সেবার অঙ্গীকার নিয়ে বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাঠে জসিম উদ্দিন

আসন্ন বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন সেবা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার নিয়ে জনগণের সামনে তাঁর নির্বাচনী ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

বাইশারী ইউনিয়নের সন্তান হিসেবে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখ, সংকট ও সম্ভাবনার সঙ্গে তিনি নিবিড়ভাবে যুক্ত। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা, মামলা-মোকদ্দমা ও হয়রানির অভিজ্ঞতা তাঁকে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জসিম উদ্দিন জানান, জনগণের দোয়া ও ভালোবাসাকে পুঁজি করে শুধুমাত্র সেবার লক্ষ্যেই তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত পরিচয় সততা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের পাশে থাকার মধ্যেই নিহিত।

তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তাঁর রাজনৈতিক অভিভাবক মরহুম মনিরুল হক মনু চেয়ারম্যানকে। তাঁর কাছ থেকেই মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা ও জনসেবার আদর্শ অর্জন করেছেন বলে জানান। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।

জসিম উদ্দিন আরও জানান, তিনি নিয়মিত স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব সাচিং প্রু মহোদয়ের সঙ্গে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে আসছেন। রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা, নাগরিক অধিকার ও বাস্তবমুখী উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আশ্বাস পেয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি নির্বাচিত হলে সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষা, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপহরণবিরোধী কার্যক্রমে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়, দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সমান সেবা নিশ্চিত করা, ভূমি-সংক্রান্ত সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানে সহযোগিতা, নাগরিক সেবায় বৈষম্য দূর করা এবং সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

এছাড়া শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রাবার শিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের উদ্যোগ, রাবারের ন্যায্য মূল্য আদায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, অসহায়, দরিদ্র, বিধবা, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের সরকারি সুবিধা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সকল ধর্ম-বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

জসিম উদ্দিন বলেন, জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে এবং ইউনিয়ন পরিষদকে একটি উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি জনগণের গঠনমূলক পরামর্শ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “মানুষ হিসেবে ভুল-ত্রুটি থাকতেই পারে। আমার কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে থাকলে সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেলে আমি কখনো জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করব না। একটি শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন, উন্নত ও মানবিক বাইশারী ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।”

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততা, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে সক্রিয় থাকায় বাইশারী ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জসিম উদ্দিন ইতোমধ্যে আলোচনায় রয়েছেন।

আরও পড়ুন