম্পাস

  • জার্মানিতে আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেলেন ইবির দুই অধ্যাপক

    জার্মানিতে আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেলেন ইবির দুই অধ্যাপক

    নাফীজ আহমেদ ,ইবি

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে জার্মানিতে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক গবেষণা ও শিক্ষা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পেয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের দুই শিক্ষক। আমন্ত্রিত শিক্ষকরা হলেন, অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. মোহাঃ জসিম উদ্দিন।

    আগামী ৮ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত জার্মানির গিসেন শহরে অবস্থিত ‘টেকনিশে হখশুলে মিটেলহেসেন’ (THM) ইউনিভার্সিটিতে “International Research & Teaching Days 2026” শীর্ষক এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মর্যাদাপূর্ণ ‘Erasmus+ KA171’ সহযোগিতা প্রকল্পের আওতায় সম্পূর্ণ স্কলারশিপে এই শিক্ষকদ্বয় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং জার্মানির THM ইউনিভার্সিটির মধ্যে চলমান দ্বিপাক্ষিক একাডেমিক ও গবেষণা চুক্তির ধারাবাহিকতায় এই বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিশ্বমানের এই আয়োজনে বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা বিজ্ঞানী, গবেষক ও অধ্যাপকরা অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত কয়েকজন শীর্ষ গবেষকের সঙ্গে ইবির এই দুই অধ্যাপকও যোগ দিচ্ছেন।

    সম্মেলনে অংশগ্রহণকালে অধ্যাপক ড. মোঃ জাহিদুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. মোহাঃ জসিম উদ্দিন তাঁদের নিজস্ব গবেষণা কার্যক্রম, আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বক্তব্য রাখবেন। কর্মসূচিতে তাঁদের গবেষণা উপস্থাপনা এবং বিভিন্ন টেকনিক্যাল সেশনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁরা THM-এর শিক্ষার্থী ও আন্তর্জাতিক গবেষকদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মতবিনিময় ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন বলে জানা গেছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। মূল সম্মেলন শেষে দুই অধ্যাপক জার্মানির পাশাপাশি ফ্রান্স ও ইতালি সফর করবেন। এই সফরের মাধ্যমে ইউরোপের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মপদ্ধতি পর্যবেক্ষণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক একাডেমিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইসাথে এই সফর বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুনামকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করেন সকলেই।

    এ নিয়ে অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে আমরা দুজন সম্পূর্ণ ফুল ফান্ডিংয়ে এই সেমিনারে সুযোগ পেয়েছি। এটা অবশ্যই গর্বের। আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তজার্তিক অঙ্গনে পরিচিত করার সুযোগ পাবো। এছাড়া অর্জিত জ্ঞান আমাদের এখানে ছড়িয়ে দিতে পারবো।

    এ বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে ড. মোহাঃ জসিম উদ্দিন বলেন, ইউরোপের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার এই সুযোগ আমার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। সেখানে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের আরও আধুনিক ও কার্যকর শিক্ষা প্রদানে কাজে লাগাতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি।

  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদ উৎসব: ছাত্রশিবিরের মধ্যাহ্নভোজ, ছাত্রদলের নৈশভোজ

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদ উৎসব: ছাত্রশিবিরের মধ্যাহ্নভোজ, ছাত্রদলের নৈশভোজ

     

    ববি প্রতিনিধি

    পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে পৃথক প্রীতিভোজের আয়োজন করেছে দুই রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্রশিবির। পবিত্র ঈদের দিন দুপুর ও রাতে আয়োজন করা হবে এসব কর্মসূচি যেখানে সকল ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষার্থীদের জন্যেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    ঈদের দিন দুপুর ২টা১৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে(টিএসসি)’ভ্রাতিত্বের দস্তরখান’ শিরোনামে ভোজের আয়োজন করেছে ছাত্রশিবির বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এই আয়োজনে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করতে হবে এখানে, যেখানে নাম, মোবাইল নম্বর, বিভাগ ও ব্যস উল্লেখ করতে হবে।

    অন্যদিকে একই দিন রাত ৮টা৩০মিনিটে ‘বিজয়-২৪’ ফলের ডাইনিংয়ে এ ছেলেদের জন্য ‘সম্প্রীতির নৈশভোজ’ আয়োজন করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। পাশাপাশি অন্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। ছাত্রীদের জন্য নিজ নিজ হলে পৃথক অবস্থার মাধ্যমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    উভয় সংগঠনের আয়োজনে অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফ্রি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে।

