Category: ক্যাম্পাস

  • জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে কুবিতে কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল

    জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে কুবিতে কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল

     

    কুবি প্রতিনিধি

    শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরাম আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

    এর আগে সকালে পবিত্র কোরআন খতমের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে জুমার নামাজ শেষে জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

    এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: আবদুল হাকিম, কুবি ইউট্যাব-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মো. শাহাদাত হোসাইন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাসহ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

    দোয়া মাহফিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, ‘৪৫ বছর পরও মানুষ জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। তাঁর ঐতিহাসিক জানাজা-ই প্রমাণ করে মানুষের কাছে তিনি কতটা সম্মানিত ছিলেন। নিজ কর্ম ও অবদানের জন্যই তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।’

    এ সময় তিনি সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন, এমন সম্মান নিয়ে বিদায় নেওয়ার নজির ইতিহাসে বিরল।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাঁদের ছেলে তারেক রহমান বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী। একই পরিবার থেকে তিনজনের গণতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাওয়ার এমন নজির বিশ্বে আর কোথাও আছে বলে মনে হয় না।

    কুবি ইউট্যাব-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘১৯৭১ সালে নিজের পরিবারকে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রেখে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন। সে সময় সেনাবাহিনীতে তাঁর ঊর্ধ্বতন আরও দুজন কর্মকর্তা থাকলেও তাঁরা এই ঝুঁকি নেওয়ার সাহস করেননি। ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের কল্যাণে এবং রাষ্ট্রের উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।’

  • গুচ্ছের ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা: ইবিতে বৈছাআ’র ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম 

    গুচ্ছের ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা: ইবিতে বৈছাআ’র ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম 

     

    ইবি প্রতিনিধি 

    গুচ্ছভুক্ত ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত চলমান কার্যক্রম নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাবজেক্ট চয়েজের ফলাফল প্রকাশ করে দ্রুত প্রাথমিক ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আলটিমেটাম দিয়েছে সংগঠনটি।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পংকজ রায় স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন হেয়ালি ও দায়িত্বহীন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ মে সাবজেক্ট চয়েজের সময়সীমা শেষ হলেও আজ ৪ জুন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ ফলাফল প্রকাশ করেনি। অথচ আগামী ৮ জুন থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফলাফল প্রকাশে এই দীর্ঘসূত্রতা এবং ভর্তি প্রক্রিয়ার অব্যবস্থাপনার কারণে হাজার হাজার শিক্ষার্থী চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

    এতে আরও বলা হয়, সাবজেক্ট চয়েজের ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় প্রাথমিক ভর্তি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে চূড়ান্ত ভর্তির জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া, মাইগ্রেশন তালিকা নিয়ে জটিলতা এবং ভর্তি-সংক্রান্ত আর্থিক ও যাতায়াতজনিত সমস্যার মতো নানা চাপ শিক্ষার্থীদের ওপর সৃষ্টি হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে ঠেলে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

    এ পরিস্থিতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইবি শাখার পক্ষ থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাবজেক্ট চয়েজের ফলাফল প্রকাশ, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে প্রতিটি ধাপের জন্য পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করা এবং ফলাফল ও মাইগ্রেশন তালিকাসহ ভর্তি কার্যক্রমের সব ধাপ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়।

    নেতৃবৃন্দ বলেন, অনতিবিলম্বে এই জটিলতা নিরসন করে ভর্তি প্রক্রিয়াকে গতিশীল করা না হলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি ভর্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার সকল দায় সংশ্লিষ্ট ভর্তি পরীক্ষা কমিটিকে বহন করতে হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।

  • লঞ্চঘাটে অবৈধ চাঁদার প্রতিবাদ, ভোগান্তিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

    লঞ্চঘাটে অবৈধ চাঁদার প্রতিবাদ, ভোগান্তিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

     

    ববি প্রতিনিধি

    চাঁদপুর লঞ্চঘাটে রশিদবিহীন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং এর প্রতিবাদ করায় এক যাত্রীসহ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ঘাটের ইজারাদার মোস্তফা মাল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    এতে আহত হয়েছেন যাত্রী মো. সজীব সন্ন্যামাত এবং ববি শিক্ষার্থী ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. মাসুদ রানা। ঘটনার পর চাঁদপুর সদর থানায় দুইটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন দুই ভুক্তভোগী। জিডির ট্র্যাকিং নম্বর যথাক্রমে LC6MJO এবং 8NHNOO। এছাড়াও চাঁদপুর নৌ থানায় মৌখিক অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

