পুলক সরকার
তীব্র গরম ও জ্বালানি সংকটের কারণে কুষ্টিয়ার খোকসায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টাই লোডশেডিং হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম থাকায় এবং পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহ অপর্যাপ্ত হওয়ায় এই দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে, তাও বলতে পারছে না পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
দেশজুড়ে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা ২৮,০০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও, জ্বালানি সংকট ও বকেয়া বিলের কারণে প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস বসে আছে। এর ফলে দিনের বেলায় প্রায় ৩,০০০ মেগাওয়াটেরও বেশি ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
বিদ্যুৎ কখন আসবে বা যাবে, তার কোনো নির্দিষ্টতা না থাকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি সেচ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। মাঝেমধ্যেই বিদ্যুৎ এলেও তা মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট স্থায়ী হয়ে আবার চলে যাচ্ছে।
জানিপুর ইউনিয়নের একতারপুর এলাকার ভিক্টর বিশ্বাস বলেন, একে তো প্রচণ্ড গরম, তার ওপর ১২থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং।
চরবিহাড়িয়া গ্রামের পিংকি মন্ডল বলেন, সারাদিনে কতবার বিদ্যুৎ যায়, তার হিসাব নেই। একবার বিদ্যুৎ গেলে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পরে আসে। তীব্র গরমে আর লোডশেডিংয়ের কারণে ছোট ছোট বাচ্চারা ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না।
আটোচালক মিনহাজ শেখ জানান, এই অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। গত রাতে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না, ফলে ব্যাটারি ঠিকমতো চার্জ হচ্ছে না। চার্জ না থাকায় ঠিকমতো ভাড়াও মারতে পারছি না। সংসার চালানোই মুশকিল হয়ে গেছে।
খোকসা সাব জোনাল অফিসের এজিএম মো: মনিরুল ইসলাম জানান, দুপুরে চাহিদা ছিল ১৪ মেগাওয়াট, সেখানে পাওয়া গেছে ৪ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় ১০ মেগাওয়াট কম পাওয়ায় লোডশেডিং বেশি হচ্ছে।