    ববি শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন,
    ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবির কর্তৃক এই প্রীতিভোজ আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি বলেন নানা কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে বাসায় যেতে পারবো না আমি অবশ্যই এই আয়োজনে যুক্ত হব।

    ছাত্রদলের সিনিয়র জুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. ইত্তেসাফ-আর-রাফি বলেন, ‘ত্যাগ, সহমর্মিতা, ভ্রাতিত্ব ও সম্প্রীতির মহান শিক্ষা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত পবিত্র ঈদুল আযহা। এই আনন্দ ও সৌহার্দ্যকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ভাগাভাগি করে নিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘‘সম্প্রীতির নৈশভোজ”। ঈদের দিন বিজয়-২৪ হলের ডাইনিংয়ে এই আয়োজন করা হয়েছে। এখানে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকছে। এছাড়াও ছাত্রীদের জন্য তাদের নিজ নিজ পৃথক ব্যবস্থার মাধ্যমে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।’

    ছাত্রশিবির বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন,’আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল আযদিনের আপনাদের সম্মানে কোরবানির আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য দুপুরে একটি ছোট্ট সৌহার্দ্যপূর্ণ আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা আন্তরিকভাবে আপনাদের সবাইকে এই আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য উদার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন, ভ্রাতিত্বের বন্ধনে ঈদের আনন্দকে একসাথে ভাগাভাগি করে আবারও বেশি অথবা আনন্দময় করে তুলি।’

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের 85 তম সিন্ডিকেট সভায় সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে কাগজে-কলমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানা গেছে, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • নেচার ইনডেক্সে তিন ধাপ এগিয়ে ২০তম স্থানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

    নেচার ইনডেক্সে তিন ধাপ এগিয়ে ২০তম স্থানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

    ববি প্রতিনিধি

    বিশ্বখ্যাত ‘নেচার ইনডেক্সে’ আবারও স্থান করে নিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি এবার গত বছর থেকে তিন ধাপ এগিয়ে ২৩তম স্থান থেকে ২০তম অবস্থান অর্জন করেছে। দু’টি গবেষণাপত্র প্রকাশের মাধ্যমে ০.১৫ শেয়ার স্কোর নিয়ে এই সাফল্য পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এই অর্জনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই আনন্দিত।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইলিয়াস হোসেন বলেন, এটা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অবশ্যই বড় একটি অর্জন। বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আন্তর্জাতিক মানের র‍্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থান করতে পেরেছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ সুযোগ সুবিধা ও গবেষণাগার নিশ্চিত করা হলে অচিরের বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ভালো র‍্যাংকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।’

    গত ১৪ মে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশি-বিদেশি র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে নিতে বিশেষ কমিটি গঠন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মামুন অর রশিদ।

    উক্ত কমিটির সদস্য ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. গাজি মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি মাত্র ১৬তম বছরের যাত্রায় নানান সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা জর্জরিত থাকলেও শিক্ষকদের এবং প্রিয় শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম মেধা ও চেষ্টায় গবেষণায় কয়েক ধাপ উন্নত হয়েছে গত বছরের থেকে l তাই এটি বিশ্ববিদ্যালয় গুণগত শিক্ষার একটি দৃষ্টান্ত l বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছেন এবং কাজ শুরু করেছেন l আশা রাখছি অন্যান্য র‍্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান আরো স্পষ্ট হবে l

    নেচার ইনডেক্সে স্থান পাওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ‘আমি এখানে এসেই দেশে-বিদেশি র‍্যাংকিংয়ে স্থান পাওয়ার জন্য একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। প্রাথমিক হালনাগাত তথ্য অনুযায়ী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা ৫০০ এর বেশি ‘স্কোপাস ইনডেক্স’ জার্নালে তাদের গবেষণা প্রকাশ করেছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় একটা সম্ভাবনাময় বিশ্ববিদ্যালয়। অচিরের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে স্থান পাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা-গবেষণার একটা উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে যেন এখানকার সম্ভাবনাময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা বিকাশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে পারে।’

    সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান স্প্রিঞ্জার নেচারের হালনাগাদ ‘নেচার ইনডেক্স’ তালিকায় বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থান পায়। গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বের ১৪৫টি উচ্চমানের ও মর্যাদাপূর্ণ পিওর সায়েন্স এবং মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র ও গবেষকদের অবদানের ভিত্তিতে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে।

