Category: সারাদেশ

  • মাদকবিরোধী কর্মসূচি ও বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে পূর্বসীমান্ত মিডিয়া নেটওয়ার্কের মাসব্যাপী কার্যক্রমের উদ্বোধন

    মাদকবিরোধী কর্মসূচি ও বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে পূর্বসীমান্ত মিডিয়া নেটওয়ার্কের মাসব্যাপী কার্যক্রমের উদ্বোধন

     

    এস.এম. হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার

    কক্সবাজারের রামু ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে পূর্বসীমান্ত মিডিয়া নেটওয়ার্কের মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পালন করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজ শেষে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের তিতারপাড়া বাইতুন নূর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে স্থানীয় মুসল্লি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণের উপস্থিতিতে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাইতুন নূর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুরুল আমিন কোম্পানি।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পূর্বসীমান্ত মিডিয়া নেটওয়ার্কের সভাপতি সাংবাদিক মাঈনুদ্দিন খালেদ, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এস. এম. হুমায়ুন কবির, সহ-সভাপতি আবু তালেব সিকদার, সহ-সভাপতি শামসুল আলম শাহীন, অর্থ সম্পাদক সাইদুজ্জামান, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নুরুল হাকিম হিরো এবং নির্বাহী সদস্য দেলোয়ার হোসেন সাইদি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ ইদ্রিস প্রমূখসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে মসজিদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

    সভায় বক্তারা বলেন, মাদক ও জুয়া সমাজ ধ্বংসের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। তারা মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের এসব কর্মকাণ্ড পরিহার করে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। সাংবাদিকদের উদ্যোগে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি করেছে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, “মাদক আমাদের সমাজের জন্য বড় হুমকি। পূর্বসীমান্ত মিডিয়া নেটওয়ার্কের এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

    অভিভাবক নূরজাহান বেগম বলেন, “আমাদের সন্তানদের মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”

    কলেজ শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, “যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের এই উদ্যোগ আমাদের অনুপ্রাণিত করছে।”
    স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি হাজী আবদুল করিম বলেন, “রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির সাংবাদিকরা এক প্ল্যাটফর্মে এসে সমাজ উন্নয়নে কাজ করছেন, এটি সত্যিই প্রশংসনীয়। মাদকবিরোধী কর্মসূচির পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমও সময়োপযোগী উদ্যোগ।”

    স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সীমান্ত অঞ্চলকে মাদক ও জুয়ার ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

    মাদকমুক্ত, সবুজ ও সচেতন সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে পূর্বসীমান্ত মিডিয়া নেটওয়ার্কের মাসব্যাপী এ কর্মসূচি ইতোমধ্যে সীমান্ত জনপদে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

  • নোয়াখালীতে পুলিশের অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্য আটক

    নোয়াখালীতে পুলিশের অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্য আটক

     

    নোয়াখালী প্রতিনিধি

    নোয়াখালীর সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে ১৭ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

    শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেলা শহর মাইজদীর পৌরবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, মাইজদী শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। কয়েক দিন আগে জেলা শহরে একটি কিশোর গ্যাং প্রকাশ্যে বড় ধরনের শোডাউন করে। এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা নানা ধরনের বিশৃঙ্খল কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ায় ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে আটক করে পুলিশ।

    সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, কেপিজি (KPG) নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্যকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তাদের পরিচয়, বয়স ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্ত শেষে শনিবার সকালে আটককৃতদের নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • ফরিদপুরে দুইটি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ

    ফরিদপুরে দুইটি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ

     

    ফরিদপুর প্রতিনিধি

    ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর এলাকায় দুইটি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তবে দুর্ঘটনায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

    শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে কোতোয়ালি থানাধীন কানাইপুরের হোসেন ফিলিং স্টেশনের সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘ/টনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাগুরা থেকে ছেড়ে আসা যশোর-জ-১১-০০৫০ নম্বরের একটি লোকাল বাস এবং ফরিদপুর থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহী মেট্রো-জ-১১-০০৭৫ নম্বরের আরেকটি লোকাল বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘ/র্ষে/র ফলে উভয় বাসের কয়েকজন যাত্রী আ/হত হন।

    দুর্ঘটনার পর আহত যাত্রীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে করে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যাওয়ায় তাদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

    খবর পেয়ে ফরিদপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘ?ট/নাকবলিত বাস দুটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।

    পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • ডুবে যাওয়া বাস উদ্ধার, চালক-হেলপার জীবিত

    ডুবে যাওয়া বাস উদ্ধার, চালক-হেলপার জীবিত

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।

    উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার সহায়হায় শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বাসটি উদ্ধার করা হয়।

    এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসটি ডুবে যায়। ফেরিতে ওঠার আগে সব যাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে। চালক ও হেলপারকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

    বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, এসবি পরিবহনের ঢাকাগামী বাসটি দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাট পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়। এখন পর্যন্ত নিখোঁজের সংবাদ পাওয়া যায়নি। বাস থেকে সব যাত্রী নামানো হয়েছিল।

    জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, আড়াই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় পদ্মায় পড়ে যাওয়া বাসটিকে নদী থেকে তোলা হয়েছে। কোনো যাত্রী বাসে ছিল না তাই হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

  • ট্রেন আসার সময় রেললাইনে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ, বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের

    ট্রেন আসার সময় রেললাইনে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ, বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের

     

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় রেললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধকে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ার হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে তোফায়েল আহমেদ (২০) নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দ্রুতগামী আন্তঃনগর ‘সুবর্ণ এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সন্ধ্যায় কসবা রেলওয়ে স্টেশনে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

    নিহত তোফায়েল আহমেদ উপজেলার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো সেদিনও বিকেলে কসবা রেলস্টেশনে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসেছিলেন তোফায়েল। সন্ধ্যার দিকে স্টেশনের একপাশে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি থামে। এ সময় ওই ট্রেন থেকে নেমে এক বৃদ্ধ অসাবধানতাবশত মাঝখানের রেললাইনের ওপর গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন।

    ঠিক তখনই একই লাইন দিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী বিরতিহীন ‘সুবর্ণ এক্সপ্রেস’ দ্রুতগতিতে স্টেশন অতিক্রম করছিল। ট্রেনটি একটানা হর্ন দিলেও বৃদ্ধ তা শুনতে পাননি। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তোফায়েল দ্রুত রেললাইনে নেমে বৃদ্ধকে ধাক্কা দিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেন।

    বৃদ্ধ প্রাণে বেঁচে গেলেও দ্রুতগতির সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি তোফায়েলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে দূরে গিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন ও তার সহপাঠীরা দ্রুত উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয়রা জানান, তোফায়েল অত্যন্ত মানবিক ও পরোপকারী স্বভাবের ছিলেন। এমনকি ঘটনার দিন সকালেও তিনি এক যাত্রীকে সম্ভাব্য ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেছিলেন।

    কসবা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. হানিফ মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সুবর্ণ এক্সপ্রেস স্টেশন অতিক্রম করার সময় এক বৃদ্ধকে বাঁচাতে গিয়ে তোফায়েল আহমেদ নামে এক যুবক ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হন। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।”

    আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নিহতের পরিবারের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

    একজন অসহায় বৃদ্ধকে বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করা তোফায়েলের এই আত্মত্যাগ স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণ করছেন অনেকে।

  • মাদক ব্যবসার অভিযোগে নবীনগরে সালিশে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

    মাদক ব্যবসার অভিযোগে নবীনগরে সালিশে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মাদক ব্যবসার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে সালিশ বৈঠকে প্রকাশ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের নারুই বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

    ঘটনার একটি ভিডিও জার্নাল ভিশন24 সহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি হলেন নারুই গ্রামের বাসিন্দা হবি মিয়া (৪০)। তিনি মৃত রহমত মিয়ার ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় মাদক ব্যবসা দমনের লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে গঠিত একটি মাদকবিরোধী কমিটির উদ্যোগে নারুই বাজারে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে হবি মিয়াকে উপস্থিত করা হয়। পরে তার মা ও স্ত্রীর সামনেই তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হবি মিয়ার হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর নির্দেশে এক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে তার পায়ের তালুতে বারবার আঘাত করছেন। এ সময় তিনি যন্ত্রণায় চিৎকার করলেও নির্যাতন অব্যাহত থাকে।

    ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ চেয়ারে বসে নির্যাতনের দৃশ্য দেখছিলেন। অনেককে আবার মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনাটি ধারণ করতেও দেখা যায়।

    এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখার পরপরই ঘটনাস্থলে একজন উপপরিদর্শক (এসআই) পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ফিরে আসার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

  • ‘শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, ডেঙ্গু রোধে প্রয়োজন জনসচেতনতা’

    ‘শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, ডেঙ্গু রোধে প্রয়োজন জনসচেতনতা’

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক অংশগ্রহণ এবং জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম।

    শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ওয়ারীর সিলভারডেল প্রিপারেটরি অ্যান্ড গার্লস হাইস্কুলের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

    তিনি বলেছেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব কিংবা যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত ফেলে দিলে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব।

    তিনি আরও বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জরিপে নগরীর ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ বাসাবাড়িতে ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া গেছে। তাই বাসাবাড়িতে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিকল্প নেই। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

    এ সময় নগরীর বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে খেলার মাঠসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে নির্ধারিত স্থানে বসার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান আব্দুস সালাম।

    তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।

  • নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার

    নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার

    এস.এম. হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার

    বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী পোয়াবন এলাকা থেকে মালিকবিহীন ১ লাখ ৮৪১ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শুক্রবার (৫ জুন) সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) এর অধীনস্থ জারুলিয়াছড়ি বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ৪৬/৪-এস এর কাছাকাছি পোয়াবন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

    বিজিবি সূত্র জানায়, টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা তাদের সঙ্গে থাকা দুটি ব্যাগ ফেলে পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতর পালিয়ে যায়। পরে পরিত্যক্ত ব্যাগ দুটি তল্লাশি করে ৯৯ হাজার ৭৮০ পিস খয়েরি রঙের এবং ১ হাজার ৬১ পিস সবুজ রঙেরসহ মোট ১ লাখ ৮৪১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ২ লাখ ৫২ হাজার ৩০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

    নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির জানান, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার রোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত-৩

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত-৩

     

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাছভর্তি একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক মা ও তার শিশুপুত্র। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (৫ জুন) সকালে সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিয়াল্লিশহর এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, অটোরিকশা চালক মাহবুব (৪৫), যাত্রী জোসনা বেগম (৪০) এবং তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আশরাফুল। গুরুতর আহত হয়েছেন জোসনা বেগমের স্বামী কাউসার (৫০) ও তাদের চার বছর বয়সী মেয়ে আদিবা। তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কসবা উপজেলা থেকে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সিএনজি অটোরিকশাযোগে সরাইল-বিশ্বরোডের দিকে যাচ্ছিলেন কাউসার। পথে বিয়াল্লিশহর এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি মাছভর্তি পিকআপ ভ্যান অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এর আরোহীরা গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহবুব, জোসনা বেগম ও আশরাফুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

    খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক পিকআপ ভ্যানের চালক ও তার সহযোগী পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগে প্রশাসনের নজরদারি

    বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগে প্রশাসনের নজরদারি

     

    ফরিদপুর প্রতিনিধি

    ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের পূর্ব ফুলবাড়ীয়া দোহা বাঁওড়ে গ্যাস ট্যাবলেট ও বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ নিধনের অভিযোগে প্রশাসন সক্রিয় হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর গত ৩ জুন বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন এবং উপজেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

    পরিদর্শনের সময় ইউএনও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বাঁওড়ের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন। এ সময় তিনি পরিবেশ ও জলজ সম্পদ ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

    ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, “পূর্ব ফুলবাড়ীয়া দোহা বাঁওড় প্রায় ১২১ একর আয়তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলমহল। বর্তমান সরকারের নীতি অনুযায়ী এসব জলমহল মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যদের ইজারা দেওয়া হয়। গ্যাস ট্যাবলেট কিংবা যেকোনো ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ শিকার সম্পূর্ণ বেআইনি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে ইজারা বাতিলসহ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল-জরিমানার আওতায় আনা হবে। পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় প্রশাসন কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।”

    উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও পরিচালনা করা হবে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র রাতের আঁধারে বাঁওড়ে গ্যাস ট্যাবলেট ও বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ শিকার করছে। এতে দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে এবং বাঁওড়ের পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে উঠছে।

    এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও বাঁওড়ের পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করার অনুরোধ করেন।

    প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাঁওড়ের পরিবেশ ও জলজ সম্পদ রক্ষা পাবে এবং দোষীরা আইনের আওতায় আসবে।