Category: সারাদেশ

  • গর্জনিয়া-বাইশারীর আর্তনাদ: একটি সেতুই বদলে দিতে পারে লাখো মানুষের জীবন

    গর্জনিয়া-বাইশারীর আর্তনাদ: একটি সেতুই বদলে দিতে পারে লাখো মানুষের জীবন

    এস.এম. হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার

    মাত্র একটি সেতুর অভাবে আজও উন্নয়নের মূলধারা থেকে পিছিয়ে রয়েছে দুই জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়ন এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের লাখো মানুষের জীবনে যেন দুর্ভোগের আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ছোট গর্জই খাল।

    প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে, শিক্ষার উদ্দেশ্যে কিংবা জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য এই পথে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে বছরের পর বছর ধরে তাদের কষ্ট যেন দেখার কেউ নেই।

    স্থানীয়দের দাবি, উত্তর বড়বিল-দক্ষিণ বাইশারী সংযোগ সেতুটি নির্মাণ করা হলে নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ এবং গর্জনিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৭০ হাজার মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে। সহজ হবে যোগাযোগ, প্রসার ঘটবে ব্যবসা-বাণিজ্যের, আর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট গর্জই খালের দুই তীরে বসবাসরত মানুষের চোখে-মুখে একটাই প্রশ্ন “আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে একটি সেতুর জন্য?”

    স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে এক বেদনাময় ইতিহাস। তাদের ভাষ্যমতে, ১৯৮৭-৮৮ সালে তৎকালীন বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হাকিমের প্রচেষ্টায় দুই জেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি ধসে পড়ে খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর কেটে গেছে প্রায় চার দশক। পরিবর্তিত হয়েছে সরকার, হয়েছে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি; কিন্তু এই জনপদের মানুষের ভাগ্যে আর জোটেনি একটি নতুন সেতু।

    বর্ষা মৌসুম এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারে পৌঁছাতে বাড়তি খরচ গুনতে হয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতি।

    স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “একটি সেতু শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি মানুষের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতীক। একটি সেতু নির্মিত হলে দুই জেলার মানুষের মধ্যে নতুন সেতুবন্ধন তৈরি হবে, সৃষ্টি হবে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।”

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছালেও গর্জনিয়া ও বাইশারীর এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল এখনো রয়ে গেছে অবহেলার অন্ধকারে। অথচ একটি সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে সামান্য অর্থ, যার সুফল ভোগ করবে কয়েক প্রজন্ম।

    তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি এলাকাবাসীর জোর দাবি উত্তর বড়বিলের ছোট গর্জই খালের ওপর দ্রুত একটি আধুনিক ও টেকসই সেতু নির্মাণ করা হোক। তাদের প্রত্যাশা, বহু বছরের বঞ্চনা ও দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে একদিন এই সেতুই হয়ে উঠবে দুই জেলার লাখো মানুষের স্বপ্নপূরণের প্রতীক।

  • জীবননগরে কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এতিম শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

    জীবননগরে কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এতিম শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ১০ বছরের এক এতিম শিশুকে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাসে বাসায় এনে দীর্ঘ দুই বছর ধরে গৃহকর্মীর মতো খাটানো এবং শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    ভুক্তভোগী মরিয়ম (১০) অভিযোগ করেছে, তাকে দত্তক নেওয়ার কথা বলে আশ্রয় দেওয়া হলেও পরে তার লেখাপড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ঘরের প্রায় সব কাজ করানো হতো এবং সামান্য ভুল হলেই তার ওপর চালানো হতো নির্মম নির্যাতন।

    অভিযুক্ত লাবনী জীবননগর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী-ঠিকাদার জাকাউল্লাহর কন্যা। তিনি জীবননগর সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরিয়মের বয়স যখন মাত্র ছয় বছর, তখন তার মা মারা যান। পরে বাবা অন্যত্র চলে গেলে শিশুটি নানা-নানির কাছে বড় হতে থাকে। দুই বছর আগে নানার মৃত্যুর পর মরিয়মকে নিজের বাসায় নিয়ে যান লাবনী। পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল, শিশুটির লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়া হবে এবং তাকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করা হবে।

    কিন্তু পরিবারের দাবি, কিছুদিন স্কুলে পাঠানোর পর তার পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তাকে দিয়ে ঘর মোছা, রান্না, কাপড় ধোয়া, বাসন মাজাসহ সংসারের বিভিন্ন কাজ করানো হতো।

    ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কাজে সামান্য ভুল হলেই মরিয়মের ওপর নেমে আসত শারীরিক নির্যাতন। কখনো লাঠি, কখনো রড, আবার কখনো গরম খুন্তি দিয়ে তাকে আঘাত করা হতো। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ জুন গৃহস্থালির কাজে সামান্য ত্রুটিকে কেন্দ্র করে শিশুটির ওপর আবারও নির্যাতন চালানো হয়। তাকে মারধর করে আহত করা হয় এবং একপর্যায়ে পেটে লাথি মারা হলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। জ্ঞান ফেরার পর সুযোগ বুঝে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে তার নানি এসে তাকে উদ্ধার করেন।

    নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মরিয়ম বলে, “আমাকে পড়াশোনা করানোর কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে সব কাজ আমাকে দিয়ে করানো হতো। কোনো কাজ ভুল হলেই মারধর করত। আমি কাঁদলে মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হতো যাতে কেউ শুনতে না পায়। গত দুই বছর ধরে আমার ওপর এভাবেই নির্যাতন করা হয়েছে।”

    মরিয়মের নানি রশিদা খাতুন বলেন, “এতিম একটি শিশুর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমার নাতনির শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষিকা লাবনীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান মেয়েটি আমার কাছে চার বছর ধরে আছে আমি নিজের সন্তানের মতকরে তাকে লালন পালন করি। নিজের মেয়ে হলে কি শাসন করা যায় না। আমি তাকে শাসন করেছি আমার রাগ হয়ে যাওয়াই আমি তাকে মেরেছি খুব বেশি মারিনি।

    জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত, শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

  • ঘোষিত নীরব এলাকায় হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ, মামলা করলেন এডিসি রুবেল

    ঘোষিত নীরব এলাকায় হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ, মামলা করলেন এডিসি রুবেল

    জেভি২৪ ডেস্ক 

    রাজধানীর এয়ারপোর্ট এলাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ ঘোষিত নীরব এলাকায় হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করায় ঢাকা থেকে শেরপুরগামী একটি পরিবহন থেকে হর্ন জব্দ করে জরিমানা ও মামলা করেছেন উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের এডিসি রুবেল হক।

    এডিসি রুবেল হক বলেন, “বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাকে শব্দ দূষণমুক্ত নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে মোটরযান থেকে হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ঘোষিত নীরব এলাকায় হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের অপরাধে উক্ত পরিবহনের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১৯(২) ধারায় মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে।”

    তিনি আরও জানান, নীরব এলাকা সুরক্ষায় ট্রাফিক বিভাগের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনসাধারণকে নীরব এলাকায় হর্ন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    সরকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সচিবালয়সহ হাসপাতালের চারপাশের ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকাকে নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এসব এলাকায় মোটরযান থেকে হর্ন বাজানো একেবারেই নিষেধ।

    ২০০৬ সালের শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা অনুসারে, নীরব এলাকায় দিনের বেলা সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিবেল এবং রাতে ৪০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ আইন লঙ্ঘন করলে জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    উত্তরা ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, শব্দদূষণ রোধে এবং নীরব এলাকা রক্ষায় নিয়মিত অভিযান চলবে।

  • বগুড়ায় দশ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

    বগুড়ায় দশ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

     

    বগুড়া প্রতিনিধি

    বগুড়য় দশ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় ব্যবসায়ী রেজওয়ান হাসান জেমস (৩৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    রবিবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন মহানগরীর সুত্রাপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

    রেজওয়ান হাসান জেমস মহানগরের সুত্রাপুর এলাকার মোঃ শাহ আলমের ছেলে। তিনি বগুড়া শহর শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে। সোমবার (৮ জুন) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    জানা যায়, মহানগরীর খান্দার মিশন হাসপাতালের সামনে রেজওয়ান হাসান জেমসের মালিকানাধীন একটি ভ্যারাইটিজ স্টোর রয়েছে। এই দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন ময়েন উদ্দিন মোল্লা (৫৮)। রবিবার (৭জুন) বেলা পৌনে ৩টার দিকে শিশুটি ওই দোকানে খাবার কিনতে যায়। এসময় আশেপাশে কেউ না থাকার সুযোগে দোকান কর্মচারী ময়েন উদ্দিন ওই শিশুটিকে জোরপূর্বক দোকানের ভিতরে তুলে নিয়ে সার্টার বন্ধ করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি লোকজন জানতে পেয়ে সেখানে গিয়ে সার্টার খুললে আসামি ময়েন উদ্দিন পালিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় দোকানের মালিক জেমস ঘটনাস্থলে না থাকলেও তার দোকানের কর্মচারী ময়েন উদ্দিনকে পালাতে সহযোগিতা করেন। এরপর লোকজন এ ঘটনায় জেমসকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ময়েন উদ্দিন ও জেমসের নামে মামলা দায়ের করেন।

    বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, আসামী ময়েন উদ্দিনকে পালাতে সহযোগিতার অভিযোগে জেমসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার ১নম্বর আসামি ময়েন উদ্দিনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • আ.লীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ: নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আরও ১৮ নেতাকর্মী গ্রেফতার

    আ.লীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ: নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আরও ১৮ নেতাকর্মী গ্রেফতার

     

    নোয়াখালী প্রতিনিধি

    নোয়াখালীর সদর উপজেলায় আওয়ামীলীগ-ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তৃতীয় দফায় আরও ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় এনিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৬৫জন নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে।

    সোমবার (৮ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন, সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। এর আগে, রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ছাত্রলীগের হাজার খানেক নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল চলাকালে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার সূত্র ধরে পরের দিন শনিবার বিকেলে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই দিন রাত ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে পাল্টা কালাদরাপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়িতে হামলা-ভাংচুর করে এবং তার একটি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসব ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে বাঁধেরহাটের ঘটনায় সুধারাম থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

    এদিকে, ঘটনার পরপরই সদর উপজেলার নোয়ান্নই ও কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকা-কে কেন্দ্র করে নোয়াখালী সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের দাবি, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ।

    ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম আরও জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ১১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • বাহাউদ্দিন বাহারের বক্তব্যের প্রতিবাদে কুমিল্লায় আইনজীবীদের সভা

    বাহাউদ্দিন বাহারের বক্তব্যের প্রতিবাদে কুমিল্লায় আইনজীবীদের সভা

    কুমিল্লা প্রতিনিধি 

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আ.ক.ম. বাহাউদ্দিন বাহারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে কুমিল্লায় প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ, কুমিল্লার উদ্যোগে সোমবার (৮ জুন) দুপুরে কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা ও কুমিল্লা জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু।
    এসময় তিনি বাহাউদ্দিন বাহারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, বিএনপির নেতাকর্মী এবং বিচারাঙ্গন সম্পর্কে বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।

    অ্যাডভোকেট রিংকু বলেন, “বাহার আমাদের দল ও নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছেন, হুমকি দিয়েছেন এবং বিচার ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি তার বাড়িতে কারা অগ্নিসংযোগ করেছে সে বিষয়ে নিজের মতো করে তালিকা প্রকাশ করেছেন এবং একের পর এক উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা এসব বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

    তিনি আরও বলেন, “বাহার সাহেব দেশে ফেরার প্রস্তুতির কথা বলছেন। আমরা মনে করি, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে তাকে দেশে এসে প্রচলিত আইনের মুখোমুখি হতে হবে। জনগণ যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই। তিনি শুধু নন, তার রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দেশে ফিরতে হবে।”

    ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রিংকু বলেন, “যারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, গুলি করেছে, মানুষকে পঙ্গু করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল, তাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত এ দেশের মানুষ শান্ত হবে না। আইন অনুযায়ী তাদের বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে।”

    বাহাউদ্দিন বাহারের বিভিন্ন বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তিনি দাবি করেছেন যে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা আমি করেছি। এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে যেসব অপকর্ম, দখলবাজি, নির্যাতন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সেসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। সাহস থাকলে দেশে এসে আইনের মাধ্যমে নিজের অবস্থান প্রমাণ করুন।”

    নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে কাইমুল হক রিংকু বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আমাকে ও আমার বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিভিন্ন মামলায় হয়রানি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হয়েছে। তবুও আমরা আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাস করি, বেগম খালেদা জিয়া আমাদের নেত্রী এবং তারেক রহমান আমাদের নেতা। আমরা আমাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে কখনও সরে দাঁড়াব না।”

    তিনি আরও বলেন, “ভোটবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় থেকে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। এখন আত্মগোপনে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ এসব বিশ্বাস করে না।”

    প্রতিবাদ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জিপি অ্যাডভোকেট তারেক আব্দুল্লাহ, কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হায়াত খান, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মফিজুল ইসলাম, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার হোসেন, কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম মানিক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা জামান জসিম, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মুমিনুল হক ভূঁইয়া, আইনজীবী সমিতির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এম.এ. মতিন মোল্লা, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকরাম হোসেনসহ কুমিল্লার বিভিন্ন পর্যায়ের আইনজীবী ও নেতৃবৃন্দ।

