Category: জাতীয়

  • শিশুদের উন্নতমানের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    শিশুদের উন্নতমানের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬। রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইউনিসেফের সঙ্গে সমন্বয় করে আন্তর্জাতিক মান যাচাইয়ের মাধ্যমে উন্নতমানের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সংগ্রহ করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকার মান নিয়ে ইউনিসেফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই এগুলো আনা হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আশ্বস্ত, শিশুদের উন্নতমানের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। তিনি জানান, সারা দেশে একযোগে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশের সব এলাকায় শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

    ক্যাম্পেইনের কোনো শিশু নির্ধারিত দিনে বাদ পড়লে পরবর্তী দিনগুলোতে তাকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর সুযোগ থাকবে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রথম দিন কেউ মিস করলে পরদিন, প্রয়োজনে তার পরের দিনও তাকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

    হামের টিকাদান কর্মসূচির আওতায় থাকা শিশু ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সংখ্যাগত পার্থক্য নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কোনো দেশই শতভাগ নিখুঁত পরিসংখ্যান দিতে পারে না। তবে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সব শিশুকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনছে। আমরা সব শিশুকেই কাভার করার চেষ্টা করেছি। তারপরও খুঁজে খুঁজে শিশুদের সেবা দেয়া হচ্ছে। এখন এই ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনও একটি সম্পূরক কর্মসূচি। এতে শিশুদের কোনো অসুবিধা হবে না।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবারের ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। এ জন্য সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্র এবং প্রায় ৫০০ অস্থায়ী কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা দায়িত্ব পালন করছেন।

  • চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর নিয়ে যে তথ্য দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর নিয়ে যে তথ্য দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর বিষয়ে বাংলাদেশ এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

    শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

    ড. খলিলুর রহমান বলেন, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বাংলাদেশ। বিষয়টি সম্ভাবনার দিক থেকে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

    এদিকে ব্রিকসে যোগ দেয়া, তিস্তা প্রকল্প ও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের সহায়তার অংশ হিসেবে শিগগিরই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া ব্রিকস-এ যোগদানের বিষয়েও বাংলাদেশকে সহায়তা করবে।

    মালয়েশিয়া সফরেও অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধকরণ এবং নতুন শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ ছাড়া, আসিয়ানের সদস্যপদ পেতে বাংলাদেশকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে মালয়েশিয়া।

  • ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল কারা পাবে, কারা পাবে না

    ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল কারা পাবে, কারা পাবে না

    অন্ধত্ব প্রতিরোধসহ শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে দীর্ঘ প্রায় ১৪ মাস পর দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। বিশেষ এ রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।

    সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, সাধারণত ৬-৫৯ মাস বয়সি শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু কারণে সব শিশু এ ক্যাপসুল খেতে পারবে না। কোন শিশুরা এ ক্যাপসুল পাবে আর কারা পাবে না, সে বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতীয় কর্মসূচির কিছু স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

    যারা খেতে পারবে

    হালকা জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া বা অপুষ্টি থাকলেও সাধারণত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো যায়। অর্থাৎ এসব সাধারণ শারীরিক সমস্যা ক্যাপসুল দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়।

    কারা এই ক্যাপসুল পাবে না

    ৬ মাসের কম বয়সি : যেসব শিশুর বয়স এখনো ৬ মাস পূর্ণ হয়নি, তাদের এ ক্যাম্পেইনের ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না বলে নির্দেশনা রয়েছে।

    সম্প্রতি উচ্চমাত্রার ক্যাপসুল খাওয়া শিশু : গত এক মাসের (২৮–৩০ দিন) মধ্যে যেসব শিশু অন্য কোনো কারণে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়েছে, তাদের এ ক্যাম্পেইনে পুনরায় ক্যাপসুল দেওয়া হবে না।

    গুরুতর অসুস্থ : কোনো শিশু যদি গুরুতর অসুস্থ থাকে বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো অবস্থায় থাকে, তবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে এ ক্যাপসুল দেওয়া যাবে না।

    এদিকে, ক্যাম্পেইনে শিশুদের বয়স অনুযায়ী দুই ধরনের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