    ‎প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বরিশালগামী সুন্দরবন-১২ লঞ্চে দুটি মোটরসাইকেল উঠাতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ঘাটের লোক পরিচয় দিয়ে রশিদ বিহীন কয়েকশ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

    ‎ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা আদায়ের বিপরীতে কোনো রশিদ দেখানো হয়নি। রশিদ ছাড়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বাকবিতন্ডার মধ্যে এক পর্যায়ে তারা মারধরের শিকার হয়।

    ‎জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যাত্রী মো. সজীব সন্ন্যামাত মোটরসাইকেল নিয়ে বরিশালে ফেরার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে পৌঁছালে তার কাছে দুই হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে ঘাটের কয়েকজন লোক। এসময় রশিদবিহীন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ও রশিদ চাওয়ায় কয়েকজন ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় তার কাছে ছবি ও ভিডিও প্রমাণ রয়েছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ‎একই ঘটনায় দায়ের করা অপর জিডিতে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাসুদ রানা উল্লেখ করেন, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থল বরিশালে ফেরার পথে তিনি ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল নিয়ে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে পৌঁছান। সুন্দরবন-১২ লঞ্চে মোটরসাইকেল উঠাতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা আদায়ের কারণ ও রশিদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা রশিদ ছাড়া টাকা দিতে চাপ দেন।

    পরে তিনি সাংবাদিক পরিচয় দিলে তাকে লঞ্চে উঠতে বলা হয়। ইতোমধ্যে অপর মোটরসাইকেল আরোহী সজীব সন্ন্যামাতও রশিদ ছাড়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তখন হঠাৎ ইজারাদার মোস্তফা মাল ঘটনাস্থলে এসে সজীবকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে সাংবাদিক মাসুদ রানার কাছেও এসে রশিদ ছাড়া টাকা না দেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং শারীরিক হামলা চালানো হয় বলে জিডিতে উল্লেখ রয়েছে।

    এতে তার কান, গলা, মুখ, হাত ও পায়ে আঘাত লাগে এবং মোটরসাইকেলেরও ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সুন্দরবন-১২ লঞ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জিডিতে দাবি করা হয়েছে।

    ‎ভুক্তভোগী মো. সজীব সন্ন্যামাত বলেন, আমি লঞ্চে মোটরসাইকেল উঠাতে গেলে তিন-চারজন ব্যক্তি আমার কাছে দুই হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি তাদের কাছে রশিদ চাইলে তারা কোনো রশিদ দেখাতে পারেননি। রশিদবিহীন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন। এ সময় আমার বোন আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে রশিদ ছাড়াই টাকা পরিশোধ করে মোটরসাইকেলসহ লঞ্চে উঠতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

    ‎হামলার শিকার ববি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক মাসুদ রানা বলেন, বাসা থেকে কর্মস্থল বরিশালে যাওয়ার পথে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে আমার ও আরেক যাত্রীর দুটি মোটরসাইকেল লঞ্চে তুলতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি কোনো রশিদ ছাড়াই বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করেন। রশিদ ছাড়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন এবং গালিগালাজ করেন। পরে আমি পেশাগত পরিচয় দিলে মোস্তফা মাল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে হঠাৎ করে এসে কোনো কথা না শুনেই ইজারাদার মোস্তফা মাল আমাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। এতে আমার কান, গলা, মুখ, হাত ও পায়ে আঘাত লাগে। পড়ে গিয়ে বাইক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।

    ‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত চাঁদাবাজ ঘাট ইজারাদার মোস্তফা মাল তার ভুল শিকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন।

    চাঁদপুর নৌ থানার ওসি ইকবাল বলেন, হামলার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। এছাড়া জিডির কপিও হাতে পেয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জাপানের বায়োটেক পুরস্কার পেলেন কুবি শিক্ষিকা ড. জান্নাতুল ফেরদৌস

    প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জাপানের বায়োটেক পুরস্কার পেলেন কুবি শিক্ষিকা ড. জান্নাতুল ফেরদৌস

