Category: জাতীয়

  • তিন বাস টার্মিনাল যাচ্ছে ঢাকার বাইরে, কোনটি কোথায়

    তিন বাস টার্মিনাল যাচ্ছে ঢাকার বাইরে, কোনটি কোথায়

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    রাজধানীর সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে এ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন তিনি।

    সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন বিষয়ক তৃতীয় দফার সভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের দুই প্রশাসক।

    প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যানজট পরিস্থিতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    এ সময় উল্লেখ করা হয়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত সায়েদাবাদ, গুলিস্তান এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকার অভ্যন্তরীণ যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। এই সংকট দূর করতে নগরীর ভেতর থেকে এসব টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে সরিয়ে ঢাকার বাইরে বা উপযুক্ত প্রান্তিক স্থানে স্থানান্তরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, যানজট নিরসনে হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থান এবং ফুটপাত জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে এবং জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এখন এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলে সেটি নেতিবাচক উদাহরণ হবে। তাই প্রকল্পটি কীভাবে উন্নত করে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেন। আগামী সাত দিনের মধ্যে বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

    ড. হাদিউজ্জামান আরও বলেন, ঢাকা শহরের টার্মিনালকেন্দ্রিক যানজট কমাতে মহাখালী টার্মিনালের বাসগুলোর ডিপোর জন্য অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাসগুলো শুধু যাত্রী নেওয়ার সময় টার্মিনালে আসবে।

    একইভাবে সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের জন্যও অস্থায়ী বিকল্প স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধান নিয়েও কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে শাহবাগ এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হবে বলেও তিনি জানান।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, গুলিস্তান থেকে টার্মিনাল সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। হকারদের উচ্ছেদ না করে আবার বিশৃঙ্খল অবস্থায়ও না রেখে কীভাবে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মহাখালী এলাকায় রাস্তার ওপর যাতে বাস দাঁড়িয়ে না থাকে, সে জন্য প্রাথমিকভাবে পূর্বাচলে বাস ডিপো স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কাজে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

    রাজধানীর যানজট নিরসনে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান থেকে বাস টার্মিনাল সরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    সভায় আরও ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কমিটি পুনর্গঠন

    ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কমিটি পুনর্গঠন

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কমিটি পুনর্গঠন করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। গত ২৭ মে ২০২৫ তারিখে জারি করা এক পরিপত্রে ৩১ সদস্যের ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটি’ নতুনভাবে গঠন করা হয়। সোমবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।
    পুনর্গঠিত কমিটিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীকে সভাপতি এবং প্রতিমন্ত্রীকে সহসভাপতি করা হয়েছে। কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের।
    কমিটিতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, গৃহায়ণ, কৃষি, প্রাণিসম্পদ, তথ্য ও সম্প্রচার, সংস্কৃতি, প্রতিরক্ষা, রেলপথ ও বেসামরিক বিমান পরিবহনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিবরা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ ছাড়া ওয়াসা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), এনজিও-বিষয়ক ব্যুরো এবং দেশের সব সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদেরও কমিটিতে রাখা হয়েছে।
    বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টোমলজি বিভাগের চেয়ারম্যান এবং নিপসমের এন্টোমলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব বা সচিবকে কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
    কমিটির প্রধান দায়িত্ব
    পরিপত্র অনুযায়ী কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে একটি সারাদেশে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান;
    গৃহীত কার্যক্রমের পর্যালোচনা, মূল্যায়ন, তদারকি ও সমন্বয়;
    প্রয়োজনীয় গবেষণা পরিচালনা এবং জাতীয় নীতিমালা ও কৌশলপত্র প্রণয়ন ও হালনাগাদ;
    প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত কার্যক্রম গ্রহণ। বছরে অন্তত চারটি সভা আয়োজন। এ ছাড়া প্রয়োজন হলে কমিটিতে অতিরিক্ত সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
    সমন্বিত উদ্যোগে গুরুত্ব 
    স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে শুধু সিটি কর্পোরেশন নয়, বরং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের এ কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
  • দল নয়, দেশের জন্য কাজ করুন সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রী

