Desk: ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

  • মসজিদের ইমামকে মানেনা জামায়াতে ইসলাম ; ১০ দিন পর ওসির পদক্ষেপ

    মসজিদের ইমামকে মানেনা জামায়াতে ইসলাম ; ১০ দিন পর ওসির পদক্ষেপ

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সাড়াতলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছিল। এই দ্বন্দ্বের জেরে একই মসজিদের ভেতরে ও বারান্দায় পৃথকভাবে জামাতে নামাজ আদায়ের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে দীর্ঘ চার ঘণ্টার আলোচনার পর অবশেষে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে।

    ​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফতেপুর ইউনিয়নের সাড়াতলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বর্তমান ইমামকে নিয়ে মসজিদ কমিটির সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। মসজিদ কমিটিতে বিএনপি ও জামায়াত উভয় পক্ষের সমর্থক রয়েছেন। জামায়াত সমর্থকরা বর্তমান ইমামকে পরিবর্তনের দাবি জানালে বিএনপি সমর্থকরা তাকে বহাল রাখার পক্ষে শক্ত অবস্থান নেন।

    ​এই বিরোধের জেরে গত শনিবার থেকে দুপক্ষ একই সময়ে পৃথক জামাতে নামাজ আদায় শুরু করেন। বিএনপি সমর্থকরা বর্তমান ইমামের নেতৃত্বে মসজিদের ভেতরে এবং জামায়াত সমর্থকরা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে ইমাম করে মসজিদের বারান্দায় আলাদা জামাত পরিচালনা করেন। পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠায় যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেয়।

    ​পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান গত ১৬ জুলাই রাতে উভয় পক্ষের প্রতিনিধি ও বর্তমান ইমামকে থানায় ডেকে নেন। রাত ৮টা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর উভয় পক্ষ বর্তমান ইমামকেই সাড়াতলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বহাল রাখার বিষয়ে সম্মত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন মসজিদ কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত তিনিই ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    ​জামায়াতে ইসলামী সাড়াতলা ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম জানান, ইমামের কার্যক্রমে ঘাটতি থাকায় তারা পরিবর্তনের চিন্তা করেছিলেন। তবে বিএনপির আপত্তির মুখে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সুন্দরভাবে সমাধান হয়েছে।

    ​এদিকে শুক্রবার জুমার নামাজের আগে ওসি মেহেদী হাসান সশরীরে মসজিদে উপস্থিত হয়ে মুসল্লিদের উদ্দেশে কথা বলেন। তিনি সবাইকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, পারস্পরিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান।

    ​এ বিষয়ে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, মসজিদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতা কাম্য নয়। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।

  • কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিশ্চিন্তপুর শ্মশানঘাটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

    কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিশ্চিন্তপুর শ্মশানঘাটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

    পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং শ্মশানঘাটের সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিশ্চিন্তপুর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্মশানঘাটে এক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী জহির হাসান মোহন-এর উদ্যোগে ও তাঁর উপস্থিতিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শ্মশানঘাট প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।

    কর্মসূচিতে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ, শ্মশানঘাট পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত অতিথিরা এমন পরিবেশবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আয়োজককে ধন্যবাদ জানান।

    এ সময় বক্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে।

    আয়োজক জহির হাসান মোহন বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও কালীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

  • কালীগঞ্জে যৌথ অভিযানে দেড় লাখ টাকার অবৈধ চায়না দোয়াড়ি জাল জব্দ, জনসম্মুখে ধ্বংস

    কালীগঞ্জে যৌথ অভিযানে দেড় লাখ টাকার অবৈধ চায়না দোয়াড়ি জাল জব্দ, জনসম্মুখে ধ্বংস

    মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ চায়না দোয়াড়ি জাল জব্দ করা হয়েছে।

    সোমবার উপজেলার ফরাশপুর, হেলাফয়লা, মোস্তফাপুর ও চাপরাইল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাসান সাজ্জাদ। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।

    অভিযান চলাকালে বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না দোয়াড়ি জাল উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। উদ্ধারকৃত জাল পরবর্তীতে কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চায়না দোয়াড়ি জাল ব্যবহারের ফলে নদী-খাল ও জলাশয়ের ছোট মাছ, মাছের পোনা এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী নির্বিচারে নিধন হয়, যা মৎস্য সম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ কারণে সরকার নিষিদ্ধ এ ধরনের জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি সকলকে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

    সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাসান সাজ্জাদ বলেন, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতার পাশাপাশি আইন প্রয়োগও সমান গুরুত্বপূর্ণ। টেকসই মৎস্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

  • ঝিনাইদহে বিএনপি নেতার বাড়িতে মিলল সরকারি বরাদ্দের সার ও ধানবীজ, অভিযোগের পর কৃষকদের মাঝে বিতরণ

    ঝিনাইদহে বিএনপি নেতার বাড়িতে মিলল সরকারি বরাদ্দের সার ও ধানবীজ, অভিযোগের পর কৃষকদের মাঝে বিতরণ

    ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ মণ্ডলের বাড়িতে সরকারি বরাদ্দের ৮ বস্তা সার ও ২২ প্যাকেট ধানবীজ রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে স্থানীয়রা তার বাড়িতে এসব কৃষি উপকরণ দেখতে পান। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সেখান থেকেই কৃষকদের মাঝে সার ও ধানবীজ বিতরণ শুরু করা হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের সার ও ধানবীজ নির্ধারিত বিতরণস্থলে না এনে ব্যক্তিগত বাড়িতে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং কৃষি বিভাগকে অবহিত করেন।

    মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মালিথা বলেন, “ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির বাড়িতে সরকারি বরাদ্দের সার ও বীজ কীভাবে এলো, তা আমার জানা নেই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান থেকেই কৃষকদের মাঝে এসব বিতরণ হওয়ার কথা। খবর পেয়ে সকালে আমরা সেখানে যাই। পরে কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি এসে সার ও বীজ বিতরণ করেন। এর আগেও সরকারি কম্বল ও শাড়ি বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।”

    থানা কৃষক দলের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “আব্দুল্লাহ এর আগেও সরকারি বরাদ্দের বিভিন্ন উপকরণ গোপনে বাড়িতে এনে রাখতেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু বিতরণ করে বাকিগুলো বিক্রি করে দিতেন। এবার খবর পেয়ে সকালে আমরা গিয়ে সার ও ধানবীজ উদ্ধার করি। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা এসে কৃষকদের মাঝে সেগুলো বিতরণ করেন।”

    ভ্যানচালক জাহিদ হোসেন বলেন, “সোমবার আমাকে শৈলকূপা উপজেলা থেকে সার আনতে নেওয়া হয়। সেখানে লিটন নামে এক ব্যক্তি একটি কার্ড দিয়ে ৮ বস্তা সার, ২২ প্যাকেট ধানবীজ ও কিছু গাছের চারা তুলে দেন। পরে সেগুলো আব্দুল্লাহ মণ্ডলের বাড়িতে পৌঁছে দিই।”

    অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ মণ্ডল বলেন, “সোমবার উপজেলা থেকে ৮ বস্তা সার ও ২২ প্যাকেট ধানবীজ এনে বাড়িতে রেখেছিলাম। বৃষ্টির কারণে সেদিন বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। আজ সকালে ব্লক সুপারভাইজার উপস্থিত হওয়ার পর তাঁর তত্ত্বাবধানে কৃষকদের মাঝে বিতরণ শুরু করেছি। আশা করি আজকের মধ্যে বিতরণ হয়ে যাবে। ”

    মির্জাপুর ইউনিয়নের ব্লক সুপারভাইজার সাকিব হোসেন বলেন, “সকালে খবর পাই রামচন্দ্রপুর গ্রামে আব্দুল্লাহ মণ্ডলের বাড়িতে সরকারি সার ও ধানবীজ রয়েছে। সকাল ১১টার দিকে সেখানে গিয়ে সরকারি বরাদ্দের সার ও ধানবীজ তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।”

    এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি কৃষি উপকরণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে চলা নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে সরকারি বরাদ্দের সার, বীজসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ ব্যক্তিগত বাড়িতে না রেখে নির্ধারিত সরকারি স্থানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিতরণ করা হোক।

    তবে সরকারি বরাদ্দের সার ও ধানবীজ ব্যক্তিগত বাড়িতে কেন রাখা হয়েছিল এবং এতে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

  • শৈলকুপায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে প্রাণ গেল ভ্যানচালকের