    কুবি প্রতিনিধি

    জাপানের ‘এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অর্জন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। এ সম্মাননা অর্জনের মাধ্যমে তিনি প্রথম বাংলাদেশি গবেষক হিসেবে এ পুরস্কার লাভের গৌরব অর্জন করেছেন।

    মঙ্গলবার (২ জুন) তার এই পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ড. জান্নাতুল ফেরদৌস।

    বায়োটেকনোলজি গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাপানের সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি (এসবিজে) তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করে।

    নিজের গবেষণা ও অর্জন প্রসঙ্গে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “আমার গবেষণার মূল বিষয় ছিল ন্যানোটেকনোলজির মাধ্যমে উন্নত ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম উদ্ভাবন। ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দ্রাব্যতা ও স্থায়িত্ব সংক্রান্ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হই। এছাড়া গ্রোথ ফ্যাক্টর, প্রোটিনসহ বিভিন্ন জৈব অণু নিয়ে কাজ করতে গিয়েও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়।

    তিনি আরও বলেন, আমার গবেষণার লক্ষ্য ছিল ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে এমন একটি ক্যারিয়ার সিস্টেম তৈরি করা, যা এসব জৈব অণুকে কার্যকরভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। এই প্রযুক্তি বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের চিকিৎসা, চোখে ওষুধ সরবরাহ, এমনকি ক্যান্সার থেরাপিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মূলত একটি বহুমুখী ও কার্যকর ডেলিভারি সিস্টেম হিসেবে ‘ন্যানোজেল ডিসপারশন’ প্রযুক্তির উন্নয়নই ছিল আমার গবেষণার প্রধান বিষয়। এই গবেষণার জন্য আমরা জাপানে একটি পেটেন্টও অর্জন করেছি, যা পরবর্তীতে গবেষণাটিকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এটিকে একটি আদর্শ ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম হিসেবে আরও উন্নত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

    মর্যদাপূর্ণ অর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি যে পুরস্কারটি পেয়েছি, তা আমার ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম বড়ো অর্জন। একই সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি।

    এই গৌরবময় সাফল্যযাত্রায় গবেষণা সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এই অর্জনের পেছনে দীর্ঘ গবেষণা-যাত্রা রয়েছে। আমার পিএইচডি গবেষণা এবং পরবর্তীতে জাপানে আমার সুপারভাইজারের গবেষণাগারে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের ফলস্বরূপ আমি এই পুরস্কার অর্জন করেছি। এ ক্ষেত্রে আমার জাপানি সুপারভাইজার, গবেষণাগারের সহকর্মী এবং ল্যাবমেটদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে শিক্ষা ছুটি প্রদান এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে। আমার বিভাগের সহকর্মীরা সবসময় সহযোগিতা করেছেন এবং শিক্ষার্থীরাও আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আমি গবেষণার মাধ্যমে যা শিখেছি, তা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং তাদের গবেষণায় উৎসাহিত করার চেষ্টা করি। এছাড়া আমার পরিবারও এই দীর্ঘ যাত্রায় সবসময় আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে।

    ন্যানোজেল প্রযুক্তি আবিষ্কার বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার হতে পারে উল্লেখ করে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস আরও বলেন, “এটি একটি আধুনিক ও উন্নত ড্রাগ ডেলিভারি প্রযুক্তি। বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় প্রযুক্তিগত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশীয় গবেষক ও ওষুধ কোম্পানিগুলো নিজস্ব পেটেন্ট, নতুন ড্রাগ মলিকিউল এবং উন্নত ক্যারিয়ার সিস্টেম উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্যান্সারের মতো জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম। জাপানে আমি যে ক্যারিয়ার সিস্টেম নিয়ে কাজ করেছি, তার অনুরূপ গবেষণা বাংলাদেশেও পরিচালিত হলে দেশের চিকিৎসা ও ওষুধ গবেষণা খাতে তা একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।”

    উল্লেখ্য, সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি, জাপান (এসবিজে) জাপানের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সংগঠন। ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনটি জীববিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি (বায়োটেকনোলজি) এবং জীবনবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক গবেষণার উন্নয়নে কাজ করে আসছে।