    দল নয়, দেশের জন্য কাজ করুন সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রী

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    গণমাধ্যমকর্মীদের দেশের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    তিনি বলেন, ‘কোনো সাংবাদিককে বিএনপি বা দলের পক্ষ হয়ে কাজ করার দরকার নেই। দেশের জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য, সামগ্রিক গণ মানুষের উন্নয়নের জন্য ফোকাস করতে হবে।’

    সোমবার (১৫ জুন) গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, দলীয় অবস্থান বা সরকারের তোষামোদ নয়, সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা দেশটাকে লন্ডন, সিঙ্গাপুর বানাতে চাই না। কিন্তু গত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যে অন্যায় হয়েছে, অবিচার হয়েছে সেই আবর্জনা মুক্ত করে ধীরে ধীরে কিছুটা ভালোর পথে এগিয়ে নিতে চাই।

  • ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব, ঢাকার কড়া প্রতিবাদ

    ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব, ঢাকার কড়া প্রতিবাদ

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ভারতের নয়াদিল্লির বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ঘটনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বাঁঢ়েকে তলব করে ব্যাখ্যা চেয়েছে সরকার। এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদও জানানো হয়েছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আজ সোমবার তাকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তলব করা হয়। সেখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তার কাছে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে এ ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানান।

    এর আগে এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছিলেন, ‘এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। দুঃখজনকও বটে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে। দিন শেষে আমরা এ বিষয়ে জানাব।’

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান একটি সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গেলেও ইমিগ্রেশনের বাধার মুখে অনেকটা সময় দিল্লি বিমানবন্দরে বসে থাকার পর শেষ পর্যন্ত সোমবার দুপুর নাগাদ ঢাকায় ফিরে এসেছেন।

    উল্লেখ্য, গেল ১৪ জুন সন্ধ্যায় জাহেদ উর রহমান দিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। তবে ইমিগ্রেশন জটিলতার কারণে দিল্লিতে ঢুকেননি তিনি। পরে অনেকটা সময় দিল্লি বিমানবন্দরে বসে থাকার পর শেষ পর্যন্ত সোমবার দুপুর নাগাদ ঢাকায় ফিরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

  • দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা কত, জানালেন সড়কমন্ত্রী

    দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা কত, জানালেন সড়কমন্ত্রী

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

    আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর প্রশ্ন ছিল, বর্তমানে দেশে বৈধ মোটরসাইকেলের সংখ্যা কত এবং অবৈধভাবে চলাচলকারী মোটরসাইকেল বৈধ করা হবে কি না?

    জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘বিআরটিএ ইনফরমেশন সিস্টেম অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯০টি। সড়ক, মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচলকারী মোটরসাইকেল বন্ধে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বিআরটিএ থেকে নিবন্ধন গ্রহণ করেনি এরূপ কোনো মোটরসাইকেল মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদিসহ যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন দাখিল করলে বিআরটিএ কর্তৃক সেগুলোকে বৈধতা প্রদান তথা রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

     

  • যে বাজেটে মদ সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করা হয় সে বাজেট বিরোধী দলের পছন্দ হয় না, প্রধানমন্ত্রী

    যে বাজেটে মদ সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করা হয় সে বাজেট বিরোধী দলের পছন্দ হয় না, প্রধানমন্ত্রী

    এস.এম হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার

    প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম কক্সবাজারে আসেন তারেক রহমান।সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান কক্সবাজার বিমান বন্দরে অবতরণ করেন। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। খাল খনন,বৃক্ষরোপণ,শহিদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত,জনসভায় উপস্থিত,সুধী সমাবেশসহ বেশকিছু কর্মসূচির অংশ হিসাবে তিনি কক্সবাজারে আগমন করেন।১দিনের সফরে সারাদিন ব্যাপী তিনি এসব কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

    কক্সবাজার সদরে পাতলী খাল পুনঃখনন:

    শনিবার(১৩ জুন) কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় নিজ হাতে মাটি কেটে পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রায় ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খাল খননের করেছিলেন এবং সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার পুনঃখননের কাজ বাস্তবায়ন করছে।

    তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। কক্সবাজার সদরের পাতালী খাল খনন করা হলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। পাশাপাশি ১,২০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং অতিরিক্ত ১,২০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। এছাড়া প্রায় ৮,৫০০ কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপির রাজনীতি মানুষের কল্যাণের রাজনীতি।” তিনি আরও জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের বছরে এককালীন ২৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী জুলাই মাস থেকে কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

    নারী শিক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেয়েদের শিক্ষার প্রসার ঘটাতে স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

    বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে সিগারেট ও মদের ওপর কর বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করায় সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, অতীতের মতো বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়েনি।যে বাজেটে মদ,সিগারেটের দাম বৃদ্ধি পায় সে বাজেট নিয়ে বিরোধী দল বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছে।

    চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন:

    পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, এমপি।

    পরে প্রধানমন্ত্রী চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

    পরিদর্শনকালে সাফারি পার্কের মূল ফটক প্রাঙ্গণে একটি নাগলিঙ্গম গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি পার্কের স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। একই সঙ্গে স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন ডা. জুবাইদা রহমান।

    এর আগে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

    শহিদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত:

    দিনের পরবর্তী অংশে প্রধানমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে নিহত চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি শহীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের হাতে ২০লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

    মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন:

    কর্মসূচির অংশ হিসাবে নবগঠিত কক্সবাজারের দশম উপজেলা মাতামুহুরীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সহ বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে পেকুয়ায় জনসাধারণের উদ্দেশ্যে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    চকরিয়ায় বিশাল বিএনপি আয়োজিত জনসভায় অংশগ্রহণ:

    আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষি ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

    এই প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী চকরিয়ায় বক্তব্য রেখেছেন।পরবর্তী কর্মসূচি অনুযায়ী মেরিন ড্রাইভ সড়ক পরিদর্শক ও সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।সব সমাবেশ শেষ করে রাতে ঢাকার উদ্দেশ্য কক্সবাজার বিমান বন্দর হতে রওনা হবেন।

  • কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

    কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেসরকারি বিমান ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী গিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা ঐতিহাসিক পাতলীখাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন এবং সেখানে আয়োজিত একটি পথসভায় অংশ নেবেন।

    দুপুর ১২টায় চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এবং পার্কটি পরিদর্শন করবেন।

    প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দুপুর ১টায় পেকুয়া উপজেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ মো. ওয়াসিমের কবর জিয়ারত এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন।

    দুপুর ২টায় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা এবং পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে বিকেল সাড়ে ৪টায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে রাজনৈতিক জনসভায় যোগ দেবেন। জনসভা শেষে সন্ধ্যায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকত পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

    এরপর রাত ৮টায় কক্সবাজার শহরের লং বিচ হোটেল মিলনায়তনে সুধী সমাবেশে অংশ নিয়ে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে রাত ১০টায় বেসরকারি বিমান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন তিনি।

  • প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর আজ, উৎসবমুখর পরিবেশ

    প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর আজ, উৎসবমুখর পরিবেশ

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো পর্যটন সমৃদ্ধ জেলা কক্সবাজারে সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সপরিবারে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন।

    প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গন, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিরাজ করছে আকাশসম প্রত্যাশা। কক্সবাজারবাসী মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর জেলার উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচন করবে।

    জেলা বিএনপির সভাপতি ও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কক্সবাজার সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে- কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, কক্সবাজার সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা, কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু নির্মাণ, পিএমখালীর পাতলী খালকে শহীদ জিয়া স্মৃতি খাল নামকরণ এবং কক্সবাজার স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।

    কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. ইউসুফ বদরী বলেন, ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতকে বিশ্ব পর্যটনের জন্য আরও উন্মুক্ত ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা, মহেশখালী-কক্সবাজার সহজ যোগাযোগের জন্য সেতু নির্মাণ, বাঁকখালী নদীতে ড্রেজিং, সোনাদিয়া দ্বীপকে বিদেশি পর্যটকদের জন্য এক্সক্লুসিভ জোন হিসেবে গড়ে তোলা এবং মহেশখালী-মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।

    গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কক্সবাজার কেন্দ্রিক জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।

    দাবির মধ্যে রয়েছে- লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা এবং কক্সবাজারে ব্লু ইকোনমি ও মেরিন সায়েন্সভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।

    প্রসঙ্গত কক্সবাজার নেমে সড়কপথে চকরিয়ায় পিএমখালীতে পাতলী খাল পুনঃখনন, মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

    দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তি প্রস্তরস্থাপন অনুষ্ঠান এবং বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনালে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভা, সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

    এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমুদ্রের সৌন্দর্য অবলোকনে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘুরে দেখবেন এবং রাতের ফ্লাইটেই তিনি ঢাকায় ফিরবেন।

    গুরুত্বপূর্ণ এই সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন, নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

    কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৩ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা পুলিশের ৫০০ সদস্যের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ২ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

  • প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরে উন্নয়ন কার্যক্রম উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ ও জনসভাসহ ব্যস্ত কর্মসূচি

    প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরে উন্নয়ন কার্যক্রম উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ ও জনসভাসহ ব্যস্ত কর্মসূচি

    এস.এম. হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার

    বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ১৩ জুন কক্সবাজার সফরকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উদ্বোধন, পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচি, রাজনৈতিক জনসভা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শনকে ঘিরে সাজানো হয়েছে তাঁর দিনব্যাপী কর্মসূচি।

    সফরের শুরুতে তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী পাতিলী-মাছুয়াখালী খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন এবং সেখানে আয়োজিত পথসভায় অংশ নেবেন। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এরপর প্রধানমন্ত্রী ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করবেন। একইসঙ্গে চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সরকার ঘোষিত ‘দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

    সফরকালে তিনি জুলাই আন্দোলনের শহিদ মো. ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করবেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খোঁজখবর নেবেন।

    এছাড়া কক্সবাজারের প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

    রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেলে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় আয়োজিত এক বৃহৎ জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তিনি। জনসভাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে কক্সবাজার, চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, টেকনাফ, উখিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

    সফরের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনার অন্যতম আকর্ষণ মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকত পরিদর্শন করবেন। পরে শহরের লং বিচ হোটেল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমানের কক্সবাজার সফরকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে সাজানো এ সফর কক্সবাজারের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন

  • অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ বাজেট সরকারের বড় সুযোগ: সিপিডি

    অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ বাজেট সরকারের বড় সুযোগ: সিপিডি

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে নতুন সরকারের জন্য অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রথম বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি মনে করে, টেকসই কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে এই বাজেট বাস্তবায়ন করা গেলে সংকটে থাকা অর্থনীতি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

    শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

    সংবাদ সম্মেলনে ফাহমিদা খাতুন বলেন, “নতুন সরকারের এই প্রথম বাজেটটি এমন এক সময় পেশ করা হয়েছে, যখন দেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানহীনতা এবং ব্যাংকিং খাতের নাজুক অবস্থার মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই ক্রিটিক্যাল সময়ে বাজেটকে মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার যে দর্শন নেওয়া হয়েছে, তা ইতিবাচক।”

    সিপিডির মতে, প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অনেক মিল রয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে বাজেটের সাফল্য এর বিশাল আকারের ওপর নয়, বরং বাস্তবায়নের দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

    ফাহমিদা খাতুন আরও উল্লেখ করেন, বাজেটের লক্ষ্য অর্জনে শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই। উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য থাকলেও যদি বাস্তবায়ন দুর্বল হয়, তবে সাধারণ মানুষ এর সুফল পাবে না।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, তাতে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা ও বৈদেশিক ঋণের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা বাড়তে পারে, যা অর্থনীতির জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

    সিপিডির পর্যালোচনায় আরও উঠে আসে যে, আগামী অর্থবছরের জন্য মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার যে লক্ষ্য ধরা হয়েছে, তা অর্জন করা বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে সরকার যদি কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।

    সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।