    ১. ৬-১১ মাস বয়সি শিশুদের দেওয়া হবে নীল রঙের ক্যাপসুল।

    ২. ১২-৫৯ মাস বয়সি শিশুদের দেওয়া হবে লাল রঙের ক্যাপসুল।

  • তাজিয়া মিছিলে বাকবিতণ্ডার জেরে হত্যায় জড়িত ৪ জন আটক, ৩ জনই শিশু

    তাজিয়া মিছিলে বাকবিতণ্ডার জেরে হত্যায় জড়িত ৪ জন আটক, ৩ জনই শিশু

    রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকায় তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত যুবক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার রহস্য উদঘাটসহ চারজনকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির সূত্রাপুর থানা পুলিশ। শনিবার (২৭ জুন) রাত ১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    সূত্রাপুর পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল ২৬ জুন বিকাল ৪টার দিকে রাজধানীর সূত্রাপুর থানাধীন বিবিকা রওজা ইমামবাড়া থেকে একটি তাজিয়া মিছিল সূত্রাপুর থেকে চকবাজার-লালবাগ হয়ে ধানমন্ডি রওয়ানা করে। মিছিলটি বাংলাবাজার অতিক্রম করার সময় বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটের সময় পি কে রায় রোডের ইস্পাহানি ভবনের নিচতলায় কয়েকজন যুবক অজ্ঞাতনামা এক যুবককে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে প্রেরণ করলে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ভিক্টিম ও হামলাকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে পুলিশ। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে জানা যায়, ভুক্তভোগীর নাম মো. জাকির হোসেন (৩১)। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে  ভুক্তভোগীর বড় ভাই অজ্ঞাতনামা ১৪/১৫ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের পরিচয় সনাক্ত করে এবং সূত্রাপুর থানার একাধিক অপারেশন টিম ২৬ জুন রাতে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. রাশেদ (২০) ও সংঘাতে জড়িত ৩ জন আইনের দৃষ্টিতে শিশু। এ সময় তাদের কাছে থাকা একটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি চাপাতি, ঘটনার সময় তাদের পরনে থাকা জামাকাপড়ও উদ্ধার করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত মূলত তাজিয়া মিছিলে থাকা ডুলির রশি ধরাকে কেন্দ্র করে ভিক্টিম ও হামলাকারীদের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ভুক্তভোগীকে ধাওয়া করলে আত্মরক্ষার্থে সে পিকে রায় রোডের ইস্পাহানি ভবনের নিচে আশ্রয় নেয় এবং সেখানেও হামলার শিকার হয়।

    ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও ইতোমধ্যে সনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • প্রথম বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রথম বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী

    চারদিনের চীন সফর শেষে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে তিনি বেইজিং ড্যাক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চায়না সাউথার্ন ফ্লাইটে রওনা হয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিনী জুবাইদা রহমানকে বিদায় জানান চীনের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ইউয়ে শিয়াওইয়ং। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান গাড়ি থেকে নেমে লালগালিচায় হেঁটে বিমানে ওঠেন।

    গত সোমবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে চীনের দালিয়ানে যান প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    দালিয়ান থেকে বুধবার দুপুরে হাই স্পিড বুলেট ট্রেনে বেইজিং যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রধানমন্ত্রী লি কিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারেক রহমান। এ ছাড়া, বেইজিংয়ে বিনিয়োগ সম্মেলনেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন।

    গত ২১ জুন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যান প্রধানমন্ত্রী।

  • উপাচার্যের আমন্ত্রণে ববিতে শিক্ষামন্ত্রী,সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস

    উপাচার্যের আমন্ত্রণে ববিতে শিক্ষামন্ত্রী,সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্যের আমন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ  মন্ত্রী সামনে  বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটের চিত্র তুলে ধরেন এসময় মন্ত্রী দ্রুত সংকট নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

    বৃহস্পতিবার (২৫ই জুন) দুপুর সাড়ে ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শিক্ষামন্ত্রীকে সাদরে গ্রহণ করেন। শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন- ০১ এর নিচে গ্রাউন্ডফ্লোরে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বক্তব্য দেন। এরপর খুলনায় প্রোগ্রাম থাকায় দ্রুত ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন মন্ত্রী।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ শিক্ষামন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। উপাচার্য বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ১৬ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখানে  সেই অর্থে অগ্রগতি সাধিত হয়নি। আপনাকে নিয়ে আমরা যে অডিটোরিয়ামে বসবো সেটাও এখানে নেই। আমাদের একাডেমিক বিল্ডিং নেই, হল নেই, পাকা রাস্তা নেই, আমাদের মাত্র পঞ্চাশ একরের ক্যাম্পাস। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপিপি বরাদ্দ দরকার, বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জমি অধিগ্রহণ দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সংকট নিরসনে শিক্ষামন্ত্রীর দাবি কাছে জোর দাবি জানান।

    বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে যেখানে একাডেমিক বিল্ডিং, আবাসিক হল সংকট নিরসন ও ক্যাম্পাস সম্প্রসারনের লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণের তিনটি দাবি উল্লেখ করা হয়েছে।

    শিক্ষামন্ত্রী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বলেন, দীর্ঘ ১৫টি বছরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কেন হয়নি? আমি খুব স্বল্প সময় নিয়ে বরিশালে এসেছিলাম, তোমাদের ভিসির আমন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের এসেছি, তোমাদের সাথেও দেখা হলো ভাল লাগলো।