  • ইবিতে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে ছাত্রদলের শ্রদ্ধাঞ্জলি

    ইবিতে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে ছাত্রদলের শ্রদ্ধাঞ্জলি

     

    নাফীজ আহমেদ ,ইবি

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে শোকর‍্যালি ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

    শনিবার (৩০ মে) দুপুর ১২টায় প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে শোক র‍্যালি বের করে সংগঠনটি। র‍্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক উন্মোচিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিত্তিপ্রস্তরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

    এসময় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবিব, রোকন উদ্দিন ও আনারুল ইসলাম, সদস্য সাব্বির হোসেন, রাফিজ আহমেদ, সাক্ষরসহ প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে ভাইস চ্যান্সেলরের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম এ ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে একটি শোক র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। র‍্যালিটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ শেষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিত্তিপ্রস্তরের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

    পরে সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রনায়কের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় অডিও বার্তার মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. একেএম এম মতিনুর রহমান।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল শোক র‍্যালি, কালো ব্যাজ ধারণ, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত।

  • ঈদের দিন গাজায় নগদ সহায়তা পৌঁছে দিল ‘হ্যান্ডস ফর হিউম্যানিটি’

    ঈদের দিন গাজায় নগদ সহায়তা পৌঁছে দিল ‘হ্যান্ডস ফর হিউম্যানিটি’

     

    নাফীজ আহমেদ ,ইবি

    পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দ যখন বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ঘরে ঘরে, ঠিক তখনই যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় হাজারো পরিবার দিন পার করছে ক্ষুধা, আতঙ্ক ও মানবেতর কষ্টের মধ্যে। এমন বাস্তবতায় ঈদের দিনে গাজার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী মানবিক সংগঠন ‘হ্যান্ডস ফর হিউম্যানিটি’।

    সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদুল আযহার দিন গাজার কয়েকজন অসহায় মানুষের হাতে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে পাঁচজনের প্রত্যেককে ৫০ শেকেল করে সহায়তা প্রদান করা হয়।

    সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্য সচিব রায়হান কবির বলেন, “গাজার মানুষের বর্তমান পরিস্থিতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ঈদের দিনে অন্তত কিছু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি আমরা। এটি ছোট একটি উদ্যোগ হলেও মানবতার জায়গা থেকে আমাদের দায়িত্ববোধের প্রকাশ।”

    তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে বড় পরিসরে ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির। তবে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে কাঙ্ক্ষিত পরিসরে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

    হ্যান্ডস ফর হিউম্যানিটির আহ্বায়ক আমির ফয়সাল বলেন, “আমাদের কাছে গাজায় কাজ করার মতো যোগাযোগ ও সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বড় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে আমরা আরও অনেক অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারবো।”

    তিনি ফিলিস্তিনের মজলুম মানুষের জন্য সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

    এদিকে, এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে যারা অর্থ, শ্রম ও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ‘হ্যান্ডস ফর হিউম্যানিটি’।

  • কালের বিবর্তনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়: সীমাবদ্ধতার ক্যাম্পাস থেকে আধুনিক স্বপ্নের পথে

    কালের বিবর্তনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়: সীমাবদ্ধতার ক্যাম্পাস থেকে আধুনিক স্বপ্নের পথে

    কুবি প্রতিনিধি

    একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প শুধু ইট-পাথরের ভবন কিংবা শ্রেণিকক্ষের গল্প নয়, সেটি সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া একটি ইতিহাসও। সেখানে থাকে সংগ্রাম, সীমাবদ্ধতা, অর্জন এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন। হাঁটি হাঁটি পা করে ২০ বছর পেরিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এখন পা রাখছে ২১ বছরে। ছোট পরিসরের এক নবীন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধীরে ধীরে একটি বিস্তৃত ও আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার গল্প যেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো পথচলা।

    তবে কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার হাতেখড়ি হুট করে দু-এক বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জানা যায়, ১৯৬০-এর দশকেই কুমিল্লায় দেশের তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ছিল। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও এগিয়েছিল অনেক দূর। কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবে রূপ পায়নি। ১৯৬৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয় ঠিকই, তবে সেটা কুমিল্লার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামে, যা বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত।