  • বগুড়া মহানগরকে পরিচ্ছন্ন রাখনে ফল ব্যবসায়ী সমিতির সিসি ক্যামেরা, ড্রাম ও ভ্যান গাড়ির উদ্বোধন

    বগুড়া মহানগরকে পরিচ্ছন্ন রাখনে ফল ব্যবসায়ী সমিতির সিসি ক্যামেরা, ড্রাম ও ভ্যান গাড়ির উদ্বোধন

     

    বগুড়া প্রতিনিধি 

    বগুড়া মহানগরের স্টেশন সড়কে দেশি-বিদেশি ফলের বাজারকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আধুনিক করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ফল ব্যবসায়ী সমিতি। এ লক্ষ্যে সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ১৪টি সিসি ক্যামেরা, ২৫টি ময়লার ড্রাম, ৪টি পরিচ্ছন্নতা ভ্যান গাড়ির উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বগুড়া ফল ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি আধুনিক, স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ ফলের বাজার গড়ে তুলতে ব্যবসায়ীদের সচেতনতার পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বগুড়া ফল ব্যবসায়ী সমিতির এ উদ্যোগ বাজারের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়ন, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বগুড়া ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ সেকেন্দার কাজীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সমিতির প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা পাপন, সাবেক কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম বিটু, জেলা লেদ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি লিটন শেখ বাঘা, সমিতির সাবেক সভাপতি মাহমুদ শরীফ মিঠু এবং সিনিয়র সদস্য আলহাজ মুকুল হোসেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির সহ-সভাপতি আব্দুল মোত্তালেব শেখ, শামীম আহম্মেদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মামুন শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সোহাগ, কোষাধ্যক্ষ মতিউর রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক লিটন চন্দ্র দাস, সদস্য আব্দুর রহমান আতিক, মোঃ ওয়াসিম প্রামানিক ও তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ।

    আয়োজকরা জানান, ফলের বাজারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে ২৫টি ময়লার ড্রাম সরবরাহ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪টি ভ্যান গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

  • ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

    ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

     

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধি 

    ঝিনাইদহে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) ভোরে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল ইমরানের নেতৃত্বে শহরের পায়রা চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। মিছিলটি পায়রা চত্বর, এইচএসএস সড়কসহ আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে পুনরায় পায়রা চত্বরে এসে শেষ হয়।

    মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল, শেখ হাসিনা বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে এবং শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে। মিছিল শেষে নেতাকর্মীরা স্বল্প সময় অবস্থান করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরবেলায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় মিছিলটি অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ করা হয়। এ সময় শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা দেখা যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

    এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

    উল্লেখ্য, ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর ঝিনাইদহে সংগঠনটির প্রকাশ্য কর্মসূচি খুব একটা দেখা যায়নি। এর মধ্যেই ভোরবেলায় অনুষ্ঠিত এই ঝটিকা মিছিলটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা

  • সরাইলের বাস দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

    সরাইলের বাস দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

     

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বৈশামোড়া এলাকায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

    সোমবার (৮ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

    শোকবার্তায় রুমিন ফারহানা বলেন, “সরাইলে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সকল নিহতের প্রতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাই। এই মর্মান্তিক ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন, তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”

    তিনি আরও বলেন, “একটি দুর্ঘটনা শুধু কয়েকটি প্রাণই কেড়ে নেয় না, বরং অসংখ্য পরিবারকে অসহনীয় শোক ও বেদনার মধ্যে নিমজ্জিত করে। আজকের এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত।”

    নিহতদের জন্য দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, “মহান আল্লাহ তাআলা নিহতদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি ধৈর্য ও শক্তি দান করুন। আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভের তাওফিক দান করুন।”

    পোস্টের শেষে তিনি “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” উল্লেখ করেন।

    উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার বৈশামোড়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে অন্তত চারজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

  • সরাইলে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে নিহত-৪, আহত-১০

    সরাইলে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে নিহত-৪, আহত-১০

     

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

    সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের বৈশামোড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি লোকাল যাত্রীবাহী বাস ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে চলাচলের সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে বাসটি সড়কের পাশের গভীর খাদে উল্টে পড়ে যায়।

    দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

    খবর পেয়ে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার মো. আব্দুল বাতেন বলেন, “বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে চারজন নিহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

    তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পরও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

    তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।