    তোমাদের দাবি ৫০ একর থেকে ১০০ একরে উন্নিত করা।এখানে জমি না পাওয়া গেলে আমরা ক্যাম্পাস ২ করতে পারি। তোমাদের সংকট সমাধানে যা যা করা প্রয়োজন তাই করতে হবে। তোমরা জানো আমাদের প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতে এবার সবচেয়ে ভাল বাজেট দিয়েছে, অতএব এই সমস্যা আর থাকবে না এই সমস্যা দূরিভূত হতেই হবে।

    শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমি তোমাদের বলব, শত জটিলতার মধ্যেও তোমরা কিন্তু লেখাপড়া করছো। যারা আজকে ফাইনাল ইয়ারে, তারা হইতো এই সুবিধাটা পাবে না, সুবিধা না পেলেও লেখাপড়া করতে হবে। তোমার সুবিধা না পেলেও তোমাদের ছোট ভাইরা এই সুযোগগুলো পাবে।

  • দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদক ব্যবহার করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদক ব্যবহার করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো (অবৈধ) মাদক ব্যবহার করছে, যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং ও নির্বাচিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মাঝে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে। মাদকাসক্তদের চিকিৎসাসেবা সহজ ও উন্নত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ৮টি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন প্রকল্প শুরু হয়েছে। তিনি জানান, ৭৩টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রকে বিধিমালা ও গাইডলাইন অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যমান আইন দিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করা যাচ্ছে না। আইনটি সংশোধন ও হালনাগাদ করে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই তা সংসদে উত্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের সশস্ত্র গ্রুপ রয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত ল্যাবরেটরিও নেই। মাদকসংক্রান্ত অনেক মামলা বিচারাধীন থাকায় আসামিরা সুবিধা পাচ্ছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতও থাকবে। আইন সংশোধনের পর একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনলাইনে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা হচ্ছে। মাদক বিক্রির অর্থ মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদে পরিণত হচ্ছে। তাই শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    আগামী ২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকাল ৮টায় মৎস্য ভবন থেকে মাদকবিরোধী র‍্যালিও বের হবে।

  • ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন শুরু ২৮ জুন

    ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন শুরু ২৮ জুন

    প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সুবিধা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। আগামী ২৮ জুন থেকে থেকে ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশি নাগরিকরা।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী এ ঘোষণা দেন।

    ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচটি ভিসা কেন্দ্র থেকে দেওয়া হবে ট্যুরিস্ট ভিসা। বাকিগুলো ধাপে ধাপে চালু হবে। ভিসা সেন্টারগুলো হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহী।

    এ সময় মেডিকেল ভিসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে উল্লেখ করে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান দিনেশ ত্রিবেদী।

    ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে ভারত বাংলাদেশে তাদের সব ভিসা আবেদন কেন্দ্রে নতুন ভিসা আবেদন গ্রহণ ও ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করে। তবে এতদিন শুধুমাত্র মেডিকেল, জরুরি ও বিজনেস ভিসা সীমিত পরিসরে চালু ছিল।

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর উভয় দেশ ভিসা কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়।

  • বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু

    বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু

    প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার। আগামী ২৮ জুন থেকে থেকে ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশি নাগরিকরা।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী এ ঘোষণা দেন।

    ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ৫টি ভিসা কেন্দ্র থেকে দেওয়া হবে ট্যুরিস্ট ভিসা। বাকিগুলো ধাপে ধাপে চালু হবে। ভিসা সেন্টারগুলো হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহী।

    এ সময় মেডিকেল ভিসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে উল্লেখ করে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান দিনেশ ত্রিবেদী।

    এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে সবগুলো ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ করে ভারত।

    পরবর্তীতে কূটনৈতিক ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় গত বছরের ২১ ডিসেম্বর থেকে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রেরকার্যক্রম এবং ট্যুরিস্ট ভিসা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

  • বিশ্বস্ত বন্ধু চীনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ

    বিশ্বস্ত বন্ধু চীনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া চীনকে ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ উল্লেখ করে দেশটির সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে শিগগিরই চীনে বাংলাদেশের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ খোলার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

    স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে চীনের বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ শীর্ষক সম্মেলনে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের চেয়ারম্যান রেন হংবিন।

    বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বহু দশকের একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এটি আস্থা, শ্রদ্ধা এবং বাস্তব সহযোগিতার একটি সম্পর্ক। বিগত বছরগুলোতে এই সম্পর্ক কূটনীতি থেকে উন্নয়নে, উন্নয়ন থেকে বাণিজ্যে এবং এখন বাণিজ্য থেকে আরও গভীর শিল্প অংশীদারত্বে রূপান্তরিত হয়েছে।’

    বাংলাদেশ এক বিশাল অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের যাত্রাপথের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি।’

    প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং আমাদের অন্যতম দীর্ঘদিনের ও বিশ্বস্ত বন্ধু চীনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।’