    বহুদিনের আন্দোলন ও দাবির পর অবশেষে ২০০৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে স্থাপিত হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর। একই বছরের ৮ই মে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হ। এরপরে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০৭ সালের ২৮ মে সাতটি বিভাগ, ১৫ জন শিক্ষক এবং প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় পুরোদমে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম।

    শুরুর কুবি ছিল সীমিত পরিসরের। প্রায় ৫০ একরের ছোট একটি ক্যাম্পাসেই পরিচালিত হতো শিক্ষার্থীদের ক্লাস, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। সময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও জায়গার সীমাবদ্ধতা দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বড়ো চ্যালেঞ্জ হয়ে ছিল। ক্লাসরুম সংকট, আবাসন সংকট এবং পরিবহন সমস্যা মাথায় নিয়েই প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পেরিয়ে ২১তম বছরে পা রাখছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

    তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে দৃশ্যপট। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৬টি অনুষদের অধীনে ১৯টি বিভাগ। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ১১টি নীল বাস এবং বিআরটিসির ১০টি বাসসহ মোট ২০টি বাস চলাচল করছে। এছাড়া শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রয়েছে আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে রয়েছে দুটি অ্যাম্বুলেন্স।

    আবাসন ব্যবস্থাতেও এসেছে পরিবর্তন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচটি আবাসিক হল রয়েছে। ছাত্রদের জন্য শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল, বিজয়-২৪ হল এবং কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল; ছাত্রীদের জন্য রয়েছে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল এবং সুনীতি শান্তি হল। পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্য রয়েছে ডরমেটরি সুবিধা।

    অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে কুবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি কথা বলা রোবট ‘সিনা’, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক রোবট ‘নিকো’ এবং ‘ব্লুবেরি’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি চর্চার সক্ষমতার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

    শুধু শিক্ষাব্যবস্থা নয়, সাংগঠনিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সময়ের সঙ্গে সমৃদ্ধ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ক্যাম্পাসে গড়ে উঠেছে থিয়েটার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ডান্স ক্লাব, ফিল্ম সোসাইটি, বৃত্ত কুবি, অনুপ্রাস কণ্ঠচর্চা কেন্দ্র, সংগীত বিষয়ক ‘প্ল্যাটফর্ম’, সায়েন্স ক্লাব, প্রকৃতিবিষয়ক সংগঠন ‘অভয়ারণ্য’, স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা সংগঠন ‘বন্ধু’, কুবি ছায়া জাতিসংঘ, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি, ডিবেটিং সোসাইটি। এদের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সংবাদকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে রয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি, সাংবাদিক সমিতি, প্রেস ক্লাবের মতো পেশাদার সাংবাদিক সংগঠন। এসব সংগঠন শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং তাদের ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব এবং সৃজনশীলতা বিকাশের ক্ষেত্রেও রাখছে ব্যাপক ভূমিকা।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকগুলোর একটি ছিল সমাবর্তন আয়োজন। প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৪ বছর পর ২০২০ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আয়োজিত এই সমাবর্তনে প্রায় ২ হাজার ৮৮৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে দিনটি ছিল শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য এক আবেগঘন মুহূর্ত।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে পরিবর্তিত হয়েছে প্রশাসনিক নেতৃত্বও। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৯ জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অধ্যাপক ড. গোলাম মাওলা। বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকারী উপাচার্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম।

    তবে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড়ো আলোচনার বিষয় অতীত নয়, বরং ভবিষ্যৎ। পুরোনো সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারিত নতুন ক্যাম্পাস।

    ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ ও অধিকতর উন্নয়নের জন্য প্রায় ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার মেগা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন ৫০ একর থেকে বেড়ে প্রায় ২৪৪ দশমিক ১৯ একরে উন্নীত হচ্ছে।

