বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী বাইশারী ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোগত নানা সংকটে ভুগছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এখানকার মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রাও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় উন্নয়ন ইস্যুতে বিএনপি নেতা ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিনের বিভিন্ন কার্যক্রম এলাকাজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আলীক্ষ্যং ছাদুবাবার ঝিরিসহ ইউনিয়নের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী। বর্ষা মৌসুমে এসব সড়ক দিয়ে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সম্প্রতি জসিম উদ্দিন এসব এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সমস্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার আশ্বাস দেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, আগে অনেক জনপ্রতিনিধি প্রতিশ্রুতি দিলেও দুর্গম এলাকায় খুব কমই এসেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সমস্যা সরেজমিনে দেখতে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে তারা একই সঙ্গে বলেন, প্রকৃত মূল্যায়ন হবে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জসিম উদ্দিন নিয়মিত স্থানীয় সামাজিক, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, বিভিন্ন গ্রামের যোগাযোগ সমস্যার খোঁজ নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনার মতো কার্যক্রমের কারণে তাঁর উপস্থিতি স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি আলীক্ষ্যং ছাদুবাবার ঝিরি সড়ক পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, “দুর্গম এলাকার মানুষও সমান নাগরিক সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন। এই সড়ক উন্নয়ন হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং স্থানীয় অর্থনীতি ইতিবাচকভাবে উপকৃত হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বাইশারীর মতো দুর্গম ইউনিয়নে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে গিয়ে মানুষের সমস্যার কথা শোনা ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব ফল পেতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, জনগণের কাছে গিয়ে তাদের সমস্যার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা এবং সমাধানে উদ্যোগ নেওয়াই একজন সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে জসিম উদ্দিনের মাঠমুখী কার্যক্রম স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
তবে অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, বাইশারী ইউনিয়নের টেকসই উন্নয়নের জন্য সড়ক সংস্কার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষকদের বাজারব্যবস্থা উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, যে উদ্যোগই নেওয়া হোক, তা যেন দৃশ্যমান উন্নয়ন এবং জনগণের বাস্তব উপকারে আসে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, বাইশারী ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যা সামনে এনে সেগুলোর সমাধানের দাবি জোরালো করতে জসিম উদ্দিনের সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের তৎপরতা স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে এসব উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তব উন্নয়নকাজের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের ওপর।

