বগুড়ায় চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে শাখা ডাকঘর কর্মচারীদের মানববন্ধন

ডাক বিভাগের দেশের প্রায় ৮ হাজার ৫০০টি শাখা ডাকঘরে কর্মরত প্রায় ২৩ হাজার কর্মচারীর চাকরি জাতীয়করণসহ পাঁচ দফা দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাক বিভাগের বিভিন্ন সেবা নিষ্ঠার সঙ্গে দিয়ে আসছেন। একসময় গ্রামাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত থাকায় তারা পায়ে হেঁটে, নৌকায় এবং সাইকেলে চিঠিপত্র ও ডাকসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে রাষ্ট্রীয় সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও তারা আজ চরম বৈষম্যের শিকার।

বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে একজন শাখা ডাকঘর কর্মচারীর মাসিক ভাতা মাত্র ৪ হাজার ৪৬০ টাকা। তারা কোনো উৎসব ভাতা, পেনশন কিংবা সরকারি চাকরিজীবীদের মতো অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পান না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। অনেকেই অর্থাভাবে সন্তানদের লেখাপড়া ও বিয়ে-শাদির মতো মৌলিক দায়িত্ব পালন করতেও হিমশিম খাচ্ছেন।

তারা আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে সরকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেও তাদের ন্যায্য দাবিগুলোর কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের কাছে শাখা ডাকঘর কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে চাকরি জাতীয়করণের দাবি জানান তারা।

মানববন্ধন থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো সরকারি অন্যান্য দপ্তরের কর্মচারীদের ন্যায় শাখা ডাকঘর কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ, ৫৯ বছর বা তদূর্ধ্ব কর্মচারীদের সরকারি বিধি অনুযায়ী পেনশনের ব্যবস্থা, প্রতি বছর উৎসব ভাতা প্রদান, মৃত ও অসুস্থ কর্মচারীদের পরিবারের যোগ্য সদস্যদের চাকরির সুযোগ এবং সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় সব ধরনের ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।

মানববন্ধন শেষে বক্তারা দ্রুত তাদের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সারাদেশে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আরও পড়ুন