    নির্মাণাধীন নতুন ক্যাম্পাসে থাকছে চারটি ১০ তলাবিশিষ্ট অ্যাকাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, চারটি ১০ তলাবিশিষ্ট আবাসিক হল, শিক্ষক আবাসন, ডরমেটরি, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক কমপ্লেক্স, মেডিক্যাল ও ডে-কেয়ার সেন্টার, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, জিমনেসিয়াম, কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং আধুনিক গবেষণাগারসহ প্রয়োজনীয় প্রায় সকল সুযোগ-সুবিধা। আগামী ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সেনাবাহিনী কর্তৃক নতুন ক্যাম্পাস হস্তান্তরের কথা রয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে উপাচার্য ড. এম. এম. শরীফুল করিম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ের চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বিশ্ববিদ্যালয় আজ একটি সম্ভাবনাময় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমার নীতি হলো ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, সুযোগ-সুবিধা এবং তাদের সার্বিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল শক্তি এবং তাদের জন্য একটি ইতিবাচক, মানসম্পন্ন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন, গবেষণাবান্ধব ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে নতুন ক্যাম্পাস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত করবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনে দেশের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।’

    একসময় যে বিশ্ববিদ্যালয়টি সীমিত জায়গার মধ্যে নিজেদের জায়গা খুঁজছিল, আজ সেই বিশ্ববিদ্যালয়ই নতুন পরিচয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই যাত্রা শুধু অবকাঠামোর সম্প্রসারণের গল্প নয়; এটি সীমাবদ্ধতা থেকে সম্ভাবনায় পৌঁছানোরও গল্প। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কুবি শুধু আয়তনে বড়ো হয়নি, বড়ো হয়েছে স্বপ্নেও।

  • ক্যাম্পাস ছাড়লেও ফুরায়নি টান: সাবেকদের চোখে স্বপ্নের কুবি

    ক্যাম্পাস ছাড়লেও ফুরায়নি টান: সাবেকদের চোখে স্বপ্নের কুবি

    সানজানা তালুকদার, কুবি

    বিশ্ববিদ্যালয় জীবন আসলে কয়েকটি বছর নয়; এটি এক জীবনের সমান অনুভূতির নাম। সময়ের সঙ্গে ক্লাসরুম বদলে যায়, ব্যস্ততা বেড়ে যায়, জীবনের পথও ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। কিন্তু কিছু জায়গা মানুষকে কখনো ছেড়ে যায় না। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ও অনেকের কাছে ঠিক তেমনই–এক টুকরো অনুভূতি, যেখানে এখনো রয়ে গেছে প্রথম দিনের ভয়, প্রথম বন্ধুত্ব, বিকেলের আড্ডা, সাংস্কৃতিক আয়োজন আর স্বপ্নে ভরা অসংখ্য দিন।

    ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার পরও হঠাৎ কোনো ছবি, কোনো স্মৃতি কিংবা পরিচিত কোনো নাম শুনলে মনটা ফিরে যেতে চায় সেই লালমাটির পথে। দূরে থাকলেও প্রিয় ক্যাম্পাসের প্রতিটি অর্জন যেমন আনন্দ দেয়, তেমনি এর ভবিষ্যৎ নিয়ে জন্ম দেয় নতুন স্বপ্ন। কারণ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সাবেকদের ফেলে আসা একটি অধ্যায় নয়, এটি তাদের হৃদয়ের এমন একটি জায়গা, যার সঙ্গে সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে কমে না, বরং আরও গভীর হয়।

    সময় বদলেছে, বদলেছে ক্যাম্পাসও। নতুন শিক্ষার্থীদের পদচারণা, প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক চর্চা, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এগিয়ে চলার নানা উদ্যোগ তৈরি করছে নতুন সম্ভাবনা। তবে সাবেক শিক্ষার্থীদের চোখে কুবির জন্য প্রত্যাশাও কম নয়। তারা দেখতে চান এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়, যা শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নেই নয়; গবেষণা, শিক্ষার মান, সৃজনশীলতা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশেও হয়ে উঠবে দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ।

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী তুলে ধরেছেন তাদের নিজেদের প্রিয় ক্যাম্পাস নিয়ে অনুভূতি ও ক্যাম্পাসের প্রতি তাদের প্রত্যাশার গল্প।

    পড়াশোনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়েরই ইংরেজি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত তারিন বিনতে এনাম বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গর্বিত অ্যালামনাই ও বর্তমান শিক্ষক হিসেবে আমি আগামীর কুবিকে আধুনিক, গবেষণামুখী এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণাধর্মী কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, উচ্চশিক্ষা সহায়তা এবং নিয়মিত ‘চাকরির মেলা’ আয়োজন সময়ের দাবি।
    তিনি আরো বলেন, ‘ওবিই কারিকুলামের সঙ্গে বাস্তব দক্ষতার সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা এমন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে চাই, যারা দক্ষ পেশাজীবীর পাশাপাশি সত্যিকারের বিশ্বনাগরিক হয়ে উঠবে।’

    বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক এবং বিভাগটির সাবেক শিক্ষার্থী মো. সাফায়েত হোসাইন বলেন, ‘শুরু থেকেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমার আলাদা ভালোবাসা ও আন্তরিকতা কাজ করেছে। ছাত্রজীবন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করেছি, আর আজ শিক্ষক হিসেবে সেই পথচলার অংশ হতে পেরে ভালো লাগে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাংলাদেশের ‘এ’ ক্যাটাগরির একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয় আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

    মধুপোক বই প্রকাশনীতে কর্মরত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মারজিয়া আহমেদ রিয়া বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আমার কাছে শুধু একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটা আমার হাজারো স্মৃতি, আড্ডা, বন্ধুত্ব আর আমার আজকের এই আত্মপরিচয়ের আঁতুড়ঘর। ক্যাম্পাসে থাকাকালীন সময় থেকেই স্বপ্ন দেখতাম, কুবি একদিন আরও সমৃদ্ধ, গবেষণামুখী ও শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে।

    আমি চাই বর্তমান শিক্ষার্থীরা নিরাপদ, মুক্তচিন্তা ও সৃজনশীল পরিবেশে নিজেদের বিকশিত করার সুযোগ পাক। পাশাপাশি শিক্ষার মান, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক চর্চাও আরও সমৃদ্ধ হোক।”

    বর্তমানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আবুল কালাম বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আমার কাছে জীবনের সবচেয়ে আবেগময় একটি অধ্যায়। ক্যাম্পাস থেকে দূরে থাকলেও কুবির স্মৃতিগুলো এখনো একইভাবে হৃদয়ে রয়ে গেছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান কুবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্য, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা সত্যিই ভালো লাগে। আমরা চাই, কুবি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নেই নয়; গবেষণা, শিক্ষার মান, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও মানবিক মূল্যবোধের জায়গাতেও দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠুক।’

    ক্যাম্পাসে প্রতিদিন নতুন শিক্ষার্থীরা আসে, নতুন গল্প তৈরি হয়, নতুন স্বপ্ন জন্ম নেয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা কখনো পুরোনো হয় না। সাবেকদের চোখে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় তাই শুধু স্মৃতির জায়গা নয়; এটি ভবিষ্যতেরও একটি স্বপ্ন যে স্বপ্ন একদিন আরও বড়ো, আরও সমৃদ্ধ এবং আরও গর্বের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প বলবে।

  • ইবির শাহ আজিজুর রহমান হলে চুরির চেষ্টা, ধাওয়া খেয়ে পালাল চোর

    ইবির শাহ আজিজুর রহমান হলে চুরির চেষ্টা, ধাওয়া খেয়ে পালাল চোর

     

    নাফীজ আহমেদ, ইবি প্রতিনিধি

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাহ আজিজুর রহমান হলে চুরির চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৫ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হলের ন্যাশনাল ব্লকের প্রথম ও দ্বিতীয় ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে আবাসিক হল বন্ধ থাকায় সুযোগ নিয়ে এক চোর হলের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় সে বিভিন্ন কক্ষ থেকে হাড়ি-পাতিল, কড়াইয়ের ঢাকনা এবং বাথরুমে কাপড় রাখার হ্যাঙ্গার খুলে নেয়।

    চুরি করে বের হওয়ার সময় হলের পাশেই বসবাসকারী অ্যাম্বুলেন্স চালক আনিসুর রহমান বিষয়টি টের পেয়ে ‘চোর, চোর’ বলে চিৎকার শুরু করেন। পরে নিরাপত্তারক্ষীরা ধাওয়া দিলে চোর আতঙ্কিত হয়ে তৃতীয় ব্লকের দ্বিতীয় তলা থেকে লাফিয়ে নিচে নেমে যায়। পরবর্তীতে হলের পেছনের সীমানাপ্রাচীর টপকে সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে পালানোর সময় চুরি করা বিভিন্ন জিনিসপত্র ফেলে রেখে যায়।

