কুষ্টিয়ার খোকসায় পল্লী বিদ্যুতের বিদ্যুৎ বিল ও মিটার রিডিং নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন গ্রাহকরা। তাদের দাবি, প্রকৃত মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিলে উল্লেখিত রিডিংয়ের মিল না থাকায় অনেকেই অতিরিক্ত বিলের বোঝা বহন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সম্প্রতি এক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলে ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে বর্তমান মিটার রিডিং ৫ হাজার ২৬৫ ইউনিট দেখানো হয়। কিন্তু ২৪ জুন তোলা মিটারের ছবিতে রিডিং দেখা যায় ৫ হাজার ২৫৪ ইউনিট। অর্থাৎ বিলে দেখানো রিডিংয়ের চেয়েও ১১ ইউনিট কম ছিল মিটারের প্রকৃত রিডিং। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই অনেক গ্রাহকের ক্ষেত্রে প্রকৃত রিডিং না নিয়ে অনুমাননির্ভর বা ভুল রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল তৈরি করা হচ্ছে। ফলে মাস শেষে গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে এবং অভিযোগ করেও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সমাধান মিলছে না।
গ্রাহকদের দাবি, মিটার রিডাররা অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি মিটার না দেখেই রিডিং প্রদান করেন। এতে প্রকৃত ব্যবহারের সঙ্গে বিলের বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সঠিক রিডিং নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে খোকসা পল্লী বিদ্যুতের এজিএম (ট্রেনিং) বিদেশে অবস্থান করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জিএম ইসমাত কামাল বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসীর মতে, বিদ্যুৎ সেবার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মিটার রিডিং কার্যক্রমে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অন্যথায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।