    নেচার ইনডেক্সের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো গবেষণাপত্রে একাধিক দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠান কিংবা গবেষক যুক্ত থাকলে সেই গবেষণার মোট অবদান ভগ্নাংশ আকারে ভাগ করা হয়। এই অংশকেই ‘শেয়ার স্কোর’ বলা হয়। মূলত এই শেয়ার স্কোরের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত র‌্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়।

    নেচার ইনডেক্সের সর্বশেষ তালিকায় দেশের সরকারি-বেসরকারি ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দুটি মেডিকেল কলেজ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত তেজগাঁও কলেজও স্থান পেয়েছে।

    র‌্যাংকিং অনুযায়ী, ৩৭টি গবেষণাপত্র ও ৬.৩৯ শেয়ার স্কোর নিয়ে দেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)।

    একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টি গবেষণাপত্র ও ১.০৬ শেয়ার স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া তালিকায় থাকা অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)।

    বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রাম, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক।

    চিকিৎসাবিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ), হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ এবং তাইরুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালও এই তালিকায় স্থান পেয়েছে।

  • নিম্নমানের সামগ্রি দেয়ায় ববিতে বন্ধ হলো রাস্তা কাজ, ল্যাবে পাঠানো হলো পাথর

    নিম্নমানের সামগ্রি দেয়ায় ববিতে বন্ধ হলো রাস্তা কাজ, ল্যাবে পাঠানো হলো পাথর

    ববি প্রতিনিধি 

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) রাস্তার কাজে  নিম্নমানের পাথর ব্যবহারের অভিযোগে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। গতকাল রোববার (২৪ই মে) অভিযোগ ওঠে নিম্নমানের পাথর দিয়ে সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-০১ এর সম্মুখের  রাস্তা ঢালাই দেয়া হবে। এরপরে শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিল্যান্স টিম এর প্রতিবাদ জানালে ভেস্তে যায় কাজ, পরে পাথর টেস্টের জন্য পাঠানো হয় ল্যাবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাস্তাটির কাজের শুরু থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং রুল ফলো করা হয়নি। এস্টিমেট অনুযায়ী  কাজ না করে এলোমেলোভাবে কাজ করা হয়েছে। এস্টিমেট অনুযায়ী রাস্তার আগের নষ্ট ইট ফেলে দিয়ে নতুন ইট দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। এছাড়াও ইট তুলে বালু দিয়ে তারপরে নতুন ইট বসিয়ে রড দিয়ে ঢালাই করার কথা কিন্তু করা হয়েছে ঠিক তার উল্টো।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলী দপ্তর সিদ্ধান্ত নেয়, পাথর পরীক্ষা পরে করা হবে ঢালাইয়ের কাজ। সেই উদ্দেশ্য সোমবার বরিশাল সড়ক ও জনপদের মাঠ পর্যায়ের মান নিয়ন্ত্রণ গবেষণাগারে পাথরের সেম্পল পাঠানো হয় টেস্টের জন্য। সেম্পল হিসেবে এর আগে যে পাথর দিয়ে কাজ করা হয়েছে তা নেয়া হয় এক বস্তা এবং বর্তমান যে পাথর দিয়ে কাজ করা হবে সেগুলো নেয়া হয় এক বস্তা। সড়ক ও জনপদের বরিশালের সহকারী প্রকৌশলী আলী আকবর পাথরের দুটো সেম্পল টেস্ট করেন। টেস্টে বর্তমান ব্যবহৃত পাথরের সাইজ ১৬.৪০ এবং আর এর আগে রাস্তাটির দুপাশের ড্রেনের কাজে ব্যবহৃত পাথরের সাইজ ৯.২০।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মধ্যরাতে ঢালাইয়ের জন্য রড প্রস্তুতের কাজ চলমান অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আজমাইন সাকিবসহ কিছু শিক্ষার্থী ঠিকাদারের কাছে জিজ্ঞাসা করেন নিম্নমানের পাথরের বিষয়ে। এসময় আমেনা কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার আওলাদ হোসেন মনুর সাথে তাদের বাকবিতন্ডা হয়। বাকবিতন্ডার পরে আজ সকালে ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ রেখে পাথরের সেম্পল টেস্ট করা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলী দপ্তর সূত্রে জানা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-প্রধান প্রকৌশলী মুর্শিদ আবেদীনের যোগসাজশে নিম্নমানের পাথর দিয়ে ঢালাই দেয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। কথা ছিলো আজকে সকাল সাতটা থেকে শুরু হবে ঢালাইয়ের কাজ তবে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে তা ভেস্তে গেছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিসূত্র বলছে, রিপোর্ট পজিটিভ দেখানো হবে শিক্ষার্থীরা বাঁধা দিয়েছে এজন্য জাস্ট চোখো ধুলা দেয়ার জন্য পাথর নামেমাত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। বরিশাল সড়ক ওজনপদ ববি উপপ্রধান প্রকৌশলী মুর্শিদ আবেদীনের দখলে, উনার সুবিধা ও চাহিদামতো কাজ হবে।

    ভিজিল্যান্স টিমের কোনো সদস্য বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ খুলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সদস্য বলেন, আগে যে পাথর দিয়ে ঢালাই দেয়া হয়েছে তার থেকে নিম্নমানের পাথর এবার নিয়ে আসা হয়েছে। উপপ্রধান প্রকৌশল আবেদিন এর মূল ওর নেতৃত্বে এগুলো হয়। মোটামুটি মানের একটি পাথর দিয়ে ঢালাই করা হবে আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম’

    কাজের এস্টিমেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ঢালাইয়ে এ-গ্রেড কোয়ালিটি পাথর দেয়ার কথা। কিন্তু যে পাথর নিয়ে আসা হয়েছে তা দিয়ে ঢালাই করা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে প্রকৌশল দপ্তর ও ঢালাইয়ের কাজ তদারকি করার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই পাথর দিয়ে কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-প্রধান প্রকৌশলী মুর্শিদ আবেদীনের যোগসাজশে ঢালাই দিয়ে দেয়া হচ্ছে নিম্নমানের গ্রেডহীন পাথর দিয়ে।

    খোঁজ নিয়ো জানগেছে, ” প্রকৌশল দপ্তরের প্রকৌশলীরা নিম্নমানের পাথর দিয়ে কাজ করতে রাজি না থাকলেও মুর্শিদ আবেদীন এই পাথর দিয়ে কাজ করাতে চাপ দিচ্ছেন।

    ছাত্রদল যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  আজমাইন সাকিব বলেন, ” এর আগেও এই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের সামগ্রি দিয়ে কাজ করার অভিযোগ ওঠে। তখন প্রতিবাদ করি এবারও নিম্নমানের পাথর দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবাদ জানিয়েছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আীও শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়েছে। এখন বাকিটা দেখা যাক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি ব্যবস্থা নেয়, তবে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে ঢালাইয়ের কাজ করলে শিক্ষার্থীরা মেনে নিবে না।

    এ বিষয়ে উপ-প্রধান প্রকৌশলী মুর্শিদ আবেদিন বলেন, “টেন্ডার অনুযায়ী মানসম্পন্ন পাথর দিয়েই ঢালাইয়ের মিক্সিং তৈরি করা হবে। নিম্নমানের পাথর নয়, এসব পাথর দিয়ে ক্যান্টনমেন্টেও কাজ চলছে। কাজের  গুনগত মান বজায় রাখবে বলে ঠিকাদার আমাকে নিশ্চিত করেছেন। আমি সকালে নিজে সেখানে উপস্থিত থাকবো।”

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, শিক্ষার্থীরা কোনো কাজে বাঁধা দেয়নি। পাথরের মান নিয়ে ভিজিল্যান্স টিমের অভিযোগ ছিলো পরে আমি নির্দেশ দেয় ল্যাব টেস্ট করাতে। টেস্টের ফলাফল পজেটিভ এই পাথর দিয়ে ঢালাই দেয়া যাবে।  ফলাফল আসতে বিকেল হয়ো যাওয়ায় মিস্ত্রি সব চলে গেছে এজন্য বলেছি ঈদের পরে ঢালাইয়ের কাজ করার জন্য।”

  • কুবিতে ঈদ-উল-আজহার জামাত সোয়া সাতটায়

    কুবিতে ঈদ-উল-আজহার জামাত সোয়া সাতটায়

    সানজানা তালুকদার, কুবি প্রতিনিধি

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ঈদ-উল-আজহার নামাজ সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবারের ন্যায় এবারের ঈদের জামাতটিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।

    রবিবার (২৪ মে) ঈদের জামাতের সময়সূচির বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মোঃ খলিলুর রহমান নিশ্চিত করেন।

