ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সাড়াতলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছিল। এই দ্বন্দ্বের জেরে একই মসজিদের ভেতরে ও বারান্দায় পৃথকভাবে জামাতে নামাজ আদায়ের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে দীর্ঘ চার ঘণ্টার আলোচনার পর অবশেষে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফতেপুর ইউনিয়নের সাড়াতলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বর্তমান ইমামকে নিয়ে মসজিদ কমিটির সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। মসজিদ কমিটিতে বিএনপি ও জামায়াত উভয় পক্ষের সমর্থক রয়েছেন। জামায়াত সমর্থকরা বর্তমান ইমামকে পরিবর্তনের দাবি জানালে বিএনপি সমর্থকরা তাকে বহাল রাখার পক্ষে শক্ত অবস্থান নেন।
এই বিরোধের জেরে গত শনিবার থেকে দুপক্ষ একই সময়ে পৃথক জামাতে নামাজ আদায় শুরু করেন। বিএনপি সমর্থকরা বর্তমান ইমামের নেতৃত্বে মসজিদের ভেতরে এবং জামায়াত সমর্থকরা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে ইমাম করে মসজিদের বারান্দায় আলাদা জামাত পরিচালনা করেন। পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠায় যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেয়।
পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান গত ১৬ জুলাই রাতে উভয় পক্ষের প্রতিনিধি ও বর্তমান ইমামকে থানায় ডেকে নেন। রাত ৮টা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর উভয় পক্ষ বর্তমান ইমামকেই সাড়াতলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বহাল রাখার বিষয়ে সম্মত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন মসজিদ কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত তিনিই ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন।
জামায়াতে ইসলামী সাড়াতলা ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম জানান, ইমামের কার্যক্রমে ঘাটতি থাকায় তারা পরিবর্তনের চিন্তা করেছিলেন। তবে বিএনপির আপত্তির মুখে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সুন্দরভাবে সমাধান হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার জুমার নামাজের আগে ওসি মেহেদী হাসান সশরীরে মসজিদে উপস্থিত হয়ে মুসল্লিদের উদ্দেশে কথা বলেন। তিনি সবাইকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, পারস্পরিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, মসজিদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতা কাম্য নয়। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।