    এ বিষয়ে হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, “হলের দ্বিতীয় তলা ফাঁকা থাকায় সেখানে যে কেউ সহজেই উঠতে পারে। এছাড়া হলে আটটি ব্লক থাকায় একজন ব্যক্তির পক্ষে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা কঠিন। দ্বিতীয় তলাটি খোলা থাকায় সেটি বন্ধ করার বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে এতে শিক্ষার্থীদের অসুবিধা হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এখনো তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।”

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “হল বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে এক ব্যক্তি দেয়াল টপকে হলে প্রবেশ করে এবং কয়েকটি পরিত্যক্ত হাঁড়ি-পাতিল, কড়াই ও কাপড় রাখার হ্যাঙ্গার চুরি করে। পরে নিয়োজিত নিরাপত্তারক্ষীরা ধাওয়া দিলে সে দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়। হলের নিরাপত্তার দায়িত্ব হল প্রশাসনের, আমরা সহায়তা করতে পারি। ইতোমধ্যে ওই হলে একজন অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

    উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২১ মে থেকে ২৩ দিনের দীর্ঘ ছুটি চলছে। এ উপলক্ষে গত ২৩ মে সকাল ১০টা থেকে আগামী ৭ জুন সকাল ১০টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

  • ঈদে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রীতিভোজের আয়োজন করছে কুবির বিজয়-২৪ হল

    ঈদে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রীতিভোজের আয়োজন করছে কুবির বিজয়-২৪ হল

    সানজানা তালুকদার, কুবি প্রতিনিধি 

    পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয় ২৪ হলে অবস্থানরত আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রীতিভোজের আয়োজন করেছে হল প্রশাসন।

    মঙ্গলবার (২৬ মে) হল প্রশাসন কর্তৃক প্রদান করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদের ছুটিতে হলে অবস্থানরত আবাসিক শিক্ষার্থীরা আজ (২৬ মে) সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে হলের নতুন অংশের গেটে রাখা নির্দিষ্ট খাতায় নিজেদের নাম, বিভাগ, কক্ষ নাম্বার এবং মোবাইল নাম্বার লিপিবদ্ধ করে রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে বিজয় ২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, ‘প্রতিবারের ন্যায় এ বছরও আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ঈদের দিন রাতে হলে বিশেষ খাবারের আয়োজন করবো। সনাতনী শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখেও আমাদের ব্যবস্থা আছে।’

    এ উদ্যোগের পেছনের কারণ জানতে চাইলে বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থী আছেন যারা অর্থনৈতিক কিংবা ব্যক্তিগত কারণে হলে অবস্থান করেন। তারা যেন ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় সেই চিন্তা মাথায় রেখেই আমাদের এই আয়োজন।’

    বাকি চারটি আবাসিক হলের (শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, কাজী নজরুল ইসলাম হল, নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী এবং সুনীতি শান্তি) প্রাধ্যক্ষ’র সাথে কথা বলে জানা যায়, বাকি হলগুলোতে এখন পর্যন্ত এরকম আয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ছুটিতে শিক্ষার্থীদের হলে অবস্থান না করার কারণেই এই আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।

    কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রাধ্যক্ষ মো. হারুন বলেন, ‘ঈদের বন্ধে কোনো শিক্ষার্থী এই হলে অবস্থান করেন না, থাকলে আমরা সিদ্ধান্ত নিতাম।’

    নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের হল প্রাধ্যক্ষ ড. সুমাইয়া আফরিন সানি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ঈদে কেউ হলে অবস্থান করেনি। আমরা খবর নিচ্ছি, কেউ হলে অবস্থান করবেন কি না। এখন পর্যন্ত এরকম কাউকে পাইনি, থাকলে খাবারের ব্যবস্থা করবো।’

    শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মোঃ জনি আলম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা হল প্রভোস্ট কমিটি থেকে এখন পর্যন্ত এরকম কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তাছাড়া ভ্যাকেশনে হলে কোনো শিক্ষার্থী থাকেন না।’

    উল্লেখ্য, ৫ই আগস্টের পর থেকে প্রতি ঈদেই শিক্ষার্থীদের জন্য প্রীতিভোজের আয়োজন করে আসছে বিজয়-২৪ হল প্রশাসন।