    শৈলকুপায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে প্রাণ গেল ভ্যানচালকের

    ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত ভ্যানচালক একেন আলী মোল্লা (৫৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সামাজিক আধিপত্য বিস্তার ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    সোমবার (২৯ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত একেন আলী মোল্লা বগুড়া গ্রামের আদালত মোল্লার ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বগুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর আওয়াল এবং সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। গত শনিবার (২৭ জুন) সকালে প্রতিপক্ষের হামলায় একেন আলী মোল্লাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার স্বজনরা। একই ঘটনায় অন্তত পাঁচটি বাড়িঘর ভাঙচুরেরও অভিযোগ রয়েছে।

    আহত একেনকে প্রথমে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হলেও পথে তার মৃত্যু হয়।

    তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই বগুড়া গ্রামে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন জানান, সামাজিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তিনি আরও জানান, একেন আলী মোল্লা আহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।

  • কালীগঞ্জে সুবর্ণসারা থেকে দিনদুপুরে সাংবাদিকের মোটরসাইকেল চুরি: থানায় জিডি

    কালীগঞ্জে সুবর্ণসারা থেকে দিনদুপুরে সাংবাদিকের মোটরসাইকেল চুরি: থানায় জিডি

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুবর্ণসারা গ্রামে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় মোঃ জসিম হোসেন (৪৮) নামের এক ব্যক্তির ব্যবহৃত এফ জেট ভার্সন-টু (FZ Version 2) মোটরসাইকেলটি গায়েব হয়ে গেছে। আজ ২২ জুন (সোমবার) বিকেলে সুবর্ণসারা গ্রামস্থ জনৈক রিপন মিয়ার বসত বাড়ির উঠান থেকে গাড়িটি নিখোঁজ হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করেছেন, যার নম্বর ১১৬৯।

    থানায় দায়েরকৃত জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেল অনুমান ৪:১০ ঘটিকার সময় শ্রীরামপুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ জসিম হোসেন তাঁর ‘ঝিনাইদহ-ল-১২-১২-৮৫’ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের শখের মোটরসাইকেলটি সুবর্ণসারা গ্রামের রিপন মিয়ার বাড়িতে রেখে ব্যক্তিগত কাজে যান। পরবর্তীতে কাজ শেষে বিকেল ৫:৩০ ঘটিকার সময় ফিরে এসে দেখেন নির্দিষ্ট স্থানে তাঁর মোটরসাইকেলটি আর নেই। মাত্র ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের ব্যবধানে জনাকীর্ণ এলাকা থেকে এভাবে মোটরসাইকেলটি উধাও হয়ে যাওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর পর স্থানীয় বিভিন্ন স্থানে ও সম্ভাব্য সকল রুটে খোঁজাখুঁজি করেও গাড়িটির কোনো সন্ধান মেলেনি।

    ​নিখোঁজ হওয়া মোটরসাইকেলটির ইঞ্জিন নম্বর: G3L5E0161000 এবং চ্যাসিস নম্বর: RG641009615।

    মোটরসাইকেলটি হারিয়ে যাওয়ার পর তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করে মালিক মোঃ জসিম হোসেন বলেন “মোটরসাইকেলটি শুধু আমার যাতায়াতের বাহন ছিল না, এটি আমার রুটি-রুজির সাথে জড়িত দৈনন্দিন কাজের অন্যতম প্রধান সহযোগী ছিল। দিনের আলোতে একটা বসত বাড়ির ভেতর থেকে এভাবে চোখের পলকে গাড়িটি চুরি হয়ে যাবে, তা ভাবতেও পারছি না। আমি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়ভাবে সব জায়গায় সন্ধান চালিয়েছি। কিন্তু কোথাও না পেয়ে আইনের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা রেখে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। আমি প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, যেন দ্রুততম সময়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে আমার মোটরসাইকেলটি উদ্ধার এবং এই চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা হয়।”

    বিষয়টি নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জেল্লাল হোসেন জানান, ভুক্তভোগীর আবেদনের প্রেক্ষিতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১১৬৯) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ও হারিয়ে যাওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের জন্য ডিউটি অফিসার ও এসআই (নিরস্ত্র) আ ফ ম মনিরুজ্জামানকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ইতিমিধ্যেই মাঠে নেমেছে এবং আশপাশের এলাকায় তল্লাশি শুরু করেছে।