গাংনীর ধানখোলা গ্রামের মোহনের ছেলে আব্দুল্লাহ। ২০২১ সালে কৃষি প্রণোদনার কথা বলে তাকে কিছু টাকা প্রদান করেন গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী আশরাফুল ও কৃষি ব্যাংক গাংনী শাখার সাবেক ফিল্ডম্যান কালাম। এ টাকা ফেরত দেয়া লাগবেনা বলেও জানানো হয়। এর আগে তার কাছ থেকে নেয়া হয় জাতীয় পরিচয়পত্র। মহা খুশিতে ওই টাকা থেকে কয়েক হাজার টাকা নাস্তা বাবদ পরিশোধও করা হয়।
২০২৬ সালে হঠাত কৃষি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের নোটিশ দেখে চমকে উঠেন তিনি। তার নামে প্রেরিত নোটিশে এক লাখ ২৮ হাজার ৪৫২ টাকা পরিশোধের জন্য তাগিদ দেয়া হয়। ব্যাংকে গিয়ে দেখা গেছে তার নামে ব্যাংক থেকে তোলা হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। ঋণ না নিয়েই ঋণ পরিশোধের বিষয় তার কাছে এখন গোদের উপর বিষফোড়া। একই অবস্থা গ্রামের অন্তত ২৬ জনের। ঋণ না নিয়েও সকলেই ঋণ খেলাপির তালিকায়।
গ্রামের ছাইরদ্দীন জানান, ওই গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী আশরাফুল ইসলাম ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক গাংনী শাখার আবুল কালাম কৃষি ব্যাংক থেকে প্রণোদনা দেয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি নিয়ে ৫৫ হাজার টাকা দেন। এ টাকা আর ফেরত দেয়া লাগবে না বলে জানানো হয়। কোন জমির কাগজ বা স্ট্যাম্প কিছুই নেয়া হয়নি। অথচ কয়েকদিন আগে এক লাখ ৬২ হাজার টাকা পরিশোধের নোটিশ দেয়া হয়েছে। ব্যাংক থেকে তার নামের অনুকুলে তোলা হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। নোটিশ পাবার পর তিনি এখন কিংকর্তব্য বিমূঢ়।
কথিত ঋণখেলাপি আব্দুল্লাহর পরিবার ও ছাইরদ্দীন জানান, তারা পেশায় দিনমজুর। ঋণ কিভাবে নিতে হয় তাও জানেন না। প্রণোদনা দেয়ার কথা বলে সল্প সংখ্যাক টাকা দিয়ে এখন তাদেরকে গ্যাড়া কলে ফেলেছেন। ঋণ নিতে হলে জমির কাগজ জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশ এবং ফিল্ডম্যানের সরেজমিন প্রতিবেদন লাগে। অথচ কোন কিছু না করেই মোটা অংকের ঋণ উত্তোলন করেছেন দপ্তরী আশরাফুল ও সাবেক ফিল্ডম্যান কালাম। এখন এ টাকা কিভাবে পরিশোধ করতে হবে তার কোন কুল কিনারা পাচ্ছেন না ঋণখেলাপিরা।
খানখোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরী আশরাফুল পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করে জানান, তিনি এ ঘটনার সাথে কোন মতেই জড়িত নন। তিনি নিজের নামে ঋণের জন্য আবেদন করে তা উত্তোলন করেন। তিনি আরো জানান, নিজের মানসিক ভারসাম্যহীন মা এবং গ্রামের এক পাগলের নামে ঋণ নিয়ে তা নিজেই পরিশোধ করেছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা কিভাবে ঋণ নিয়েছেন এবং ব্যাংক কর্মকর্তাগন কিভাবে ঋণ দিয়েছেন সেটা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিষয়।
সাবেক ফিল্ডম্যান আবুল কালাম জানান, ঋণ গ্রহীতাদের কাগজপত্রে কিছুটা ত্রুটি আছে তবে ঋণ গ্রহীতাদের ঠিকানা সঠিক থাকলে কাগজে তেমন সমস্যা হয় না। কাগজপত্র তৎকালীন তহশীলদার মরহুম জাকির হোসেন তৈরী করে দিয়েছিলেন। এ নিয়ে আশরাফুলের সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছিল। তাছাড়া আশরাফুল মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের নামেও ঋণ নিয়েছিলেন। তিনি আরো জানান, ঋণের বিষয়টি ক্যাশিয়ার বুঝবেন। কারণ ঋনের টাকা তিনিই দিয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের গাংনী শাখার তৎকালীন ম্যানেজার ও বর্তমান কৃষি ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের পরিপালন বিভাগের উর্ধতন মূখ্য কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, এটা অনেক আগের ঘটনা। বিষয়টি মনে পড়ছে না আবার পরক্ষণে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