    তিনি বলেন,’বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।’

    ঈদের জামাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বন্ধ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের খুব একটা দেখা যায় না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করে থাকেন।’

    জিলহজ্ব মাসের রোজার ফজিলত সম্পর্কে অবগত করে তিনি বলেন, ‘জিলহজ্ব মাসে রোজার পালনের ফজিলত অনেক বেশি। বিশেষ করে ৯ জিলহজ্ব আরাফাহর দিনে রোজা অনেক বরকতময়।’

  • ইবিতে কাঙ্ক্ষিত সাড়া নেই বৈদ্যুতিক শাটলে, বাড়ছে লোকসানের শঙ্কা

    ইবিতে কাঙ্ক্ষিত সাড়া নেই বৈদ্যুতিক শাটলে, বাড়ছে লোকসানের শঙ্কা

    নাফীজ আহমেদ, ইবি প্রতিনিধি 

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে চালু করা বৈদ্যুতিক শাটল (ইভি) সেবা প্রত্যাশিত সফলতা অর্জন করতে পারেনি। পরিবেশবান্ধব এ উদ্যোগটি শুরুতে আশাবাদ তৈরি করলেও বর্তমানে যাত্রী সংকট, সীমিত আয় এবং ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত নানা জটিলতায় প্রকল্পটি আর্থিকভাবে টেকসই থাকবে কি না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

    ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ১৪ আসনের চারটি বৈদ্যুতিক শাটল কার চালু করা হয়। প্রশাসন ভবন চত্বরে এর উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। জনপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয় পাঁচ টাকা।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কিস্তিতে গাড়ি কিনলে প্রতিটির দাম প্রায় ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত পড়ত। তাই প্রশাসন অভ্যন্তরীণ তহবিল থেকে নগদ অর্থ নিয়ে প্রায় ৪৪ লাখ টাকায় চারটি গাড়ি কেনা হয়। এতে বাইরের উচ্চ সুদ এড়ানো গেলেও তহবিলের বিপরীতে কিছু সুদ দিতে হচ্ছে।

    প্রথম দিন চারটি ইভি থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। শুরুতে ধারণা ছিল, পরিচিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়ও বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে সময়ের সঙ্গে আয় কমে যায়। হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পের সুদ ও ব্যয় মেটাতে মাসে অন্তত ৬০ হাজার টাকা আয় প্রয়োজন।

    প্রথমদিকে চালকদের বেতনভিত্তিকভাবে নিয়োগ দেওয়ার চিন্তা থাকলেও তা বাস্তবসম্মত হয়নি। কারণ ইভি থেকে যে আয় হচ্ছিল, তা দিয়ে সুদ পরিশোধের পাশাপাশি চালকদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরে সিদ্ধান্ত হয়, চারটি ইভি সাপ্তাহিক চুক্তিভিত্তিক চালকদের কাছে দেওয়া হবে। শর্ত অনুযায়ী, প্রতিটি গাড়ির জন্য সপ্তাহে ৪ হাজার টাকা করে জমা দেওয়ার চুক্তি করেন তারা।

    তবে বাস্তবে সেই লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হচ্ছে না। বিগত সপ্তাহে চালকেরা নির্ধারিত ৪ হাজার টাকার পরিবর্তে কেউ ৩২০০ টাকা, কেউ ৩৭০০ টাকা, কেউ ৩৮০০ টাকা জমা দিয়েছেন। এতে প্রকল্পটি এখনো লোকসানে রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

    শুরু থেকেই প্রকল্পটি নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়। একটি ইভি স্থানীয় ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। এছাড়া আরেকটি গাড়ি ব্যাটারি সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি জানানো হলেও এখনো সমাধান হয়নি।

    পরিবহন অফিস সূত্রে, ক্যাম্পাসে চলাচলকারী ভ্যানগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় এনে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করলে ইভির যাত্রী বাড়তে পারে এমন প্রস্তাবও উঠেছিল। এ বিষয়ে ট্রেজারার ও উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হলেও প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা আপত্তি জানান। তাদের আশঙ্কা ছিল, স্থানীয় ভ্যানচালকদের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হতে পারে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় বাইরের দর্শনার্থী, ঘুরতে আসা অতিথি এবং ছুটির দিনের পর্যটকেরাই ইভিতে বেশি ওঠেন। শিক্ষার্থীদের অনেকে নিয়মিত এই সেবা ব্যবহার করেন না।

