রাঙ্গামাটিতে পানি নেমে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে জেলার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। এরমধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৭ হাজার মানুষ ও বিলাইছড়ি উপজেলার পানিবন্দী মানুষ সহ নতুন করে প্লাবিত জুরাছড়ি এবং বরকল উপজেলার বেশকিছু গ্রামের লোকজন রয়েছে। প্লাবিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থরা কমবেশি ১২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।
জেলায় সরকার ঘোষিত ২১২ টি আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে ৫০ টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৩৬৩৭ জন আশ্রয়ে রয়েছে। এর মধ্যে পানি বন্দি ১০৪৪ পরিবার। জেলার ১৩১ স্থানে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। দূর্গতদের আশ্রয়দানে জেলা প্রশাসনের লেজেগোবরে অবস্থা হয়ে গেছে। যে কারণে পানিবন্দী ও পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষ আশ্রয় কেন্দ্র মুখো হচ্ছে না। জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায়, বিলাইছড়ি উপজেলায় ও রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান এলাকায় পাহাড়ি ঢলে নিখোঁজ ৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দূর্ভোগ কমেনি।
রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি মহাসড়ক থেকে পানি সরে যাওয়ায় রাঙ্গামাটির সাথে খাগড়াছড়ির যোগাযোগ এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। বান্দরবান জেলার সাথেও বিকল্প সড়কে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ চালু হয়েছে।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট ৫ টি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট। বর্তমানে ৭২৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর ৯৮ এমএসএল এ ঠেকেছে। পানির স্তর ১০৯ এমএসএল পৌঁছালে পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প বাঁধের জন্য ঝুঁকি তৈরি হবে।
রোববার(১২ জুলাই) ২০২ মেগাওয়াট থেকে ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। পানির ১০৮ এমএসএল পৌঁছালে ১৬ টি স্পীলওয়ে খুলে দেয়া হবে বলে যোগ করেন এ কর্মকর্তা।
রাঙ্গামাটির বিখ্যাত পর্যটন নগরী সাজেক ভ্যালীতে আটকে পড়া ৫৬৬ জন পর্যটককে সেনা বাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সড়কের ওপর থেকে পানি সরে যেতেই মেরামত কাজ শুরু করেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলেও সাজেকের পর্যটন এলাকা পর্যটকদের ভ্রমণে এখনো নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে।
রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রায় ৩ হাজার ৪৯৫ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।এরমধ্যে ধানি জমি কমবেশি ৭১৭হেক্টর রয়েছে।
রাঙ্গামাটি মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, জেলার ২০টি ইউনিয়নের ৭৬টি পুকুর-খামারের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে ১কোটি ৭২লাখ টাকার। এর সিংহ ভাগ ক্ষতি হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়।
রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, পাহাড় ধ্বসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং আঞ্চলিক অনেক সড়কের ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধস হয়েছে। সড়কগুলো সংস্কারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।



