গাংনী পৌরসভায় নাগরিক সনদ ফি নিয়ে প্রশ্ন অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ, দেওয়া হচ্ছে না রিসিভ

খ শ্রেণিভুক্ত গাংনী পৌরসভায় নাগরিক সনদপত্র নিতে গিয়ে হাজার হাজার বাসিন্দাকে নির্ধারিত ফিসের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতি সনদের জন্য ১০০টাকা আদায় করা হলেও এর বিপরীতে কোনো রিসিভ বা মানি রিসিট দেয়া হয় না।

পৌরসভা এলাকায় প্রতিদিনই জন্মনিবন্ধন, ভর্তি, চাকরি, পাসপোর্টসহ বিভিন্ন কাজে নাগরিক সনদের প্রয়োজন হয়। সেবা গ্রহীতাদের ভাষ্য, নাগরিক সনদ পৌরসভা থেকে অনলাইন থেকে বের করা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৬ থেকে ২০ টাকার মতো হলেও পৌরসভা থেকে ১০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। বাড়তি টাকাটা কোথায় জমা হচ্ছে সে বিষয়ে কেউ কিছু জানেন না।

তারা আরো বলেন,পৌরসভার উদ্যোক্তা রাশেদুজ্জামান তিনি এই দায়িত্বে আছেন এবং সেই টাকাগুলো নিয়ে থাকেন বিনিময়ে দেওয়া হয় না কোন রিসিভ। ভুক্তভোগীরা বলেন, “সনদ নিতে গেলে ১০০ টাকা ছাড়া কথা বলে না। রিসিভ চাইলে দেয় না। গরিব মানুষ, বাধ্য হয়ে দিয়ে আসি।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজনও একই অভিযোগ করেন।

পৌরসভার ০ ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শিশির পারভেজ বলেন,বেশ অনেকদিন যাবত নাগরিক সনদপত্রে নিতে গেলে ১০০ টাকা করে নেওয়া হয় দেয়া হয় না কোন রিসিভ। তিনি বলেন,পৌরসভার উন্নয়নে যদি আমাদের আরো বেশি টাকা দেওয়ার প্রয়োজন হয় আমরা সেটাও দিতে রাজি তবে আমাদেরকে রিসিভ দিতে হবে, তা না হলে উক্ত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

পৌরসভাটি খ শ্রেণির হওয়ায় এখানে জনসংখ্যাও বেশি। প্রতিদিন গড়ে অসংখ্য সনদ ইস্যু হলে বাড়তি আদায়ের পরিমাণটা নেহাত কম নয়। তবে এই বাড়তি অর্থ কোন খাতে যাচ্ছে বা কোন কর্তৃপক্ষ তদারকি করছে, সে বিষয়ে পৌরসভার পক্ষ থেকে এখনো কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকার নির্ধারিত ফি অনুযায়ী রিসিভের মাধ্যমে টাকা নিলে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং পৌরসভার আয়ও সঠিক হিসাবের মধ্যে থাকবে।

গত সোমবার গাংনী পৌরসভার ২০২৬/২৭ বছরের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণার করা হয়েছে। পৌরসভার হলরুমে এই বাজেট অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন সেখানেও নাগরিক সনদপত্রে ১০০ টাকা ফ্রি নিলেও রিসিভ না দেয়ার টাকার স্বচ্ছতার বিষয়টি উঠে আসলে সঠিক কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার উদ্যোক্তা রাশেদুজ্জামান বলেন, ১০০ টাকা করে নেওয়া হয় না আমরা ৫০ টাকা করে নিই এবং খরচ হয় ৩০ টাকা থেকে ৩২ টাকা বাকি যে টাকাগুলো থাকে সেগুলো পৌর কর্তৃপক্ষ যানে,এবং পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার শামীম স্যার তার কাছে টাকাগুলো থাকে তিনি সব জানেন। আমি গাংনী পৌরসভার কোন কর্তৃপক্ষ না এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে ভালো হয়।

গাংনী পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার শামীম আহমেদ সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,পৌর কর্তৃপক্ষ নাগরিক সনদের জন্য কোন টাকা পয়সা গ্রহণ করেন না,এ বিষয়ে আমি কোন কিছু জানি না,আমার নাম যিনি বলেছেন যে আমি বিষয়গুলো জানি তিনি মিথ্যা বলছেন।

পৌর প্রশাসক ও গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, এ বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে, সরকারি নিয়ম ও নীতিমালার বাইরে কোন কিছু করার সুযোগ নেই,যদি কেউ অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকেন এবং সেই টাকার কোন রিসিভ না দেন এটা অন্যায়।এমনটি হয়ে থাকলে আমরা অবশ্যই সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এ ঘটনায় মেহেরপুর জেলা প্রশাসক,শিল্পী রানী রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,এরকম কোন অভিযোগ বা ঘটনা আমার জানা নেই,তবে যদি এরকম হয়ে থাকে অবশ্যই সেটা অন্যায়।

আরও পড়ুন