    ক্যাম্পাসে বর্তমানে প্রায় ৫০টি ভ্যান চলাচল করে। দ্রুত ক্লাসে যাওয়া, সভা বা বিভাগীয় কাজে পৌঁছানোর জন্য শিক্ষার্থীরা ভ্যানকেই বেশি প্রাধান্য দেন। অন্যদিকে ইভি নির্দিষ্ট স্টপেজে দাঁড়ায় এবং চার-পাঁচজন যাত্রী না হলে ছাড়ে না। ফলে তাৎক্ষণিক যাতায়াতে শিক্ষার্থীরা ভ্যানকে বেশি সুবিধাজনক মনে করেন।

    একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ইভি আরামদায়ক ও পরিবেশবান্ধব হলেও দৈনন্দিন দ্রুত চলাচলের জন্য এটি সবসময় কার্যকর নয়। ক্যাম্পাসে ক্লাস, পরীক্ষা, বিভাগীয় কার্যক্রম বা বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে তারা ভ্যানকেই বেশি সুবিধাজনক মনে করেন। শিক্ষার্থীদের মতে, ইভি সাধারণত ৪-৫ জন যাত্রী না হলে ছেড়ে যায় না, ফলে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া ইভির নির্দিষ্ট কিছু স্টপেজ রয়েছে, শুধুমাত্র সেসব স্থানেই এটি থামে। ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগে। এ কারণে সময় বাঁচাতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভ্যান ব্যবহারকেই বেশি প্রাধান্য দেন।

    পরিবহন প্রশাসক আব্দুর রউফ বলেন, প্রকল্পটি সচল রাখতে প্রশাসন নানা উদ্যোগ নিয়েছে। টিকিট ব্যবস্থা, চালকদের চুক্তিভিত্তিক পরিচালনা, সচেতনতামূলক স্টিকার, ভ্যান নিবন্ধনের প্রস্তাব সবই বিবেচনায় আনা হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে একটি ইভিকে শিক্ষকদের পরিবহন, একটি শিক্ষার্থীদের সার্ভিসিং কার এবং আরেকটি কর্মকর্তা ও অতিথিদের ব্যবহারের জন্য চালুর প্রস্তাব দেওয়া যেতে পারে।

  • আড়াই মাস পর কুবি শিক্ষক অপহরণ মামলায় গাড়িসহ গ্রেপ্তার-১

    আড়াই মাস পর কুবি শিক্ষক অপহরণ মামলায় গাড়িসহ গ্রেপ্তার-১

    সানজানা তালুকদার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

     

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক আবদুর রাজ্জাক সোহেলকে অপহরণ ও লক্ষাধিক টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। একইসাথে ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িটিও আটক করা হয়েছে।

    শনিবার (২৩ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এস আই (নিরস্ত্র) টিটু কুমার নাথ।

    আটককৃত ব্যক্তির নাম সাহাবুল শেখ (৩২)। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মধ্য করপাড়ায়। গত ২১ মে রাতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানানো হয়। এ সময় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো গ-৩৯১৬৮৬ নম্বরের একটি গাড়িও জব্দ করেছে পুলিশ।

    এর আগে, গত ৪ মার্চ ঢাকায় যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হন প্রভাষক আবদুর রাজ্জাক সোহেল। ভুক্তভোগী শিক্ষকের অভিযোগ, তাকে অপহরণের পর হত্যার চেষ্টা চালানো হয় এবং তার কাছ থেকে প্রায় এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় তিনি পাঁচ মার্চ অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

    এবিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক সোহেল বলেন, ‘পুলিশ আসামিকে কোর্টে চালান করেছে। এখনো আরো তিনজন আসামি বাকি রয়েছে। আশা করি শীঘ্রই তারাও গ্রেফতার হবে।’

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) টিটু কুমার নাথ বলেন, ‘আসামিকে কোর্টে চালান দেওয়া হয়েছে, আদালতের কাছে রিমান্ড চাওয়া হবে। আর দুইজন আসামিকে শনাক্ত করতে পেরেছি, তাদের নাম ঠিকানা পাওয়া গিয়েছে। আর দুইজনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। গাড়িটির মালিক থেকে আসামিরা উবারে গাড়ি চালানোর জন্য ভাড়া নিয়েছিল। শীঘ্রই বাকিদেরকেও আটক করা হবে।’

    তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান। মামলাটির আরো অনেককিছু বের করার রয়েছে। চার্জশিট গঠনে আরো সময় লাগবে।’