    ‘চীন বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে উপরের দিকে উঠছে। চীনা কোম্পানিগুলো উন্নত উৎপাদন, উচ্চ-মূল্যের অবকাঠামো এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। চীন যখন সাফল্যের সিঁড়িতে উপরের দিকে উঠবে, তখন উৎপাদন ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ নতুন, প্রতিযোগিতামূলক এবং বিশ্বস্ত স্থানের সন্ধান করবে। বাংলাদেশ সেই স্থানগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    সম্মেলনে চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে তাদের ভ্যালু চেইন সম্প্রসারণের জন্য আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনা কোম্পানিগুলোকে বৈশ্বিক বাজারে পরিষেবা দিতে সাহায্য এবং একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বৃহৎ অভ্যন্তরীণ চাহিদা থেকে লাভবান হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    এটি উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক সম্পর্ক হবে উল্লেখ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কথার সঙ্গে কাঠামোগত পদক্ষেপের মিল থাকতে হবে। আমাদের অঙ্গীকার প্রদর্শনের জন্য, আমার সরকার আন্তর্জাতিক পুঁজি সংক্রান্ত কার্যপ্রণালীকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে একটি কঠোর ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’

    ‘এই পরিকল্পনার মাধ্যমে সরাসরি আমলাতান্ত্রিক জড়তাকে মোকাবেলা করছি। স্বচ্ছতা, পূর্বাভাসযোগ্যতা এবং গতি বাড়ানোর জন্য আমরা দীর্ঘমেয়াদী নীতির ধারাবাহিকতা উন্নত করছি, একাধিক নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া হ্রাস করছি এবং সরকারি পরিষেবাগুলোকে ডিজিটাইজ করছি,’ যোগ করেন তারেক রহমান।

    বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বৈষম্যহীন আচরণ দূর করতে বাংলাদেশের আইন ও প্রবিধান অনুযায়ী মূলধন ও লভ্যাংশ ফেরত এবং শক্তিশালী আইনি সুরক্ষারও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

    চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষায়িত শিল্প অবতরণ কেন্দ্র তৈরির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যার মধ্যে আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মংলায় একটি দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত। এই স্থানগুলো লজিস্টিকস, বন্দর সংযোগ, পরিষেবা, কর্মী, সরবরাহকারী এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী ইকোসিস্টেম প্রদান করে।’

    চীনের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি উন্নত করার জন্যও কাজ করছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যেন বিনিয়োগকারীরা আরও শক্তিশালী আস্থা, সুস্পষ্ট সুরক্ষা এবং বিনিয়োগের জন্য একটি আরও আধুনিক কাঠামো পেতে পারেন।

    এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শীর্ষ বিনিয়োগ প্রচার সংস্থা বিডার এখন চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষায়িত সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা ডেস্ক রয়েছে। আপনারা যেমন দেখেছেন, চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষায়িত ওয়েবসাইটও রয়েছে, যাতে বিভিন্ন খাতের সুযোগ, প্রণোদনা এবং প্রক্রিয়াগুলো আরও সহজে পাওয়া যায়।’

    শিগগিরই চীনে বাংলাদেশের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ খোলা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য খুবই সহজ। চীনা বিনিয়োগকারীদের সহায়তা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। আমরা আপনাদের আরও কাছাকাছি থাকতে, আপনাদের সঙ্গে আরও নিয়মিত কথা বলতে এবং আগ্রহ থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে আপনাদের সাহায্য করতে চাই।’

    বৃহত্তর বিনিয়োগ পরিকাঠামো উন্নত করার কথাও জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘সরকার একটি নতুন লাইসেন্স অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে, যার ফলে নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ দিনেরও কম সময়ে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।’

    বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ফার্মাসিউটিক্যালস ও স্বাস্থ্যসেবা, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল পরিকাঠামো, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উন্নত বস্ত্রশিল্পের মতো আমাদের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য খাত-ভিত্তিক প্রণোদনা ও নীতিগত সুবিধা ঘোষণার বিষয়টিও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন আরও সহজে, আত্মবিশ্বাসের ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বাংলাদেশে আসতে পারে তা নিশ্চিত করার এসবের উদ্দেশ্য বলে সম্মেলনে জানান তিনি।

    চীনকে পরবর্তী ‘এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময়’ রচনায় অংশীদার হতে আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক চীনা বিনিয়োগকারী ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তারা আমাদের জনগণ, আমাদের সহনশীলতা ও আমাদের সম্ভাবনা সম্পর্কে বলতে পারেন। তারা আপনাদের বলতে পারেন যে, বাংলাদেশ সফল হতে পারে।’

    এই অঞ্চলের সুযোগগুলোকে বাংলাদেশ ও চীন উভয়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদী টেকসই প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধিতে রূপান্তরের সংকল্পও ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

    এই সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।