Desk: মুহাম্মদ ইলিয়াস পার্বত্য ব্যুরোচীফ

  • রাঙ্গামাটিতে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও পানিবন্দী এখনো ১৫ হাজার মানুষ ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১২ কোটি টাকা

    রাঙ্গামাটিতে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও পানিবন্দী এখনো ১৫ হাজার মানুষ ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১২ কোটি টাকা

    রাঙ্গামাটিতে পানি নেমে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে জেলার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। এরমধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৭ হাজার মানুষ ও বিলাইছড়ি উপজেলার পানিবন্দী মানুষ সহ নতুন করে প্লাবিত জুরাছড়ি এবং বরকল উপজেলার বেশকিছু গ্রামের লোকজন রয়েছে। প্লাবিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থরা কমবেশি ১২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।

    জেলায় সরকার ঘোষিত ২১২ টি আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে ৫০ টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৩৬৩৭ জন আশ্রয়ে রয়েছে। এর মধ্যে পানি বন্দি ১০৪৪ পরিবার। জেলার ১৩১ স্থানে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। দূর্গতদের আশ্রয়দানে জেলা প্রশাসনের লেজেগোবরে অবস্থা হয়ে গেছে। যে কারণে পানিবন্দী ও পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষ আশ্রয় কেন্দ্র মুখো হচ্ছে না। জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায়, বিলাইছড়ি উপজেলায় ও রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান এলাকায় পাহাড়ি ঢলে নিখোঁজ ৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দূর্ভোগ কমেনি।

    রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি মহাসড়ক থেকে পানি সরে যাওয়ায় রাঙ্গামাটির সাথে খাগড়াছড়ির যোগাযোগ এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। বান্দরবান জেলার সাথেও বিকল্প সড়কে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ চালু হয়েছে।

    কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট ৫ টি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট। বর্তমানে ৭২৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর ৯৮ এমএসএল এ ঠেকেছে। পানির স্তর ১০৯ এমএসএল পৌঁছালে পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প বাঁধের জন্য ঝুঁকি তৈরি হবে।

    রোববার(১২ জুলাই) ২০২ মেগাওয়াট থেকে ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। পানির ১০৮ এমএসএল পৌঁছালে ১৬ টি স্পীলওয়ে খুলে দেয়া হবে বলে যোগ করেন এ কর্মকর্তা।

    রাঙ্গামাটির বিখ্যাত পর্যটন নগরী সাজেক ভ্যালীতে আটকে পড়া ৫৬৬ জন পর্যটককে সেনা বাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সড়কের ওপর থেকে পানি সরে যেতেই মেরামত কাজ শুরু করেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলেও সাজেকের পর্যটন এলাকা পর্যটকদের ভ্রমণে এখনো নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে।

    রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রায় ৩ হাজার ৪৯৫ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।এরমধ্যে ধানি জমি কমবেশি ৭১৭হেক্টর রয়েছে।

    রাঙ্গামাটি মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, জেলার ২০টি ইউনিয়নের ৭৬টি পুকুর-খামারের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে ১কোটি ৭২লাখ টাকার। এর সিংহ ভাগ ক্ষতি হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়।

    রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, পাহাড় ধ্বসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং আঞ্চলিক অনেক সড়কের ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধস হয়েছে। সড়কগুলো সংস্কারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

  • ১২৮ স্থানে পাহাড় ধ্বস; সেতু ভেঙে রাঙ্গামাটি-বান্দরবান যোগাযোগ বন্ধ

    ১২৮ স্থানে পাহাড় ধ্বস; সেতু ভেঙে রাঙ্গামাটি-বান্দরবান যোগাযোগ বন্ধ

    রাঙ্গামাটিতে টানা ৭ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার ১২৮টি স্থানে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও রাঙ্গামাটি-বান্দবান সড়কে সেতু ভেঙে দু’জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    জেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ( ১১ জুলাই) পর্যন্ত জেলার অন্তত ১২৮ জায়গায় ছোট-বড় পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে।১২৮ পাহাড় ধ্বসের ঘটনার অন্যতম হলো- “কাপ্তাই উপজেলায় ১৫টি, বাঘাইছড়িতে ৩টি, কাউখালীতে ৩০টি, রাঙামাটি সদরে ১১টি, নানিয়ারচরে ২টি এবং বিলাইছড়িতে ৩৭টি। সহসা ভারি বর্ষণ না থামলে, ৯৮টি স্থানের মতো আরও অনেক স্থানে ভয়াবহ পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে। ব্যাপক পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় জেলার বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং কয়েকটি এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন জেলার ১০ উপজেলায় ২১২টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৩৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে মোট ৪ হাজার ২৬৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রিতদের জন্য তিন বেলা খাবার সহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে জেলা প্রশাসন।

    আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে পাহাড় ধ্বস, জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন।

    জনগণকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার এবং অপ্রয়োজনে পাহাড়ি ঢলের মধ্যে চলাচল না করা সংক্রান্ত প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জরুরি পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    এদিকে উজানের পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে বান্দরবান–রাঙ্গামাটি সড়কের ব্রিজঘাট সেতুর একটি বড় অংশ ধসে পড়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জরুরি রোগী পরিবহন, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দূরপাল্লার যানবাহন বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হলেও অনেক এলাকায় বিকল্প সড়ক না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এই এলাকায় পাহাড়ি ঢলের কারণে একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও স্থায়ী প্রতিরোধমূলক কোন ব্যবস্থা না থাকায়, মানুষের দুর্ভোগ কমছে না। তারা দ্রুত বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সেতু সংস্কার বা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানায়।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজস্থলী প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক মো. সুমন বলেন, রাতভর বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ করেই বাঁধ ভেঙে যায়। সকালে উঠে দেখি চারদিকে শুধু পানি। ঘরবাড়ি, ফসল সবই ক্ষতির মুখে পড়েছে। রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ী ঢলের তীব্র স্রোতে সৃষ্ট বন্যায় রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলাধীন ফারুয়া বাজার ডুবে গেছে। এতে কমবেশি দেড়শ দোকানপাট ও ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে।

    বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, আমি নিজেও পরিবার নিয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। সেতুটির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।

    ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস দুধপুকুরিয়া এলাকার রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ধসে যাওয়ায় ওই এলাকাসহ রাঙ্গামাটি রাজস্থলী উপজেলার বেশ কিছু এলাক প্লাবিত হয়ে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

    জেলার আশ্রয় কেন্দ্র সমূহে দুর্গত মানুষ অবস্থান করছেন। তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও দূর্গতদের ত্রাণ ও খাদ্য পৌঁছে দিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সাবেক মন্ত্রী এডভোকেট দীপেন দেওয়ান এমপি বরকল উপজেলা সহ একাধিক স্থানের আশ্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন। পরিস্থিতি
    সার্বিক তত্ত্বাবধান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমন্বিত ভাবে কাজ করছে।

    রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, বান্দরবান–রাঙামাটি সড়কের ব্রিজঘাট সেতুর এক পাশের বড় অংশ ধসে পড়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে বলে জানান। ঘটনাস্থল বান্দরবান সড়ক বিভাগের নিয়ন্ত্রণে। দ্রুত সময়ে বেইলি ব্রিজ স্থাপনের বিকল্প নেই বলে যোগ করেন এ কর্মকর্তা।

    রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. তারেক সেকান্দার বলেন, পুলিশ বাহিনীও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে মাঠে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

    রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়া বলেন, অনেক জায়গায় ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটছে।প্রাণহানির ঝুঁকি এড়াতে সকলকে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার আহ্বান জানান এ কর্মকর্তা।

  • রাঙ্গামাটিতে ভারী বর্ষণে ৩৭ পাহাড় ধ্বস, আশ্রয় কেন্দ্রে ৪২১৬৬ জন, নিখোঁজ ও নিহত-১

    রাঙ্গামাটিতে ভারী বর্ষণে ৩৭ পাহাড় ধ্বস, আশ্রয় কেন্দ্রে ৪২১৬৬ জন, নিখোঁজ ও নিহত-১

    রাঙ্গামাটি ৫ দিনের টানা ভারী বর্ষণে ৩৭ স্থানে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবার পাশাপাশি সাজেকে ৫ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছে। ঝুঁকি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বসবাসকারী ৪২৬৬ জন আশ্রয় নিয়েছে আশ্রয় কেন্দ্রে। পুলিশ হ্রদ থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে।

    জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাঙ্গামাটি জেলায় ২১২ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৪১৬৬ জন নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। জেলা প্রশাসনের সর্ব শেষ তথ্য মতে রাঙামাটিতে ৩৭ টি স্থানে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে। ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে আশ্রয় গ্রহনের আহবান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।

    রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের একাধিক স্থানে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে।যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কোথাও সড়কের ওপর ধ্বসে পড়া মাটি সরিয়ে নিচ্ছে, সড়ক থেকে মাটি সরে গেলে সেখানে বল্লি লাগিয়ে মাটিভর্তি বস্তা স্থাপন অথবা ত্রিপল বিছিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক রক্ষার চেষ্টা করছে।

    রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল’র সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য মতে বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) বিকেলে বাঘাইছড়ি–মারিশ্যা–দিঘীনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় ও দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাজেকের সব পর্যটন স্পষ্ট গত মঙ্গলবার থেকে এখনো পর্যন্ত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। সাজেকে আটকা রয়েছে ৫ শতাধিক পর্যটক। যাদের দীর্ঘিনালা সাজেক সড়কে পানি কমলে নিজ নিজ গন্তব্যে পাঠানো হবে।

    এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাঙ্গামাটি তিন উপজেলায় ৪ হাজার ১৬৬ জন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে । যার মধ্যে বাঘাইছড়িতে ৩ হাজারের অধিক মানুষ পানিবন্ধী হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছেন। উপজেলায় ১১টি গ্রামের ৬২০ পরিবার পানি বন্ধী হয়ে পরেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কাপ্তাই হ্রদ থেকে পুলিশ সদর উপজেলাধীন মগবান এলাকার অলা চাকমার পু্ত্র দলমণি চাকমার লাশ উদ্ধার করেছে। তিনি গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কাপ্তাই হ্রদে পারাপারের সময় নিখোঁজ হন। বিলাইছড়িতে আরও একজন ভাসমান ব্যবসায়ী নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২ দিনেও এই ব্যবসায়ীর খোঁজ মেলেনি।

    এদিকে টানা ৫ দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যহত থাকায় দ্বিতীয় দিনের মতো আজকেও বন্ধ রাখা হয়েছে জেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাঙ্গামাটি জেলার ১০ উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিবেচনায় বৃহস্পতিবার ( ৯ জুলাই) সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। বুধবার (৮ জুলাই) থেকে বন্ধ রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয় সমুহের পাঠদান কার্যক্রম। বুধবারের এইচএসসি/আলিম/এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা ২০২৬ স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় ১৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

    পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী এডভোকেট দীপেন দেওয়ান এমপি বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। এসময় তিনি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিতদের সাথে কথা বলেন। তিনি জানান দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার সকল ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। ইতিমধ্যে তিন পার্বত্য জেলার জন্য ১৩শত মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি আমাদের সকলকে কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি।