বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পিএইচপি মোড় থেকে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের দোহাই দিয়ে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়ক উন্নয়ন কাজের নামে বিশাল আকৃতির পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে, যার ফলে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত অন্তত অর্ধশত পরিবার চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব মাটি ট্রাক ও ডাম্পারযোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটতে পারে, যা তাদের ঘরবাড়ি ও জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড় কাটার কারণে অনেক স্থানে মাটির স্বাভাবিক গঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় ফাটল দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা দ্রুত পাহাড় কাটা বন্ধ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, নির্বিচারে পাহাড় কাটা শুধু পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে না, বরং ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা অবৈধ পাহাড় কাটা ও মাটি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সড়ক সংস্কারের নামে যদি পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হয়ে থাকে, তাহলে এর অনুমোদন কারা দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নজরদারি কোথায়? বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

